ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ , ৪ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঘরোয়া লিগের পার্ফরমারদের সুযোগ দিতে হবে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০১৭ বুধবার, ০৯:১১ এএম
ঘরোয়া লিগের পার্ফরমারদের সুযোগ দিতে হবে

বাংলাদেশ ক্রিকেট হচ্ছে এখন উঠতি দল। দল আস্তে আস্তে উন্নতি করছে।বড় দল গুলোকে হারাতে শিখছি আমরা। নিজেদের মাটিতে যে কোনো দলকে নাকানি চুবানি খাওয়াতে পারি আমরা।বিদেশের মাটিতে এখনো ততটা ভয়ঙ্কর হতে পারিনি। টেস্ট ক্রিকেটে বড় দল হয়ে ওঠার জন্য ছোট ভুল গুলো এখনই শুধরাতে হবে। নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। কিন্তু কোন দিকেই যেন নজর নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের।

টেস্ট হলো ধৈর্যের পরীক্ষা। পরীক্ষীতত আর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্লেয়ার ছাড়া যে পরীক্ষা য় পাস করা যায় না। দলের দিকে তাকালে বোঝা যায় ঘাটতিটা আসলে অভিজ্ঞতার, সামর্থ্যের নয়। সেই সঙ্গে কোচ হাথুরুসিংহের স্বেচ্ছাচারিতা।

সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমানরা টেস্টে দলে দিব্যি খেলে যাচ্ছেন কিন্তু তাদের এখনও টেস্ট খেলার ধৈর্য্য ও টেস্ট মেজাজের ব্যাটিংটাই তারা রপ্ত করতে পারেননি। অন্যদিকে বোর্ড বয়স বেশি এই কথা বলে সুযোগ দিচ্ছেন না শাহরিয়ার নাফিস, নাইম ইসলাম, তুষার ইমরানদের।

কিছুদিন আগেই জাতীয় ক্রিকেট লিগ(এনসিএল) এর তিন ম্যাচ থেকে তুষার ইমরান সংগ্রহ করেছেন ৩২১ রান। অন্যদিকে নাইম ইসলাম অনেকদিন থেকেই রানের ভেতরে আছেন। শাহরিয়ার নাফিসও তার ব্যাতিক্রম নন। কিন্তু এসব সিনিয়র ও পরিপক্ক খেলোয়াড়দের দিকে নজর নেই কারো। অথচ অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাডাম ভোজেস কিংবা ভারতের কেদার যাদবদের মত ৩০ বছরের বেশি বয়সের খেলোয়াড়দেরও অভিষেক ঘটানো হয় জাতীয় দলে।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বেলায় এই নীতি পুরোপুরি উল্টো। বোর্ড মনে করে বয়স ৩০ এর বেশি হয়ে গেলেই তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়া জরুরি। তাকে দিয়ে আর কোন কাজ হবে না দলে।

অথচ ১৮ বছর বয়সী কাউকে অভিষেক করানো মানে হচ্ছে দলে তাকে প্রায় ২-৩ বছর রেখে গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু সিনিয়র খেলোয়াড়দের, যারা ঘরোয়া লিগে দূর্দান্ত পারফর্ম করছে তাঁদের দলে সুযোগ দিলে দলটা নষ্ট হয়ে যাবে না। উল্টো তারা ভালো ভাবে দলকে টেনে নিতে পারে যা বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়।

বাংলাদেশ দলের অনেক ব্যাটসম্যানই টেস্টে প্রচুর শট খেলেন। আবার সেটা সম্পর্কে সাফাইও গেয়ে যান। শট খেলে যদি কেউ ভালো বোধ করে তাহলে নাকি তাকে সেটা করতে দেয়া উচিত।
ধরা যাক টেস্ট ক্রিকেটে ২৫ বলে ৪০ রান করে একজন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন তাতে দলের খুব একটা লাভ কিছু কি হচ্ছে? টেস্ট খেলার মূল কথা হচ্ছে দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকা যেটা ইউনুস খান, রাহুল দ্রাবিড়রা করতেন। কিন্তু বাংলাদেশ দলে একজন মমিনুল আছেন, তবে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার মত তেমন কেউ নেই। আছেন সৌম্য-সাব্বির-ইমরুলের মত অযথা শট খেলা ব্যাটসম্যান।

সত্যিকার অর্থে এইসব সমস্যা থেকে মুক্তির পথ খুব একটা সোজাও নয় আবার ততটা কঠিনও কিছু নয়। সহজ সমাধান, যে খেলোয়াড় ফর্মে আছেন, তখন তাকে বাজিয়ে দেখতে হবে। সেটা ঘরোয়া হোক কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। তিনি সিনিয়র কিংবা জুনিয়রই হন না কেন, সেটা সমস্যা নয়।

তাই ক্রিকেট বোর্ড এদিকে যতদিন এই বিষয়ে বিশেষ সুনজর না দেবে ততদিন টেস্ট ক্রিকেট ভুগবে বাংলাদেশ। কেননা বড় দল হয়ে ওঠার পিছনে চলমান সমস্যাগুলো অনেক বড় অন্তরায়। যা টাইগাদের উন্নিতিকে ব্যাহত করছে।

বাংলা ইনসাইডার/ডিআর