ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মানুষ ছাড়াই চলছে কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:০২ পিএম, ২৭ অগাস্ট, ২০১৮


Thumbnail

যেকোনো কারখানার অন্যতম চালিকাশক্তিই হলো শ্রমিক। জনমানব শূণ্য কারখানাকে অচল বলেই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু চীনের হুনান প্রদেশে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান আলিবাবার একটি কারখানায় মানুষ ছাড়াই দিব্যি কাজ চলছে।

মেশিনের শব্দ, ব্যস্ততা সবই রয়েছে এই কারখানায়, নেই শুধু মানুষ। দেখলে মনে হবে, অদৃশ্য অবস্থায় একদল ভূত সব কাজ করে চলেছে। তবে ভয় পাবার কোনো কারণ নেই। ভূতের কোনো উপদ্রপ নেই ওই কারখানায়। উন্নত প্রযুক্তির রোবট মানুষের জায়গা নিয়ে ফেলেছে সেখানে। ৬০টি রোবট সারা দিন ধরে পরিশ্রম করে ৭০ শতাংশ কাজই শেষ করে ফেলে। এরপর শুধু জিনিসপত্র প্যাকিং করা এবং পাঠানোর কাজটাই করতে হয় মানুষ কর্মীদের।

উন্নত প্রযুক্তির রোবটগুলো ৫০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে। এই বিপুল পরিমান ওজন ঘাড়ে তুলে কারখানাময় ছুটে বেড়ায় তারা। কিন্তু বিশেষ সেন্সর থাকায় একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় না তাদের। নিজেদের চার্জিংয়ের ব্যবস্থাও নিজেরাই করে রোবটগুলো। চার্জিং স্টেশনে গিয়ে মাত্র ৫ মিনিট চার্জ করেই ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা নিশ্চিন্তে পরিশ্রম করতে পারে তারা।

রোবট কর্মীর সবথেকে বড় সুবিধা হলো, গল্পগুজব কিংবা কোনো অসুস্থতা ছাড়াই দিব্যি কাজ করতে পারে তারা। তাদের কাজের গতি এতটাই বেশি যে, রোবটদের নিয়োগের পর আলিবাবার ওই কারখানার উৎপাদন বেড়েছে ৩০০ শতাংশ।


বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ 



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

টিকা পেতে অন্যকে বঞ্চিত করা মানে নিজেকেই বঞ্চিত করা: গুতেরেস

প্রকাশ: ০৩:৫১ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

গত দুই বছর একটি কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গেছি আমরা। টিকা পেতে অন্যকে বঞ্চিত করা মানে নিজেকেই বঞ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। 

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বৈশ্বিক ইকোনমিক ফেরামে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন গুতেরেস। 

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, মহামারি থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে বিশ্বের প্রত্যেক মানুষকে টিকার আওতায় আনা। 

গুতেরেস আরও বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তিকে টিকা দিতে ব্যর্থ হলে করোনার নতুন নতুন ধরনের জন্ম হবে, যা সবখানে ছড়িয়ে পড়বে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতিকে স্থবির করে দেবে। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ন্যায্যতা ও সমতার সঙ্গে মহামারির মোকাবিলা করার কথা বলেন। গুতেরেস আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও নেই।’

বিশ্বে প্রথম করোনার গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করা দেশগুলোর একটি ইসরায়েল। গত গ্রীষ্মে দেশটিতে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়। এখন বয়োজ্যেষ্ঠ ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সবুজ সংকেত দেয় ইসরায়েলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল ফার্ম ফাইজার ও মডার্নার টিকার চতুর্থ ডোজ করোনার নতুন ধরন অমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে আংশিক কার্যকর বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ইসরায়েলে চতুর্থ ডোজ নিয়ে একটি ট্রায়াল শেষে গত সোমবার গবেষকেরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তেল আবিবের কাছেই সেবা মেডিকেল সেন্টারের একদল গবেষক অমিক্রন প্রতিরোধে মানবদেহে টিকার চতুর্থ ডোজের কার্যকারিতা নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে পরীক্ষা শুরু করেন। সেখানে হাসপাতালে কাজ করেন, এমন ১৫৪ স্বাস্থ্যকর্মীকে ফাইজার ও ১২০ স্বাস্থ্যকর্মীকে মডার্নার টিকার ডোজ দেওয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, টিকা নিরাপদ ও যথেষ্ট মাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি করছে। কিন্তু অমিক্রন ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে এটি আংশিক কার্যকর।

এ গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক গিলি রেগেভ। তিনি বলেন, চতুর্থ ডোজ দেওয়ার পর অ্যান্টিবডি বাড়লেও অমিক্রন ধরনে সংক্রমিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টিকা আংশিক কার্যকর। তবে অমিক্রনের আগের ধরনগুলোর বিরুদ্ধে টিকা অনেক বেশি কার্যকর বলেও জানান অধ্যাপক রেগেভ।


করোনা   টিকা   বুস্টার ডোজ   জাতিসংঘ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের এক বছর

প্রকাশ: ০৩:১৯ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুগের অবসান ঘটিয়ে দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন জো বাইডেন। গত বছরের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন জো বাইডেন। ক্ষমতা গ্রহণ করেই মহামারি করোনাভাইরাস, ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি আর এক বিভাজিত জাতির দায়িত্ব পান তিনি। বিশ্বনেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সংহত করা, আর দেশকে একত্রিত করার লক্ষ্য গত এক বছরে কতটা সফল ট্রাম্প। এক বছরে তিনি তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কতটা রক্ষা করতে পারলেন? 

গণহারে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার শক্ত অবস্থানের মধ্য দিয়ে বাইডেন তাঁর শাসনামল শুরু করেছিলেন। তাঁর এই অবস্থান ছিল পূর্বসূরি ট্রাম্পের এ–সংক্রান্ত নীতির বিপরীত। কেননা, এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অবস্থান ছিল বিভ্রান্তিকর। মহামারির ভয়াবহতাকে খাটো করে দেখার অভিযোগ ছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। করোনা মোকাবিলার বদলে ভাইরাসটির উৎপত্তি নিয়ে চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বেও জড়ান তিনি। যদিও করোনার টিকা তৈরির দ্রুত অগ্রগতির বিষয়টি ট্রাম্প দেখভাল করেছিলেন।

২০২১ সালের ৪ জুলাই বাইডেন করোনাভাইরাসকে পরাস্ত করার ঘোষণা দেন। ওই বছরের গ্রীষ্মকালে ফের করোনার অতি সংক্রামক ধরন ডেলটার আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বসন্তের মধ্যে সংক্রমণের নিম্নমুখী প্রবণতা বদলে যায়। ডিসেম্বরে ফের শুরু হয় অমিক্রন ধরনের প্রকোপ। ফলে বাইডেনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

বাইডেন ক্ষমতায় আসার শুরুতে তাঁর নেওয়া কোভিড-সংক্রান্ত নীতিতে ৬৯ শতাংশ আমেরিকানের সমর্থন ছিল। এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীল বলে পরিচিত এলাকাগুলোতে বাইডেন প্রশাসন টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করে। তাঁর প্রশাসনের নেওয়া এই অবস্থান রাজনৈতিক বিরোধ উসকে দেয়। বড় ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে টিকা বাধ্যতামূলক করতে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপ গত বৃহস্পতিবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট আটকে দিয়েছেন।

আমেরিকা উদ্ধার পরিকল্পনা নামে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি প্রণোদনা তহবিল পাসের কৃতিত্ব অবশ্য বাইডেন প্রশাসনের। করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা ছাড়াও বেকারত্ব ঠেকানো ও মন্দার মুখে পড়া দেশটির অর্থনীতি উদ্ধারে পাস হয়েছিল এ প্রণোদনা তহবিল।

বাইডেন ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারের বিশাল একটি অবকাঠামো তহবিল পাস করেছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বিল পাস করা হয়। তবে এই বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে বিরোধী রিপাবলিকানদের সমর্থন পেয়েছেন জো বাইডেন। ট্রাম্পও এ রকম একটি অবকাঠামো বিল পাস করানোর জন্য চেষ্টা করেছেন। তবে চার বছরের শাসনামলে প্রতিশ্রুত বিলটি তিনি পাস করে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সমাজসেবা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যে বিল্ড ব্যাক বেটার নামে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ পাস করানোর চেষ্টা করেছিলেন বাইডেন। তবে বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে গিয়ে আটকে যায়। বিরোধী দল রিপাবলিকান নয়, তাঁরই দল ডেমোক্র্যাটেরই সিনেটর জো মানচিন বিলটির বিরোধিতা করেন। বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন তিনি। ১০০ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের সমান ৫০ জন করে সিনেটর আছেন। ফলে একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর বিলটির বিরোধিতা করার কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন শেষ পর্যন্ত বিলটি পাস করতে ব্যর্থ হন।

২০২১ সালে মার্কিন পুঁজিবাজারের সূচক ও চাকরির সংখ্যা বৃদ্ধির অবশ্য রেকর্ড হয়েছে। বেকারত্বের সংখ্যা এখন নেমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে বাইডেনের শাসনামলে মূল্যস্ফীতি আশ্চর্যজনকভাবে অনেকটা বেড়ে যায়। বার্ষিক হিসাবে গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল রেকর্ড ৭ শতাংশ। কয়েক মাস ধরে জো বাইডেনের অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা দাবি করছেন যে এই মূল্যস্ফীতি হবে অল্প সময়ের জন্য। তবে মূল্যস্ফীতি রয়েই গেছে।

বাইডেন একজন প্রকৃত মধ্যপন্থী রাজনীতিক। তবে তাঁর দল ডেমোক্র্যাটে বামঘেঁষা একটি পক্ষ আছে। তাদের সন্তুষ্ট করার ক্ষেত্রে বাইডেন বেশ জটিলতার মুখেই পড়েন। এ ছাড়া কিছু ভোটার গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও তাঁকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকানদের সন্তুষ্ট করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।

বাইডেন প্রায়ই আমেরিকানদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে লাগাম টানা ও পুলিশের নিষ্ঠুরতা ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এটা নিয়ে তেমন কিছুই করতে পারেননি। এ ছাড়া কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বৈষম্য বন্ধে বাইডেনের ভোটাধিকার সংস্কারের উদ্যোগ দুই ডেমোক্র্যাট সিনেটরের বিরোধিতায় সিনেটে ভরাডুবির মুখ দেখেছে।

বড় কোনো ইস্যুর কথা বিবেচনায় নিলে বাইডেনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন সারিয়ে তোলা। এ ক্ষেত্রেও বাইডেন খুবই কম নম্বর পাবেন। শপথের সময় নেওয়া ভাষণে জো বাইডেন আমেরিকানদের মধ্যে ঐক্য আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, অভিবাসীদের ওপর ঘৃণা-বিদ্বেষ দূর, সাংবাদিক ও গণসমাবেশে অন্য বিরোধীদের ওপর আক্রমণ বন্ধের চেষ্টা চালাবেন তিনি।

কিন্তু এখনো ট্রাম্পের মতাদর্শের আধিপত্য চলছে পুরো রিপাবলিকান পার্টিতে এবং ধারণা করা হচ্ছে, ধনকুবের ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবার লড়বেন। এদিকে বাইডেনকে তাঁর নিজের দলের বামপন্থী ঘাঁটির দিকে আরও টানা হচ্ছে। স্বতন্ত্রদের সমর্থনও হ্রাস পাচ্ছে।

শপথ নেওয়ার প্রথম দিন বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক’। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবশ্য এটা করেছেন তিনি। বাইডেন জলবায়ুসংক্রান্ত প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে এনেছেন এবং ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়েও বহুজাতিক আলোচনায় বসেছেন। 

ক্ষমতায় আসার পরই বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইউরোপ, সামরিক জোট ন্যাটো ও এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ওপর জোর দেন। অংশীদার হিসেবে মিত্রদের আশ্বস্ত করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন। জো বাইডেন অবশ্য পূর্বসূরি ট্রাম্পের এমন অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসন ছিল ইতিবাচক। 

আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান ২০ বছরের একটি ব্যর্থ যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছে এবং এটা ছিল এমন কিছু, যা নিয়ে আগের প্রেসিডেন্টরা কেবল কথা বলেই গেছেন। তবে তাতে বাইডেনের শেষ রক্ষা হয়নি। আফগানিস্তান ছাড়ার সময় দেশটিতে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। মানবিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আর সে দায় কিছুটা হলেও বাইডেনের ওপর বর্তায়।

যুক্তরাষ্ট্র   করোনা   জো বাইডেন   সংক্রমণ  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউক্রেন-রাশিয়ার উত্তেজনা নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য দিল যুক্তরাষ্ট্র!

প্রকাশ: ১২:১৩ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ইউক্রেন ও রাশিয়া মধ্যে ক্রমশই বাড়ছে উত্তেজনা। ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ান সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে পশ্চিমা বিশ্বেও। এর মাঝে বৈঠকও করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। এবার হোয়াইট হাউস জানাল, রাশিয়া যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনে আক্রমণ করতে প্রস্তুত।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কূটনীতিকদের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠককে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) এমন তথ্য জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটা পর্যায়ে আছি যেখানে রাশিয়া যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করতে পারে।
উল্লেখ্য, সীমান্তে রাশিয়ার সেনা মোতায়েনে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদি মস্কো বারবার হামলার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।

রাশিয়া   ইউক্রেন   যুক্তরাষ্ট্র  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

টিকা নেয়ার ভয়ে গাছে উঠলো ভারতীয় তরুণী

প্রকাশ: ১১:৪৩ এএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ছাত্তারপুর জেলায় টিকা নেয়ার ভয়ে গাছে উঠে পড়ে এক তরুণী (১৮)।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে একজন স্বাস্থ্যকর্মী টিকার সিরিঞ্জ নিয়ে তরুণীর দিকে এগিয়ে গেলে তাকে গাছে উঠতে দেখা যায়।

তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে বোঝানোর কিছু সময় পর তরুণী গাছ থেকে নেমে আসে এবং টিকা গ্রহণ করে।

টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীর দলটি জেলার মানকারি গ্রাম পরিদর্শনে গিয়েছিলো। তরুণীটি তখন তাদের কাছ থেকে লুকাতে ঘর থেকে পালিয়ে গাছে উঠে বসে ছিল। এক সময় গ্রামবাসী এবং ডাক্তারের অনুরোধে তরুণী গাছ থেকে নেমে এসে টিকা গ্রহণ করে।


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সন্ধান মিলল আনা ফ্রাঙ্কের ‘বিশ্বাসঘাতকের’

প্রকাশ: ১২:০৯ পিএম, ১৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আনা ফ্রাঙ্কো। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ১৫ বছর বয়সে এক নাৎসি বন্দিশিবিরে মারা যাওয়া ইহুদি কিশোরী। মৃত্যুর পর ফ্রাঙ্কোর লেখা একটি ডায়েরি প্রকাশের পর সারা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। কিন্তু মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি কিভাবে বন্দি শিবিরে মারা গেলেন এবং তার পরিবারের নাৎসি বাহিনীর কাছে ধরা পড়ার পেছনে কি কারণ ছিলো তার রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি তদন্ত দল। 

মৃত্যুর ছয় মাস আগে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের একটি গোপন জায়গা থেকে আনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আটক করে নাৎসি বাহিনী। বিশ্বযুদ্ধের ৭৭ বছর গড়িয়েছে। কিশোরী আনাকে ধরিয়ে দেওয়ার পেছনে ‘মূল’ কে ছিল, তা বেরিয়ে এসেছে নতুন এক তদন্তের মধ্য দিয়ে। যদিও তা গত ৭৭ বছর ধরেই ছিলো মানুষের কাছে অজানা আর রহস্য ঘেরা। অত্যাধুনিক নানা কৌশল ব্যবহার করে বহু বছরের অমীমাংসিত প্রশ্নের জবাব খুঁজতে পার হয়েছে ছয়টি বছর।

তদন্ত শেষে এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা ভিন্স প্যানকোকে আরনল্ড ভ্যান ডেন বার্গ নামের আমস্টারডামের এক ইহুদি ব্যক্তির নাম নিয়েছেন। নানা সূত্র মিলিয়ে তিনি বলছেন, নাৎসিদের হাত থেকে নিজের পরিবারকে বাঁচাতেই হয়তো আনা ও তাঁর পরিবারকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন ভ্যান ডেন বার্গ।

ভ্যান ডেন বার্গ সে সময় আমস্টারডামের ইহুদি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ইহুদি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় নাৎসি নীতি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হয়েছিল এ কাউন্সিলকে। পরে ১৯৪৩ সালে কাউন্সিলটি বিলুপ্ত করা হয়, এর সদস্যদের পাঠানো হয় নাৎসিদের নানা বন্দিশিবিরে। তবে ভ্যান ডেন বার্গ ছিলেন ব্যতিক্রম। তদন্তে দেখা গেছে, তাঁকে বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়নি। আর দশজনের মতোই আমস্টারডামে স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি।

কেন বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন ভ্যান ডেন বার্গ—টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের সাবেক ওই কর্মকর্তা এ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বন্দিশিবিরে যাওয়া এড়াতে ভ্যান ডেন বার্গের সব সুরক্ষা হাতছাড়া হয়ে যায়। নিজের ও স্ত্রীর নিরাপত্তার জন্যই এমনটি করেছিলেন তিনি। তদন্তকারী দলটি বলছে, এক ইহুদির সঙ্গে আরেক ইহুদি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে—বিষয়টি মানতে কষ্ট হয়েছিল তাঁদের।

তদন্তে এ-ও উঠে এসেছে, আনার বাবা ওটো ফ্রাঙ্ক বিশ্বাসঘাতকের সম্পর্কে জানতেন। তবে চেপে গিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে এ নিয়ে আগের তদন্তকারীদের নথিপত্রে। সেখানে দেখা যায়, ওটো ফ্রাঙ্কের কাছে পরিচয়হীন একটি চিরকুট এসেছিল। ভ্যান ডেন বার্গই যে বিশ্বাসঘাতক, তা জানিয়ে দিতেই ওই চিরকুট পাঠানো হয়।

ওটো ফ্রাঙ্ক বিশ্বাসঘাতকের নাম সামনে আনেননি কেন? এফবিআইয়ের সাবেক ওই কর্মকর্তার মতে, এর পেছনের কারণ হতে পারে ইহুদিবিদ্বেষ। ওটো ফ্রাঙ্ক হয়তো ভেবেছিলেন, বিশ্বাসঘাতকের নাম প্রকাশ করলে তা শুধু আগুনে ঘিই ঢালবে।

তদন্তকারী ভিন্স প্যানকোকে এটাও বলেন, ‘আমাদের এটা মনে রাখতে হবে ভ্যান ডেন বার্গ ইহুদি ছিলেন। এর অর্থ নাৎসিরা তাঁকে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল যে জীবন বাঁচানোর জন্য কোনো কিছু একটা করতেই হতো।’

এদিকে এর কয়েক বছর পর ১৯৫০ সালে ভ্যান ডেন বার্গের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডি ভোকসক্রান্ট। আরেক বিবৃতিতে আনা ফ্রাঙ্ক হাউস মিউজিয়াম জানিয়েছে, তদন্তকারী দলের কাজে তারা ‘অভিভূত’। মিউজিয়ামের ভাষ্য, তারা তদন্তের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল না। তবে দলটিকে নানা নথি ও মিউজিয়াম ব্যবহার করতে দিয়ে সহায়তা করেছে।

১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট গ্রেপ্তার হন আনা ও তাঁর পরিবার। আনাকে পাঠানো হয় ওয়েস্টারবর্কের শিবিরে। এরপর তাঁকে নেওয়া হয় জার্মানিতে নাৎসি বাহিনীর বার্গেন-বেলসেন শিবিরে। সেখানে ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আনা।

মেয়ের মৃত্যুর পর বাবা ওটো ফ্রাঙ্ক আনার হৃদয়স্পর্শী একটি ডায়েরি পান। প্রথম সেটি বই হিসেবে প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের ২৫ জুন। বিশ্বজুড়ে ডায়েরিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। ডায়েরিটি ২০০৯ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ রেজিস্ট্রারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আনা ফ্রাঙ্ক   ইহুদি   নাৎসি বাহিনী   জার্মানি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন