ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

টিপু সুলতান এবং সিরাজ উদ-দৌলার সাথে তুলনা ইমরান খানের

প্রকাশ: ১০:২০ এএম, ১১ এপ্রিল, ২০২২


Thumbnail টিপু সুলতান এবং সিরাজ উদ-দৌলার সাথে তুলনা ইমরান খানের

পরিবর্তনের শ্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমরান। কিন্তু তাঁর আমলে পাকিস্তানের অর্থনীতি খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না। ইমরান সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা লাখো পাকিস্তানিকে দরিদ্র করেছে। ইমরান ক্ষমতায় আসার বছর ২০১৮ সালে পাকিস্তানের মোট দেশজ উৎপাদন ছিল ৩১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ২০২২ সালে তা ২৯ হাজার ২০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। এ সময় ইমরানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, পাকিস্তান নরওয়ে কিংবা ডেনমার্ক হয়নি। বরং পাকিস্তানিদের মাথাপিছু জিডিপি বাংলাদেশিদের তুলনায় কমেছে। 

ইমরান খানের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি আর তার বিশ্বকাপ জয়ের ফেসভেলু তাকে ২০১৮ সালে নির্বাচনে জয় পেতে সহযোগিতা করেছিলো। তবে তার এই জয় নিয়েও নানা রকমের গুঞ্জন শোনা যায়। অনেকে তার জয়ের পিছনে পাকিস্তানের ক্ষমতার পেছনের চালক সেনাবাহিনীর সরাসরি আশীর্বাদের কথা উল্লেখ্য করে। তবে তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি খোলন বদলানোর একক চেষ্টা শুরু করেন। তিনি পশ্চিমা ব্লক বিশেষ করে আমেরিকার বলয় থেকে পাকিস্তানকে সরিয়ে রেখে চীনের প্রতি একটু বেশি ঝুঁকে গিয়েছিলেন যা তাকে পশ্চিমের বিশেষ নজরে ফেলে দেয়। পশ্চিমা বিরোধী এই নীতির ফলেই তাকে অনাস্থা ভোটের মুখে পড়তে হয়েছে এবং হেরে বিদায় নিতে হয়েছে বলে ইমরান খান সহ তার দলের নেতা কর্মীরা শুরু থেকেই সরব। 

তবে ইমরান খান যে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে চলেছেন সেই অভিযোগ ইতিহাসের দুই চরিত্র টিপু সুলতান ও নবাব সিরাজ উদ–দৌলার কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁরা দুজনই দেশপ্রেমিক ছিলেন। জীবনের শেষ অবধি পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েছেন। ইমরান খান যদি রাজনীতির মাঠে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারেন তবে অনেকেই হয়তো তাঁকে টিপু সুলতান কিংবা সিরাজের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করবেন।

ক্ষমতা গ্রহনের শুরুর দিকে ইমরান খান তার রাজনৈতিক বিরোধীদের বেশ কঠোরভাবে দমন করতে পেরেছিলেন। তখন মনে করা হয়েছিল, ইমরান খানের বিরোধীদের ঘুরে দাঁড়াতে কঠিন হবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে ঠিক উল্টো। বিরোধীরা শুধু ঘুরেই দাঁড়ায়নি, একজোট হয়ে ইমরান খানের ওপর চরম আঘাত হেনেছেন। তাঁকে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ছুঁড়ে ফেলেছেন।

ইমরান খান দেশের কোনো খাতেই সংস্কারের ছোঁয়া রেখে যাননি। যদিও ক্ষমতায় আসার আগে তিনি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বস্তুত তাঁর আমলে রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভ– আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা অনেকটাই খর্ব হয়েছে। তাই ইমরান খানের পর যিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন তাঁকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন ইমরান। শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতিবাজ দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় ২০১৮ সালে পাকিস্তান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪০তম ছিল। সর্বশেষ তালিকায় দেশটির অবস্থান ১২৪। এক্ষেত্রে ধীরে হলেও পরিবর্তনের পথে হাঁটছিলেন ইমরান খান। তাঁর এই পরিণতি কীভাবে হল? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইমরান খানের রাজনৈতিক উত্থান ও যাত্রা পথের দিকে নজর দিতে হবে।

ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে

১৯৯২ সাল, ইমরান খানের জীবনে অন্যতম সেরা একটি বছর। বয়স ৪০ বছর ছুঁতে যাওয়া ইমরানের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতে নেয় পাকিস্তান ক্রিকেট দল। দেশ–বিদেশে তুমুল জনপ্রিয়তা ইমরানের। বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলা থেকে অবসর নেন তিনি। ওই সময়ই জীবনে নতুন একটি অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হয় তাঁর। তা হলো– রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা। স্বপ্ন ছিল, এক দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তহবিল গঠনে নামেন ইমরান খান। উদ্দেশ্য ছিল, তাঁর মায়ের নামে একটি ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলা। এর আগে ১৯৮৫ সালে তাঁর মা শওকত খানম ক্যানসারে মারা যান। তাঁর তহবিলে লাখো মানুষ অর্থ দান করেন। ওই সময় পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নওয়াজ শরিফ। পরবর্তীতে নওয়াজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ইমরানের ক্যানসার হাসপাতাল চালু করতে ব্যাপক সহায়তা ও অর্থ প্রদান করেছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালে হাসপাতালটি চালু হয়।

ওই সময় ইমরান খানকে অনেকেই ‘বয়স্ক বাঘ’ বলতে শুরু করেন। কেননা তিনি বয়সের কারণে ইতিমধ্যে খেলা ছেড়েছেন। ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনছেন ব্যক্তি জীবনেও। খেলোয়াড় জীবনে ইউরোপীয় ভাবাদর্শের ইমরানের ‘প্লে বয়’ ইমেজ ছিল। কিন্তু রাজনীতিতে এসে মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ইমরান কয়েক দশকের ওই ভাবমূর্তি পুরোপুরি বদলে ফেলতে চেয়েছিলেন। 

ইমরান বিশ্বাস করতেন, আধুনিক শিক্ষা তাঁকে পশ্চিমের দেশগুলোর উন্নয়ন প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করেছে। সে অনুযায়ী তিনি পাকিস্তানের পরিবর্তন আনার পথ খোঁজেন। তাঁর এমন মনোভাব সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ইমরান সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেন। তখনই পাকিস্তানের মানুষ বুঝেছিল, ক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়ার উচ্চাভিলাষ নিয়ে ইমরান রাজনীতি শুরু করছেন।

দল গঠনের সূচনা

সময়টা ১৯৯৪ সালের শেষ দিক। কখন ইমরান রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেবেন, এমন অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর সমর্থকেরা। এ সময় ইমরান মৈত্রী গড়ে তোলেন জেনারেল হামিদ গুল ও মোহাম্মদ আলি দুররানির সঙ্গে। হামিদ গুল পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান। আর আলি দুররানি জামাতে ইসলামের তরুণ শাখা ‘পাসবান’–এর প্রধান ছিলেন। আফগান জিহাদিদের সঙ্গে দুজনেরই সুসম্পর্ক ছিল।

তবে রাজনৈতিক দল গঠনের আগের এই মৈত্রী প্রায় তিন দশক ধরে ইমরানকে ভুগিয়েছে। দেশে–বিদেশে তাঁর নামে একটি রটনা রটে, ইমরানের সঙ্গে পাক সেনাবাহিনীর সখ্য রয়েছে। এমনকি ক্ষমতায় আসার আগ মুহূর্তে রটেছিল, ইমরান খান সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি ‘পুতুল সরকারের’ প্রধান হবেন। আসল ক্ষমতা পর্দার আড়ালে থাকা সেনাবাহিনীর হাতে থাকবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইমরান নিজেও এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

যদিও ওই সময় ইমরান বুঝেছিলেন, আসল পরিবর্তন আনতে গেলে পাকিস্তানিদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষত ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করা অভিজাতদের প্রভাব কমাতে হবে। তাই তিনি মধ্যবিত্তদের রাজনীতি সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে মধ্যবিত্তদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।

১৯৯৫ সালে ইমরানের ব্যক্তিজীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি বিয়ে করেন জেমিমা গোল্ডস্মিথকে। ২২ বছর বয়সী জেমিমা যুক্তরাজ্যের একজন ধনকুবেরের মেয়ে। এর পরের বছর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা। রাজনৈতিক দল গঠন করেন ইমরান। নাম দেন পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই)।

শুরুটা ভালো ছিল না

রাজনৈতিক দল গঠনের এক বছরের মাথায় সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন ইমরান। উচ্চাশা ছিল অনেক, তবে ফলাফল হতাশাজনক। একটি আসনেও জিততে পারেনি পিটিআই। ওই নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজ (পিএমএল–এন) ইমরানের নতুন দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়তে চেয়েছিল। ৩০টি আসনে পিটিআইয়ের প্রার্থীদের সমর্থন দিতে চেয়েছিল। তবে ইমরান সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ফলাফল পিটিআই পায় মোট ভোটের মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। আসন শুন্য। অন্যদিকে নওয়াজ শরিফের পিএমএল–এন ও বেনজির ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) যথাক্রমে ৪৬ শতাংশ ও ২২ শতাংশ ভোট পায়।

ইমরান খান ১৯৯৯ সালে আল্লামা তাহিরুল কাদরির নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী ইত্তেহাদে যুক্ত হন। পিপিপিসহ ১৯টি বিরোধী দলের জোট ছিল এটি। এর পরেই পাকিস্তানে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। ক্ষমতায় বসেন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। রাজনীতিকদের অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এক পর্যায়ে রাজনীতিকদের সুযোগ দেন মোশাররফ। নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন তিনি। ওই সময় গোয়েন্দারা পারভেজ মোশাররফকে বলেছিল, নির্বাচনে পিটিআই ১০টির বেশি আসন পাবে না। এর পরেও ইমরান খানকে ৩০টি আসন দিয়ে তাঁর সঙ্গে জোট গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেনাশাসক মোশাররফ।

অন্যদিকে ইমরানের ধারণা ছিল, তাঁর দল শতাধিক আসনে জিতবে। তাই সেনাশাসকের ওই প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। ভোটের ফলে দেখা যায়, পিটিআই মাত্র দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দলভিত্তিক হিসাবে পিটিআইয়ের অবস্থান ১০। ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনে সবচেয়ে ভালো ফল করে পিপিপি। মুসলিম লিগ–কায়েদ (পিএমএল–কিউ) পায় ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে পিএমএল–এন পায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। মোশাররফের আমলের ওই নির্বাচনে জিতে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে যান ইমরান। ওই সময় নবগঠিত পিএমএল–কিউ সরকার গঠন করে।

ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু

পরিবর্তনের শ্লোগান নিয়ে শুরু করলেও শুরুতে ধুঁকতে হয়েছে ইমরানের দল পিটিআইকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে পিপিপি সরকার গঠন করে। ওই নির্বাচনে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ইমরানের দল। একইসঙ্গে পাঞ্জাবে জোট সরকারের সঙ্গী হয় পিটিআই।

কেন্দ্রে পিপিপি সরকার বেশ সমালোচিত হয়। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অভিযোগ ডালপালা মেলেছিল। এমনকি বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়ায় পিপিপি সরকার। তবে সব ছাপিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় বেনজির ভুট্টোর নিহত হওয়ার ঘটনা পিপিপিকে চরম সংকটে ফেলে দেয়। দলটি একজন ‘ক্যারিশমাটিক’ নেতাকে হারায়। 

এ সুযোগ কাজে লাগান ইমরান। জনগণের কাছে আগে থেকেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। এবার তরুণদের মন জয়ের উদ্যোগ নিতে শুরু করেন তিনি। গত দশকে পাকিস্তানে তরুণ ভোটারদের সংখ্যাও বাড়ছিল। ‘পাকিস্তান পিপলস পার্টি: রাইজ টু পাওয়ার’ নামে একটি বই লিখেছেন ফিলিপ ই জোনস। ওই বইয়ে তিনি লিখেছেন, সামাজিক পরিবর্তনে পিপিপির তুলনায় পিটিআইয়ের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

পিপিপির নেতাদের বেশির ভাগ সামন্তবাদী। অন্যদিকে পিটিআইয়ের যাত্রা শুরু হয় নব্য উদারবাদী পুঁজিবাদের আমলে। তাই সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের যাত্রা দলটির নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন, যা তরুণ ভোটারদের মন জয়ে কাজে লেগেছে। এর ফল আসে ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে। পার্লামেন্টে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভোট পায় পিটিআই। ১৪৯টি আসনে এককভাবে জয় পায় দলটি। রাজনীতিতে আসার প্রায় দুই যুগ পর দেশের প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান খান। তবে তাঁর নেতৃত্ব এতোটাই প্রবল যে, দলে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি তৈরি হয়নি। বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, পাকিস্তানের রাজনীতিতে পিটিআই মানেই ইমরান খান আর ইমরান খান মানেই পিটিআই।

‘নয়া পাকিস্তান’ গড়ার স্বপ্নভঙ্গ

২০১৩ সালের পর থেকে পিটিআইয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। পরবর্তী সময়ে ইমরান খান পাকিস্তানের সব সমস্যাকে একক ট্যাগলাইন ‘দুর্নীতিতে’ আটকে ফেলেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে রীতিমতো ‘ক্রুসেড’ শুরুর ঘোষণা দেন তিনি। এই লড়াইয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমও তাঁর পাশে দাঁড়ায়। বলা হয়, ইমরানের ‘নয়া পাকিস্তান’ হবে নৈতিকভাবে মদিনা আর উন্নয়নের দিক থেকে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর (নরওয়ে, ডেনমার্ক) মতো। আরও বলা হয়, ক্ষমতার কেন্দ্রে যদি একজন যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নেতা থাকেন, তাহলে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত থাকবে। দেশে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

কিন্তু ইমরানের আমলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটেনি। পরিবর্তন আসেনি। বরং ইমরানের আশপাশের লোকজনের নামে বিভিন্ন সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেননি ইমরান। এমনকি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক সূচকেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি করতে পারেনি পাকিস্তান। দেশের অর্থনীতিও ক্রমশ ধুঁকতে শুরু করে। পাকিস্তানকে বাঁচাতে সৌদি আরব ও চীনের দ্বারস্থ হতে হয় ইমরান খানকে। অর্থনৈতিক সংকটই ইমরানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে।

ইমরানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব তোলার বিষয়ে নজিরবিহীন ঐক্য দেখিয়েছেন বিরোধীরা। তবে প্রস্তাব উত্থাপনের পর থেকে নতুন একটি অভিযোগ সামনে আনেন ইমরান খান। তিনি বলতে শুরু করেন, শুধু দেশীয় বিরোধীরাই নয়, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে উঠেপড়ে লেগেছে বিদেশিরা। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের রাজনীতি এর আগেও অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মুখোমুখি হয়েছে। তবে এটা সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিযোগ।

এই অভিযোগ সামনে এনে গদি রক্ষা করতে চেয়েছিলেন ইমরান খান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতে সফল হতে পারেনি তিনি। এর পেছনে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। পার্লামেন্টে মধ্যরাতের অনাস্থা ভোটে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাঁকে।

তবে ইমরানের সামনে এখনও ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। আপাতত আগাম নির্বাচন না হলেও আগামী বছর পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ চাইলে ওই নির্বাচনে জিতে আবারও ক্ষমতায় আসতে পারেন তিনি। এমন ঘটনা পাকিস্তানের ইতিহাসে আগেও ঘটেছে। তা না হলে অনেকের চোখে টিপু সুলতান বা নবাব সিরাজ উদ–দৌলার মতো একজন হয়ে উঠবেন ইমরান খান। সূত্র: ডন 

পাকিস্তান   অনাস্থা ভোট   ইমরান খান  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র কিনবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৯:২৭ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র কিনবে যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনের জন্য চলতি সপ্তাহে উন্নত প্রযুক্তির মাঝারি থেকে দূরপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে-ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। 

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর চাহিদা মেটাতে ওয়াশিংটন ইউক্রেনের জন্য গোলাবারুদ এবং কাউন্টার-ব্যাটারি রাডারসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সহায়তা ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দিকে, রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন রকেট ব্যবস্থা আঘাত হানছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। এর আগেও রুশ সেনা অভিযানে আক্রান্ত ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা অনুমোদন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। 


ইউক্রেন   যুক্তরাষ্ট্র   অস্ত্র   রাশিয়া   যুদ্ধ   সাহায্য  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সু চি'র মুক্তির জন্য আহ্বান জানিয়েছে আসিয়ান জোট

প্রকাশ: ০৮:১০ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail সু চি'র মুক্তির জন্য আহ্বান জানিয়েছে আসিয়ান জোট

শান্তিতে নোবেলজয়ী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে মিয়ানমারের সেনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান। সোমবার (২৭ জুন) জোটটির মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ও কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন এ আহ্বান জানান। খবর রয়টার্সের

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তাঁদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন আগামী বুধবার থেকে মিয়ানমারে দ্বিতীয় সফর শুরু করবেন। ১০ সদস্যবিশিষ্ট আসিয়ানের সঙ্গে জান্তা সরকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ সফর হবে।

গত বছর সেনা অভ্যুত্থানের পর আটক হন সু চি। কমপক্ষে ২০টি অপরাধের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। সু চি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ৭৭ বছর বয়সী এ নেত্রীকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারের জান্তা বরাবর লেখা এক চিঠিতে সুচির প্রতি কৃপা করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রাক সোখন। তিনি লিখেছেন, ‘দেশকে স্বাভাবিকতায় ফিরিয়ে নিতে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের মধ্য দিয়ে জাতীয় সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় অং সান সু চি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আর তা মিয়ানমারের অনেকের কাছে ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত।’

চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, এক পক্ষকে বাদ দিয়ে সফল শান্তি প্রক্রিয়া সম্ভব নয়। যত জটিলই হোক না কেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধান জরুরি। এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত সবাইকে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।

এর আগে মার্চে মিয়ানমার সফর করেন প্রাক সোখন। তাঁর এ সফরকে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেছিলেন অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, সোখন জান্তার পক্ষে কথা বলেছেন এবং বিরোধীদের এড়িয়ে গেছেন। সোখন বলেছিলেন সমালোচনার জায়গাটি তিনি বুঝতে পারছেন।


সু চি   আসিয়ান   মিয়ানমার   জান্তা সরকার   মুক্তি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইরান-ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে চায় ফ্রান্স

প্রকাশ: ০৭:৫৫ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail ইরান-ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে চায় ফ্রান্স

ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। তাই প্রতিশোধ নিতে রাশিয়া এরই মধ্যে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ কমিয়েছে। তাছাড়া চলতি বছরের মধ্যে রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নির্ভরশীলতা সম্পূর্ণভাবে কমাতে চায় ইউরোপের দেশগুলো। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে। তাই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে চায় ফ্রান্স।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল বাজারে ফিরে আসতে দেওয়া উচিত। এজন্য দেশ দুইটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা উঠিয়ে দেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সরবরাহের বৈচিত্র্যকরণ, মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সব উৎপাদকদের সঙ্গে আলোচনা ও তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

এদিকে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর বিশ্বে খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে জি-৭ নেতাদের এক সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (২৬ জুন) সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

জার্মানির ব্যাভারিয়ান আল্পসে বৈঠকের শুরুতে, সাতটি ধনী দেশের মধ্যে চারটি দেশ রাশিয়ার স্বর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ করার কথা জানায়।

সূত্র: ব্লুমবার্গ 


ইরান   ভেনেজুয়েলা   তেল   বানিজ্য   ফ্রান্স  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

জর্ডানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে গুলি করে হত্যার পরে অভিযুক্তের আত্মহত্যা

প্রকাশ: ০৫:৫৯ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail জর্ডানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে গুলি করে হত্যার পরে অভিযুক্তের আত্মহত্যা

জর্ডানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত বৃহস্পতিবার একজন নারী শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক জন অসন্তুষ্টি তৈরি হয়।

রোববার (২৬ জুন) পুলিশ ওই আততায়ীকে ঘিরে ফেললে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। পরবর্তীতে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত আত্মহত্যাকারীর নাম খালেদ আবদাল্লাহ হাসান। জর্ডানের রাজধানী আম্মানের এপ্লাইড সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ইমান রসিদকে (২১) গুলি করে হত্যা করেন তিনি। আমান রসিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং বিভাগের  শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যায় অভিযুক্ত আবদাল্লাহকে বালামা শহরে অবস্থানের বিষয় শনাক্ত করে। ওই জায়গা ঘিরে ফেলা হলে তাকে অস্ত্রসহ পাওয়া যায়। পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। কিন্তু সে সবাইকে অবাক করে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে।


জর্ডান   বিশ্ববিদ্যালয়   ছাত্রী   হত্যা   আত্মহত্যা   মধ্যপ্রাচ্য  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউক্রেনে সক্রিয় পশ্চিমা কমান্ডোদের গোপন সেল

প্রকাশ: ০৪:০৪ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail ইউক্রেনে সক্রিয় পশ্চিমা কমান্ডোদের গোপন সেল

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং কমান্ডোদের একটি গোপন সেল ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করছে। দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস এ খবর দিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং বিদেশি কমান্ডোদের একটি চক্র ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে। এই বাহিনীতে আমেরিকা, কানাডা, বৃটেন, ফ্রান্স ও লিথুয়ানিয়ার কমান্ডো ও গোয়েন্দারা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশের অবসরপ্রাপ্ত এবং নিয়মিত কমান্ডো এবং গোয়েন্দা সদস্যরা অংশ নিচ্ছে।

কমান্ডো ও গোয়েন্দা সেলের একটি অংশ ইউক্রেনে সক্রিয় রয়েছে এবং আরেকটি অংশ ইউক্রেনের বাইরে ব্রিটেন, জার্মানি এবং ফ্রান্সের মতো দেশে তৎপর রয়েছে। এই সেলের সদস্যরা ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এবং গোায়েন্দাদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সর্বাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের গোয়েন্দাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো বেশি উপযুক্ত করে তুলছে।

এর আগে ওয়াশিংটন দাবি করেছিল যে, ইউক্রেনের মাটিতে আমেরিকার কোনো সেনা নেই। কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদন অনুসারে, ওয়াশিংটনের ওই দাবি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হচ্ছে। সূত্র: পার্সটুডে

রাশিয়া   ইউক্রেন   যুক্তরাষ্ট্র   ইইউ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন