ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

করোনায় যখন উঠছে পশ্চিমের বিধিনিষেধ, বাড়ছে এশিয়ায়

প্রকাশ: ০২:০৭ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail করোনায় যখন উঠছে পশ্চিমের বিধিনিষেধ, বাড়ছে এশিয়ায়

করোনা মহামারীর অতি সংক্রমণে যখন বিশ্ববাসীর জীবনযাত্রা একেবারের স্থবিরতা ভেতর দিয়ে পার হচ্ছে তখন আস্তে আস্তে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের দেশে করোনার কঠোর বিধিনিষেধ থেকে সরে আসছে। সেখানে যেনো ঠিক উলটো পথে হাঁটছে এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ। কোন কোন দেশ তো করোনার সূচনা লগ্নের চেয়েও বেশি কঠোর লকডাউন জারি করছে দেশে। 

এশিয়ার অনেক দেশ তাদের করোনার ভ্যাক্সিন কার্যক্রম আরো জোরালো করলেও তারা করোনার নতুন ধরণ ওমিক্রনের আগমনে দেশে লকডাউন থেকে শুরু করে জীবন যাত্রায় আরো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। 

করোনায় লকডাউন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এপিডেমিওলজির অধ্যাপক চো সুং-ইল বলেন, ‘এশীয়রা স্বাধীনতার চেয়ে জীবনকে বেশি মূল্য দিয়ে থাকতে পারেন। এর কারণ হতে পারে স্বাধীনতার জন্য জীবন বিপন্ন করে গণ–অভ্যুত্থানের তরতাজা স্মৃতি হয়তো আমাদের নেই।’

অন্যদিকে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ বেন কাউলিং বলেন, ‘আমি মনে করি, এশিয়ার দেশগুলোও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়। তবে সম্ভবত বিশ্বের অপর অংশের তুলনায় বেশি সাবধানতার সঙ্গে। বিধিনিষেধ এ সাবধানতারই অংশ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং তারপর জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পদক্ষেপগুলো শিথিল করা হবে।’

চীনের মূল ভূখণ্ডে কর্তৃপক্ষ করোনা ঠেকাতে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতিতে কাজ করছে। এর ফলে সেখানে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রায় বন্ধ হচ্ছে, আবার ঘন ঘন কঠোরতর বিধিনিষেধ ও বিধিনিষেধ দেওয়া হচ্ছে।

মহামারির এ দুই বছরে করোনা সংক্রমণে এখনই সবচেয়ে টালমাটাল হংকং। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে তারা স্কুল, বার ও শরীরচর্চাকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টার পর রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়াও বন্ধ করা হয়েছে। ‘এশিয়ার বিশ্বনগরী’ হিসেবে পরিচিত চীননিয়ন্ত্রিত এ অঞ্চল কঠোরতম কোয়ারেন্টিন ও সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন মহানগরীগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। অবশ্য এ কঠোর অবস্থান থেকে সামান্য সরে এসে বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক হোটেল কোয়ারেন্টিন ২১ থেকে কমিয়ে ১৪ দিন করা হচ্ছে।
জাপানে দৈনিক করোনা শনাক্ত প্রায় ৮০ হাজারে পৌঁছেছে। অনাবাসী সবার জন্য জাপানের সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের (প্রশাসনিক অঞ্চল) মধ্যে ৩৪টিতে বার ও রেস্তোরাঁ খোলা রাখার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

মহামারির পুরো সময়জুড়ে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলা দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। দেশটিতে একসঙ্গে ছয়জনের বেশি সমবেত হওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া রাত ৯টার পর বার, রেস্তোরাঁ ও শরীরচর্চাকেন্দ্র খোলা রাখায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গত শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার নতুন রোগী শনাক্তের খবর জানানো দেশটিতে ৬ ফেব্রুয়ারি বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। 

মহামারির মধ্যে বিশ্বের যে দেশগুলো সীমান্তে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি আরোপ করেছে, সেগুলোর অন্যতম নিউজিল্যান্ড। দেশটি জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকে ধাপে ধাপে সবার জন্য আন্তর্জাতিক সীমান্ত খোলার যে পরিকল্পনা করেছিল, তা ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ পিছিয়ে দিয়েছে ওমিক্রনের কারণে। এ সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত নিউজিল্যান্ডের হাজারো নাগরিকের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অপরদিকে ইউরোপে সর্বশেষ দেশ হিসেবে ডেনমার্ক গত বুধবার প্রায় সব ধরনের করোনা বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। যদিও এখনো দেশটিতে দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হচ্ছে। এর আগে চলতি মাসেই যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড অনেকটা একই পদক্ষেপ নিয়েছে। ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, সংক্রমণ বাড়লেও গুরুতর অসুস্থতা বাড়েনি। কোভিড-১৯–এর যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের ৩০-৪০ শতাংশের অসুস্থতার অন্য কারণ রয়েছে। ফ্রান্সও আগামী সপ্তাহ থেকে হসপিটালিটি ভেন্যুগুলোতে বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ এখনো এ সুযোগ না দিলেও ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ দেশ পূর্ণ ডোজ টিকাগ্রহীতাদের জন্য কোয়ারেন্টিনমুক্ত ভ্রমণ চালু করছে।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২১ সালে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিমান ভ্রমণ ৯৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, যা অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি।

টোকিওর টেম্পল ইউনিভার্সিটির এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক জেফরে কিংস্টোন আল–জাজিরাকে বলেন, বিভিন্ন দেশে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনাও কাজ করে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার কঠোর সীমান্ত নীতির পেছনে তাঁর দুই পূর্বসূরির মহামারি মোকাবিলা নিয়ে ক্ষমতা হারানোর প্রভাব রয়েছে।

জেফরে কিংস্টোন বলেন, ‘এর জন্য জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বিশেষত যেসব শিক্ষার্থী এখানে পড়তে আসতে চায় বা যেসব ব্যক্তি তাদের পরিবারের কাছে আসতে চায় তাদের জন্য। এটা অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর, পর্যটন খাতে আঘাত, স্বল্প পুঁজির রেস্তোরাঁ ও বার মালিকদের দেউলিয়া হওয়ার পথ তৈরি এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা পথে বসার উপক্রম হয়। বৈশ্বিক মহামারি থেকে তা শেষের দশা আসবে, কিন্তু কখন তা কেউ জানে না।’

তবে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় করোনায় যেভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা পূর্ব এশিয়ায় না হওয়ায় ‘একটি মাত্রায় আত্মতুষ্টির’ কারণ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন কিংস্টোন।


ইউরোপ   লকডাউন   এশিয়া   করোনা   টিকা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ক্রেতা নেই তাই সমুদ্রে ভেসে আছে রাশিয়ার তেলের জাহাজ

প্রকাশ: ১০:০৩ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail ক্রেতা নেই তাই সমুদ্রে ভেসে আছে রাশিয়ার তেলের জাহাজ

তেল বিক্রির ক্রেতা খুঁজে না পাওয়ায় এখন রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল বোঝাই জাহাজ প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল ‘উরালস ক্রুড অয়েল’ নিয়ে সমুদ্রে ভেসে আছে। নিষেধাজ্ঞার ভয়ে অনেক দেশ রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি এড়িয়ে চলায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

 এনার্জি এনালাইসিস ফার্ম ভোরটেক্সা বলছে, ইউক্রেনে আক্রমণের জেরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় রুশ ব্যবসায়ীরা এই তেল বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না। 

ভোরটেক্সা জানিয়েছে, যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় সমুদ্রে রাশিয়ার উরালস ক্রুড অয়েলের পরিমাণ গড়ে তিনগুণ বেড়েছে। চলতি মাসে রাশিয়ার সমুদ্রজাত তেল রপ্তানি প্রতিদিন গড় ৬৭ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এই সংখ্যা ১৫ শতাংশ কম। ফেব্রুয়ারিতে গড়ে প্রতিদিন ৭৯ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো।

তবে রাশিয়ার তেল রপ্তানি পরিস্থিতি এখনো তুলনামূলক শক্তিশালী মনে হচ্ছে। যদিও হস্টন ভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষক ক্লে সিগলের মতে, সমুদ্রে রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ তেল জমে যাচ্ছে।

বর্তমান দেশটির ১৫ শতাংশ উরালস ক্রুড অয়েল সমুদ্রে জমা হচ্ছে। সেগুলোর কোনো গন্তব্য নেই। কিছু তেল অবশ্য অজ্ঞাত ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। তবে অনেক তেল অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে।

এখন রাশিয়ার বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল এশিয়ায় আসছে। বিশেষত ভারত এবং চীনে। যদিও এখনো রাশিয়ার তেলের একটি বড় অংশ ইউরোপেও যাচ্ছে।

রাশিয়া   ইউক্রেন   ইইউ   যুক্তরাষ্ট্র   তেল   গ্যাস  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে হামাস

প্রকাশ: ০৯:১৮ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে হামাস

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লো ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম। এখন থেকে এই সংগঠনের সাথে যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে, সেই সাথে হামাসের কার্যক্রমে বিনিয়োগকারীদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলো বাইডেন প্রশাসন। 

মঙ্গলবার (২৪ মে) এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভয়েজ অব আমেরিকা।

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, হামাসের বিনিয়োগ কার্যালয়কে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যেই এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। 

ট্রেজারি বিভাগের সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক অপরাধ বিভাগের সহকারী সচিব এলিজাবেথ রোসেনবার্গের দাবি, হামাসের বিনিয়োগ কার্যালয়ের মালিকানায় ৫০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে। সুদান, তুরস্ক, সৌদি আরব, আলজেরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিচালিত হচ্ছে এসব কার্যালয়।

রোসেনবার্গ বলেন, ‘হামাসের বেশ কিছু গোপন বিনিয়োগের তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তাদের বিনিয়োগ কার্যালয় এসব দেখাশোনা করে এবং এসব বিনিয়োগ থেকে যথেষ্ট অর্থ আয় করে এই রাজনৈতিক গোষ্ঠী। আর তারপর এই অর্থ তারা ব্যয় করে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমে। গাজার অধিবাসীরা যে ব্যাপক দরিদ্রতার মধ্যে দিন যাপন করছে, তার জন্য প্রধানত দায়ী হামাস।’

হামাস   ফিলিস্তিন   ইসরায়েল  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বিশ্বজুড়ে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা প্রায় সোয়া ছয় লাখ

প্রকাশ: ০৮:৩১ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail বিশ্বজুড়ে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা প্রায় সোয়া ছয় লাখ

বিশ্বজুড়ে চলমান মহামারি করোনাভাইরাসে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। একইঙ্গে বেড়েছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘন্টায় বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে  মারা গেছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় সোয়া ছয় লাখে।

বুধবার (২৫ মে) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক হাজার ৪৬০ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ শতাধিক। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৩ লাখ তিন হাজার ৪১৬ জনে।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ২০ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে দেড় লাখের বেশি। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৯ হাজার ২২২ জনে।

এদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় এই দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ হাজার ৬২৩ জন এবং মারা গেছেন ৩২৪ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮ কোটি ৫২ লাখ ৪১ হাজার ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১০ লাখ ২৯ হাজার ৫২৪ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে উত্তর কোরিয়ায়। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫২০ জন। পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯০০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬৮ জন মারা গেছেন।

করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১ হাজার ১৩২ জন। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪ কোটি ৩১ লাখ ৪১ হাজার ২০০ জন এবং মারা গেছেন ৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৯০ জন।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২৮ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৩২ হাজার ৮২০ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৮১৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯৫৫ জনের।

এছাড়াও গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাশিয়ায় ৯০ জন, জার্মানিতে ১৪১ জন, ফ্রান্সে ৮৮ জন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৫০ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯ জন, থাইল্যান্ডে ৩৬ জন, ইতালিতে ৯৫ জন, জাপানে  ৩০ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ৬৮ জন, গ্রিসে ১৪ জন মারা গেছে। 

বিশ্ব করোনাভাইরাস  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

টেক্সাসের প্রাইমারি স্কুলে হামলা, ১৮ শিশুসহ নিহত ২১ জন

প্রকাশ: ০৮:০৬ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail টেক্সাসের প্রাইমারি স্কুলে হামলা, ১৮ শিশুসহ নিহত ২১ জন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তরুণ এক বন্দুকধারীর গুলিতে ১৮ শিশু শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকসহ ২১ জন নিহত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ১৫ জন নিহতের কথা জানানো হলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ জনে। 

বুধবার (২৫ মে) টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টেক্সাসের রব এলিমেন্টারি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

রব এলিমেন্টারি স্কুলটি আমেরিকার সপ্তম বৃহত্তম শহর সান আন্তোনিও থেকে প্রায় ৮৩ মাইল (১৩৩ কি.মি.) পশ্চিমে অবস্থিত। এটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর শিক্ষার্থীদের বয়স পাঁচ থেকে ১১ বছর।

গভর্নর আরও জানিয়েছেন, বন্দুকধারী ওই ব্যক্তির নাম সালভাদর রামোস। তার বয়স ১৮। তিনি ওই এলাকারই বাসিন্দা। তিনি শুটিংয়ের সময় একটি হ্যান্ডগান এবং সম্ভবত একটি রাইফেল ব্যবহার করেছিলেন। যদিও এটি এখনও নিশ্চিত নয়।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং তার স্ত্রী সিসিলিয়া শোক জানিয়েছেন। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তিনি টেক্সাসের বাসিন্দাদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনাস্থলেই বন্দুকধারী রামোস মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলে পাঠানো পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও, গুলি বিনিময়ের সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে। যদিও তারা আশঙ্কামুক্ত।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, বন্দুকধারীর গুলিতে আরও অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ৬৬ বছর বয়সী নারী এবং একজন ১০ বছর বয়সী শিশু আন্তোনিওর বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

টেক্সাসের   স্কুলে   হামলা   নিহত   ২১ জন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ভ্রমণবান্ধব দেশের তালিকায় বাংলাদেশের ৩ ধাপ উন্নতি

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail ভ্রমণবান্ধব দেশের তালিকায় বাংলাদেশের ৩ ধাপ উন্নতি

ঘুরতে কার না ভালো লাগে। তবে ঘুরতে গেলে নানা রকম হয়রানি আর বিড়াম্বনাও যেনো এক নিশ্চিত সঙ্গীও। তবে আমাদের দেশের পর্যটন খাত দিন দিন যে আরো উন্নতি করছে তার একটা স্বীকৃতি পাওয়া গেলো আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) তৈরি এক সূচকে। বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচক-২০২১ এ তিন ধাপ উন্নতি করে ১১৭টি দেশের মাঝে ১০০তম স্থানে। 

মঙ্গলবার (২৪ মে) ডব্লিউইএফ ‘দ্য ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স-২০২১ : রিবিল্ডিং ফর এ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিজিলিয়েন্ট ফিউচার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই সূচক প্রকাশ করেছে। 

দেশগুলোর ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, টেকসই ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের কিছুটা উন্নতি ঘটলেও প্রতিবেশী ভারত পিছিয়ে পড়েছে ৮ ধাপ। দেশটি ২০২০ সালে এই সূচকে ৪৬তম অবস্থানে থাকলেও ২০২১ সালে ৫৪তম স্থানে ঠাঁই পেয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ৭৪তম এবং পাকিস্তান ৮৩তম স্থান নিয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক প্রতিবেশী নেপালের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে ১০২তম। 

ডব্লিউইএফ সূচকে শীর্ষ স্থানে রয়েছে জাপানের নাম এবং তলানিতে অবস্থান আফ্রিকার দেশ চাদের (১১৭তম)।

 ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অনেক অংশে দুই বছর ধরে কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত পর্যটন শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আর ধকল কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার এই ধারায় শীর্ষে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, স্পেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি।

তবে সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ এখনও প্রাক-মহামারি পর্যায়ের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংস্থা বলেছে, টিকাদানের ব্যাপক হার, অধিক উন্মুক্ত ভ্রমণে প্রত্যাবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ ও প্রকৃতি-ভিত্তিক পর্যটনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে এই খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর গতি প্রবল হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (২য়) ছাড়া শীর্ষ স্থানে থাকার ১০টি দেশই ইউরোপ, ইউরেশিয়া অথবা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চ আয়ের অর্থনীতির দেশ।

সূচকে শীর্ষে রয়েছে জাপান। এছাড়া আঞ্চলিক অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুর যথাক্রমে ৭ম ও ৯ম স্থানে আছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ১২ ধাপ উন্নতি ঘটে ইতালি (১০ম) এবার এই সূচকের শীর্ষ দশে ঢুকে গেছে। আগের বছর কানাডা এই সূচকের ১০তম স্থানে থাকলেও এবার ১৩তম অবস্থানে নেমে গেছে।

শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে আছে, স্পেন (৩য়), ফ্রান্স (৪র্থ), জার্মানি (৫ম), সুইজারল্যান্ড (৬ষ্ঠ) এবং যুক্তরাজ্য (৮ম)। তবে এবারের সূচকে আফগানিস্তান, ভূটান এবং মালদ্বীপ জায়গা পায়নি।

পর্যটন   ডব্লিউইএফ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন