টেক ইনসাইড

ইউটিউবের বিকল্প মাধ্যম হতে পারে যে ১০ ওয়েবসাইট

প্রকাশ: ০৩:০০ পিএম, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩


Thumbnail

ইউটিউব বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলেও ব্যবহারকারীদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিতে বিকল্প কিছু ভিডিও ওয়েবসাইট রয়েছে।  এ সকল সাইটও হতে পারে আপনার জন্য চমৎকার বিনোদনের মাধ্যম।

সম্প্রতি ইউটিউব প্রিমিয়াম বাজারে আসার পর ফ্রি সংস্করণে বিজ্ঞাপনের অত্যাচার অতি মাত্রায় বেড়ে গেছে। কিছু বিজ্ঞাপন আগের মতো স্কিপও করা যায় না। এ লেখায় ইউটিউবের ১০ বিকল্প সাইট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


১। ভিমিও (Vimeo)

ভিমিও সবচেয়ে প্রথম হাই-ডেফিনিশন ভিডিও নিয়ে আসে। ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের নিজস্ব ভিডিওগুলো এখানে আপলোড করতে পারেন। তবে ভিমিও এখনও হাই-ডেফিনিশন কন্টেন্টের উপরই বেশি জোর দিয়ে থাকে।

ভিমিও প্ল্যাটফর্মে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও আপলোড সুবিধার পাশাপাশি দেখার জন্যে কিছু টেলিভিশন সিরিজও পাওয়া যায়।

লিংক: https://vimeo.com/


২। ডেইলিমোশন (Dailymotion)

ইউটিউব চালুর মাত্র এক মাস পরেই ডেইলিমোশন অনলাইনে আসে। সিএসআই ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউটিউবের সবচেয়ে কাছের প্রতিযোগী হচ্ছে ডেইলিমোশন।

ডেইলিমোশনে আপলোড করা লাখো ভিডিও রয়েছে, যা বিনামূল্যে উপভোগ করা যায়৷ এই ভিডিও সাইটের ইন্টারফেস ও ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অনেকটা ইউটিউবের মতোই।

লিংক: https://www.dailymotion.com/


৩। প্লেইয়ার (Playeur)

অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্মের জগতে প্লেইয়ার অপেক্ষাকৃত নতুন একটি সাইট। আগে এর নাম ছিল ইউট্রিওন, যা ২০১৯ সালের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যান্য ভিডিও সাইটের তুলনায় এটি কিছুটা আলাদা, কারণ এই প্ল্যাটফর্মে ভিডিও আপলোডের নীতিমালা তুলনামূলকভাবে শিথিল। বিশেষত, ইউটিউবের তুলনায় এর বিধিনিষেধ অনেক কম। তবে তার অর্থ এই নয় যে যা খুশী তাই আপলোড করতে পারবেন!

আপনি চাইলে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওগুলো আপনার প্লেইয়ার প্রোফাইলে ইমপোর্ট করে নিয়ে আসতে পারবেন; আবার নতুন করে আপলোডের প্রয়োজন ছাড়াই। এটি ইউটিউবের একটি এক্সটেনশনের মতো কাজ করে।

লিংক: https://playeur.com/


৪। দ্য ইন্টারনেট আর্কাইভ (The Internet Archive)

দ্য ইন্টারনেট আর্কাইভ একটি ওয়েব ভিত্তিক লাইব্রেরি৷ যেখানে আপনি বই, মিউজিক, সফটওয়্যার ও সিনেমা থেকে শুরু করে সব ধরণের কনটেন্ট বিনামূল্যে পাবেন।

ইন্টারনেট আর্কাইভে আপনি প্রচুর ঐতিহাসিক ভিডিও কন্টেন্ট পাবেন। যদিও এখানে নতুন কনটেন্টও পাওয়া যায়, কিন্তু এর সবচেয়ে সেরা দিক হলো পুরানো ভিডিওগুলো।

যেগুলোর মধ্যে আপনি বিভিন্ন ঐতিহাসিক সংবাদ প্রতিবেদন, টিভি সিরিজ ও চলচ্চিত্রও খুঁজে পাবেন। যা সাধারণত অন্যান্য সাইটগুলোয় খুঁজে পাওয়া কঠিন।

লিংক: https://archive.org/


৫। টুইচ (Twitch)

বর্তমানে অনলাইনের অন্যতম সেরা লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে টুইচ। এখানে ১৪ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে লাখো ভিডিও স্ট্রীমার। টুইচ প্ল্যাটফর্মে প্রায় যেকোনো বিষয়ের উপরই আপনি লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারবেন।

শুরুতে মূলত গেমাররা এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলেও এখন প্রায় সব ধরনের বিষয়ের ওপরই লাইভ স্ট্রিম কনটেন্ট পাওয়া যায় টুইচে।

লিংক: https://m.twitch.tv/


৬। দ্য ওপেন ভিডিও প্রজেক্ট

দ্য ওপেন ভিডিও প্রজেক্ট মূলত গবেষকদের জন্যে তৈরী। বিশেষ করে যারা মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল লাইব্রেরি নিয়ে কাজ করেন তাদের কথা মাথায় রেখে এটি চালু করা হয়।

যার ফলে দ্য ওপেন ভিডিও প্রজেক্টের বেশিরভাগ ভিডিওই শিক্ষামূলক। এখানে এমনকি, নাসার আর্কাইভ থেকেও অনেক ভিডিও এবং ৫০ এর দশকের ক্লাসিক টিভি বিজ্ঞাপন ও শিক্ষামূলক চলচ্চিত্রের সংগ্রহও রয়েছে। আপনি যদি ঐতিহাসিক ভিডিও কনটেন্ট নিয়ে গবেষণা করতে চান, তাহলে দ্য ওপেন ভিডিও প্রজেক্ট আপনার কাজে আসবে।

লিংক: https://open-video.org/


৭। ৯গ্যাগ (9GAG)

মজাদার সব কন্টেন্টের বিশাল এক সংগ্রহ নিয়ে তৈরি নাইনগ্যাগ বা ৯গ্যাগ। যেখানে বিভিন্ন হাসির ভিডিও, মিম, অ্যানিমে, পপ কালচারের মত বিষয়গুলোর উপরে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কনটেন্ট রয়েছে। আপনি যদি মজার কিছু ভিডিও কনটেন্ট দেখে সময় পার করতে চান তাহলে ৯গ্যাগ হতে পারে একটি ভালো জায়গা।

তবে টিভি সিরিজ বা মুভির স্পয়লার প্রচার নিয়ে দুর্নাম রয়েছে এই সাইটের। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ৯গ্যাগ ব্যবহার করা উচিৎ।

লিংক: https://9gag.com/


৮। টেড টকস (TED)

টেড টকস কে প্রথাগত ভিডিও সাইট বলা যায় না। তবে এতে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, স্থাপথ্য, বিজ্ঞান ও বৈশ্বিক সমস্যার মতো বিভিন্ন বিষয়ে ৩ হাজার ৫০০ টিরও বেশি আলোচনা এবং বক্তৃতা পাবেন। এছাড়া টেড টকস প্রতি সপ্তাহেই পাঁচ থেকে সাতটি নতুন আলোচনা আপলোড করে। আপনার দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা থেকে শুরু করে বিচিত্র এবং বিবিধ বিষয়ে আলোচনা এখানে পাবেন। যার বেশিরভাগই বেশ শিক্ষামূলক।

লিংক: https://www.ted.com/talks


৯। ডিটিউব (DTube)

ডিটিউব-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ডিসেন্ট্রালাইজড টিউব। এটি ইউটিউবের মতোই একটি ভিডিও সাইট। তবে এর ভিডিওগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে হোস্ট করা হয়না। পরিবর্তে পুরো সাইটটি ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করে। ব্যবহারকারীরা এখানে ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সি উপার্জন করতে পারেন।

তবে বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। 

লিংক: https://d.tube/


১০। ফেসবুক ওয়াচ (Facebook Watch)

ইউটিউবের মতোই ফেসবুক ওয়াচেও আপনি এখন আপনার পছন্দের সব ভিডিও দেখতে পারেন। ফেসবুক ওয়াচে টিভি সিরিজের পাশাপাশি নানা বিষয়ের ওপর হাজারো ভিডিও ক্লিপস দেখতে পাবেন। তবে ইউটিউবের তুলনায় এখানে কনটেন্ট খুঁজে পাওয়া একটু কঠিন। ছোট দৈর্ঘ্যের ভিডিওর জন্য সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেসবুক রিলস।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ভিডিওর জন্যে ইউটিউব একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, অনলাইনে ভিডিও দেখার জন্যে ইউটিউবই আপনার জন্যে একমাত্র জায়গা। তাই আপনার ভিডিও দেখার অবসরে নতুন ধরনের ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে উপরের বিকল্পগুলোও ঘুরে দেখতে পারেন। কারণ বৈচিত্র বেশিরভাগ সময়ই মজার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে।

লিংক: https://www.facebook.com/watch/






ইউটিউব   টেক   বিশ্ব মিডিয়া   মাধ্যম   ভিডিও  


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের ফোর-জি সেবা বন্ধ

প্রকাশ: ১১:৪৮ এএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বুধবার (১৭ জুলাই) রাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেটের ফোর-জি সেবা বন্ধ রয়েছে। তবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু আছে। মোবাইল ইন্টারনেটের টু-জি সেবা চালু আছে। সংশ্লিষ্ট অপারেটর সূত্রে আজ বৃহস্পতিবার সকালে কথা জানা গেছে।

মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবহারকারীরা। প্রবেশ করা যাচ্ছে না ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে।

বিষয়ে জানতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

গতকাল বুধবার গ্রাহকেরা অভিযোগ করেছিলেন, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমে গেছে। ফেসবুক মেসেঞ্জারেও প্রবেশ করতে পারছেন না অনেকে। কেউ আবার প্রবেশ করতে পারলেও ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা বা ছবি পোস্ট করতে পারছেন না। এমনকি অন্যদের পোস্টে ক্লিক করে বার্তা বা ছবি দেখতে পারছেন না তাঁরা। শুধু তা- নয়, ফেসবুকের হালনাগাদ পোস্ট খুঁজে পেতেও সমস্যা হচ্ছে অনেকের।


মোবাইল   ইন্টারনেট   ফোর   জি   সেবা   বন্ধ  


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

হৃদ্‌রোগ নির্ণয়ে ব্যবহার হচ্ছে অ্যাপলের স্মার্ট ওয়াচ

প্রকাশ: ০৮:৫১ এএম, ১৩ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

বর্তমান সময়ে নানা প্রযুক্তির বদৌলতে মানুষ এখন সকল ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে। শিক্ষা, বিনোদন, সংস্কৃতি, আরামদায়ক জীবনের নানা খুঁটিনাটির সন্ধান থেকে শুরু করে এহেন বিষয় নেই যেখানে প্রযুক্তির ছোঁয়া নেই। সময় দেখার পাশাপাশি শখের বশে অনেকেই ‘অ্যাপল ওয়াচ’ স্মার্ট ঘড়ি ব্যবহার করেন। আর এবারে অ্যাপলের তৈরি এই স্মার্ট ঘড়ি সময় দেখার পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাকাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এই ওয়াচ ব্যবহারকারীদের হৃৎস্পন্দনের তথ্যসহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন তথ্য জানাতে পারায় চিকিৎসকেরাও এখন দূরে বাস করছেন এমন রোগীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জানার ক্ষেত্রেও অ্যাপল ওয়াচকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ওয়েস্টার্ন মেডিসিনের কার্ডিওলজিস্ট ও মেডিসিনের অধ্যাপক রড পাসম্যান জানিয়েছেন, অ্যাপল ওয়াচ স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি ব্যবহারকারীর হৃৎপিণ্ডের গতি পর্যবেক্ষণসহ অস্ত্রোপচারের পর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন তথ্যও জানতে সহায়তা করে। ফলে রোগীর দীর্ঘ মেয়াদের তথ্য জানার পাশাপাশি দূর থেকে হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অনেকে অ্যাপল ওয়াচ শুধু রোগনির্ণয়ের জন্যই নয়, অস্বাভাবিক শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে জানতেও ব্যবহার করছেন।

এ প্রসঙ্গে চিকিৎসার মানদণ্ডে অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে রড পাসম্যান বলেন, ‘অ্যাপল ওয়াচের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায় না। তবে পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার জন্য এটি সহায়ক যন্ত্র হতে পারে। আমরা যেকোনো চিকিৎসা শুরু করার আগে সব সময় মেডিকেল গ্রেড নিশ্চিতকরণের বিষয়টি জানতে চাই। অ্যাপল ওয়াচ অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন শনাক্তের জন্য একটি চমৎকার ও সঠিক যন্ত্র। অ্যাপল ওয়াচ রিয়েল-টাইম মনিটরিং ও ডেটা সংগ্রহকে সহজ করার পাশাপাশি রোগীর সচেতনতাও বাড়িয়ে থাকে।’

এর আগে গত বছর অ্যাপল প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপল ওয়াচ-৯ বাজারে আনে। হালনাগাদ সংস্করণের স্মার্ট ঘড়িটিতে ব্যবহারকারীদের শারীরিক তথ্য জানার জন্য বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে। ফলে ঘড়িটি ব্যবহারকারীদের হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ বা নিম্ন হৃৎস্পন্দন ও অনিয়মিতভাবে ছন্দপতন (অ্যারিথমিয়াস) হচ্ছে কিনা সেটি শনাক্তেও ভূমিকা রাখে। আর এসব তথ্য নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারেন ব্যবহারকারীরা। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য জানার পাশাপাশি সেগুলোর রেকর্ড সংগ্রহও করে রাখা সম্ভব এই ওয়াচের মাধ্যমে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


অ্যাপল   ঘড়ি   স্মার্ট ওয়াচ   হৃদরোগ  


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

রুগ্ন শিশুর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিল ক্ষুদে রোবট!

প্রকাশ: ১০:৫১ এএম, ১১ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

বর্তমান বিশ্বে শিশু বয়সেও দীর্ঘমেয়াদী নানা রোগব্যাধী শিশুদের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলছে। আর এবারে জার্মানির এক স্কুলপড়ুয়ার সেই সমস্যা মেটাতে প্রযুক্তির বদৌলতে কীভাবে সুফল পাওয়া যায় সে বিষয়ে গবেষণা করে একটি উপায় বের করেছেন একদল গবেষক। ফলে কিছুটা হলেও স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ পাচ্ছে সে শিশুটি। ‘হ্যালো লিনুস, ভালো হয়েছে যে তুমি যোগ দিয়েছো। আমরা তোমার জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপ স্থির করেছি। এবার শুরু করা যাক।’

 হ্যাঁ এভাবেই বার্লিন শহরের স্কুল পড়ুয়া লিনুস হার্ডুং-এর চোখ, কান ও মুখ হয়ে উঠেছে এক মিনি রোবট। সেই রোবট সপ্তম শ্রেণির অসুস্থ শিশুটিকে বাসা থেকে ক্লাসে অংশ নেওয়া সম্ভব করছে। প্রায় ছয় মাস ধরে এ পদ্ধতিতেই সব চলছে। 

সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিনুস বলে, ‘‘শুরুর দিকে সবসময়ে এমন হতো। কিছু একটা বলার জন্য হাত তুললেই অ্যাড্রিনালিনের স্রোত বয়ে যেত। মনে ভয় ছিল, কিছু ভুল কথা বলে ফেললে কী হবে। আমার কাছে বিষয়টা নতুন ছিল। সংযোগ খারাপ হওয়ার ভয়ও ছিল। আর এখন সেই রুটিন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।''

বায়োলজি ক্লাসে আজ গ্রুপ ওয়ার্ক রয়েছে। শুরুতে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও বাসায় বসেই ক্লাসে কী হচ্ছে, তা জানার জন্য লিনুস টাচপ্যাডের মাধ্যমে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করে। সব সময় প্রযুক্তি ঠিকমতো কাজ করে না। আবার স্কুলের ইন্টারনেট সংযোগও তেমন শক্তিশালী নয়। ফলে ট্রান্সমিশন ভালো হয় না।

মাঝে মধ্যে সমস্যা হলেও অবতার আসার আগে ১৩ বছরের এই স্কুল পড়ুয়ার জন্য হোমস্কুলিং অনেক কঠিন ছিল। লিনুসের মা সুসানে হার্ডুং বলেন, ‘‘আগে ছেলে কোনো কিছু করার তাগিদ অনুভব করতো না। বুঝতোও না, এখন কেন সব কিছু এমন হতে হবে। শিক্ষক বা শিক্ষিকা যখন বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলেন বা তাদের সঙ্গে গ্রুপ ওয়ার্ক করেন, সেটা একেবারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। একা বইয়ের সামনে বসে থাকার তুলনায় সেখানে অনেক বেশি আনন্দ পাওয়া যায়।''

জন্মের সময়ে হৃদযন্ত্রের ত্রুটি এবং পালমোনারি হাইপারটেনশন নিয়ে পৃথিবীতে আসে শিশুটি। তার উপর করোনা মহামারির সময় তাকে প্রায় দেড় বছর বাসায় কাটাতে হয়েছে অলসভাবে। অর্থাৎ সে ক্লাসে যেতে পারে নি। গত বছরের হেমন্তকালে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের কেন্দ্রীয় সংগঠন তার অবতার সৃষ্টির জন্য অর্থ দিয়েছে। কারণ লিনুসের পক্ষে স্কুলে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ। সুসানে হার্ডুং বলেন, ‘‘সমতল জায়গায় সে ধীরে ধীরে হাঁটতে পারে, সেটা কোনো সমস্যা নয়। সিঁড়ি চড়া তার জন্য কঠিন। স্কুলে লিফট না থাকায় তাকে অতি ধীরে চলতে হতো।''

লিনুস হার্ডুং নিজের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলে, ‘‘দৌড়ানোও বড় এক সমস্যা। শুধু ক্লাসরুম বদলানোও স্ট্রেসের কারণ। সিঁড়ি বেয়ে উপরতলার ঘরে যাওয়ার কথা ভাবলেই চিন্তা হয়। এই অবতার তাই সত্যি অসাধারণ। আমাকে আর ক্লাসরুম বদলানোর স্ট্রেস নিতে হচ্ছে না।''

এদিকে লিনুসের বন্ধুরা বিশেষ ধরনের ব্যাকপ্যাকে করে পিঠে নেওয়া রোবটটির সাথে মজা করে থাকে। অবতার শুধু দীর্ঘকাল অসুস্থ শিশুদের পড়াশোনাই নিশ্চিত করে না, তাদের সামাজিক যোগাযোগের বিষয়েও কাজ করে।

লিনুস জানায়, ‘‘সত্যি মনে হয়, আমি যেন সেখানেই রয়েছি। জুম মিটিং-এর মাধ্যমে সেটা সম্ভব হতো না। অথবা তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই থাকতো না। সত্যি স্কুলে যাওয়ার মতো ভালো একটা অনুভূতি পাচ্ছি।''


জার্মান   রোবট   প্রযুক্তি   শিশু   স্কুল  


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

এআই বিজ্ঞানী কার্জউইল: মানুষের মাথার মধ্যে স্মার্টফোন থাকার পূর্বাভাস

প্রকাশ: ০৮:৫৬ এএম, ১০ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সম্প্রতি কয়েক বছর ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা-সমালচনার কমতি নেই। এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পর থেকে বিশ্বের সব বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উৎসাহের কমতিও নেই। আরটিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে একেক কোম্পানি একেক ধরনের প্রযুক্তি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বেশ তৎপর। আর এবারে আরেক বিস্ময়কর তথ্য দিলেন মার্কিন কম্পিউটার রে কার্জউইল। তিনি প্রযুক্তি বিজ্ঞানী হিসেবে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা বলছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনও করে আসছেন তিনি। ২০০৫ সালে তিনি ‘দ্য সিঙ্গুলারিটি ইজ নিয়ার’ নামের একটি বই লেখেন। সেসময় বইটির কাটতি ছিল বেশ ভালোই। 

তার বইটিতে বলা হয় ২০২৯ সালের মধ্যে কম্পিউটার মানবস্তরের বুদ্ধিমত্তায় পৌঁছে যাবে। আর  এমন নানা ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে বইটি সাজানোহয়েছে, যা নানা বৈজ্ঞানিক জল্পনাকল্পনার জন্ম দিয়েছে।

এ বইয়ে কার্জউইল ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ‘২০৪৫ সালের দিকে আমরা কম্পিউটারের সঙ্গে একত্র হয়ে অতিমানব হয়ে উঠব।’ তিনি একে ‘দ্য সিঙ্গুলারিটি’ বলেছেন। ওই বই লেখার দুই দশক পার হয়ে গেছে। ৭৬ বছর বয়সী কার্জউইলের বইটির নতুন একটি পর্ব বা সিকুয়েল আসছে। তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘দ্য সিঙ্গুলারিটি ইজ নিয়ারার।’ এর অর্থ সিঙ্গুলারিটি আরও কাছাকাছি।

কার্জউইল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা এখন আর আগের মতো কল্পকাহিনি মনে হচ্ছে না। কার্জউইল নিজে মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান গুগলে এআই-বিষয়ক প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি সেখানকার এআই ভবিষ্যৎ-দ্রষ্টা। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাজ্যের দ্য অবজারভারকে এক সাক্ষাৎকারে তাঁর লেখকজীবন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন।

তবে আরেকটি নতুন বই কেন লিখলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে গুগলের এই গবেষক বলেন, ‘“দ্য সিঙ্গুলারিটি ইজ নিয়ারার” ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে, কিন্তু তা ২০ বছর আগে লেখা। তখন মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী, তা-ই জানত না। আমার কাছে পরিষ্কার ছিল কী ঘটতে যাচ্ছে, কিন্তু সবার কাছে তা ছিল না। আমরা এখন কতটা এগিয়েছি, তা আবার দেখার দরকার। এখন এআইয়ের মূল হিসেবে পরিচিত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ব্যবহার করা যাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে সাফল্য আসছে।’

আপনার ২০২৯ সাল ও ২০৪৫ সালের পূর্বাভাসে কোনো পরিবর্তন তো আসেনি?

এর জবাবে কার্জউইল বলেন, আমি ধারাবাহিক থেকেছি। ২০২৯ সালে মানুষের স্তরের বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইনটেলিজেন্সের (এজিআই) উভয়ই ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য বজায় থাকবে। মানুষের স্তরের বুদ্ধিমত্তা অর্জনের সাধারণ অর্থ হচ্ছে, যেকোনো একটি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবচেয়ে দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের ক্ষমতায় পৌঁছেছে এবং ২০২৯ সাল নাগাদ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা মানুষের সক্ষমতা অর্জন করবে।

আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইনটেলিজেন্সের অর্থ হচ্ছে, মানুষ যা করতে পারে, তা সবই এআই করতে পারে। তবে এজিআই তার করতে পারবে, তা আরও উচ্চতর স্তরে। এজিআই বিষয়টি কঠিন শোনাচ্ছে বটে, তবে দুটিই একই সময়ে আসছে। তবে আমি এজিআই অর্জনের জন্য পাঁচ বছর সময় ধরেছি, যা মূলত রক্ষণশীল ধারণা। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক সম্প্রতি বলেছেন, ‘মাত্র দুই বছরের মধ্যেই এজিআই অর্জন সক্ষম।’

আপনার বলা সময়ের প্রতি কেন বিশ্বাস করব আমরা?

জবাবে কার্জউইল বলেন, আমিই একমাত্র ব্যক্তি, এআই নিয়ে আজকের এই আগ্রহের বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। ১৯৯৯ সালে মানুষ ভাবত, এআই সক্ষমতা অর্জনে ১০০ বছর বা তার বেশি সময় লাগবে। আমি বলেছিলাম, মাত্র ৩০ বছর যেতে দিন, দেখুন তারপর কী ঘটে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালক হলো কম্পিউটিং শক্তির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। আর এর পেছনে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করা। আমরা প্রতি ১৫ মাসে মূল্য-কর্মক্ষমতা দ্বিগুণ করছি। প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় মাত্র দুই বছর আগে আমরা এলএলএম নিয়ে কাজ শুরু করেছি।

২০২৯ সালে এআই মানুষের স্তরের বুদ্ধিমত্তায় পৌঁছাবে, কিন্তু বর্তমানে কোন স্বল্পতার কারণে তা অর্জন করা যাচ্ছে না?

কার্জউইল বলছেন, এ ক্ষেত্রে দরকার আরও বেশি কম্পিউটারের শক্তি। কম্পিউটারের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এতে এআইয়ের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক স্মৃতিশক্তি বাড়বে, সাধারণ জ্ঞানের যুক্তি এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়াতে উন্নতি করতে সক্ষম করবে। এখনো এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে গেছে। এগুলোর বাধা দূর হলে আমাদের আরও উন্নত অ্যালগরিদম প্রয়োজন হবে, যাতে আরও প্রশ্নের উত্তর দিতে আরও তথ্য প্রয়োজন হবে।

কার্জউইল বলেন, বর্তমানে এলএলএম হ্যালুসিনেশন নিয়ে একটি সমস্যা (এ ধরনের সমস্যায় এআই থেকে অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক উত্তর পাওয়া যায়।) রয়েছে। কিন্তু এ সমস্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে। ২০২৯ সাল নাগাদ এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। দুই বছর আগে যে ধরনের সমস্যা ছিল, এখন তা অনেকটাই কমে এসেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি তখনই ঘটে, যখন এআইয়ের কাছে সঠিক জবাব থাকে না বা এর উত্তর সে জানে না। এ জন্য সে সেরা বিষয়টি খোঁজার চেষ্টা করে; কিন্তু তা অনেক সময় ভুল বা অযৌক্তিক হয়ে দেখা দেয়। এআই উন্নত (স্মার্ট) হলে নিজের জ্ঞান সম্পর্কে ভালো বুঝতে পারবে। এটি আরও ভালো ও নিখুঁতভাবে মানুষের কাছে জবাব দেবে। যা সে জানে না, সে বিষয়টিও ভালোভাবে তুলে ধরতে পারবে।

সিঙ্গুলারিটি কী?

কার্জউইল বলেন, বর্তমানে আমাদের একটি মস্তিষ্কের আকার আছে, যা আমরা স্মার্ট হওয়ার জন্য অতিক্রম করতে পারি না; কিন্তু ক্লাউড আরও উন্নত হচ্ছে, যার কোনো সীমারেখা থাকছে না। (ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স, যেমন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে (বিশেষত ইন্টারনেট) কোনো সার্ভিস বা সেবা দেওয়া। ক্লাউড কম্পিউটিং কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি নয়, বেশ কয়েকটি প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা একটা মডেল।) সিঙ্গুলারিটি আসলে একধরনের রূপক, যা পদার্থবিদ্যা থেকে নেওয়া। আমাদের মস্তিষ্ক যখন ক্লাউডের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সিঙ্গুলারিটি তৈরি হয়। আমরা আমাদের প্রাকৃতিক বুদ্ধিমত্তা ও আমাদের সাইবারনেটিক বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণ হতে যাচ্ছে এবং উভয়ই একটিতে পরিণত হব। এটাকে সম্ভব করতে তৈরি হবে ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস, যা মূলত একধরনের ন্যানোবটস বা রোবট আকৃতির কণা। এসব কণা মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি ছাড়াই সূক্ষ্ম রক্তনালি দিয়ে মস্তিষ্কে ঢুকবে। ২০৪৫ সাল নাগাদ আমরা আমাদের বুদ্ধিমত্তা কয়েক লাখ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিতে পারব। এটা আমাদের সচেতনতা ও চেতনাকে আরও গভীর করতে চলেছে।

জবাবে কার্জউইল বলেন, মনে করুন, আপনার স্মার্টফোনটি আপনার হাতে না থেকে মাথার মধ্যে রয়েছে। আপনি যদি কোনো প্রশ্ন আপনার মস্তিষ্ককে করেন, তখন মস্তিষ্ক ক্লাউডে গিয়ে তার একটি উত্তর খুঁজে দেবে। ঠিক যেভাবে ফোন কাজ করে। এটা তৎক্ষণাৎ জানা যাবে। তখন কোনো ইনপুট বা আউটপুট বা নির্দেশ দেওয়ার ঝামেলা থাকবে না। এটা কখন হয়ে যাবে, তা বুঝতেও পারবেন না। মানুষ তখন বলবে, ‘এটা আমার দরকার নেই।’ তখন মানুষের আর ফোনের দরকার পড়বে না।

উন্নত এআই সিস্টেমের অস্তিত্বের ঝুঁকি কী ধরনের? এআই কি অপ্রত্যাশিত শক্তি অর্জন ও মানবতার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে? এআই খাতের গডফাদারখ্যাত জিওফ্রে হিনটন গত বছর এই উদ্বেগ থেকেই গুগল ছেড়েছেন। এ ছাড়া ইলন মাস্কের মতো বড় বড় প্রযুক্তি উদ্যোক্তার অনেকেই এ নিয়ে সতর্ক করছেন। এ মাসের শুরুতে মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ও গুগল ডিপমাইন্ডের কর্মকর্তারা এ খাতের কর্মীদের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে কার্জউইল বলেন, বিপদের একটি অধ্যায় আমার বইয়ে আছে। সামনে এগোনোর সেরা উপায় বের করার চেষ্টা করেছি। এ জন্য আমি আসিলোমার এআই প্রিন্সিপাল (এআই উন্নয়নের নীতিমালা) তৈরি করেছি। আমাদের এখানে সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং এআই কী করছে, তা নিরীক্ষণ করতে হবে; কিন্তু শুধু এর বিরুদ্ধে থাকাটা বোধগম্য নয়। সুবিধাগুলো দেখতে হবে।

ভবিষ্যত সময়ের জন্য আমাদের এখন কী করা উচিত?

কার্জউইল বলেন, মানুষ বনাম এআই কখনোই হবে না; বরং এআই হবে আমাদের অভ্যন্তরের একটি বিষয়। আর এটি আমাদের নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য সহায়তা করবে, যেসব সুবিধা আগে ভোগ করিনি আমরা। ভবিষ্যৎ হবে বেশ চমৎকার।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা   আরটিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স   রে কার্জউইল  


মন্তব্য করুন


টেক ইনসাইড

কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগে স্যামসাং এর মুনাফা বৃদ্ধির সম্ভাবনা

প্রকাশ: ০১:০৯ পিএম, ০৯ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের পর উন্নত কম্পিউটার চিপগুলির চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আর এক্ষেত্রে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স আশা করছে যে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবছর তৃতীয় কোয়ার্টারে  কোম্পানির লাভ বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ গুণ। মেমরি চিপ, স্মার্টফোন এবং টেলিভিশনের বিশ্বে বৃহত্তম নির্মাতা স্যামসাংয়ের চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে মুনাফা বৃদ্ধি পায় ১০ গুণেরও বেশি।

চলতি ত্রৈমাসিকে, স্যামসাং গত বছরের চেয়ে ৬৭০ বিলিয়ন ওয়ান (দক্ষিণ কোরিয় মুদ্রা) থেকে ১০. ট্রিলিয়ন ওয়ান (.৫৪ বিলিয়ন থেকে . বিলিয়ন ডলার) বৃদ্ধির আশা করছে।

টোকিও-ভিত্তিক গবেষণা উপদেষ্টা সংস্থা আইটিআর কর্পোরেশনের প্রধান বিশ্লেষক মার্ক আইনস্টাইন বলেছেন, এই মুহূর্তে আমরা ডেটা সেন্টার এবং স্মার্টফোনে এআই চিপগুলির জন্য আকাশচুম্বী চাহিদা দেখছি। চিপ-মেকিং জায়ান্ট এনভিডিয়ার বাজার মূল্য গত মাসে ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, সংক্ষিপ্তভাবে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি হিসাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

মার্ক আইনস্টাইন বলেন, কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তার ব্যাপক চাহিদা এনভিডিয়াকে ব্যবসা বাড়িয়েছে ফলে তা স্যামসাং এবং প্রকৃতপক্ষে সমগ্র খাতের উপার্জনকেও বাড়িয়ে তুলছে।

(তথ্যসূত্র: বিবিসি)


কৃত্রিম   বুদ্ধিমত্তা   বিনিয়োগ   স্যামসাং   মুনাফা   বৃদ্ধি   সম্ভাবনা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন