ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শত্রু যখন বন্ধু

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২০ রবিবার, ১২:০৮ পিএম
শত্রু যখন বন্ধু

আজ বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে বন্ধু দিবস। যদিও বন্ধুত্ব উদযাপনের কোন আলাদা দিবসের প্রয়োজন নেই, তবুও প্রতি বছর আগস্টের প্রথম রবিবারে পালিত হয় এই দিনটি। আর বন্ধু দিবসে সারা বিশ্বের অন্য সব বন্ধুত্বের মতো উঠে আসে ক্রীড়াঙ্গনের কিছু ব্যতিক্রমী বন্ধুত্ব। যে বন্ধুত্ব দেশ-কাল-জাতের দুরত্ব ছাপিয়ে গেছে, যে বন্ধুত্ব চিরশত্রুকেও পরম মমতায় আলিঙ্গন করেছে। জাতীয়তা তাঁদেরকে প্রতিপক্ষ বানালেও বন্ধুত্ব তাঁদেরকে একত্রিত করেছে। মাঠে যে চরম প্রতিপক্ষ, যার পরাজয়ই আপনার আনন্দের একমাত্র কারণ, সেই যদি মাঠের বাইরে আপনার সবথেকে ভালো বন্ধু হয় তাহলে কেমন হবে ব্যাপারটি? ক্রীড়াঙ্গনে এমন উদাহরণ রয়েছে বেশকিছু। বন্ধু দিবসে সেই ব্যতিক্রমী সব বন্ধুত্ব নিয়েই ‘বাংলা ইনসাইডার’-এর বিশেষ আয়োজন।

নাদাল-ফেদেরার

একই ক্রীড়াঙ্গনের একই সময়ের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড়ের মাঝে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর সেই সম্পর্কের আরো অবনতি হবে যখন এরাই একে অন্যের সবথেকে বড় প্রতিপক্ষ। তবে কথাটাকে ভুল প্রমাণিত করেছে দুই টেনিস কিংবদন্তী রাফায়েল নাদাল এবং রজার ফেদেরার। টেনিস কোর্টে কে সর্বকালের সেরা তা নিয়ে বহু তর্ক-বিতর্ক থাকলেও কোর্টের বাইরে একে অন্যের বেশ ভালো বন্ধু এরা। নানান সময়ে একে অপরের প্রশংসা শোনা গেছে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে। ক্যারিয়ার শেষেও এই বন্ধুত্ব বহুদূর যাবে বলেই ধারণা অনেকের।

মেসি-নেইমার

দুইজন এমন দুই দেশের হয়ে খেলেন যাঁদের শত্রু-শত্রু সম্পর্ক যুগ যুগ ধরে চলমান। ফুটবলের তর্ক আসলেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা একে অন্যকে এক চুল-ও যেখানে ছাড় দেয়না, সেখানে দুই দেশের দুই তারকার বন্ধুত্ব বেশ জনপ্রিয় ক্রীড়াঙ্গনে। বার্সেলোনায় থাকাকালীন মেসি-নেইমার জুটি এতটাই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল যে, সেই সময়ে প্রতিপক্ষের জালে বল গড়ানোটাকে ছেলেখেলা বানিয়ে ফেলেছিল বার্সা। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেসিকে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে দাবি করেছিলেন নেইমার। এরপর হুট করে নেইমার বার্সা ছাড়লেও বন্ধুত্ব আগের মতোই আছে। নানান সময়ে নানা পার্টিতে বা অবসর যাপনে এখনো একসাথে দেখা যায় মেসি-নেইমারকে। নেইমারকে বার্সায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও কম কাঠখড় পোড়ায়নি মেসি। অবশ্য তাতে এখন পর্যন্ত সফল হতে পারেননি ৬ বারের ব্যালনজয়ী।

কোহলি-আমির

২০১০ সালে ম্যাচ ফিক্সিং করে নিজের ক্যারিয়ারকে কলঙ্কিত করলেও বল হাতে নিজের মুগ্ধতা ছড়ানো থামাননি মোহাম্মদ আমির। তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই পেসার নানান সময়ে বেশ ভুগিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান এবং চিরশত্রু ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে, আবার কোহলিও ভুগিয়েছেন আমিরকে। এশিয়া কাপে যেমন আমিরের উপর স্টিম রোলার চালিয়েছিলেন কোহলি, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তেমনি কোহলির উপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন আমির। তবে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন এই দুই ক্রিকেটার। মাঠের বাইরে একে অন্যকে সমীহ করেছেন কয়েকবার। নিজের ক্যারিয়ারে সবথেকে কঠিন বোলার হিসেবে যেমন আমিরের নাম নিয়েছেন কোহলি, আমিরও তেমনি বিরাটকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ভারত-পাকিস্তানের কাঁটাতারের ব্যবধান মিটিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে নিজের ব্যাট উপহার দিয়েছিলেন আমিরকে।

শচীন-ওয়ার্ন

শচীন টেন্ডুলকার ক্রিকেটের নিখাদ ভদ্রলোক হলেও ২২ গজে সবসময়েই ব্যাড বয়ের ভূমিকায় থাকতেন অজি কিংবদন্তী স্পিনার শেন ওয়ার্ন। প্রতিপক্ষ তাঁর বলকে সীমানা ছাড়া করলে তীব্র ভাষায় কটূক্তি করতেন ওয়ার্ন। শচীনের বেলাতেও হয়েছে। আর তাই শচীন-ওয়ার্ন লড়াই বেহ উপভোগ্য ছিল ভারত-অস্ট্রলিয়া ম্যাচে। অনেকের ধারণা এই দ্বৈরথের কারণেই জমে ওঠা শুরু করে ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বৈরথ। অবশ্য ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে দ্বৈরথ ভুলে ভালো বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছিলেন শচীন-ওয়ার্ন। একাধিক সময়ে একসাথে সময় কাটানো বাদেও স্যার ডোনাল্ড ব্রাডম্যানের জন্মদিন পালন কিংবা বিভিন্ন ক্রিকেটীয় আয়োজনে একসাথে অংশ নিয়েছেন এই দুই কিংবদন্তী। এমনকি শচীনের মুম্বাইয়ের বাসায় গিয়ে শচীনের পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাত করেছেন ওয়ার্ন।

শেওয়াগ-শোয়েব

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো আরেকটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক হচ্ছে রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত শোয়েব আখতার আর বিরেন্দর শেওয়াগের বন্ধুত্ব। খেলোয়াড় জীবনে শেওয়াগ-শোয়েব দ্বৈরথ ছিল উত্তেজনাকর, আকর্ষণীয়। এই দুই ক্রিকেটারের মধ্যে ছিল ইঁদুর-বিড়াল সম্পর্ক। কখনো শোয়েব বাউন্সার দিলে শেওয়াগ আপার কাট করে দিতো, আর শেওয়াগ মারকুটে হওয়ার চেষ্টা করলে শোয়েব আগুনে গতির ইয়োর্কার মারতেন। এছাড়াও মাঠে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় তো ছিল রোজকার ঘটনা। এই দুই ক্রিকেটারের মাঝে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সম্ভব তাই ছিল কল্পনাতীত। তবে ক্যারিয়ার শেষে সেটাকেই বাস্তবে রূপান্তরিত করেছেন তাঁরা। অবসরের পর প্রীতি ম্যাচে শচীনের দল অলস্টারের হয়ে একসাথে খেলেছেন শোয়েব-শেওয়াগ, তখন শোয়েব স্বীকার করেছেন যে, শেওয়াগ তাঁর এককালীন চরম শত্রু হলেও এখন শেওয়াগ তাঁর গ্রেটেস্ট ফ্রেন্ড!

বাংলা ইনসাইডার/এসএম