ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আগে হঠাৎ বেলারুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১০:১৬ এএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বেলারুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেকি আকস্মিকভাবে মারা গেছেন। জানা গেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দেখা করা দুইদিন আগে শনিবার (২৬ নভেম্বর) তার মৃত্যু হয়।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) বেলারুশের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বেল্টা  এই তথ্য সামনে আনে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্লাদিমির মেকি ২০১২ সাল থেকে বেলারুশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। শনিবার বিস্তারিত আর কোনও তথ্য না জানিয়ে বার্তাসংস্থা বেল্টা জানায়, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেকি হঠাৎ মারা গেছেন।’

রয়টার্স বলছে, ৬৪ বছর বয়সী ভ্লাদিমির মেকি চলতি সপ্তাহের শুরুতে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার (সিএসটিও)-এর একটি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। এটি সোভিয়েত যুগ পরবর্তী বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রের একটি সামরিক জোট এবং সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে তার দেখা করার কথা ছিল।

২০২০ সালে বেলারুশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং সরকার বিরোধী গণবিক্ষোভের আগে মেকি পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে বেলারুশের সম্পর্ক উন্নত করার প্রচেষ্টার অন্যতম ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং রাশিয়ার সমালোচনা করেছিলেন। তবে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর তিনি হঠাৎ করে তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। সেসময় বিক্ষোভকারীদের তিনি পশ্চিমের এজেন্টদের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত বলে আখ্যা দেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর মস্কো এবং মিনস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সমর্থক মেকি বলেন, পশ্চিমারা যুদ্ধে উস্কানি দিয়েছে এবং ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের উচিত রাশিয়ার শান্তির শর্তে সম্মত হওয়া।

অবশ্য যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন আগে মেকি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বেলারুশের ভূখণ্ড থেকে ইউক্রেনের ওপর কোনও আক্রমণ হবে না। কয়েকদিন পরে, রাশিয়ান সৈন্যরা প্রমাণ করে যে তিনি ভুল ছিলেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানিয়েছেন, ‘বেলারুশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান ভ্লাদিমির মেকির মৃত্যুর খবরে আমরা হতবাক। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে শিগগিরই শোক প্রকাশ করব।’

এছাড়া ২০২০ সালের বিক্ষোভ সত্ত্বেও ক্ষমতা ধরে রাখা বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেকির মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী   বেলারুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী   সের্গেই ল্যাভরভ   ভ্লাদিমির মেকি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

৪৮ বছরে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে পাকিস্তান

প্রকাশ: ১১:৩৯ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এর মধ্যে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২৭ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে  যা কিনা গত ৪৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পাকিস্তানের পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। ভোক্তা মূল্য সূচকের মাধ্যমে ভোক্তাদের ব্যয় এবং সেবার ওপর নির্ভর করে মাস থেকে আরেক মাসের মূল্যস্ফীতি পরিমাপ করা হয়।

পরিসংখ্যান ব্যুরো আরও জানিয়েছে, শহুরে এলাকায় গত এক বছরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আর গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া মূল মূল্যস্ফীতি, যেটিতে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যটি অন্তর্ভুক্ত নয়, সেটিও শহুরে এলাকায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তানের বিনিয়োগকারী সংস্থা আরিফ হাবিব লিমিটেডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে এর আগে মূল্যস্ফীতি এত বেশি ছিল ১৯৭৫ সালে। সে বছর মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

মধ্যস্থতাকারী কোম্পানি টপলাইন সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সোহাইল বলেছেন, রুপির দরপতন, ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়া এবং কর বৃদ্ধির পরই বোঝা গিয়েছিল মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

পাকিস্তানে ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে পেঁয়াজ, মুরগি, চালের আটা, আটা, কলাই, মুগ ডাল, ছোলা ডাল, বেসন, সরিষা তেল, মাসের ডাল, তাজা ফল, রান্নার তেল, খাঁটি দুধ, ঘি, টমেটো, মাছ, মশুর ডাল, মাংস, তাজা সবজি, আলু এবং চিনির দাম।

এ মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পেট্রোল এবং ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির শঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে। যদি আইএমএফ এ ঋণ দিতে সম্মত হয় তাহলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুক্তরাষ্ট্রসহ চার দেশের নতুন নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমার

প্রকাশ: ১১:১৪ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

মিয়ানমারের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া । সেনা অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের দুই বছর পর দেশটির সামরিক শাসকদের ওপর চাপ প্রয়োগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো ছয় ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান জান্তা সরকারকে জ্বালানি খাতের প্রসার, বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব তৈরিসহ রাজস্ব ও অস্ত্র সংগ্রহে সাহায্য করেছে। 

তিনি আরো জানান, দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন, খনি কোম্পানি, জ্বালানিবিষয়ক কর্মকর্তা ও সাবেক-বর্তমান কয়েক জন সেনা কর্মকর্তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাছাড়া প্রথম বারের মতো মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের (এমওজিই) কর্মকর্তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। 

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জান্তা সরকার যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারে অবাধ, নিরেপক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে- এমন আকাঙ্ক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

শর্ট পজিশনে অর্থ হাতানোর কৌশল, চ্যালেঞ্জের মুখে আদানি

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আদানি গ্রুপ হল ভারতের একটি বহুজাতিক সংস্থা যার প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান কর্মকর্তা হলেন গৌতম আদানি।  শিক্ষার গন্ডি ছাড়িয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হয়েছিলেন গৌতম আদানি। কিন্তু গত সপ্তাহে যা ঘটে গেছে, তাতে করে ভারতের এই নাগরিক তাঁর ব্যবসায়িক ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে তাঁর সম্পদমূল্য কমেছে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

ফোর্বসের ধনীদের তালিকায় তিনি ৩ নম্বর থেকে ৯ এ নেমে গেছেন। শুধু সম্পদই কমেনি আদানির, তাঁর ব্যবসার ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, খ্যাতি বলতে যা ছিল, তাতে বড় ধাক্কা লেগেছে।

আদানি গ্রুপের শেয়ারবাজার জালিয়াতি নিয়ে গত মঙ্গলবার এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিডেনবার্গ রিসার্চ। তাতে তারা জানায়, আদানি গ্রুপে শর্ট পজিশনে বাজি ধরেছে তারা। তাদের দাবি, আদানি গ্রুপের ঘাড়ে বিপুল পরিমাণে ঋণের বোঝা রয়েছে। এদিকে অ্যাকাউন্টিং ঠিক নেই বলেও উল্লেখ করেছে তারা। এর পাশাপাশি তারা দাবি করেছে, আদানি গ্রুপ 'কয়েক দশক ধরেই নির্লজ্জের মতো স্টক ম্যানিপুলেশন এবং অ্যাকাউন্টিং জালিয়াতিতে জড়িত।'

ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদানির কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমতে শুরু করে।

গুজরাট একজন ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন গৌতম আদানি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই রাজ্য থেকে রাজনীতিতে উঠে এসেছেন। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, আদানি ও মোদির মধ্যে বহু বছর ধরে ব্যবসা ও রাজনীতি নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।

স্বল্প সময়েই আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর সম্পদ ফুলেফেঁপে ওঠে। তবে শুরু থেকেই একটি ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল আদানির। এ জন্য সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর থেকে শুরু করে একে একে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, খনি, ভোজ্যতেল, পুননবায়নযোগ্য জ্বালানি ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করেন তিনি। সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সিমেন্ট খাতেও বিনিয়োগ করেছেন ভারতের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তি।

আদানির ব্যবসা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সাতটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দামও হু হু করে বেড়েছে। বিশেষ করে সর্বশেষ তিন বছরে তাঁর কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম দেড় হাজার শতাংশেরও বেশি বেড়েছে বলে বিভিন্ন খবরে বলা হচ্ছে। এ সময়ে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগও পেয়েছেন আদানি।

সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি হয়ে যান আদানি। তার আগে ছিলেন বার্নার্ড আরনল্ট এবং ইলন মাস্ক। এ সময় তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২৭ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১০০ টাকা ধরে)।

এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও একটা সময় পর্যন্ত ৬০ বছর বয়সী আদানি অন্যান্য শতকোটিপতিদের তুলনায় অনেক কম পরিচিত ছিলেন। আদানি নিজেই সক্রিয়ভাবে তাঁর সব কটি শাখার ব্যবসা পরিচালনা করেন। নিজের দুই ছেলে করণ ও জিৎকে এখন তিনি ব্যবসায় যুক্ত করেছেন। তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি দাঁতের চিকিৎসক।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ব্যবসায়িক সুবিধা পেয়েছেন—এমন অভিযোগবিরোধীরা তুললেও তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন আদানি। ২০১৪ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদানি বলেছিলেন, রাজনীতির সব পক্ষের সঙ্গেই তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তবে তিনি নিজে রাজনীতি এড়িয়ে চলেন। মোদি সরকারও আদানিকে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

মোদি আদানির করপোরেট বিমান ব্যবহার করার পর এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। তবে আদানি জানিয়েছিলেন যে মোদি ‘পুরো টাকা পরিশাধ করেন’।

সম্প্রতি আদানি তাঁর ভাবমূর্তি গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করেন। এ জন্য তিনি দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। ভারতের অন্যতম শীর্ষ গণমাধ্যম এনডিটিভির বড় অংশের শেয়ার কিনে নেওয়াও তার এমন কার্যক্রমের অংশ বলে মনে করা হয়।

নিজেকে একজন লাজুক ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা আদানি বলেছেন, তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কৃতিত্ব বিরোধীদের। কারণ, তাঁদের ক্রমাগত সমালোচনার কারণেই বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।

‘মানুষজন আদানিকে চিনতে পেরেছে রাহুলজির জন্য; কারণ, তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং এরপর থেকে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছেন’, এ মাসের আরও আগের দিকে এক অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্পর্কে বলেছিলেন তিনি।

তিন সপ্তাহের মাথায় শুক্রবারে আদানির কোম্পানির শেয়ারে ধস নামে। শুধু চলতি সপ্তাহেই তাঁর কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে ৪৮ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের মূলধন হারিয়েছে। হিনডেনবার্গ রিসার্চ বলছে, আদানির ব্যবসাগুলো বিশ্বের নানা জায়গায় দেয়া কর অবকাশ সুবিধার অনুচিত ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে আদানির বিপুল ঋণের বিষয়েও যে উদ্বেগ রয়েছে, তা–ও তুলে ধরেছে ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

আদানির জন্য বিতর্ক অবশ্য নতুন কিছু নয়। কেরালায় তাঁর ৯০ কোাটি ডলারের বন্দর নির্মাণের বিরুদ্ধে মৎস্যজীবীদের বিক্ষোভ হয়েছে, যার জন্য তিনি রাজ্য সরকার ও জেলে সম্প্রদায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর কারমাইকেল কয়লা খনির বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

ভারতের ইমেজ গুরু হিসেবে পরিচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পারফেক্ট রিলেশনসের সহপ্রতিষ্ঠাতা দিলীপ চেরিয়ান রয়টার্সকে বলেন, হিনডেনবার্গ রিপোর্টের প্রতিবেদন আদানির খ্যাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আদানি সেই ক্ষতি সীমিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে এবং বিনিয়োগকারীদের নানাভাবে আশ্বস্ত করতে পারেন।

তবে যে ধরনের উল্কাগতিতে আদানির উত্থান হয়েছে, তাতে তিনি যে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন, সে ব্যাপারে হয়তো খুব কম মানুষই দ্বিমত করবেন।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুদ্ধের বর্ষপূর্তিত: বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া

প্রকাশ: ১০:১৭ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি। যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে রাশিয়া নতুন করে ইউক্রেনে বড় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসি রেজনিকভ।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ফ্রান্সের গণমাধ্যম বিএফএমের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন ওলেকসি রেজনিকভ। তাঁর দাবি, ওই হামলা চালাতে রাশিয়ার প্রায় ৫ লাখ মানুষকে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার ৩ লাখ নাগরিককে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে রেজনিকভের ভাষ্য, রুশ সামরিক বাহিনীতে নতুন করে যুক্ত করা এবং যুদ্ধের জন্য মোতায়েন করা সেনার সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

বুধবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘খাতা-কলমের হিসাবে রাশিয়া ৩ লাখ মানুষকে সামরিক বাহিনীতে নিযুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সীমান্তে তারা কী পরিমাণ সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হিসাবে এটা রাশিয়ার ঘোষণার চেয়ে অনেক বেশি।’

ইউক্রেন রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করার প্রস্তুতি নেবে বলে জানিয়েছেন রেজনিকভ। তিনি বলেন, তাঁর বিশ্বাস, ২০২৩ সাল হবে ইউক্রেনের জন্য সামরিক বিজয়ের বছর। বিগত মাসগুলোতে ইউক্রেন বাহিনী যা অর্জন করেছে তা হারাতে পারে না।

সম্প্রতি ইউক্রেনের গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, বসন্ত শেষ হওয়ার আগেই দেশটির দনবাস অঞ্চল দখল করতে রুশ সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। এরপরই রেজনিকভ রাশিয়ার সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আশঙ্কার কথা বললেন।

দনবাস দখলে পুতিনের অভিলাষ নিয়ে একই কথা বলেছেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গত সোমবার তিনি বলেন, রাশিয়া তৎপরতার সঙ্গে নতুন অস্ত্র ও বেশি বেশি গোলাবারুদ জোগাড় করছে। অস্ত্রের উৎপাদনও বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে আরও অস্ত্র সংগ্রহ করছে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

আট মাস পর বিশ্ব বাজার থেকে তরল গ্যাস কিনেছে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৩:৪১ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

টানা আট মাস বন্ধ রাখার পর আবারও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি চালান কিনেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে গ্যাস কেনা বন্ধ করে দেয় সরকার। কিন্তু দাম কমায় আবারও এলএনজি আমদানি শুরু করছে ঢাকা।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দাম কমায় উন্নয়নশীল দেশগুলো আবারও নিজেদের চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গ্যাস কিনতে সক্ষম হচ্ছে— বাংলাদেশের গ্যাস কেনার বিষয়টি এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য গত সপ্তাহে ‘স্পট মার্কেট’ থেকে বাংলাদেশ এ গ্যাস কিনেছে। গত বছরের আগস্ট থেকে এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত গ্যাসের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ কমে যাওয়ার পরই বাংলাদেশ গ্যাস কিনল।

যদিও এশিয়ান এলএনজি স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম গত ১০ বছরের মধ্যে চড়া। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের মূল্যহ্রাসের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি আশীর্বাদই।

কারণ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ও জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সারা দেশে ভাগে ভাগে স্বল্পসময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (ব্ল্যাকআউট) রাখতে হয়েছে সরকারকে। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার পর গত বছরের জুনে বাংলাদেশ অধিক তরলীকৃত গ্যাস কেনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোরতার ঘোষণা দেয়।

মূল্য বেড়ে যাওয়ার পর শুধু বাংলাদেশ নয়, আরও যেসব উন্নয়নশীল দেশ আছে সেগুলোও তরলীকৃত গ্যাস কেনা প্রায় বন্ধ করে দেয়। এর বদলে কয়লার মতো কমদামী জ্বালানির দিকে ঝুঁকে দেশগুলো। এছাড়া গ্রাহক ও কোম্পানির কাছে গ্যাস সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে কিছু দেশ।

ব্লমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আর এ ঋণ পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ঢাকার সক্ষমতা বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের রিজার্ভ কমে যায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্লুমবার্গ।


এলএনজি   এলএনজি আমদামি   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন