ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ন্যাটোর ৭৫তম শীর্ষ সম্মেলন: পুতিনের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান

প্রকাশ: ১২:৫২ পিএম, ১১ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে প্রাধান্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে শুরু হয়েছে তিন দিনের পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ৭৫তম শীর্ষ সম্মেলন। ওয়াশিংটন ডিসির রোনাল্ড রিগ্যান ইনস্টিটিউটে গত মঙ্গলবার সম্মেলন শুরু হয়। 

এই ইনস্টিটিউটেই ১৯৪৯ সালে দ্য নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) যাত্রা শুরু করেছিল। এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে থামানো ও ইউক্রেনকে সহযোগিতার কথা বলেন। এ ছাড়া এ সম্মেলনে ন্যাটোর নেতারা প্রতিরক্ষা, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ও পশ্চিমা বিশ্বে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেন।

বাইডেন বলেছেন, পুতিন ইউক্রেনকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করতে, ইউক্রেনের গণতন্ত্রকে শেষ করতে ও ইউক্রেনের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চান। তিনি দেশটিকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে চান। আপনারা জানেন, পুতিন কিন্তু ইউক্রেনে থামবেন না। কাজেই কোনো ভুল করা যাবে না। ইউক্রেনই পুতিনকে থামাতে পারে এবং দেশটি তা করবেই। বাইডেন পুতিনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে ন্যাটোর প্রতি আহ্বান জানান।

ন্যাটোর এই সম্মেলন বাইডেনের রাজনৈতিক জীবনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২৭ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম নির্বাচনী বিতর্কে ভালো করতে না পারায় তিনি চাপে আছেন।

এই পরিস্থিতিতে ন্যাটোর সম্মেলনে ইউরোপীয় মিত্রদের নেতাদের সামনে নিজেকে প্রমাণ করার দরকার ছিল বাইডেনের। তিনি তা মোটামুটি ভালোভাবেই পেরেছেন। এ দিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি থেমে যাননি। বড় ধরনের তেমন কোনো ভুলও করেননি।

ন্যাটো বর্তমানে আগের চেয়ে শক্তিশালী উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, আমেরিকার উভয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতা ও সিনেটর মনে করেন, ‘ন্যাটো আমাদের আগের চেয়ে নিরাপদে রেখেছে। ন্যাটো না থাকলে কী হতে পারে, তা আমেরিকার জনগণ জানে।’

বক্তৃতার একপর্যায়ে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া ও ইতালির সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও কয়েক ডজন কৌশলগত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে কিয়েভের জন্য নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার ঘোষণা দেন বাইডেন।

এদিকে সম্মেলনের দিনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১২ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কিয়েভে একটি শিশু হাসপাতালে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাইডেন। এর বাইরে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নেতাদেরও তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। উদীয়মান চীনকে রুখতে ন্যাটোর ভূমিকা বৃদ্ধিতে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।

কিন্তু বাইডেনকে নিজের দেশে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে। ট্রাম্প ন্যাটোর উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ইউক্রেনকে শান্তি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কথাও বলেছেন।

ওয়াশিংটন পৌঁছে জেলেনস্কি তাঁর দেশকে সমর্থন ও নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া রাশিয়াকে হারাতে অন্য দেশগুলোর কাছে সহযোগিতা চান তিনি। ন্যাটোর বিদায়ী মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের মিত্রদের কাছে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে এবং ন্যাটোর মিত্ররা অভূতপূর্ব সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, আমাদের পক্ষ থেকে প্রকৃত সহযোগিতা ইউক্রেনকে করা হয়নি। মনে রাখতে হবে, রাশিয়া ইউক্রেনে জিতলে সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাতে হবে এবং সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া অন্য নেতারা হচ্ছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান। তিনি পুতিনের পশ্চিমা মিত্র হিসেবে পরিচিত। ওয়াশিংটনে আসার আগে তিনি ইউক্রেন, রাশিয়া ও চীন সফর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অংশীদারদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ন্যাটো সম্মেলনে আসার আগে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করে এসেছেন। গতকাল বুধবার ন্যাটোর সম্মেলন শেষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন অতিথিদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। এবারের সম্মেলনে নতুন নেতা হিসেবে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

এবারের সম্মেলনে ন্যাটোর নেতাদের কাছ থেকে এ জোটে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি চাইছেন জেলেনস্কি। এতে যুক্ত হলে সদস্যদেশগুলো নিরাপত্তা পেতে পারে। কারণ, ন্যাটোর কোনো একটি সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো নিজেদের আক্রমণ হিসেবে মনে করে। ন্যাটো জোটে ইউক্রেনকে যুক্ত করার বিষয়টি বাল্টিক ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সমর্থন পেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি এর বিরোধিতা করে আসছে। তারা মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যুক্ত করলে তা হবে পারমাণবিক ক্ষমতাধর রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো।


ন্যাটো   সম্মেলন   রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ   যুক্তরাষ্ট্র   ওয়াশিংটন ডিসি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইতালির প্রধানমন্ত্রীর উচ্চতা নিয়ে বিদ্রুপ, ৫ হাজার ইউরো জরিমানা

প্রকাশ: ০৫:৩৪ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির উচ্চতা নিয়ে বিদ্রুপের অভিযোগে গিউলিয়া কোর্তেসে নামের এক সাংবাদিককে ৫ হাজার ইউরো (৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা) জরিমানা করেছেন মিলান শহরের একটি আদালত। ইতালির সংবাদমাধ্যম এএনএসএ’র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

এএনএসএ জানিয়েছে, ২০২১ সালের অক্টোবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (তৎকালীন টুইটার) জর্জিয়া মেলোনির শারীরিক উচ্চতা নিয়ে বিদ্রুপাত্মক পোস্ট দেন গিউলিয়া কোর্তেসে। সেই পোস্টে তিনি বলেন, “আমি আপনাকে ভয় পাইনা জর্জিয়া মেলোনি। কারণ সত্যি কথা বলতে, আপনার উচ্চতা মাত্র ১ দশমিক ২ মিটার (৪ ফুট)। আমি এমনকি আপনাকে দেখতেও পাইনা।”

এক্সে এই পোস্ট করার পরেই গিউলিয়া বিরুদ্ধে বডিশেমিংয়ের অভিযোগ তুলে আদালতে মানহানির মামলা করেন জর্জিয়া মেলোনি। সেই মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা কলেন আদালত। গিউলিয়া অবশ্য উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রুপের কারণে ১ হাজার ২০০ ইউরো (১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা) জরিমানা দিতে হয়েছিল গিউলিয়াকে।

প্রসঙ্গত, জর্জিয়া মেলোনির প্রকৃত উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তার আইনের আশ্রয় নেওয়ার ইতিহাসও নতুন নয়। গত বছর রবের্তো স্যাভিয়ানো নামের এক টিভি সাংবাদিক এক টক শো অনুষ্ঠানে অভিবাসী ইস্যুতে মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর মনোভাব নিয়ে অপমান করেছিলেন তাকে। তার বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করেছিলেন মেলোনি। মামলায় পরাজিত হয়ে সেই রবের্তোকে ১ হাজার ইউরো জরিমানাও দিতে হয়েছিল।


ইতালি   প্রধানমন্ত্রী   জরিমানা   জর্জিয়া মেলোনি  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি

প্রকাশ: ০৫:০৯ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের ফেসবুকপেজে দেয়া এক পোস্টে এই সতর্কতা জারি করা হয়। 

ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য এবং বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং তাদের বসবাসের প্রাঙ্গনের বাইরে চলাচল সীমিত করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা সহায়তার প্রয়োজন হলে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এই পোস্টে দূতাবাসের তরফ থেকে বেশ কয়েকটি ফোন নম্বর দেয়া হয়েছে। এসব নম্বর হলো ‍ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ‍+৮৮০১৯৩৭–৪০০৫৯১ (হোয়াটসঅ্যাপ আছে), চট্টগ্রামে সহকারী হাইকমিশন +৮৮০১৮১৪–৬৫৪৭৯৭ ও ‍+৮৮০১৮১৪–৬৫৪৭৯৯, রাজশাহী +৮৮০১৭৮৮–১৪৮৬৯৬, সিলেট +৮৮০১৩১৩–০৭৬৪১১ ও খুলনা +৮৮০১৮১২–৮১৭৭৯৯। এসব নম্বর ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।


বাংলাদেশ   ভারতীয় নাগরিক  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

‘সুইসাইড ক্যাপসুল’ চালু করতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ: ০৫:০৫ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

এই প্রথমবারের মতো সুইজারল্যান্ডে পুরোদমে চালু হতে যাচ্ছে ‘সুইসাইড ক্যাপসুল’ বা সারকো ক্যাপসুল। আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যারা স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি পেয়েছেন, তাদের জন্য এটা একটা সুসংবাদই বলা চলে। 

স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতিপ্রাপ্তদের সহযোগিতা প্রদানকারী সংস্থা দ্য লাস্ট রিসোর্ট অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তারা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেছেন, আর বড়জোর এক কিংবা দু’মাসের মধ্যে সহজে বহনযোগ্য এই যন্ত্রটির ব্যবহার শুরু হবে সুইজারল্যান্ডে। 

খানিকটা ছোটো আকারের নভোযানের মতো দেখতে এই সারকো ক্যাপসুল । ‘সারকো’ শব্দটি মূলত ইংরেজি সারকোফ্যাগাসের সংক্ষিপ্ত রূপ, যার বাংলা অর্থ শবাধার। সুইজারল্যান্ডের ‘ডক্টর ডেথ’ নামে বিখ্যাত চিকিৎসক এবং অ্যানাসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ ফিলিপ নিৎশে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো সহজে পরিবহনযোগ্য এই ক্যাপসুলটি তৈরি করেন। তবে তিনি তা প্রকাশ্যে আনেন আরও ২ বছর পর, ২০১৯ সালে।

স্বেচ্ছামৃত্যু বরণে ইচ্ছুক ব্যক্তি এই ক্যাপসুলে প্রবেশের পর প্রথমে সেটির ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারপর ওই ব্যক্তির নিঃশ্বাসের জন্য ক্যাসুলের ভেতরে নিঃসৃত হতে থাকবে নাইট্রোজেন গ্যাসে পরিপূর্ণ একপ্রকার বিশেষ বাতাস। সেই বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক মিনিটের মধ্যে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু ঘটবে ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা ব্যক্তির।

ড. ফিলিপ নিৎশের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছামৃত্যু বরণে ইচ্ছুক ব্যক্তি শিগগিরই ঘুমিয়ে পড়বেন এবং সম্পূর্ণ বিনা কষ্টে, ঘুমের মধ্যেই তার প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, অনুমোদিত চিকিৎসাকর্মীর সহায়তা নিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশেই বৈধ। সেসব দেশের মধ্যে সামনের সারিতেই রয়েছে সুইজারল্যান্ড। ২০২০ সালে দেশটিতে অন্তত ১,৩০০ মানুষ 'সহায়তাকৃত আত্মহত্যা'-র পথ বেছে নিয়েছেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে স্বেচ্ছামৃত্যুতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য সারকো ক্যাপসুল ব্যবহারের অনুমোদন দেয় সুইজারল্যান্ডের সরকার। তবে ব্যক্তিগতভাবে এই যন্ত্র ক্রয়ের অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি। কয়েকটি সংস্থাকে এই যন্ত্র ক্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, দ্য লাস্ট রিসোর্ট অর্গানাইজেশন সেগুলোর মধ্যে একটি। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতিপ্রাপ্ত যে কোনো ব্যক্তি এই ক্যাপসুল ব্যবহার করতে পারবেন, বিনিময়ে তাকে দিতে হবে ২০ ডলার।

দ্য লাস্ট রিসোর্ট অর্গানাইজেশনের শীর্ষ নির্বাহী ফ্লোরিয়ান উইলেট এএফপিকে বলেন, “আদালত অনুমতি প্রদানের পরও কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বাধ্যবাধকতার কারণে এই ক্যাপসুলটি ব্যবহারের জন্য প্রচলন করতে খানিকটা সময় লাগছে। তবে এর মধ্যে অনেকেই আমাদের কাছে আবেদন করেছেন যে এই ক্যাপসুলে তারা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান।”

ফ্লোরিন উইলেট আরও জানান, সরকারি আইন অনুযায়ী যেসব ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি, কেবল তারাই এ ক্যাপসুল ব্যবহার করতে পারবেন। দ্য লাস্ট রিসোর্ট অর্গানাইজেশন এই আইন কঠোরভাবে মেনে চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

“স্বেচ্ছামৃত্যু খুবই স্পর্শকাতর একটি ব্যপার। যারা স্বেচ্ছামৃত্যু বরণে ইচ্ছুক, আমরা চাই না তাদের নিয়ে সমাজমাধ্যমে কোনো প্রকার সার্কাস হোক। এ কারণে আমরা বিজ্ঞাপণ দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

“তবে একটি কথা সত্য- সারকো ক্যাপসুলে মৃত্যু সবচেয়ে যন্ত্রণাহীন মৃত্যু। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য এই ক্যাপসুলে প্রবেশ করবেন, ঢাকনা বন্ধ হওয়ার পর দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়েই মৃত্যু ঘটবে তার।”


সুইসাইড ক্যাপসুল   সুইজারল্যান্ড  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

নির্বাচনে থাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন বাইডেন

প্রকাশ: ০৪:৪৩ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি আবারও বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেন।  

কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি সহানুভূতিশীল সংবাদমাধ্যম বেট-কে মঙ্গলবার দেয়া সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, 'আমার শারীরিক অবস্থার যদি অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসকরা বলেন- আপনার এই সমস্যা আছে, ওই সমস্যা আছে….তাহলে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব।' খবর সিএনবিসির। 

এই প্রথম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন ৮১ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রেসিডেন্ট। আর এই সাক্ষাৎকার দেয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার প্রেস সেক্রেটারি ক্যারিন জিন পিয়েরে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে জানান, বাইডেন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং এই মুহূর্তে মৃদু উপসর্গে ভুগছেন। চলতি বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রেসিডেন্ট ৭৮ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছেন।

বয়সজনিত কারণে ডেমোক্রটিক পার্টির অনেকেই প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে বাইডেনকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন। অতি সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর এবং বাইডেনের বিশেষ আস্থাভাজন অ্যাডাম শ্চিফও তাকে ‘নির্বাচনের মশাল অন্যের হাতে তুলে দেয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের উত্তরে বাইডেন বলেন, 'আমি (প্রার্থিতা) সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এত কিছু ভাবিনি। আমার ধারণাতেও ছিল না যে এই ব্যাপারটি নিয়ে (দলের ভেতর) এই মাত্রার দ্বিধা-বিভক্তির সৃষ্টি হবে।'


নির্বাচন   যুক্তরাষ্ট্র   জো বাইডেন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ, চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারের পতন

প্রকাশ: ০৪:১৮ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ চীনের সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম রপ্তানির ওপর আরও কঠোর হতে পারে এমন খবরে বিশ্বব্যাপী চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারের পতন শুরু হয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় চিপ কোম্পানি টিএসএমসির শেয়ারের দাম কমতে শুরু করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষার জন্য দেশটির উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি কোম্পানি নাসডাকের সূচক বুধবার শেষের দিকে ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। ইউরোপ এবং এশিয়াতেও চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমতে দেখা গেছে। টেকনালাইসিস রিসার্চের প্রধান বিশ্লেষক বব ও’ডোনেল বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, আমি মনে করি আমরা যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বিধিনিষেধ বাড়াতে দেখব। যদিও তারা এটাকে কতদূর নেবে এটাই বড় প্রশ্ন।

বৃহস্পতিবার এশিয়ায় তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় চিপ কোম্পানি টিএসএমসির শেয়ারের প্রায় তিন শতাংশ লেনদেন কমেছে। অপরদিকে সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক টোকিও ইলেক্ট্রনের লেনদেন কমেছে প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বুধবার নিউইয়র্কে এনভিডিয়ার লেনদেন কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এএমডির শেয়ারের লেনদেন ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। এছাড়া ইউরোপে এএসএমএল-এর লেনদেন কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ।

তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড টিএসএমসি। এটি চুক্তিভিত্তিতে বিশ্বের অনেক কোম্পানির জন্য চিপ তৈরি করে। অ্যাপল ও এনভিডিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিপ সরবরাহকারী কোম্পানি টিএসএমসি। বুধবার সকালে তাদের শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ২ শতাংশ।

১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি এখন শীর্ষদের তালিকায় থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ করছে। বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং চীনে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সর্বোচ্চ সম্প্রসারণ নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনের পরই বিভিন্ন দেশে চিপ কোম্পানির শেয়ারের পতন শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন সরকার চীনের সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এএসএমএল এবং টোকিও ইলেক্ট্রনের মতো সংস্থাগুলো দেশটিকে উন্নত চিপ প্রযুক্তি সরবরাহ করতে থাকে। তবে এ বিষয়ে ওই দুই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাইডেন প্রশাসন এর আগে উন্নত চিপ প্রযুক্তিতে চীনের হস্তক্ষেপে সীমাবদ্ধতা আনার পদক্ষেপ নেয়। গত অক্টোবরে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উন্নত সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। বিশ্বের বেশিরভাগ উন্নত চিপ উত্পাদন করে থাকে তাইওয়ান।

মেমরি চিপ প্রযুক্তি কোম্পানি নিউমোন্ডার এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্কো মেজগার বলেন, বিনিয়োগকারীরা সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানায়। কিন্তু এ ধরনের মন্তব্যের পরেও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক প্রবণতা স্পষ্টতই বেড়েই চলেছে।

ব্লুমবার্গ বিজনেস উইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি তাইওয়ানের মানুষদের ভালো করে জানি। তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। তারা আমাদের চিপ ব্যবসার ১০০ শতাংশই নিয়ে গেছেন। আমি মনে করি, তাইওয়ানের উচিত প্রতিরক্ষার জন্য আমাদের অর্থ দেওয়া। আপনারা জানেন, একটি বিমা কোম্পানির সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। তাইওয়ান আমাদের কিছুই দেয় না।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত ২৫ জুনের ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে গত মঙ্গলবার। আধুনিক চিপ তৈরিতে টিএসএমসি বেশ এগিয়ে রয়েছে। তাদের তৈরি চিপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে স্মার্টফোন ও যুদ্ধবিমানেও ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তাইওয়ানকে ঘিরে কোনো সংঘাত হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে বেকায়দায় ফেলবে।

তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক হলো যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারীও। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। অপরদিকে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন। অন্যদিকে এই দাবি অস্বীকার করে আসছে তাইওয়ান। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে।


যুক্তরাষ্ট্র   বিধিনিষেধ   চিপ কোম্পানি   শেয়ার পতন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন