ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আছে সাইনবোর্ড তবে...

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২১ মঙ্গলবার, ০৭:৫৫ পিএম
শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আছে সাইনবোর্ড তবে...

বাংলাদেশ ক্রিকেট মিরপুর কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে অনেক দিন ধরেই। হোম অব ক্রিকেট খ্যাত শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামই হয়ে পড়েছে সব খেলা আয়োজনের একমাত্র অবলম্বন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) রাজধানীতে আরও একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই ভাবছেন। তারই অংশ হিসেবে পূর্বাচলে শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমি বরাদ্দ পায় বিসিবি। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় এর কার্যক্রম। তবে কাজের কোন অগ্রগতি নেই স্টেডিয়ামটির।

পূর্বাচল প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরে প্রায় ৩৭.৫০ একর জমির পুরোটা ঘিরে রাখা হয়েছে টিনের বেড়া দিয়ে। যেখানে একটু পর পরই লেখা আছে ‘শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম’- এর নাম। নারায়ণগঞ্জের ভোলানাথপুর মৌজার ওই জমিতে টিনের বেড়া দেওয়া হলেও একপাশে গাছপালা আর লতাপাতায় পূর্ণ। একপাশে বিসিবির প্রকল্প অফিসের জন্য একটি ভবন তৈরি করা হয়েছে।

মূল স্টেডিয়ামের কাজ শুরু না হলেও দুই পাশে দুটি উইকেট বানানো হয়েছে। একটি উইকেট ঘিরে কোনরকম একটি মাঠ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচ আয়োজনের ভাবনা আছে। তবে সেটিও পূর্ণতা পায়নি। সবে ষাট শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্টেডিয়াম তৈরির জন্য একটি কমিটিও করা হয়েছে ২০১৯ সালে। গঠন করা সেই কমিটিতে বোর্ডের বাইরে থেকে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আর বুয়েট থেকে প্রতিনিধি নেওয়া হয়। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিতব্য পূর্বাচল স্টেডিয়ামের নকশা কেমন হবে, সেটি প্রকাশ করা হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

বিসিবি আগেই জানিয়েছে, স্টেডিয়ামটি হবে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্পন্ন। যেখানে মূল স্টেডিয়ামের পাশাপাশি দুটি পরিপূর্ণ মাঠ, একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমি, ইনডোর, সুইমিংপুল, জিমনেশিয়াম থাকবে। ৫০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামটি আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে সংস্কারের প্রয়োজন পড়বে না। এমনকি স্টেডিয়ামটির সঙ্গে একটি পাঁচতারকা হোটেল করার ভাবনা আছে।

সময় গড়ালেও ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করতে পারেনি বিসিবি। করোনার কারণে শেষ হয়েছে এক বছর‍। সে সময় বন্ধ ছিল পুরো কার্যক্রম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এখনো দৃশ্যমান কাজের অগ্রগতি হয়নি। স্টেডিয়ামটির জন্য নির্ধারিত জমিতে এখনো বসবাস করছে ৩১টি পরিবার।

স্টেডিয়ামটির বর্তমান কাজের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছেন না কেউই। নিরাপত্তা কর্মী থেকে শুরু করে মাঠের দেখভালের দায়িত্বে যারা আছেন, তারা দেখিয়ে দিচ্ছেন বড় কর্তাদের। বিসিবি কর্তারাও এখন এনিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাইছেন না। ঠিকাদার নিয়োগের ব্যাপারেও নিশ্চুপ সবাই।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য স্থপতি নিয়োগ দিয়ে দরপত্র আহ্বান করেছিল বিসিবি। প্রায় দুই ডজনের বেশি দরপত্র জমা পড়ে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক আর্কিটেক্ট ফার্মও বিট করে। যারা বিখ্যাত স্টেডিয়াম বানিয়েছে সেই ধরনের মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোও আগ্রহ প্রকাশ করে।

তবে কার ওপর ভরসা রাখছে বিসিবি, পাকা কথা কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়েও জানাতে রাজি নন কেউ।