ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শুভ জন্মদিন বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার, ১২:৩৯ পিএম
শুভ জন্মদিন বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ

বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের সবথেকে বড় তারকা, বাংলাদেশের প্রাণ, বাংলাদেশের জান এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের আজ ৩৩ তম জন্মবার্ষিকী। টাইগার ক্রিকেটের পোস্টারবয় খ্যাত এই সাকিবের হাত ধরে লাল-সবুজের বাংলাদেশ পেয়েছে অসংখ্য জয়। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে অনন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এই অলরাউন্ডারকে ‘বাংলা ইনসাইডার’ এর পক্ষ থেকে রইলো জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন সাকিব। বাবার নাম মাশরুর রেজা। ছিলেন কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা। তিনি নিজে ছিলেন ফুটবলের ভক্ত। খেলতেন জেলার বিভিন্ন লিগে। বাবার পছন্দের বিপরীতে ছেলে হলেন ক্রিকেটার। গ্রামাঞ্চলের ক্রিকেট খেলতে গিয়েই তিনি চোখে পড়ে যান এক আম্পায়ারের। সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসা হয় মাগুরার ইসলামপুর পাড়া ক্লাবে।

সেই ক্লাবের হয়ে খেলতে গিয়ে সাকিব প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করেন। প্রথম বলেই তুলে নিয়েছিলেন উইকেট। প্রকৃত ক্রিকেট জীবনের শুরু সেই বল থেকেই। মাগুরা মাতিয়ে সাকিব বিকেএসপিতে এসে ভর্তি হন ৬ মাসের কোর্স করার জন্য। খুব দ্রুতই নিজেকে পরিচিত করে তোলেন সাকিব। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সুযোগ পান অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলার। এছাড়া জাতীয় লিগে খেলার জন্য তালিকাভূক্ত হন খুলনা বিভাগীয় দলে।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে দ্যুতিময় পারফরম্যান্সই সাকিবকে নিয়ে আসে পাদপ্রদীপের আলোয়। ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব​-১৯ ত্রি-দেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে (অপর দুটি দেশ ছিল ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা) মাত্র ৮৬ বলে সেঞ্চুরি করে ও ৩টি উইকেট নিয়ে দলকে জেতাতে সহায়তা করেন তিনি। ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে সাকিব অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ১৮টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। ৩৫.১৮ গড়ে সংগ্রহ করেন মোট ৫৬৩ রান এবং ২০.১৮ গড়ে নেন মোট ২২টি উইকেট।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৬ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সাকিবের। একই বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই খুলনায় টি-টুয়েন্টি ও পরের বছর চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয় সাকিবের।

এখন পর্যন্ত ২০৬ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সাকিব রান করেছেন ৬৩২৩। ৫৬ টেস্টে রান করেছেন ৩৮৬২ এবং ৭৬টি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান ১৫৬৭। টেস্টে উইকেট সংখ্যা ২১০, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ওয়ানডে ক্রিকেটে উইকেট সংখ্যা ২৬০।

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে উইকেট সংখ্যা ৯২, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এবং বিশ্ব ক্রিকেটে তৃতীয়। টেস্টে সাকিবের অর্ধশতক ২৪, শতক ৫ ও ক্যারিয়ার সেরা ২১৭ রানের ইনিংস। ওয়ানডে ক্রিকেটে অর্ধশতক ৪৭ টি আর শতক ৯ টি। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে অর্ধশতক ৯ টি, ক্যারিয়ার সেরা রান ৮৪।

২০০৯ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে আসেন সাকিব। এই ধারাবাহিকতায় টেস্টেও নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে সেরা অলরাউন্ডারের আসন দখল করেন তিনি। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই সেরা অলরাউন্ডার হন তিনি। যা ক্রিকেট বিশ্বে একমাত্র ঘটনা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএম