ঢাকা, রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ফুটবল মাঠেই জীবন গেছে যাদের

মহিউদ্দিন সোয়াত
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২১ সোমবার, ০৯:০০ এএম
ফুটবল মাঠেই জীবন গেছে যাদের

এইবারের ইউরো ২০২০ সালের দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘটলো অঘটন। ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে থাকা ডেনমার্কের হারের কথা বলছিনা। বলছি এরিকসেনের কথা। ম্যাচের বয়স তখন চল্লিশ মিনিটের আশেপাশে। ঠিক তখনই ঘটল ঘটনাটা। সংঘর্ষ তো দূরের কথা, কেউ ছোঁয়ওনি ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনকে। তখনই জ্ঞান হারালেন তিনি। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া) হয়েছে তার। মাঠে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার চেষ্টা করা হয় তাকে। এর কিছু পরেই তাকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় স্ট্রেচারে করে। তবে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে ডাক্তাররা। তবে এমনই অনেক ঘটনা ঘটেছে যার ফলে মাঠেই মারা যান অনেক খেলোয়াড়রা।   

২০১২ সালে এফএ কাপের কথা। ২০১২ সালে এমন ঘটনা ঘটেছিল ফ্র্যাব্রিস মুয়াম্বার সঙ্গে। এফএ কাপের ম্যাচে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের হয়ে নেমেছিলেন টটেনহ্যামের বিপক্ষে। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়ার পর আর কখনো ফুটবল মাঠেই ফিরতে পারেননি তিনি। ফের খেলার মাঠে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক ফুটবলারের। রোমানিয়ার ক্লাব ডায়নামো বুখারেস্টের হয়ে লিগ খেলার সময় মাঠেই আচমকা মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন ক্যামেরুন ফুটবলার প্যাট্রিক একেং।

২০১৬ সালে এমন ঘটনায় প্রাণ হারান ক্যামেরুনের এক ফুটবলার। মাঠেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তার। রোমানিয়ার ক্লাব ডায়নামো বুখারেস্টের হয়ে লিগ খেলার সময় মাঠেই আচমকা মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন ক্যামেরুন ফুটবলার প্যাট্রিক একেং। ২৬ বছরের এই ফুটবলার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পজিশনে খেলতেন। গত জানুয়ারিতেই তিনি রোমানিয়ার এই ক্লাবে যোগ দেন। তাঁর ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভিটোরুল কন্সটান্টার সঙ্গে খেলা ছিল। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন একেং। মাত্র সাত মিনিট খেলার পর, কারও সঙ্গে ধাক্কা ছাড়াই পড়ে যান ক্যামেরুনের এই ফুটবলার। মাঠেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডায়নামো বুখারেস্ট টিমের ডাক্তার লিভিউ পলটিনিয়ান জানান, হাসপাতালের ডাক্তাররা সবরকম চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো যায়নি। হার্ট অ্যাটাকেই তাঁর মৃত্যুর কারণ।

এছাড়াও কিছুদিন আগেই মৃত ভাইয়ের স্মরণে মাঠে খেলতে নেমে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান ইতালিয়ান খেলোয়াড় পেরিনো। এই জিউসেপ্পে পেরিনোর ভাই রোক্কো ২০১৮ সালে সাইক্লিংয়ের সময় হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তাঁর স্মরণেই ফুটবল ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন পেরিনো। ম্যাচ চলাকালে মাঠেই হার্ট অ্যাটাক হয় পেরিনোর। মাঠে চিকিৎসক দল ছুটে গেলেও কাজ হয়নি। পরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। যদিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

মাঠে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে ফুটবলারের মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। ব্রাজিলের ক্রুজেইরোয় খেলা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার অ্যালেক্স অ্যাপোলিনারো এই বছরের জানুয়ারিতে পর্তুগালে একটি ম্যাচ খেলার সময় মাঠেই হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

বিষয়: ইউরো-২০২০