ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

এবার বাইডেন থেকে কমলা হ্যারিসে দৃষ্টি ডেমোক্র্যাটদের, হারাতে পারবেন ট্রাম্পকে?

প্রকাশ: ০৯:৩৮ এএম, ১১ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস গত শনিবার বিকেলে  নিউ অরলিন্সে কৃষ্ণাঙ্গদের সাংস্কৃতিক উৎসবের এক মঞ্চে তার জীবনের নানা দিককার গল্প এবং হোয়াইট হাউসে তিনি কী অর্জন করেছেন সে সম্পর্কে কথা বলছিলেন। এটি এমন একটি ইভেন্ট ছিল যেখানে কিনা গত সাড়ে তিন বছর ধরে প্রথম নারী, কৃষ্ণাঙ্গ ও দক্ষিণ এশীয় অ্যামেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাইডেনের ডেপুটি হিসেবে নিয়মিত তিনি উপস্থিত থেকে আসছে। এসময় ওয়াশিংটন থেকে এক হাজার মাইল দূরের অনুষ্ঠানটিতে সেদিন মিসেস হ্যারিসের পেছনে থাকা সাংবাদিকের সংখ্যা কয়েক ডজন বেড়ে গিয়েছিলো। অনেকটাই আচমকা বিষয় ছিল এটি তার জন্য কেননা, সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট শিবিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডিবেটে ৮১ বছর বয়সী বাইডেনের দুঃখজনক এবং শোচনীয় পরাজয়ের পর, নভেম্বরের নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসাবে কামলা হ্যারিসকে প্রার্থিতা দিতে নিজ দলেই জোরালো দাবি উঠেছে। এরপর থেকেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন সবসময়। 

তবে, এই মঞ্চে কিংবা সপ্তাহান্তে তার ভ্রমণের সময় ভাইস-প্রেসিডেন্টের সামনে বারবার বাইডেনের ফিটনেসের বিষয়ে এবং তাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাহার করা করে কমলার হাতে প্রার্থিতা তুলে দেয়া উচিত কিনা এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি তিনি। কিন্তু নিউ অরলিন্সের ওই অনুষ্ঠানে তার শ্রোতাদের সাথে তার জীবনে বড় হওয়ার নানান বিষয় তুলে ধরেন। এসময় তিনি শ্রোতাদেরকে জীবনে বড় হতে গেলে  সমালোচনা কিংবা কোনো গুঞ্জনে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন। 

তিনি বলেন, লোকেরা আপনাকে বলবে, যদিও কথাটা বলার উপযুক্ত সময় এটা নয়, এটা আপনার পালা নয় এবং আপনার মতো কেউ এটি আগে করেও নি। সেক্ষেত্রে আপনি তাতে কখনও কান দেবেন না।

গত ২৭ জুন সিএনএনে বাইডেনের বিপর্যয়কর বিতর্কের পর থেকে তিনি বারবারই তার বস বাইডেনের পক্ষাবলম্বন করে যুক্তিতে বলেন যে, প্রেসিডেন্টের বিতর্কের সময় ৯০ মিনিটের বেশি হওয়া উচিত নয়। এদিকে, মিস্টার বাইডেনও তার প্রার্থিতার ব্যাপারে ক্ষুব্ধ এবং জোড়ালো প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, তিনিই প্রার্থী থাকবেন। তবে তা সত্ত্বেও নির্বাচন থেকে প্রেসিডেন্টের প্রতি সরে দাঁড়ানোর আহ্বান যখন আরও জোরালো হচ্ছে, তখন প্রভাবশালী কিছু ডেমোক্র্যাট ৫৯ বছর বয়সী মিসেস হ্যারিসকে প্রার্থী করার জন্য তার পিছনে একত্রিত হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে রবিবার, ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম শিফ এনবিসি'র মিট দ্য প্রেসকে বলেন, হয় মি. বাইডেনকে “অপ্রতিরোধ্যভাবে জয়লাভ করতে হবে, নয়তো তাকে সেরকম একজনের কাছে মশালটি দিতে হবে”। 

তিনি আরও বলেন, কমালা হ্যারিসই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে “খুব ভালোভাবে জিততে পারেন”। তবে, এমন প্রস্তাবে বাইডেনের মিত্রসহ ডেমোক্র্যাটদের অনেকেরই ভ্রু কুঁচকেছেন। বিশেষ করে মিসেস হ্যারিসের ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে ব্যর্থতা, এমনকি ব্যালটে প্রথম ভোটটি পড়ার আগেই। এছাড়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হোয়াইট হাউসে তার গ্রহণযোগ্যতার রেটিংও অনেক কম।

এর বিপরীতে, মি. শিফ এবং সাউথ ক্যারোলিনার কংগ্রেসম্যান জিম ক্লাইবার্নের মতো সিনিয়র ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা মিস হ্যারিসকে স্পষ্ট উত্তরসূরি হিসাবে প্রশংসায় ভাসিয়ে চলেছেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত দলীয় চাপের মুখে মি: বাইডেনকে নত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

সমর্থকদের অনেকেই হাতেগোনা কিছু জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত করে ধারণা করছেন যে, কমলা হ্যারিস ডোনাল্ড ট্রাম্পের মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভালো করবেন। তাদের যুক্তি হলো- জাতীয়ভাবে তার একটি অবস্থান রয়েছে, প্রচারণার অবকাঠামো এবং তরুণ ভোটারদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। 

যদিও একজন নারীর মনোনয়ন টিকিট লাভের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে উঠে আসার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হলেও এটিকে এতদিন বাইডেনের হোয়াইট হাউসের সিনিয়র ব্যক্তিরা রাজনৈতিক দুর্বলতা হিসাবে দেখেননি। এমনকি মি. বাইডেন নিজেও প্রথমদিকে কয়েকমাসে হ্যারিসের “কাজে উন্নতি হচ্ছে” বলে প্রশংসা করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের ডেমোক্রেটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং হ্যারিসের সাবেক কমিউনিকেশন ডিরেক্টর জামাল সিমন্স বলছেন, তাকে (হ্যারিসকে) দীর্ঘকাল ধরে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

সাবেক এই শীর্ষ প্রসিকিউটর বিতর্কের পর থেকেই জনসাধারণের সামনে ট্রাম্পের সমালোচনার বিওষয়ে সবার মনোযোগ এসেছে। ট্রাম্প যে গণতন্ত্র এবং নারী অধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ সেটি মেনে নিতে তাদের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছেন। একইসময় তিনি বাইডেনের প্রতি অবিচল সমর্থন ছাড়া আর কিছুই বলছেন না। ভাইস-প্রেসিডেন্টের সর্বদা উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আনুগত্যের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য থাকতে হয়। কিন্তু মিস হ্যারিস জানেন যে, এটি সেই মুহূর্ত নয় যখন তিনি তার এবং প্রেসিডেন্টের মধ্যকার কোন বিষয় প্রকাশ করতে পারেন।

কমলা হ্যারিস অবশ্য মি. বাইডেনের একমাত্র বিকল্প হওয়ার আলোচনা থেকে এখনও বেশ দূরে। বাইডেনের সম্ভাব্য বিকল্পের তালিকায় অবশ্য জনপ্রিয় গভর্নরদের মধ্যে অন্যতম- মিশিগানের গ্রেচেন হুইটমার, ক্যালিফোর্নিয়ার গ্যাভিন নিউসম, পেনসিলভানিয়ার জোশ শাপিরো এবং ইলিনয়ের জেবি প্রিটজকার থেকে শুরু করে ট্রান্সপোর্ট সেক্রেটারি পিট বুটিজাজ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান রো খান্না রয়েছেন। 

তবে মিস হ্যারিস এবং তার অনুসারীরা কোন জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই আপাতত নেই। 

তবে মি. বাইডেন যদি মনোনয়ন থেকে সরেই দাঁড়ান, আর তাহলে মিস হ্যারিসকে বাদ দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অন্য প্রার্থীর পক্ষে যাওয়ার ধারণাটি কিন্তু দলের বাম এবং এর শক্তিশালী কালো শিবিরের অনেককেই আতঙ্কিত করবে। এ ব্যাপারে কংগ্রেসের অন্যতম বিশিষ্ট কৃষ্ণাঙ্গ আইনপ্রণেতা মি: ক্লাইবার্ন গত সপ্তাহে এমএসএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তেমন পরিস্থিতিতে " দলটির কোনোভাবেই মিস হ্যারিসের চারপাশে কোন কাজ করা উচিত নয়"। 

রিপাবলিকানরাও স্বীকার করেছে যে, বাইডেনের জায়গায় হ্যারিস স্থলাভিষিক্ত হলে তারা এগিয়ে থাকবেন। সাউথ ক্যারোলাইনার সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম রবিবার তার দলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রিপাবলিকানদের অবশ্যই "নাটকীয়ভাবে ভিন্ন প্রতিযোগিতার" ব্যাপারে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের জন্য একমাত্র যে প্রশ্নটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তা হলো- দাতারা দেখবেন যে, জো বাইডেনের তুলনায় হ্যারিসের ট্রাম্পকে পরাজিত করার আরও ভাল সুযোগ আছে কিনা সে বিষয়টি কিন্তু গভীরভাবে অনিশ্চিত। হ্যারিস সমর্থকরা সিএনএনের সাম্প্রতিক একটি জরিপের চিত্র তুলে ধরে বলেন যে, নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের তুলনায় তিনি বেশি ভালো করবেন।

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে হ্যারিসের শক্তি ও সামর্থ্য নিয়ে কিছু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। আর এর মূল কারণ, ২০২০ সালে দলীয় মনোনয়নের জন্য তার ব্যর্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সেসময় তিনি প্রাথমিক বিতর্কে বাইডেনকে পরাস্ত করলেও আইওয়া স্টেইটের প্রথম ককাসের আগেই হেরে যান। প্রথম দিকে সেই হোঁচট খাওয়ার কারণে মিসেস হ্যারিস জনসাধারণের সামনে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে আরও সতর্ক অবস্থায় থাকেন। কিন্তু অনেক ভোটার তাকে অকার্যকর বলে মনে করে থাকে। 

এর আগে ৬৭ বছর বয়সী গ্রেগ হোভেল- যিনি গত সপ্তাহে উইসকনসিনের ম্যাডিসনে বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন, তিনি ২০২০ সালের প্রাইমারিতে হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে, সেসময় এই ভেবেও সতর্ক ছিলেন তিনি যে, দেশের মধ্যে অনেক নারী বিরোধী মনোভাব রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি অবলম্বনে অনুবাদিত 


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র   ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস   প্রেসিডেন্ট   জো বাইডেন   ডোনাল্ড ট্রাম্প   নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা প্রত্যাখ্যান, ইসরায়েলের সংসদে প্রস্তাব পাস

প্রকাশ: ০৭:২৮ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলি সংসদ নেসেটে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই)  এই প্রস্তাবের ওপর নেসেটে ভোটাভুটি হয়েছে। এতে প্রস্তাবের পক্ষে ৬৮ জন এবং বিপক্ষে মাত্র ৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন। 

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে ইসরায়েল ও এর নাগরিকদের অস্তিত্বের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংঘাতকে স্থায়ী করবে এবং এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করবে তুলবে।

টাইমস অব ইসরায়েল বলছে, এই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী দলগুলো। তবে এই প্রস্তাবকে সমর্থন দেয়া এড়াতে আগেই অধিবেশনস্থল ত্যাগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড। যদিও তিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংঘাত সমাধানে এতদিন দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের কথা বলে এসেছেন।

এদিকে এই প্রস্তাব পাসের নিন্দা করেছেন প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব মোস্তফা বারঘৌতি। বৃহস্পতিবার এক এক্সবার্তায় তিনি লিখেছেন, সরকার ও বিরোধী দলের কোনো ইহুদি দল এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি। এই প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস প্রত্যাখ্যান এবং অসলো চুক্তির আনুষ্ঠানিক মৃত্যু হলো।


ফিলিস্তিন   ইসরায়েল  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় লাইনচ্যুত ১২ বগি

প্রকাশ: ০৬:২২ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। গোন্ডার উল্টে এলাকায় আসামগামী ডাউন ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস উল্টে গেছে। চন্ডীগড় থেকে আসামের ডিব্রুগড়ের দিকে যাচ্ছিল ট্রেনটি। দুপুর আড়াইটে নাগাদ ঝিলাহি স্টেশনের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় ১০ থেকে ১২টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। পুরোপুরি উল্টে যায় ট্রেনের তিনটি বগি। মূলত এসি কোচগুলি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে খবর স্থানীয় সূত্রে। আহত এবং মৃত্যুর সংখ্যা এখনও স্পষ্টভাবে জানা না গেলেও বহু হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকজনের মৃত্যুর আশঙ্কাও করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুজনের মৃত্যুর খবর রেলের তরফে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারা। রেলের তরফে ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। সবার আগে যাত্রীদের সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা করছে রেল। পাশাপাশি আটকে পড়া যাত্রীদের ফেরাতে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে রিলিফ ট্রেন।

সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে রেলের তরফে সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা হয়নি। চোট গুরুতর হলে লখনৌ নিয়ে যাওয়ারও ব্যবস্থা করা হতে পারে রেলের তরফে। গত জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গে ফাঁসিদেওয়ার কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। সেই ঘটনার পর মাস পেরোতে না পেরোতেই ফের ভারতে রেল দুর্ঘটনা।


উত্তরপ্রদেশ   ট্রেন দুর্ঘটনা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আভাস বাইডেনের, বিকল্প প্রার্থী কে?

প্রকাশ: ০৬:১৩ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ধরাশায়ী হন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর দলের নেতারাই। অনেকেই মনে করছেন, প্রবীণ এই রাজনীতিক আরেকবার দেশ চালানোর উপযুক্ত নন। দ্বিতীয় দফায় জয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সবদিক থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়া বাইডেনের জন্য। অতি সম্প্রতি অবশেষে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছেন জো বাইডেন।

এছাড়া বিতর্কের পর 'মর্নিং কনসাল্ট প্রো' পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে বাইডেনের বিকল্প প্রার্থী চান। এ অবস্থায় বাইডেনের সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কে হতে পারেন জো বাইডেনের বিকল্প?

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন একজন প্রার্থী নির্বাচন কার্যত অসম্ভব। বাইডেন পদত্যাগ করলে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে তার বিকল্প খুঁজে বের করতে। সমীক্ষা বলছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস মার্কিন জনগণের মধ্যে খুব জনপ্রিয় হবেন না। ট্রাম্পকে পরাজিত করতে পারেন এমন অন্য কোনো সুস্পষ্ট বিকল্পও আর নেই!

জো বাইডেন এই বছরের শুরুতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি জিতেছেন। তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হননি। আগামী ১৯-২২ আগস্ট শিকাগোতে অনুষ্ঠেয় ২০২৪ সালের ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে তাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হতে পারে।

একজন অনুমানযোগ্য মনোনীত প্রার্থী হিসাবে বাইডেনের স্থানে অন্য কাউকে প্রতিস্থাপন করার আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়া হলে, সেটা হবে আধুনিক মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম পদক্ষেপ। কার্যত এ অবস্থায় একমাত্র বিকল্প হচ্ছেন বাইডেনের স্বেচ্ছায় সরে যাওয়া এবং যেসব প্রতিনিধি তাকে প্রাইমারিতে মনোনীত করেছিলেন, তাদের অন্য কাউকে বেছে নেয়ার সুযোগ দেওয়া। বাইডেন যদি সরে দাঁড়ান, এক্ষেত্রে তিনি হয়তো পছন্দের কোনো প্রার্থীর নাম বলে যেতে পারেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও হতে পারেন তার পছন্দের প্রার্থী। প্রার্থী হিসাবে তিনি বেশ যোগ্য প্রার্থী, সন্দেহ নেই। কিন্তু ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা তাকে মনোনীত করতে বাধ্য নন।

এছাড়া বাইডেনের জন্য সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করা। এ অবস্থায় কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তবে তিনি ২০২৪ সালের জন্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসাবে গণতান্ত্রিকভাবে মনোনীত হবেন না। এ পর্যায়ে শিকাগোর কনভেনশনেই যদি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাই করতে হয়, সেটা হবে আধুনিক মার্কিন রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। এক্ষেত্রে দলের ৭০০ ডেলিগেটস নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হলেও, নতুন একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন তারা। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার জন্য সময় পাবেন মাত্র তিন মাস।

এ পরিস্থিতিতে বাইডেনের বিকল্প হিসেবে এগিয়ে থাকা কোনো প্রার্থী নেই। তবে আলোচনায় আছেন বেশ কয়েকজন। তার বিকল্প হিসেবে নামের তালিকায় সবার চেয়ে এগিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। কিন্তু তার জনপ্রিয়তার হার অনেক কম। বাইডেন প্রশাসনে নিজের সক্রিয় ভূমিকা না রাখার কারণে তার সমালোচনাও রয়েছে। প্রার্থী মনোনীত হলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তাকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতেই যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হবে।

এর বাইরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তালিকায় রয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর ৫৬ বছর বয়সি গ্যাভিন নিউসাম। ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে টেলিভিশন বিতর্ক চলার সময় বাইডেনের বিকল্প হিসেবে তার নাম নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল।

ইলিনয়ের ৫৯ বছর বয়সী গভর্নর জে বি প্রিটজকার হতে পারেন সবচেয়ে বিত্তশালী প্রার্থী। গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার প্রিটজকার তার স্টেটকে গর্ভপাত ঘটাতে আগ্রহী নারীদের জন্য ‘স্বর্গরাজ্যে’ পরিণত করতে পারেন। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের পক্ষেও তার জোরালো অবস্থান রয়েছে।

৭১ বছর বয়সি ওহাইও'র সিনেটর শেরড ব্রাউন হতে পারেন দলের অন্যতম প্রবীণ প্রার্থী। ২০২০ সালে দলের মনোনয়নে আগ্রহ প্রকাশ না করায় অনেকে অবাক হয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, মানুষের জন্য কাজ করার জন্য ওহাইওই তার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা।

এরপরও প্রশ্ন উঠেছে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন এমন প্রার্থী কি আসলেই আছেন? প্রাইমারি ভোটের পর সেটা করা আরও বেশি অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাইমারি ভোটে দলীয় প্রার্থীদের পছন্দের ক্ষেত্রে ভোটাররা নিজেদের মতামত দিতে পারেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও অ্যামি ক্লোবুচারের পক্ষে কাজ করা কৌশলী টিম হোগ্যান মনে করেন, এ সময় বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ করা সাংগঠনিকভাবে প্রায় অসম্ভব। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোটের দুমাস আগে তিনি বলেছিলেন, 'রাজনৈতিকভাবে এটা আত্মঘাতী অভিযাত্রা।' মার্কিন নির্বাচনে একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রাইমারি ভোটে সফল হওয়াই অনেক কঠিন।

ইতোমধ্যেই বক্তৃতায় একের পর এক ভুল করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এবার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের নামের সঙ্গে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম গুলিয়ে ফেলেছেন তিনি। এ নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। এর আগে, ওয়াশিংটনে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বাইডেন ভুল করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে 'প্রেসিডেন্ট পুতিন' বলে সম্বোধন করেন।

বাইডেনের কেন সরে যাওয়া উচিত?

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন নিজেকে বিভিন্নভাবে যোগ্য প্রমাণের চেষ্টা করলেও ভরসা করতে পারছেন না খোদ তার দলের সমর্থকরা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে ধরাশায়ী হবার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াতে ঘরে-বাইরে ব্যাপক চাপে রয়েছেন বাইডেন। তার মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে খোদ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে খারাপ করার পর বাইডেনের জনপ্রিয়তায়ও ধস নামে। এর ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন জরিপ অনুযায়ী, বাইডেনকে জিততে হবে এমন অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটাররা তার বিরুদ্ধে চলে গেছে। এমনকি ভার্জিনিয়া, মিনেসোটা এবং নিউ মেক্সিকোর মতো একসময় নিরাপদ অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ডেমোক্র্যাট পার্টির ভরাডুবির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অনেক আইনপ্রণেতা এরইমধ্যে বাইডেনের প্রার্থিতা নিয়ে অস্বস্তি ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যদিও দলের কেউ কেউ এখন ও তাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াতে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ওপর চাপ যতই বাড়ছে, ততই তার বিকল্প হিসেবে  ৫৯ বছর বয়সী কমলা হ্যারিসকে প্রার্থী করতে এক ছাতার নিচে সমবেত হচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস সদস্য অ্যাডাম শিফ এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বলেন, বাইডেনকে হয় অপ্রতিরোধ্যভাবে জেতা উচিত, নয়তো অন্য কাউকে সুযোগ দেয়া উচিত। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কমলা খুব ভালোভাবে জিততে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিভিন্ন জরিপও একই কথা বলছে। সিএনএনের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিপরীতে বাইডেনের চেয়ে কমলা ভালো করবেন। জরিপে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাইডেন ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন। আর কমলার ব্যবধান মাত্র ২ পয়েন্ট।

ভারতীয় মা ও জ্যামাইকান বাবার সন্তান কামলা। ফলে কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিন ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণ ভোটারদের মধ্যে কমলার জনপ্রিয়তা বেশ ভালো। জরিপেও এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে, সেটা দেখার জন্য মার্কিন ভোটারদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।

সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, একমাত্র ঈশ্বর নির্দেশ দিলেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন। আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করার জন্য তিনিই সেরা প্রার্থী বলেও দাবি করেছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি সহানুভূতিশীল সংবাদমাধ্যম বেট-কে  এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেখানে তিনি বলেছেন, “যদি আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসকরা বলেন-আপনার এই সমস্যা আছে, ওই সমস্যা আছে….তাহলে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব।” জো বাইডেন বুধবার (১৭ জুলাই) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে হামলার শিকার হয়েছেন। তার ডান কানে গুলি লেগেছে। কার্যত হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। ট্রাম্পের ওপর এ হামলার ঘটনা আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।


প্রেসিডেন্ট   নির্বাচন   বাইডেন   কমলা   ট্রাম্প  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

দূষণমুক্ত প্রমাণ করতে নদীতে সাঁতরালেন মেয়র

প্রকাশ: ০৬:১০ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

প্যারিসের সেইন নদী দূষণমুক্ত এবং সেখানে সাঁতার কাটা নিরাপদ এটি প্রমাণ করতে নিজেই পানিতে নামেন মেয়র এনি হিদালগো। উপস্থিত মানুষের সামনে নদীতে সাঁতানোর পুরোটা সময় হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন তিনি।

এনবিসি নিউজের বুধবারের (১৭ জুলাই) প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নদীতে ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ হিসেবে পরিচিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের ইভেন্ট আয়োজনের কথা রয়েছে। ২৬ জুলাই প্যারিসে এ মহা ক্রীড়ার আসর বসবে। তার মধ্যে সেইন নদীতে ম্যারাথন সাঁতার, রোয়িং ও ক্যানোয়িংসহ একাধিক ইভেন্ট আয়োজন করা হবে। কিন্তু দূষণের কারণে নদীটি অ্যাথলেটদের জন্য নিরাপদ নয় বলে জনমনে শঙ্কা জাগে।

এরপর বছরব্যাপী সিটি কর্তৃপক্ষের পরিচ্ছন্ন অভিযানের পর এটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হয়। এতেই ক্ষান্ত না হয়ে সুইমিং স্যুট পরে মেয়র এনি হিদালগো নিজেই সাঁতার কাটেন। তার সঙ্গে আয়োজক কমিটির অন্যান্যরাও যোগ দেন। পরে মেয়র জানান, হ্যাঁ, পানি সম্পূর্ণ পরিষ্কার। কোনো অস্বাস্থ্যকর উপাদান নেই। এমনকি তাপমাত্রাও সহনীয়। এদিকে প্যারিস অলিম্পিকে পড়েছে রাজনীতির ছায়া। কারণ, নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দল রেনেসাঁ পার্টির নেতৃত্বাধীন এনসেম্বল জোট দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আসন সংখ্যায় শীর্ষে আছে বামপন্থি দলগুলোর জোট ‘নিউ পপুলার ফ্রন্ট’। তারাও ফরাসি পার্লামেন্টের ম্যাজিক ফিগার ২৮৯ থেকে অনেক দূরে। এমন পরিস্থিতিতে মাখোঁর দলের প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আটাল পদত্যাগ করেছেন। ফলে সংকটে পড়েছে প্যারিস অলিম্পিকের আয়োজক কমিটি। কে করবেন উদ্বোধন, তা নিয়ে সংকটে পড়েছে তারা। প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধন হবে ২৬ জুলাই।

এই সময়ের মধ্যে ফ্রান্সের রাজনৈতিক সংকট কেটে গেলে ভালো। না কাটলে আয়োজকরা বিপদে পড়বে। ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। অলিম্পিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন বলেছেন, ‘অলিম্পিকের সব প্রস্তুতি শেষ। ইভেন্ট শুরুর অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। সারা দুনিয়াকে স্বাগত জানাচ্ছি।’

ফ্রান্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিভাগের অধ্যাপক পল দিয়েশি বলেছেন, ‘অলিম্পিকের মতো গেমসের আয়োজকদের মূল উদ্বেগ থাকে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, যান চলাচল ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো নিয়ে। এবার অলিম্পিক ঘিরে নতুন একটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যার সহজ সমাধান নেই। প্রায় সবকিছু নির্ভর করছে প্রেসিডেন্স মাখোঁর সিদ্ধান্তের ওপর। আয়োজকদের একটু ধৈর্য ধরতেই হবে।’


প্যারিস   মেয়র   এনি হিদালগো   নদী  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর উচ্চতা নিয়ে বিদ্রুপ, ৫ হাজার ইউরো জরিমানা

প্রকাশ: ০৫:৩৪ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির উচ্চতা নিয়ে বিদ্রুপের অভিযোগে গিউলিয়া কোর্তেসে নামের এক সাংবাদিককে ৫ হাজার ইউরো (৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা) জরিমানা করেছেন মিলান শহরের একটি আদালত। ইতালির সংবাদমাধ্যম এএনএসএ’র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

এএনএসএ জানিয়েছে, ২০২১ সালের অক্টোবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (তৎকালীন টুইটার) জর্জিয়া মেলোনির শারীরিক উচ্চতা নিয়ে বিদ্রুপাত্মক পোস্ট দেন গিউলিয়া কোর্তেসে। সেই পোস্টে তিনি বলেন, “আমি আপনাকে ভয় পাইনা জর্জিয়া মেলোনি। কারণ সত্যি কথা বলতে, আপনার উচ্চতা মাত্র ১ দশমিক ২ মিটার (৪ ফুট)। আমি এমনকি আপনাকে দেখতেও পাইনা।”

এক্সে এই পোস্ট করার পরেই গিউলিয়া বিরুদ্ধে বডিশেমিংয়ের অভিযোগ তুলে আদালতে মানহানির মামলা করেন জর্জিয়া মেলোনি। সেই মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা কলেন আদালত। গিউলিয়া অবশ্য উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রুপের কারণে ১ হাজার ২০০ ইউরো (১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা) জরিমানা দিতে হয়েছিল গিউলিয়াকে।

প্রসঙ্গত, জর্জিয়া মেলোনির প্রকৃত উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তার আইনের আশ্রয় নেওয়ার ইতিহাসও নতুন নয়। গত বছর রবের্তো স্যাভিয়ানো নামের এক টিভি সাংবাদিক এক টক শো অনুষ্ঠানে অভিবাসী ইস্যুতে মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর মনোভাব নিয়ে অপমান করেছিলেন তাকে। তার বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করেছিলেন মেলোনি। মামলায় পরাজিত হয়ে সেই রবের্তোকে ১ হাজার ইউরো জরিমানাও দিতে হয়েছিল।


ইতালি   প্রধানমন্ত্রী   জরিমানা   জর্জিয়া মেলোনি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন