ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ে যাত্রা বাংলাদেশের

মোঃ শামীম ইশতিয়াক
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২১ রবিবার, ০৯:০১ এএম
ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ে যাত্রা বাংলাদেশের

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যাত্রা সেই ১৯৭৯ সাল থেকে। সময়ের সাথে দৃশ্যপট বদলাতে থাকে ক্রিকেটের। ১৯৯৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে বাংলাদেশ আগামনী বার্তা দেয় ক্রিকেটে রাজত্ব করার। সেই সুবাদে তারা সুযোগ পায় প্রথমবারের মত ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের খেলার। সেখানে তৎকালিন পাকিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে অঘটন সৃষ্টি করে টাইগাররা। এরপরই ঘটে বাংলাদেশে ক্রিকেটর বিপ্লব। ২০০০ সালে টেস্ট খেলার মর্যাদা অর্জন করে বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২১ বছর। বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি।

বর্তমান বাংলাদেশ দলের কান্ডারি ধরা হয় চার সিনিয়র খেলোয়াড়কে। তারা একদিনে বাংলাদেশের ভরসা হয়ে উঠেননি। তাদের পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক কঠিন পথ। সেই ২০০৬-২০০৭ সাল থেকে তারা খেলে যাচ্ছেন দেশের হয়ে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে হয়েছেন ধারাবাহিক। বহু ম্যাচে পারফর্ম করে একাই দলকে জিতিয়েছেন তারা। ওয়ানডে ক্রিকেটে তাদের সাফল্য ঈর্ষণীয়। টি-টোয়েন্টিতেও তারা পিছিয়ে নেই। তাদের ছাড়া দল গঠন করা কল্পনাতীত বাংলাদেশের কাছে। তবে শুরুর যে একটি শেষ থাকে এই কথাটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সময়ের সাথে সাথে আজ তারা পৌছে গেছেন ক্যারিয়ারের অন্তিম লগ্নে। খুব বড়জোড় আর কয়েক বছর জাতীয় দলের হয়ে সার্ভিস দিতে পারবেন তারা। তারপরেই বলতে হবে ক্রিকেটকে বিদায়।

তরুনদের সুযোগ করে দিতে হবে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তরুনরাই হবে আগামী দিনের সাকিব, মুশফিক, তামিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তাদের গড়ে তুলতে পযার্প্ত সময় দিতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। টি-টোয়েন্টিতে সিনিয়রদের বদলে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে তরুনদের। তাহলেই উন্নতি হবে দেশের ক্রিকেটের। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল খেলছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজে সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে তারুণ্য নির্ভর দল গঠন করেছে বাংলাদেশ। দলে রয়েছেন মাত্র দুজন সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। বাকি সবাই উদীয়মান তরুন। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে বরাবরই দুর্বল ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে। টাইগাররা সব সময় খেলতে নামে সম্মানজনক রান বা ডিফেন্সিভ মনোভাব নিয়ে। যা দেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর। তবে, বদলে যাচ্ছে আগের সেই দৃশ্যপট। নতুন অধ্যায়ে পা বাড়ানোর পথে বাংলাদেশ। তরুনদের নিয়ে গড়া প্রথমবারের মত একটা পরীক্ষামূলক দল গঠন করেছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম ম্যাচে তরুনদের পারফর্মেন্সে জয় পায় বাংলাদেশ তবে দ্বিতীয় ম্যাচে তারা হেরে যায় কিন্তু তাদের লড়াকু মনোভাব প্রসংশার দাবিদার। কোন খেলোয়াড় গতম্যাচে হেরে যাওয়ার আগেই হার মেনে নেননি। অনেকদিন পর তরুনদের মন মানষিকতায় এমন একটি পরিবর্তন দেখা গেলো। তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে। জয়ের ক্ষুধা বেশী তরুনদের মধ্যে। তাদের মধ্যে রয়েছে শতভাগ ফিটনেস এবং অদম্য মানষিক শক্তি। যা দিয়ে তার জয় করতে পারে সবকিছু।

সবার প্রত্যাশা সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে তরুনরাই নেতৃত্ব দিবেন। নিজেদের দিনে তারা গুড়িয়ে দিতে পারবেন যেকোন দলকে। তাদের মাধ্যমে জিতে লেখা হবে ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়।