ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

জ্বালানি ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ইউরোপ

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সারাবিশ্বের ইউরোপ মহাদেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে কী ভাবে জিজ্ঞেস করলে ইউরোপীয়রা প্রায়শই দুই ধরনের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। একটি প্রশংসনীয়। চলমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে সহায়তা করার এবং রুশ আগ্রাসনকে প্রতিহত করার সংগ্রামে, ইউরোপ একতা, দৃঢ়তা ও অমূল্য নীতিগত ইচ্ছা পোষণ করেছে।

দ্বিতীয়টি হলো বিপৎসংকেত। ২০২৩ সালে অর্থনৈতিক মন্দা ইউরোপের সক্ষমতার পরীক্ষা করবে। একটি আশঙ্কা ক্রমশই বাড়ছে আর তা হলো বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার পুনর্গঠন, আমেরিকার পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক ফাটল ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয় এমন দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়নকে হুমকির মুখে ফেলছে। এটি কেবল মহাদেশের সমৃদ্ধির ঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ট্রান্সআটলান্টিক জোটের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের জন্যও সুখকর নয়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপ থেকে সুসংবাদের ভিড়ে বোকা বনে যাওয়া উচিত নয়। ইউরোপে গ্রীষ্মকাল থেকে বিদ্যুতের দাম কিছুটা কমেছে এবং ভালো আবহাওয়ার কারণে গ্যাসের মজুত প্রায় পূর্ণ। গ্যাসের দাম যেখানে ছয়গুণ বেড়ে গিয়েছিল। গত ২২ নভেম্বর, রাশিয়া ইউরোপে শেষ অপারেশনাল পাইপলাইনটি বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছে। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইউক্রেনজুড়ে জরুরি বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউরোপের গ্যাস মজুত পুনরায় পূর্ণ করতে হবে ২০২৩ সালে, শুধু তাই নয়, পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়ার সরবরাহ গ্যাস ছাড়াই।

যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য ভ্লাদিমির পুতিন ‘জ্বালানি অস্ত্র’ ব্যবহারের কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। দ্য ইকোনমিস্টের মতে, আবহাওয়া, জ্বালানি ও মৃত্যুহারের মধ্যে যদি সুষম সম্পর্ক বজায় না থাকে তাহলে পুতিনের ‘জ্বালানি অস্ত্র’ বা ‘জেনারেল উইন্টার’ ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করবে। যুদ্ধে যে পরিমাণ ইউক্রেনীয় মারা গেছেন, তার চেয়ে বেশি ইউরোপিয়ান মারা যেতে পারেন। যেখানে জ্বালানির প্রকৃত দামের ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু সম্পর্কিত। ফলে এবছর জ্বালানি সংকট ইউরোপজুড়ে ১ লাখ বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে পুতিনের ‘জ্বালানি অস্ত্র’ ইউক্রেনের বাইরে তার আর্টিলারি, ক্ষেপণাস্ত্র ও সরাসরি ড্রোন হামলায় যত মানুষ মারা যায় তার চেয়ে বেশি প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। এটি আরও একটি বড় কারণ হলো, রাশিয়ার বিরুদ্ধে শুধু ইউক্রেনের প্রতিরোধ নয়, এটি ইউরোপেরও লড়াই।

এই যুদ্ধ তীব্র অর্থনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করেছে। জ্বালানি মূল্যস্ফীতি ইউরোপের বাকি অর্থনীতির খাতেও সংকট তৈরি করেছে। ফলে চরম দ্বিধান্বিত ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন। যদি সুদের হার খুব বেশি হয় তবে এটি ইউরো জোনের সদস্যদের অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, যুদ্ধ ইউরোপের ব্যবসায়িক মডেলের একটি দুর্বলতাও প্রকাশ করছে। ইউরোপের বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে জার্মানির, রাশিয়া থেকে সরবরাহ করা জ্বালানির ওপর নির্ভর করে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প বাজার হিসেবে আরেক ‘স্বৈরাচারী’ চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যদিও স্পষ্ট হয়েছে রাশিয়া-চীনের সম্পর্ক, ব্যয় বৃদ্ধি ও পশ্চিমা-চীনের বিচ্ছিন্নতার বিষয়গুলো।

আমেরিকার অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের কারণে আতঙ্ক আরও বেড়েছে, যা ভর্তুকি ও সুরক্ষাবাদের ঘূর্ণিঝড়ে ট্রান্সআটলান্টিক জোটের দেশগুলোর জন্য হুমকিস্বরুপ। মেক-ইন আমেরিকার আওতায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আইনে জ্বালানি, উৎপাদন ও পরিবহন বাবদ ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই স্কিমটি শিল্প নীতিগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ যা চীন কয়েক দশক ধরে অনুসরণ করছে। বিশ্ব অর্থনীতির যখন অন্য দুটি স্তম্ভ আরও হস্তক্ষেপ ও সুরক্ষাবাদী হয়ে উঠছে, ইউরোপ তখন মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মগুলো সমুন্নত রাখতে জোর দিচ্ছে।

এরইমধ্যে, ইউরোপের কোম্পানিগুলো ভর্তুকি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। নর্থভোল্ট, একটি সুইডিশ ব্যাটারি স্টার্টআপ। আমেরিকাতে উৎপাদন প্রসারিত করতে চায় তারা। ইবারড্রোলা, একটি স্প্যানিশ জ্বালানি কোম্পানি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় আমেরিকাতে দ্বিগুণ বিনিয়োগ করছে। অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যয়বহুল জ্বালানি ও আমেরিকান ভর্তুকির সংমিশ্রণ ইউরোপকে ব্যাপকভাবে শিল্পহীনতার ঝুঁকিতে ফেলছে। বিএএসএফ, একটি জার্মান রাসায়নিক জায়ান্ট, সম্প্রতি তার ইউরোপীয় কার্যক্রমকে ‘স্থায়ীভাবে’ সঙ্কুচিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

বিনিয়োগ হারানো ইউরোপকে আরও দরিদ্র করে তোলে ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা হ্রাসে প্রভাব ফেলে। করোনা মহামারি পূর্বের জিডিপি পুনরুদ্ধারে ইউরোপ অন্য যে কোনো অর্থনৈতিক ব্লকের চেয়ে খারাপ করেছে। বিশ্বের ১০০টি বড় কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৪টি ইউরোপীয়। রাজনীতিবিদরা নিয়মের বাইরে গিয়ে এবং কর্পোরেটের ধারার একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় তাদের নিজস্ব ভর্তুকি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রলুব্ধ হচ্ছেন। জার্মানির অর্থমন্ত্রী আমেরিকার ‘বিনিয়োগ বাড়ানো’ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘ইউরোপীয়ান জাগরণ’ এর আহ্বান জানিয়েছেন।

এভাবে ভর্তুকির শ্রেণি আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়াচ্ছে। ইউক্রেনের জন্য আমেরিকার আর্থিক ও সামরিক সহায়তা ব্যাপকভাবে ইউরোপকে ছাড়িয়ে গেছে। চীনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এশিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ায়, আমেরিকা নিরাপত্তার জন্য অর্থ প্রদানে ইউরোপের ব্যর্থতাকে দায়ী করছে। ন্যাটোর বেশিরভাগ সদস্য প্রতিরক্ষাখাতে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করার লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছিল অনেকটাই ‘নির্বোধ’। যদিও যুদ্ধের কারণে আমেরিকা ও ইউরোপ ট্রাম্পের সময়ের চেয়ে আরও বেশি একত্র হয়েছে। তবে বিপদ হলো একটি দীর্ঘ সংঘাত ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা ধীরে ধীরে তাদের আবার আলাদা করে দিতে পারে। এতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং খুশি হবেন বৈকি।

বিপজ্জনক ফাটল এড়াতে, আমেরিকাকে অবশ্যই বড় পরিসরে ভাবতে হবে। বাইডেনের সুরক্ষাবাদ ইউরোপের জীবনীশক্তি হারানোর হুমকিস্বরুপ। বাইডোনোমিক্সের প্রধান লক্ষ্য হলো চীনের প্রধান শিল্পের আধিপত্য বন্ধ করা। তবে আমেরিকার ইউরোপীয় বিনিয়োগে কৌশলগত আগ্রহ নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি ভর্তুকির জন্য উপযুক্ত করে তুলতে হবে এবং ট্রান্সআটলান্টিক জ্বালানির বাজারগুলোকে আরও গভীরভাবে সংহত করতে হবে।

ইউরোপকে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হবে। জার্মানির মতো ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের জ্বালানির চাহিদায় ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করে মূল্য ও চাহিদায় সামঞ্জস্য আনতে হবে। একটি নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে অর্থাৎ প্রতিরক্ষায় আরও বেশি ব্যয় করতে হবে।

প্রশংসা ও শঙ্কার কথা উঠলেও, ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ক এখন হতাশাব্যঞ্জক। তবে ইউরোপকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিভক্ত করা উচিত নয়। ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জোটের মানিয়ে নেওয়া ও টিকে থাকা অত্যাবশ্যক।


জ্বালানি   ভূ-রাজনীতি   ইউরোপ   সঙ্কট  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

পুলিশের ইউনিফর্ম পরে মসজিদে ঢুকেছিলেন আত্মঘাতী হামলাকারী

প্রকাশ: ০৮:২৫ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

পাকিস্তানের মসজিদে আত্মঘাতী হামলাকারী উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট মসজিদে পুলিশের পোশাক পরিধান করে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পুলিশ।

খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম জাহ আনসারি বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানান।

প্রাদেশিক এই পুলিশ প্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিরাপত্তা ক্যামেরা ফুটেজে তারা দেখেছেন, হামলাকারী বিশাল সুরক্ষিত মসজিদ প্রাঙ্গনে মোটরসাইকেলে প্রবেশ করেছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে চেক করেনি। কারণ, তারা ভেবেছিল ওই ব্যক্তি পুলিশ সদস্য।

হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের এই আইজিপি বলেন, ওই ব্যক্তি মাস্ক এবং হেলমেট পরিধান করেছিল।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলকারী পুলিশ কমপাউন্ডের প্রধান গেটে প্রবেশ করে মসজিদের অবস্থান জানতে চেয়েছিল। দুপুর ১ টা ৪০ মিনিটে যোহরের নামাজ শুরু হলে আত্মঘাতী ব্যক্তি নিজেকে উড়িয়ে দেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০১ জন নিহত হয়েছেন।

পুলিশের ধারণা, আত্মঘাতী ঘটনায় শুধু হামলাকারী ছিলেন না। এর পেছনে একটি নেটওয়ার্ক কাজ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


পাকিস্তান   পুলিশ   ইউনিফর্ম   মসজিদ   আত্মঘাতী হামলা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

৪৮ বছরে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে পাকিস্তান

প্রকাশ: ১১:৩৯ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এর মধ্যে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২৭ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে  যা কিনা গত ৪৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পাকিস্তানের পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, ভোক্তা মূল্য সূচকের (সিপিআই) তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। ভোক্তা মূল্য সূচকের মাধ্যমে ভোক্তাদের ব্যয় এবং সেবার ওপর নির্ভর করে মাস থেকে আরেক মাসের মূল্যস্ফীতি পরিমাপ করা হয়।

পরিসংখ্যান ব্যুরো আরও জানিয়েছে, শহুরে এলাকায় গত এক বছরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আর গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া মূল মূল্যস্ফীতি, যেটিতে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যটি অন্তর্ভুক্ত নয়, সেটিও শহুরে এলাকায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তানের বিনিয়োগকারী সংস্থা আরিফ হাবিব লিমিটেডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে এর আগে মূল্যস্ফীতি এত বেশি ছিল ১৯৭৫ সালে। সে বছর মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

মধ্যস্থতাকারী কোম্পানি টপলাইন সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সোহাইল বলেছেন, রুপির দরপতন, ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়া এবং কর বৃদ্ধির পরই বোঝা গিয়েছিল মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

পাকিস্তানে ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে পেঁয়াজ, মুরগি, চালের আটা, আটা, কলাই, মুগ ডাল, ছোলা ডাল, বেসন, সরিষা তেল, মাসের ডাল, তাজা ফল, রান্নার তেল, খাঁটি দুধ, ঘি, টমেটো, মাছ, মশুর ডাল, মাংস, তাজা সবজি, আলু এবং চিনির দাম।

এ মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পেট্রোল এবং ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির শঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে। যদি আইএমএফ এ ঋণ দিতে সম্মত হয় তাহলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুক্তরাষ্ট্রসহ চার দেশের নতুন নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমার

প্রকাশ: ১১:১৪ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

মিয়ানমারের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া । সেনা অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের দুই বছর পর দেশটির সামরিক শাসকদের ওপর চাপ প্রয়োগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো ছয় ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান জান্তা সরকারকে জ্বালানি খাতের প্রসার, বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব তৈরিসহ রাজস্ব ও অস্ত্র সংগ্রহে সাহায্য করেছে। 

তিনি আরো জানান, দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন, খনি কোম্পানি, জ্বালানিবিষয়ক কর্মকর্তা ও সাবেক-বর্তমান কয়েক জন সেনা কর্মকর্তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাছাড়া প্রথম বারের মতো মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের (এমওজিই) কর্মকর্তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। 

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জান্তা সরকার যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারে অবাধ, নিরেপক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে- এমন আকাঙ্ক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

শর্ট পজিশনে অর্থ হাতানোর কৌশল, চ্যালেঞ্জের মুখে আদানি

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আদানি গ্রুপ হল ভারতের একটি বহুজাতিক সংস্থা যার প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান কর্মকর্তা হলেন গৌতম আদানি।  শিক্ষার গন্ডি ছাড়িয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হয়েছিলেন গৌতম আদানি। কিন্তু গত সপ্তাহে যা ঘটে গেছে, তাতে করে ভারতের এই নাগরিক তাঁর ব্যবসায়িক ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে তাঁর সম্পদমূল্য কমেছে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

ফোর্বসের ধনীদের তালিকায় তিনি ৩ নম্বর থেকে ৯ এ নেমে গেছেন। শুধু সম্পদই কমেনি আদানির, তাঁর ব্যবসার ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, খ্যাতি বলতে যা ছিল, তাতে বড় ধাক্কা লেগেছে।

আদানি গ্রুপের শেয়ারবাজার জালিয়াতি নিয়ে গত মঙ্গলবার এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিডেনবার্গ রিসার্চ। তাতে তারা জানায়, আদানি গ্রুপে শর্ট পজিশনে বাজি ধরেছে তারা। তাদের দাবি, আদানি গ্রুপের ঘাড়ে বিপুল পরিমাণে ঋণের বোঝা রয়েছে। এদিকে অ্যাকাউন্টিং ঠিক নেই বলেও উল্লেখ করেছে তারা। এর পাশাপাশি তারা দাবি করেছে, আদানি গ্রুপ 'কয়েক দশক ধরেই নির্লজ্জের মতো স্টক ম্যানিপুলেশন এবং অ্যাকাউন্টিং জালিয়াতিতে জড়িত।'

ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদানির কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমতে শুরু করে।

গুজরাট একজন ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন গৌতম আদানি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই রাজ্য থেকে রাজনীতিতে উঠে এসেছেন। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, আদানি ও মোদির মধ্যে বহু বছর ধরে ব্যবসা ও রাজনীতি নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।

স্বল্প সময়েই আদানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর সম্পদ ফুলেফেঁপে ওঠে। তবে শুরু থেকেই একটি ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল আদানির। এ জন্য সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর থেকে শুরু করে একে একে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, খনি, ভোজ্যতেল, পুননবায়নযোগ্য জ্বালানি ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করেন তিনি। সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সিমেন্ট খাতেও বিনিয়োগ করেছেন ভারতের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তি।

আদানির ব্যবসা সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সাতটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দামও হু হু করে বেড়েছে। বিশেষ করে সর্বশেষ তিন বছরে তাঁর কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম দেড় হাজার শতাংশেরও বেশি বেড়েছে বলে বিভিন্ন খবরে বলা হচ্ছে। এ সময়ে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগও পেয়েছেন আদানি।

সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি হয়ে যান আদানি। তার আগে ছিলেন বার্নার্ড আরনল্ট এবং ইলন মাস্ক। এ সময় তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২৭ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১০০ টাকা ধরে)।

এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও একটা সময় পর্যন্ত ৬০ বছর বয়সী আদানি অন্যান্য শতকোটিপতিদের তুলনায় অনেক কম পরিচিত ছিলেন। আদানি নিজেই সক্রিয়ভাবে তাঁর সব কটি শাখার ব্যবসা পরিচালনা করেন। নিজের দুই ছেলে করণ ও জিৎকে এখন তিনি ব্যবসায় যুক্ত করেছেন। তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি দাঁতের চিকিৎসক।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ব্যবসায়িক সুবিধা পেয়েছেন—এমন অভিযোগবিরোধীরা তুললেও তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন আদানি। ২০১৪ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদানি বলেছিলেন, রাজনীতির সব পক্ষের সঙ্গেই তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তবে তিনি নিজে রাজনীতি এড়িয়ে চলেন। মোদি সরকারও আদানিকে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

মোদি আদানির করপোরেট বিমান ব্যবহার করার পর এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। তবে আদানি জানিয়েছিলেন যে মোদি ‘পুরো টাকা পরিশাধ করেন’।

সম্প্রতি আদানি তাঁর ভাবমূর্তি গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করেন। এ জন্য তিনি দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। ভারতের অন্যতম শীর্ষ গণমাধ্যম এনডিটিভির বড় অংশের শেয়ার কিনে নেওয়াও তার এমন কার্যক্রমের অংশ বলে মনে করা হয়।

নিজেকে একজন লাজুক ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা আদানি বলেছেন, তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কৃতিত্ব বিরোধীদের। কারণ, তাঁদের ক্রমাগত সমালোচনার কারণেই বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।

‘মানুষজন আদানিকে চিনতে পেরেছে রাহুলজির জন্য; কারণ, তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং এরপর থেকে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছেন’, এ মাসের আরও আগের দিকে এক অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্পর্কে বলেছিলেন তিনি।

তিন সপ্তাহের মাথায় শুক্রবারে আদানির কোম্পানির শেয়ারে ধস নামে। শুধু চলতি সপ্তাহেই তাঁর কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে ৪৮ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের মূলধন হারিয়েছে। হিনডেনবার্গ রিসার্চ বলছে, আদানির ব্যবসাগুলো বিশ্বের নানা জায়গায় দেয়া কর অবকাশ সুবিধার অনুচিত ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে আদানির বিপুল ঋণের বিষয়েও যে উদ্বেগ রয়েছে, তা–ও তুলে ধরেছে ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

আদানির জন্য বিতর্ক অবশ্য নতুন কিছু নয়। কেরালায় তাঁর ৯০ কোাটি ডলারের বন্দর নির্মাণের বিরুদ্ধে মৎস্যজীবীদের বিক্ষোভ হয়েছে, যার জন্য তিনি রাজ্য সরকার ও জেলে সম্প্রদায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর কারমাইকেল কয়লা খনির বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

ভারতের ইমেজ গুরু হিসেবে পরিচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পারফেক্ট রিলেশনসের সহপ্রতিষ্ঠাতা দিলীপ চেরিয়ান রয়টার্সকে বলেন, হিনডেনবার্গ রিপোর্টের প্রতিবেদন আদানির খ্যাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আদানি সেই ক্ষতি সীমিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে এবং বিনিয়োগকারীদের নানাভাবে আশ্বস্ত করতে পারেন।

তবে যে ধরনের উল্কাগতিতে আদানির উত্থান হয়েছে, তাতে তিনি যে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন, সে ব্যাপারে হয়তো খুব কম মানুষই দ্বিমত করবেন।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুদ্ধের বর্ষপূর্তিত: বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া

প্রকাশ: ১০:১৭ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি। যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে রাশিয়া নতুন করে ইউক্রেনে বড় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসি রেজনিকভ।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ফ্রান্সের গণমাধ্যম বিএফএমের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা বলেন ওলেকসি রেজনিকভ। তাঁর দাবি, ওই হামলা চালাতে রাশিয়ার প্রায় ৫ লাখ মানুষকে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার ৩ লাখ নাগরিককে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে রেজনিকভের ভাষ্য, রুশ সামরিক বাহিনীতে নতুন করে যুক্ত করা এবং যুদ্ধের জন্য মোতায়েন করা সেনার সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

বুধবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘খাতা-কলমের হিসাবে রাশিয়া ৩ লাখ মানুষকে সামরিক বাহিনীতে নিযুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সীমান্তে তারা কী পরিমাণ সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হিসাবে এটা রাশিয়ার ঘোষণার চেয়ে অনেক বেশি।’

ইউক্রেন রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করার প্রস্তুতি নেবে বলে জানিয়েছেন রেজনিকভ। তিনি বলেন, তাঁর বিশ্বাস, ২০২৩ সাল হবে ইউক্রেনের জন্য সামরিক বিজয়ের বছর। বিগত মাসগুলোতে ইউক্রেন বাহিনী যা অর্জন করেছে তা হারাতে পারে না।

সম্প্রতি ইউক্রেনের গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, বসন্ত শেষ হওয়ার আগেই দেশটির দনবাস অঞ্চল দখল করতে রুশ সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। এরপরই রেজনিকভ রাশিয়ার সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আশঙ্কার কথা বললেন।

দনবাস দখলে পুতিনের অভিলাষ নিয়ে একই কথা বলেছেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গত সোমবার তিনি বলেন, রাশিয়া তৎপরতার সঙ্গে নতুন অস্ত্র ও বেশি বেশি গোলাবারুদ জোগাড় করছে। অস্ত্রের উৎপাদনও বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো থেকে আরও অস্ত্র সংগ্রহ করছে।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন