ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের যত ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ শনিবার, ০৯:০০ এএম
বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের যত ইতিহাস

প্রথমেই বলে রাখছি বাংলাদেশ কখনও ফুটবল বিশ্বকাপ খেলেনি। গতকাল কাতারের সাথে বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে মহামারীর পর আবার ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কি বিশ্বকাপ খেলতে পারবে কি না তা জানার আগে প্রথমে জেনে আসা যাক বাংলাদেশের ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাস নিয়ে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব ম্যাচ খেলে। সে ম্যাচে ১-০ তে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জয়ের কৃতিত্বটা ৩৯ বছর আগে। ১৯৭৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশ তাদের সাথে প্রথম ম্যাচ ২-২ এ ড্র করলেও ফিরতি ম্যাচে জয় পায় ৪-১। এরপর ২০০৮ সাল থেকে তাদের বিপক্ষে হওয়া  চার ম্যাচের তিনটিতেই  ড্র। সর্বশেষ ২০১৫ সালের কেরালা সাথে ০-৪ গোলে হার। ২০০৮ এর এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশ আফগানদের সাথে গোলশূন্য ড্র করে কিরগিজস্তানের মাটিতে। সে বছরই মালে-কলম্বো সাফে ২-২ গোলে ড্র করা। ২০১৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে ১-১ এ শেষ হয় দুই দলের ম্যাচ। অর্থাৎ তাদের সাথে  ছয় ম্যাচের চারটিতেই ড্র। এখন আফগানরা প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে বেশ শক্তিশালী। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান ১৫০। বিপরীতে বাংলাদেশ আছে ১৮৪ তে।

ভারতের বিপক্ষে ২৪ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটিতে। হার ১১ টিতে। ড্র হয়েছে ১০টি ম্যাচ। ভারতের বিপক্ষে তিন জয় ১৯৯১ এর কলম্বো সাফ গেমস, ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ গেমসে, ২০০৩ এর সাফ ফুটবলে। অর্থাৎ তাদের বিপক্ষেও গত ১৬ বছরে কোনো জয়ের কৃতিত্ব নেই বাংলাদেশ দলের। ২০১৩ সালে সাফ ফুটবল এবং ২০১৪ সালে ফিফা প্রীতি ফুটবলে তাদের সাথে ড্র যথাক্রমে ১-১ এবং ২-২ এ। ২০১৯ সালে ভারতের সাথে বাংলাদেশ ড্র করে ১-১ গোলে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ভারতের অবস্থান ১০৪।

ওমানের সাথে বাংলাদেশের এই পর্যন্ত একবারই মোকাবেলা হয়েছিল। তাতে ওমানের জয় ৩-১ এ। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ওমান আছে ৮২তে।

কাতারের সাথে বাংলাদেশের ম্যাচ হয়েছে চার বার। এতে তিনবারই জয় মধ্য প্রচ্যের ধনী দেশটির। একটি মাত্র ম্যাচে ড্র। তা ১৯৭৯ সালের এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে। ১-১  শেষ হয় ঢাকায় অুনষ্ঠিত সেই খেলা। ফিরতি ম্যাচে অবশ্য ৪-০তে জয় কাতারিদের। এরপর ২০০৭ সালের এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে  (২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত) কাতার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৪-১ গোলে হারায় বাংলাদেশকে। দোহাতে অনুষ্ঠিত ফিরতি ম্যাচে কাতারের শেষ হাসি ৩-০ তে। এশিয়া চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতারের ফিফায় অবস্থান ৫৯। এই কাতারের অনূর্ধ্ব-১৬ এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ২০১৭ সালের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ আসরে এবং ২০১৮ এর জার্কাতা এশিয়ান গেমসে। অনূর্ধ্ব-১৬ দল ২-০তে এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দল ১-০ তে জিতেছিল। এবার কি তাহলে সিনিয়র দলের পালা?

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে পাঁচ দলের মধ্যে তলানীতে ছিল বাংলাদেশ। আট ম্যাচে হজম করেছে ৩২ গোল। প্রতিপক্ষেল জালে বল ফেলতে পেরেছে দুই বার। এর মধ্যে একটি ছিল আত্মঘাতী। কাতার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আরো ভালো করার টার্গেট বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে’র। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের বাধা ডিঙ্গিয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগত্য এখনও অর্জন করেনি

এতো হতাশার পরও কি বাংলাদেশ আশা রাখতে পারে ২০২২ বিশ্বকাপ খেলার? যদিও এবারের আশাটাও খুবই ক্ষীণ, তবে বাংলাদেশ যে দিনের পর দিন ফুটবলে ভাল করে যাচ্ছে তার সুনাম করতেই হবে। এবার না হলেও, আশা করা যায় সুদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলবে।