ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কাল খুলনা-চট্টগ্রাম ফাইনাল, কে হাসবে শেষ হাসি?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৯ পিএম
কাল খুলনা-চট্টগ্রাম ফাইনাল, কে হাসবে শেষ হাসি?

একদিকে মসৃণ গতিতে শুরু করা দল চট্টগ্রাম, অন্য দিকে টালমাটাল ভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করেও এখন শিরোপার ভাগীদার খুলনা। অপেক্ষা আর মাত্র কিছু ঘণ্টার। তবে শিরোপা জয়ের জন্য কার পাল্লা ভারি, কাদের সমর্থক বেশি তাই জেনে নেয়া যাক।

তিন সপ্তাহের ক্রিকেটীয় উত্তেজনা পৌঁছে গেছে শেষ অঙ্কে। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে জেমকন খুলনা ও গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে কাল (শুক্রবার) খেলা শুরু বিকেল সাড়ে চারটায়।

দিন তিনেক আগেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচের আগে পরিষ্কার ফেভারিট ছিল চট্টগ্রাম। প্রাথমিক পর্বে তারা ৮ ম্যাচের ৭টিই জিতেছিল, খুলনাকে হারিয়েছিল দুই ম্যাচেই। কিন্তু গত সোমবার প্রথম কোয়ালিফায়ারে সেই চট্টগ্রামকেই হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে খুলনা।

চট্টগ্রাম পরে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতে ঠিকই ফাইনালে উঠে গেছে। তবে সমীকরণ এবার আর আগের মতো নেই। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে কারণে ফেভারিট ছিল খুলনা, নানা চড়াই-উৎরাই শেষে ফাইনালেও দলটির শক্তির জায়গা সেটিই, একগাদা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার!

মাহমুদউল্লাহ, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক, জহুরুল ইসলাম, আল আমিন হোসেন, আরিফুল হক, শুভাগত হোম…খুলনার অভিজ্ঞদের তালিকা চলতেই থাকবে। পারিবারিক কারণে ফাইনালে তারা পাচ্ছে না সাকিব আল হাসানকে। কিন্তু তিন ম্যাচ আগে মাশরাফি বিন মুর্তজার অন্তর্ভুক্তিতে দলে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ৫ উইকেট নিয়ে মাশরাফিই ছিলেন খুলনার নায়ক।

টুর্নামেন্ট যেভাবে শুরু করেছে তা দেখলে চট্টগ্রাম এই টুর্নামেন্টে সবার ওপরে। আসর শুরুর আগে শীর্ষ ফেভারিট দল তারা ছিল না, কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে ফাইনালের আগ পর্যন্ত তারাই ছিল সবার ওপরে।

ব্যাটিংয়ে লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটিই দলের ভার বয়ে নিয়েছে বেশির ভাগ ম্যাচে। মিডল অর্ডারকে সেভাবে পরীক্ষা দিতে হয়নি। একটি ম্যাচে তবু অভিজ্ঞ শামসুর রহমান জিতিয়েছেন দলকে। মোহাম্মদ মিঠুন শুরুতে বিবর্ণ থাকলেও সবশেষ দুই ম্যাচে খুঁজে পেয়েছেন নিজেকে। দলের ব্যাটিং অর্ডার বেশ লম্বা। এমন প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ের আগে শক্তি-সামর্থ্যের তারতম্য না ভেবে মাহমুদউল্লাহ মন দিতে চাইছেন নিজেদের শক্তির জায়গায়।

দুই দলের অধিনায়কের জন্যও ফাইনাল হতে যাচ্ছে বিশেষ কিছু। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতই নেতৃত্ব দেন মাহমুদউল্লাহ। তবে অধিনায়ক হিসেবে এরকম ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরে ট্রফির স্বাদ পাননি এখনও। মোহাম্মদ মিঠুন ঘরোয়া ক্রিকেটে নানা সময় অধিনায়কত্ব করলেও নেতা হিসেবে ঠিক সেরকম পরিচিত ছিলেন না। তবে এই আসরে চমকে দিয়েছেন তার নেতৃত্বগুণ দিয়ে। ট্রফি জিততে পারলে তার জন্যও হবে দারুণ স্মরণীয় কিছু।

দুই দলের অধিনায়কই বলছেন ফাইনালে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হবে টস। বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু ম্যাচে আগে ব্যাট করা দলের জন্য প্রকৃতির আলো থেকে কৃত্রিম আলোয় প্রবেশের সময়টুকু মানিয়ে নেওয়া যেমন একটু কঠিন হবে, আরও বড় চ্যালেঞ্জ ভারি শিশিরে পরে বল করা।

টুর্নামেন্টে দলের জন্য কোনো প্রাইজমানি নেই। তবে চ্যাম্পিয়ন দলের ক্রিকেটাররা পাবেন দেড় লাখ টাকা করে, রানার্সআপ দলের ক্রিকেটাররা ৭৫ হাজার টাকা করে। সঙ্গে আছে আরও বেশ কিছু ব্যক্তিগত পুরস্কার। স্বীকৃতির আশায় উজ্জীবিত থাকার কথা ক্রিকেটারদের।