ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

টাইগারদের সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২০ শনিবার, ০৪:১৭ পিএম
টাইগারদের সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশ

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের নেতৃত্বে সেই ম্যাচে বেশ কয়েকটি রেকর্ডের জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত খারাপভাবেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর নানা ঘটনার সাক্ষী হতে হতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১০ অধিনায়কের অধীনে ১১৫ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল। ১১৫টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ১৩ ম্যাচে। হেরেছে ৮৬ টিতে। আর ড্র-তে শেষ হয়েছে ১৬ ম্যাচ। পরিসংখ্যানই বলে দেয় টেস্ট ক্রিকেটে কতটা দূর্বল বাংলাদেশ।

তবে এরপরেও সময়ের ব্যবধানে এমন কিছু ক্রিকেটার এসেছে যারা সাদা পোশাকের জন্যে প্রস্তুত ছিলেন, দলের অন্য সদস্যদের থেকে একটু সাহায্য পেলে হয়তো দলের সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত অর্জনের খাতাটাও ভারী হতে পারতো। তবে এই ২০ বছরের পথচলায় টাইগার ক্রিকেটারদের নিয়ে সেরা একাদশ গড়লে কারা সুযোগ পেত? চলুন দেখে নেওয়া যাক-

জাভেদ ওমার বেলিম

বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে সুযোগ না পেলেও ২০০১ সাল হতে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টেস্ট মেজাজের ব্যাটিংয়ের অপর নাম হয়ে থাকবে জাভেদ ওমার বেলিম গুল্লুর নাম। সংযমী ব্যাটিংয়ের কারণে সবসময় নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন জাভেদ ওমার বেলিম। আসা যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত ঠিকই আগলে রাখতেন তিনি। অভিষেক টেস্টেই ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করার কীর্তি আছে তার ঝুলিতে।

তামিম ইকবাল খান

কোন ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল খান। টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি টোয়েন্টি যেকোন ধরনের ক্রিকেটেই তামিম ইকবাল খানকে ছাড়া একাদশ হবে না। এখন পর্যন্ত ৬০ টেস্ট খেলে তামিমের রান প্রায় সাড়ে চার হাজার। এর মধ্যে ৯ টি শতক ছাড়াও রয়েছে একটি দ্বিশতক।

হাবিবুল বাশার

সেই অভিষেক টেস্ট থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত। বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। নামের পাশে হয়ত খুব বেশি শতক নেই। তবে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশ তাকে ছাড়া কখনই পূর্ণ হবে না। ক্যারিয়ারে খেলেছেন অর্ধশত টেস্ট, রান করেছেন ৩ হাজারের মতো।  

মুমিনুল হক/আমিনুল ইসলাম বুলবুল

এই একাদশ গড়তে সবচেয়ে কঠিনতম সিদ্ধান্ত। অভিষেক টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান নাকি অভিষেকের পর থেকে টানা ১৩ টেস্টে ফিটি প্লাস ইনিংস খেলা কেউ? আমরা বেছে নিয়েছি মুমিনুল হককেই। কারণ আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ঝুলিতে ওই একটাই সেঞ্চুরি। ১৩ টেস্টের ক্যারিয়ারে মাত্র ৫৩০ রান আর গড় ২১! এমন কাউকে নিতে গিয়ে আপনি মুমিনুল হককে বাদ দিতে পারেন না। যেখানে মুমিনুলের রয়েছে ৪ টি শতক ও ৫০ ছুঁই ছুঁই গড়।

মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক এবং উইকেট রক্ষক)

বাংলাদেশের সেরা টেস্ট একাদশে কে হবেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। উইকেটের পেছনের দক্ষতায় খালেদ মাসুদ পাইলট এগিয়ে থাকলেও ব্যাটিং দক্ষতায় মুশফিকুর রহিম অনেক অনেক এগিয়ে। তাই পাইলটকে ছাপিয়ে দলে সুযোগ পেয়েছেন মুশফিকুর রহিমই। আর সাদা পোশাকে অধিনায়কত্বে মুশফিকের ধারেকাছে কেউ নেই। মুশফিকের নেতৃত্বে সর্বোচ্চ ৭ টি জয় পায় বাংলাদেশ। এছাড়াও ব্যাটসম্যান মুশফিকের ৭ টি শতকের পাশে রয়েছে ৩ টি দ্বিশতক!

মোহাম্মদ আশরাফুল

অভিষেক টেস্টেই সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে শতরান করা আশরাফুলকে ছাড়াও টেস্ট দল হতে পারে না। যে কোন উইকেটেই প্রতিপক্ষের উপর কাউন্টার অ্যাটাকে আশরাফুল ছিলেন অনন্য। ৬১ টেস্ট খেলা আশরাফুলের গড় খারাপ হলেও শতক করেছেন ৬ টি, সর্বোচ্চ শ্রীলঙ্কায় ১৯৮।

সাকিব আল হাসান

তামিম ইকবালের সাথে অপর আরেকজন ক্রিকেটার আছেন যিনি বাংলাদেশের যেকোন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই অটোমেটিক চয়েজ। তাই সাকিবের জন্য দলে থাকাটা অবধারিতই। ৫৬ টেস্ট খেলা সাকিবের গড় ৪০ ছুঁইছুঁই, শতক সংখ্যা ৫, দ্বিশতক ১। এছাড়া বল হাতে ২১০ টি উইকেট রয়েছে সাকিবের। যেখানে সেরা পারফরমেন্স ৩৬ রানে ৭ উইকেট!

মোহাম্মদ রফিক

নিসন্দেহে বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পিনার। সাথে যোগ করুন তাঁর ব্যাটিং। ৯ নম্বর পজিশনেও সেঞ্চুরি আছে তাঁর। যে কারণে স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে তাইজুল ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়র কিংবা হালের মেহেদি হাসান মিরাজদের ছাপিয়ে তিনিই সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের সর্কালের সেরা টেস্ট দলে।

মাশরাফি বিন মর্তুজা

ফিট মাশরাফির জন্য বাংলাদেশের যেকোন ধরনের ক্রিকেটেই প্রথম পেসার এর জায়গাটা অবধারিত। তাই তাকে ছাড়াও টেস্ট দল সম্পূর্ণ হতে পারে না। ইনজুরি সমস্যা না থাকলে পরিসংখ্যানটা আরো পক্ষে থাকতো। তবে এরপরেও ৩৭ টেস্ট খেলে ৭৮ টি উইকেট রয়েছে মাশরাফির নামের পাশে।

শাহাদাত হোসেন

দেশের মাটিতে খেলা হলে শাহাদাতের জায়গায় সুযোগ পাবেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু একাদশ গঠনে বিবেচনা করা হয়েছে দেশ এবং দেশের বাইরের কন্ডিশন। তাই ৩ পেসার নিয়ে দল গঠন করায় মাশরাফির সাথে দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ৩৮ টেস্টে শাহাদাতের উইকেট সংখ্যা ৭২ টি, পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ৪ বার। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর ইনজুরি না থাকলে সাদা পোশাকে শাহাদাতও হতে পারতেন ভরসার নাম।

মোস্তাফিজুর রহমান

টেস্ট অভিষেকের পাঁচ বছরে খেলেছেন মাত্র ১৩ টেস্ট। এর মধ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশ দলে তার অপরিহার্যতা। মোস্তাফিজুরকে ছাড়া টাইগার একাদশের পেস আক্রমণ অনেকটাই দূর্বল হয়ে যায়। বল হাতে উইকেট সংখ্যা মাত্র ২৮টি। তবে নিজের ফর্ম ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশ টেস্ট দলের আশার নাম হতে পারেন তিনি।

বাংলা ইনসাইডার/এসএম