ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শত শর্তের দাম্ভিকতা গুড়িয়ে দিতে যত কোটি খরচ লাগুক

জিয়াউল হাসান
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৯:০০ এএম
শত শর্তের দাম্ভিকতা গুড়িয়ে দিতে যত কোটি খরচ লাগুক

চলমান অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরে টি-টুয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে একথা এখন বলাই যায়, শুধু জয়ের নেশায় শত শর্তের দাম্ভিকতা গুড়িয়ে দিতে যত কোটি খরচ লাগুক, আপ্যায়নে আমরা প্রস্তুত! বাংলাদেশ সফরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া বিভিন্ন শর্তাবলী পূরণ করলেই তবে তারা সফরের সবুজ সংকেত দিবে বলে জানিয়েছিল। বিসিবিও তার সবকিছু মেনে নেয়। এক সপ্তাহে পাঁচটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলতে তাদের পেছনে খরচ হবে প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা। তবুও রাজি থাকে বিসিবি। বাংলাদেশ শুধু আপ্যায়ন করার জন্যই পুরো বিশ্বে সমাদৃত নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী ক্রিকেট বোর্ড।

এদেশের মাটিতে ক্রিকেট মিশে আছে সেই ব্রিটিশ অধ্যায় থেকেই। ১৭৯২ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় সর্বপ্রথম একটি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল। তবে দেশ ভাগের পরবর্তী এবং স্বাধীনতা উত্তরকালে ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড গঠন করার মাধ্যমে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে কন্ট্রোল শব্দটি বাদ দেওয়া হলে `বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড` দেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। 

২০০০ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১১ সালে বিসিবি প্রথম বারের মত বিশ্বকাপ আয়োজকের দেশ হিসেবে গৌরব অর্জন করে। সময়ের পরিক্রমায় এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে গৌরব অর্জন করার মত অনেক কিছুই উপস্থিত। এর মধ্য অন্যতম হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অর্থের হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম ধনী ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে স্বীকৃত। অথচ এক সময়ে দেশের ক্রিকেট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বোর্ডকে যথেষ্ট বেগ পোহাতে হয়েছে, এমনকি বিদেশে দল পাঠানোর মত অর্থের সংকুলান পর্যন্ত  হতো নাহ তখন!

শেষ বিশ বছরেই দেশের ক্রিকেট একেবারে পালটে গিয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল `৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় এবং ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া। তার পরপরই দেশের ক্রিকেটে দর্শক সমর্থন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এছাড়াও বিসিবির ইতিবাচক পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে আজকের বিসিবির এই অবস্থান। অন্যতম শীর্ষ ধনী বোর্ড হওয়ার পেছনে টিভির সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি, টাইটেল স্পন্সর সহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট স্পন্সর, ডিজিটাল রাইটস, মাঠের বিজ্ঞাপন, বিপিএল আয়োজন এবং আইসিসির থেকে প্রাপ্ত আয় জমা হতে থাকে। অনেকেই ভুল করেন বিসিবির আর্থিক সক্ষমতাকে সরকারি অনুদান ভেবে৷ কিন্ত এটা সম্পূর্ণভাবেই ভূল ধারণা। বরং বিসিবি নিজস্ব তহবিল থেকে কখনো কখনো দেশের অন্যান্য ক্রীড়া বিভাগকে আর্থিক সংকটের সময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। 

২০১৯ সালের এক পরিসংখ্যান এবং আর্থিক হিসাবমতে, বিসিবির বর্তমান বাজার মূল্য ৫১ মিলিয়ন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এটার পরিমাণ প্রায় ৪৩২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার মত। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড এবং পাকিস্তান ছাড়া বাকি সকল দেশের ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান বিসিবির নীচে। এমনকি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডও বিসিবির চেয়ে অনেকাংশেই গরীব! শুনতে অবাক হলেও বাস্তবিক এটাই। বর্তমানে তাদের ক্রিকেট বোর্ডের বাজার মূল্য মাত্র ২৪ মিলিয়ন ডলার। যা বিসিবির অর্ধেকের থেকেও কম। বিশ্বের পঞ্চম ধনী এই ক্রিকেট বোর্ড বর্তমানে খেলোয়াড়দের সামাজিক এবং আর্থিকভাবে মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি মোটা অংকের বোনাস ঘোষণা প্রায়শই করে থাকে। অদূর ভবিষ্যতে বিসিবি হয়তো শুধমাত্র ভারতের ক্রিকেট বোর্ডকে ছাড়া বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে নীট আয়ের দিক থেকে।