ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অনূর্ধ্ব-১৯; এক ম্যাচেই শেষ যাঁদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৯:৪৩ পিএম
অনূর্ধ্ব-১৯; এক ম্যাচেই শেষ যাঁদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় সাফল্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে আকবর আলীর দল। ভারতকে হারিয়ে এই শিরোপা জয়ের পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ কর্তাদের মুখে ঝড়ছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের আগামী দুই বছর প্রতিমাসে লাখ টাকা বেতন দেওয়ার পাশাপাশি অনুশীলনের জন্য জাতীয় দলের সমান সুযোগ ‍সুবিধা দেওয়া কথা জানিয়েছে। এমনকি এই ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বিসিবির তরফ থেকে। তবে বিসিবির এই কথায় ভরসা রাখা কঠিন। কারণ অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে উঠে আসা এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা একাধিক যারা জাতীয় দলের হয়ে মাত্র এক ম্যাচ খেলার পরেই বাতিলের খাতায় নাম লিখিয়েছেন।

মাহবুবুর রহমান

১৯৮৯ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪০ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৮ রানের দুটি ইনিংস খেলেছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। দশ বছর পর ১৯৯৯ মেরিল ইন্টারন্যাশনাল কাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে একটি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পান মাহবুবুর। সে ম্যাচে ৩ রান করে আউট হয়েছিলেন মাহবুবুর। এরপর আর জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি তিনি।

শরিফুল হক

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন সাবেক অফ স্পিনার শরিফুল হক। এরপর ১৯৯৮ সালে ইন্ডিপেনডেন্স কাপে ভারতের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে খেলেন তিনি। ম্যাচে ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে ছিলেন উইকেট শূন্য। জাতীয় দলে ওটাই ছিল শরিফুলের প্রথম ও শেষ ম্যাচ। এর ১৪ বছর পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে বিসিবি তাঁকে নিষিদ্ধ করে।

মাজহারুল হক

মাজহারুল হক সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিলেন দেশের ক্রিকেটে। ১৯৯৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দল খেলে জাতীয় দলে এসেছিলেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। তিন বছর পর কলম্বোয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। মাহবুবুর রহমানের মতো মাজহারুলও ৩ রান করে আউট হন। জাতীয় দলে সেটাই মাজহারুলের প্রথম ও শেষ ম্যাচ। পরে বিসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়া এ ক্রিকেটার ২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

নাজমুস সাদাত

অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও ব্যাটসম্যান হিসেবে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। খুলনার এ ক্রিকেটার ২০০৫ আফ্রো-এশিয়া কাপে ৪ ম্যাচে সর্বসাকল্যে করেছিলেন ১৬ রান। তবে ব্যাট হাতে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালোই পরিচিতি পেয়েছিলেন। যার সুবাদে ২০০৬ সালে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অভিষেক ঘটেছিল নাজমুসের। ওপেন করতে নেমে মাত্র ৪ রান করে আউট হন তিনি। এরপর আর কখনো জাতীয় দলে সুযোগ পাননি।

বিকাশ রঞ্জন

২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। বাঁহাতি এ পেসার ভারতের ওপেনার সদাগোপান রমেশকে আউট করেছিলেন। সে বছর জানুয়ারিতে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন বিকাশ। কিন্তু অভিষেক টেস্টের আর কখনো দলে সুযোগ পাননি তিনি।

রনি তালুকদার

২০১৫ সালে ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জাতীয় দলে অভিষেক এই ডান হাতি ব্যাটসম্যানের। সে ম্যাচে সাতে নেমে ২১ রান করে আউট হন তিনি। ২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে প্রথম খেলার সুযোগ পান রনি। ৮ বছর পর সুযোগ পান জাতীয় দলে। কিন্তু এক ম্যাচ খেলেই থেমে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং বিপিএলে এখনো নিজের জায়গা পাকা করেছেন তিনি।

জাকির হাসান

জাকির হাসান বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলেছেন বেশি দিন হয়নি। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ওপেন করে ১০ রানে আউট হন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ওটাই হয়ে আছে তাঁর শেষ ম্যাচ। এর আগে ২০১৩-১৪ ও ২০১৫-১৬ মৌসুমে খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএস