ইয়ুথ থট

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শিশুশ্রম বেকারত্ব

প্রকাশ: ১২:৫৯ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০


Thumbnail

বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি কারনে শিশুশ্রম অনেকটাই নিন্মমখি।কিন্তু করোনা কালিন পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পর। এই শিশুশ্রম আরো  বেড়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। 

এরই মধ্যে শ্রমে থাকা শিশুদের হয়ত আরও বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে বা তাদের আরও খারাপ পরিবেশে কাজ করতে হতে পারে। তাদের মধ্যে আরও বেশি সংখ্যক শিশুকে হয়ত ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিযুক্ত হতে বাধ্য হবে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকির কারণ হচ্ছে । মহামারী পারিবারিক আয়ে বিপর্যয় নিয়ে আসায় কোনো সহায়তা না পেয়ে অনেকেই শিশু শ্রমে নিয়োজিত হতে বাধ্য হবে। সংকটের সময়ে সামাজিক সুরক্ষা অপরিহার্য, যেহেতু তা সবচেয়ে বিপর্যস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেয়। শিশু শ্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রশমনে শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, ন্যায়বিচার, শ্রমবাজার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক ও শ্রম অধিকার বিষয়ে সমন্বিতভাবে বৃহত্তর পরিসরে নীতিমালা প্রণয়ন বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

কোভিড-১৯ এর ফলে দারিদ্র্য বেড়ে গিয়ে শিশু শ্রম বাড়াবে। কারণ বেঁচে থাকার জন্য পরিবারগুলো সম্ভাব্য সকল্ভাবে চেষ্টা করবে। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে,নির্দিষ্ট কিছু দেশে দারিদ্র্য ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধিতে শিশু শ্রম অন্তত দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে।

সংকটের সময় অনেক পরিবারই টিকে থাকার কৌশল হিসেবে শিশু শ্রমকে বেছে নেয়।

“দারিদ্র্য বৃদ্ধি, স্কুল বন্ধ ও সামাজিক সেবা প্রাপ্তি কমতে থাকায় অধিক সংখ্যায় শিশুদের কর্মক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কোভিড পরবর্তী বিশ্বকে আমরা নতুনভাবে দেখতে চাই বলে আমাদের নিশ্চিত করা দরকার যে, শিশু ও তাদের পরিবারগুলো ভবিষ্যতে একই ধরনের ধাক্কা সামলে নিতে বিকল্প পথ খুঁজে পায়। মানসম্পন্ন শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা সেবাসহ আরও ভালো অর্থনৈতিক সুযোগ ইতিবাচক এই পরিবর্তনের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।

অর্থনৈতিক মন্দায় অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে কর্মরত ও অভিবাসী শ্রমিকদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাতে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মী ও বেকারত্ব বৃদ্ধি, জীবনমানের পতন, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিসহ অন্যান্য চাপ সৃষ্টি হবে। বর্তমান সংকটের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু শ্রম হ্রাসে দারুন কাজ করে আসছিল।

চলমান মহামারীর কারণে এই অর্জন যেন নস্যাৎ না হয় তা নিশ্চিত করতে অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন আমাদের আরও বেশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সময়োচিত এই প্রতিবেদনটি কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ প্রভাবের ওপর আলো ফেলেছে এবং সরকার, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক সংগঠনসমূহ এবং অন্যান্য অংশীদারদের সামনে বর্তমান সংকট মোকাবেলার সর্বোত্তম পথ খুঁজে পেতে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে অসহায় শিশুদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের ওপর কোভিড-১৯ মহামারী বিশেষ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্কুল বন্ধ ও পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় অনেক শিশুর জন্য শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। “গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা যত বেশি সময় স্কুলের বাইরে থাকে তাদের আবার স্কুলে ফেরার সম্ভাবনা ততটাই কমে যায়। আমাদের এখন শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এবং মহামারীর পুরো সময়জুড়েই তা অব্যাহত রাখা উচিত,

মহামারীর এই সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশু শ্রম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রমাণ ধারাবাহিকভাবে আসছে। বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ১০০ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি যখন পুনরায় ক্লাস শুরু হবে তখন অনেক বাবা-মায়ের হয়ত তাদের সন্তানকে স্কুলে দেওয়ার সক্ষমতা থাকবে না।

ফলশ্রুতিতে আরও অনেক শিশু বঞ্চনামূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যোগ দিতে বাধ্য হবে। লিঙ্গ বৈষম্য আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের কৃষি ও গৃহকর্মে বঞ্চনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

কোভিড-১৯ ও শিশু শ্রম: সংকটের সময়, পদক্ষেপের সময়’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০০ সাল থেকে এপর্যন্ত শিশু শ্রম ৯ কোটি ৪০ লাখ কমেছে, কিন্তু এই অর্জন এখন ঝুঁকির মুখে।

 

ইভান খান হোসাইন

বয়সঃ ১৬

কলেজঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাইসার নিলুফার কলেজ



মন্তব্য করুন


ইয়ুথ থট

“করোনা সংক্রমণ ও মাদকাসক্তের হ্রাস”

প্রকাশ: ১২:৪৯ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০


Thumbnail

আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতি বছরই ২৬ জুন সারা বিশ্বে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ পালিত হয়ে থাকে। কিন্তু দিবস পালন করাই কি আর মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পারবে?        

মহামারী কভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে ধূমপান ও মাদকের ঝুঁকিপূর্ণতা সম্বন্ধে বরাবরই ঘোষণা এসেছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডব্লিওএইচও(হু) থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, ধূমপায়ী বা তামাক এবং মাদকসেবীরা নানারকম স্বাস্থ্য সমস্যাসহ জটিল ও কঠিন রোগাক্রান্ত হয়ে থাকে বিধায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং প্রাণহানির ঝুঁকিতে শীর্ষ অবস্থান করছে কারন ধূমপান করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি ১৪ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে তোলে। করোনাভাইরাস যেমন আমাদের ফুসফুসকে সংক্রমণ করে তেমনি ধূমপান বা ই-সিগারেট কিংবা সিসা সমানভাবে আমাদের ফুসফুসকে সংক্রমণ করে। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও ধূমপান বা ই-সিগারেট, গাঁজা, হেরোইন, কোকেইন ও সিসার মাধ্যমে ফুসফুস সংক্রমিত হয়। সে কারণে তাদের রোগাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে থাকার ঝুঁকি অন্য অধূমপায়ীদের তুলনায় অনেকগুণে বেশি।

 শুরুর দিকে  বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস এর তেমন একটা প্রকোপ না থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী কেহই তেমন একটা আমলে নেয় নি, মার্চের শেষের দিকে মিরপুরে যখন প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হলো তারপর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিক ভাবে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।এমতাবস্থায় মাদকাসক্ত তরুন যুবকরা আতংকিত হয়ে যায় এবং নিজেদের যতটা সম্ভব ধুমপান, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সেবন কমিয়ে আনে। লকডাউনের কারনে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা এমনকি সাধারন মুদির দোকান(নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা থাকবে) পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য ঘোষণা করা হয়৷ তার সাথে সর্বপ্রকার জনসমাগম নিষিদ্ধ করে সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার জন্যে কঠোরভাবে নির্দেশ আসে সরকার থেকে এবং স্থানীয়ভাবে অনেক স্থানে এলাকার লোকজন মদ্য, সিগারেট ও মাদকদ্রব্য বিক্রয় হয় এমন দোকানগুলোকে প্রশাসনের সাহায্য বন্ধ করে দেয়। এমতাবস্থায় একটি দীর্ঘ সময় ধরে ধমপান ও মাদকদ্রব্য বেচাকেনাও বন্ধ হয়ে যায়। উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশের ফলে আমাদের তরুণ যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যার ৪৯% ভাগ মানুষ বয়সে তরুণ। দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ। প্রতিনিয়ত তাদের মাঝে মাদকাসক্তের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে যা মাদক ব্যবসায়ীদের আরো উৎসাহী করছে। সরকার ইতিমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- মহামারীর কারণে বেশ কয়েকটি দেশে নির্দিষ্ট কিছু মাদকের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক যে কভিড-১৯ করোনা মহামারীর কারণে অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রীর মতো মাদক সরবরাহের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। এরই মধ্যে অনেক দেশে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল সহ আমদানিকৃত মাদকদ্রব্যাদির স্বল্পতা দেখা দিয়েছে সেসব দেশে এখন এমন মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা হচ্ছে যেগুলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যা শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। সবচেয়ে দুঃখজনক ও ভয়ঙ্কর চিত্র হচ্ছে, এসব মাদকদ্রব্য গ্রহণকারী শতকরা ৮৫ ভাগই তরুণ যুবসমাজ। মাদক স্বল্পতার ফলে মাদকাসক্ত যুবকরা যেমন ধীরেধীরে নিজেদের সাধারণ জীবনযাপনে ফিরছে তেমনি মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারকারীরা নানান ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, তার মধ্যে কিডনি, লিভার ছাড়াও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশে  গত বছরের প্রথম দিন থেকেই সারা দেশে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ চলবে। সম্প্রতি সরকারের একটি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাতেই হয়, বিষয়টি হচ্ছে, এখন থেকে সরকারি চাকরিতে ঢোকার আগে প্রার্থীদের  মাদক পরীক্ষা বা ডোপ টেস্ট করা হবে। যাদের ডোপ টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ হবে, তিনি চাকরির জন্য অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। ‘দৈনিক ভোরের কাগজ’(২৫ জুন,২০২০ইং) এর তথ্য মতে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লাখ। মাদকসেবীদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ যার মধ্যে নারীরাও রয়েছে, ধারণা করা হয়, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। দিনকে দিন মাদকসেবীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কভিড-১৯ এর মন্থরতা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে একটি পজিটিভ ভুমিকা লক্ষনীয়। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম  বিভাগ এর পরিচালক মুজিবুর রহমান পাটোয়ারীর ভাষ্যমতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীন গবেষণায় জানা যায় করোনাকালীন সময়ে পরিবহন বন্ধ থাকায় মাদকদ্রব্যের ঘাটতির কারনে এপ্রিল ও মে মাসে মাদকাসক্তের তীব্রতা অনেকটা কম ছিলো। গণপরিবহন খুলে দেয়ায় পরবর্তী সময়ে তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে।

করোনা পরবর্তী সময়ে মাদকের তীব্রতা স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে অধিদপ্তরের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লকডাউনের পর গত আগষ্ট মাসে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ মামলা দায়ের করা হয়। তাই পরিস্থিতি কিছুটা সাভাবিক রয়েছে, এই ধারাবাহিকতা অব্যহত রেখে ছোট পরিসরে এওয়ারনেস প্রোগ্রাম করে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও যুবকদের কাছে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে মাদকের কুফল নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্লোগান ও পোস্টারিং এর মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন তারা।

তিনি আরো বলেন, মাদকের প্রভাব কমিয়ে আনতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, পুলিশ ও সাংবাদিকদের পাশাপাশি সমাজের ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যাক্তিরা যদি এগিয়ে আসেন ইনশাআল্লাহ তাহলে আমরা ভালো থাকতে পারবো। তিনি জানান, চট্টগ্রামের অন্যতম মাদক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বাকলিয়া সহ বেশকিছু এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন  ইতিমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ও পুলিশের সহযোগিতায় “মাদক ছাড়তে হবে, নাহয় এলাকা ছাড়তে হবে” এই স্লোগান সামনে রেখে সামাজিকভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

পরিশেষে সকল অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “যুব সমাজকে মাদকের এই ভয়াবহ আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হলে সকল গার্ডিয়ানদের উচিৎ তাদের সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা। পরিবার থেকে সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা না হলে সমাজে মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”

 বাকলিয়া থানাধীন ১৯নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একজন কলেজ পড়ুয়া যুবক(২০) বলেন, বন্ধুদের পাল্লায় পরে প্রথম সখের বসে তিনি ই-সিগারেট খাওয়া শুরু করে পরে পকেট খরচের টাকা দিয়ে ইয়াবা ও মদ্য পান করে। তিনি যখন জানতে পারেন ধূমপায়ী ও মাদকাসক্তের করোনা সংক্রমণ এর ঝুঁকি বেশি এবং তা একজনের হলে তার পরিবারের লোকেরও হয় তারপর থেকে তিনি বাসা থেকে আর বের হয়নি প্রথম প্রথম লকডাউনে বাসায় বন্ধি থেকে লুকিয়ে কিছুদিন ধুমপান করলেও একটা সময় ধুমপান ছেড়ে দিতে তিনি বাধ্য হয়, এখন তিনি সম্পূর্ণ সাধারণভাবেই লেখাপড়ায় মনোযোগ দিচ্ছে। তার সাথে থাকা অন্য একজন(২১) বলেন, নিজের পরিবারের চেয়ে কখনো কিছু বড় হতে পারে পারে না, সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে জেনে তার বাবা তাকে মোটর বাইক কিনে দিয়েছে। ইয়াবা ও গাঁজা সেবনকারি মোঃ রুবেল(২৮) সাথে কথা বলে জানা যায়, ছোট বেলা থেকেই তিনি এসব মাদকদ্রব্য সেবন করে আসছে, অনেক চেষ্টা করেও তিনি তা ত্যাগ করতে পারেন নি তাই গত দেড় বছর আগে তাকে পরিবার থেকে বের করে দেওয়া হয়। এখন সে রিক্সার গ্যারেজ এ থাকে তার সাথে আরো অনেকেই এভাবে ইয়াবা সেবন করে নিজেদের মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে। ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে আগামী প্রজন্মকে, সাথে তাদের পারিবার পরিজনকেও।।

 

নামঃ মোঃ আরিফুল ইসলাম

বয়সঃ (১৯)

কলেজঃ জে. এম. সেন কলেজ(বেচ-২০২০)।

কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম



মন্তব্য করুন


ইয়ুথ থট

কোভিড- ১৯ বদলে দিয়েছে শিশুদের জীবন

প্রকাশ: ১২:২১ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০


Thumbnail

কোভিড-১৯-এর কারণে বন্ধ হয়ে আছে বিশ্বের প্রায় সব দেশের স্কুল। শিশুরা বাড়িতে নিরাপদে আছে এমনটি ভাবলেও আদতে তাদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। স্কুলের সামাজিকতা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, ক্লাসে বসে শিক্ষাগ্রহণ সবকিছু থেকেই তারা বঞ্চিত। মহামারী শেষে স্কুল খুললেও শিশুরা কি পারবে আগের মতো সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে? 

দীর্ঘদিন বন্ধ স্কুল

এই বৈশ্বিক মহামারীর মাঝে বড় হয়ে আজকের শিশু-কিশোররা কি একবারের জন্য হলেও নিজেদের ‘হারানো প্রজন্ম’ বলে ভাববে না? এই যে এতগুলো দিন কেটে যাচ্ছে এমনি এমনি, বলার মতো বড় কোনো কাজ নেই, স্কুল বলতে অনেকের কাছে এখন অনলাইন ক্লাস, বাইরে খেলাধুলা একদম বন্ধ। এই সময়গুলো কি তাদের তাড়িয়ে ফিরবে না কখনো? কভিড-১৯ এ স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের ওপর মানসিক প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। ইউনেস্কোর মতে, ১৯০টি দেশের অন্তত ১৬০ কোটি শিশুর শিক্ষায় প্রভাব ফেলেছে কভিড-১৯। অর্থাৎ না হলেও ১০০ ভাগের মধ্যে ৯০ ভাগ শিশুর শিক্ষায় গুরুতর প্রভাব পড়েছে। এখনো নিশ্চিত নয়, শিশুদের স্কুল কবে খুলবে, কবে শিক্ষাব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, স্কুল খুললেও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন কি না। স্কুল বন্ধ হলেও যতদিন খোলা ছিল ততদিনে ভাইরাস কতখানি ছড়িয়ে পড়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। করোনাভাইরাস উহানে প্রথম দেখা দেয় এ তথ্য প্রকাশের ৫ মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেলেও তাদের ভাইরাস নিয়ে সঠিক তথ্য প্রদান এবং রোগপ্রতিরোধে সঠিক ভূমিকা এখনো ঘোলাটে। নানা তথ্য-উপাত্ত যতই ঘোলাটে বা প্রশ্নবিদ্ধ হোক, এখন চিন্তা শিশুদের নিয়ে। এই বন্ধ সময়ে তাদের মানসিক বিকাশে কতটা খারাপ প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে ভাবাটাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

বুদ্ধিমত্তা বিকাশে বাধা

করোনাকালে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধে, সামাজিক পরিবেশ থেকে একদম দূরে থাকায় শিশুদের ওপর কেমন প্রভাব পড়ছে সেটি হিসাবের আগে ঠিক এমনই আরেকটি বিষয় নিয়ে জানা যাক। ২০০৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক ডেভ মার্কোটি মেরিল্যান্ডের তৃতীয়, পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বর দেখছিলেন। নম্বর, স্কুল বন্ধের সময়, শিশুদের মনে রাখার ক্ষমতা সবকিছু মিলিয়ে তিনি খেয়াল করলেন স্কুল বন্ধের প্রভাবগুলো সর্বকনিষ্ঠ শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ছিল। প্রতিটি হারানো দিনের কারণে ০.৫৭ শতাংশ শিশু গণিতে এবং বই দেখে রিডিং পড়ার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত নম্বরের চেয়ে কম নম্বর পেয়েছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্কুলটি ৫দিন বন্ধ থাকে। এতেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। আগের বারের চেয়ে সামগ্রিক পাসের ক্ষেত্রে সে সময় ৩ শতাংশ পাসের সংখ্যা হ্রাস পায় অর্থাৎ প্রতি ৩০ জনের শ্রেণিতে অন্তত একজন শিশুর এই সমস্যা হয়। সংখ্যাটি দেখে আপাতদৃষ্টিতে হয়তো খুব বেশি মনে হচ্ছে না। কিন্তু সেই স্কুলের জন্য এই সংখ্যাটিই ছিল অনেক বেশি। ঠিক একই ঘটনা ঘটতে পারে এই মহামারীতে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা ইতিমধ্যে যা শিখেছিল তা ভুলতে শুরু করবে। যদি সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ স্কুল না খোলে, তবে প্রায় ২০ সপ্তাহ হয়ে যাবে শিশুদের স্কুলে না যাওয়ার সময়। শিক্ষা থেকে দূরে থাকার জন্য এই সময়টা অনেক বেশি। এ থেকে শিশুদের কতটুকু ক্ষতি হতে পারে তা হয়তো আমরা কোনো ডেটা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানতে পারব না। দীর্ঘ সময়ের এই বিরতি শিশুদের বুদ্ধিমত্তা এবং জ্ঞান বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এই সমস্যার সমাধানে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। অনেকেই ভাবছেন হয়তো শিশুদের এতে কিছুটা হলেও লেখাপড়ার ঘাটতি মিটবে। তবে প্রকৃত শিক্ষার জন্য এই পদ্ধতি খুব বেশি কার্যকর নয়। মার্কোটি বলেন, ‘সত্যিকারের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার মাধ্যমে লেখাপড়ায় মনোযোগ দেওয়া যত সহজ, এক রুমে বন্দি হয়ে কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকিয়ে সেই একই বিষয়ে দক্ষতা আনা ঠিক ততটাই কঠিন।’

স্কুলে শুধু লেখাপড়াই হয় তা নয়, শিশুরা একে অপরকে দেখেও নতুন কিছু শেখে। স্কুলে টিফিন ব্রেকে একে অপরের সঙ্গে খাবার শেয়ার করে খাওয়া, গল্প করা এই বিষয়গুলো এখন একদম বন্ধ। এছাড়াও নাচ, গানের ক্লাস, লাইব্রেরিতে পড়ালেখা, মিউজিয়াম বা ক্যাম্পে যাওয়ার মতো মজার বিষয়গুলো থেকেও এখন তারা অনেক দূরে। সাধারণ জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর স্কুল থেকে যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো তার সবই এখন স্থবির হয়ে আছে। শিশুদের ওপর এই বিষয়টিও গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

নামঃ সালমা আকতার 

বয়সঃ ১৭

কলেজঃ ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ



মন্তব্য করুন


ইয়ুথ থট

লকডাউনে শিশুর বিকাশ

প্রকাশ: ১১:১৪ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০


Thumbnail

বর্তমান সময়ে প্রায় সবাই কম বেশি প্রযুক্তি নির্ভর। প্রযুক্তি বিজ্ঞানের একটি অংশ। বিজ্ঞানের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। করোনা সংক্রমনের এই সময়ে সেই নেতিবাচকতা প্রভাবিত হয়েছে সোমার জীবনে। পড়ালেখা থেকে বিরতি পেয়ে সে যেন অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। মোবাইলে বিভিন্ন রকমের গেম, সামাজিক সাইটগুলো তাকে খুবই আসক্ত করে ফেলেছে। তার মেধা, শারীরিক বিকাশ, সব যেন থমকে গিয়েছে।।এছাড়াও তার মাথা ব্যাথা, চোখ ব্যাথা ইত্যাদির লক্ষন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে তার অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, সোমা দিনরাত শুধু মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আমরা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত। লকডাউনে যেন আমাদের হাত বেধে রেখেছে। অপরদিকে সোমার বান্ধবী সীমা এই সময়কে অনেক ভালোভাবে ব্যবহার করেছে। সে তার মা বাবার সাথে সময় কাটাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী বানাচ্ছে। বাগান পরিচর্যা করছে। তার বিষয়ে যখন তার মা বাবার থেকে জানতে চেষ্টা করা হয়, তখন তারা বলেন, "লকডাউন শিশুদের জন্য খুবই দীর্ঘ বিরতি। কিন্তু এই বিরতিতে আমরা সীমার জন্য ইতিবাচকতা কিছু সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছি। তার সাথে আমরা সঠিকভাবে সময় কাটাচ্ছি, লুডু,ক্যারাম সহ অনেক ধরণের ইনডোর গেম খেলার চেষ্টা করেছি। যেন প্রযুক্তির ছোয়া তার মানসিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। আমরা এটাও জানি মোবাইলের মত ইলেকট্রনিক জিনিস ব্যবহার করার কারণে শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানী সুনিতী সেন কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "লকডাউনে শিশুদের জন্য খুবই সুবর্ণ সময়। মানসিক বিকাশ উভয় নির্ভর করে তার পরিবারের উপর। বিশেষ করে মা বাবার উপর। এ সময়টাতে বাবা মায়ের উচিত মোবাইল এবং টেলিভিশনের মত ইলেকট্রনিক জিনিস থেকে তাদের দূরে রাখা এবং তাদের সাথে সময় কাটানো। এতে শিশুরা মানসিক এবং মানসিক শারীরিকভাবে ভালো থাকবে।

 

 

নাম: অবন্তি রায়।

বয়স :১৬

কলেজ: সরকারী কমার্স কলেজ।।



মন্তব্য করুন


ইয়ুথ থট

করোনা করেনি করুণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:১০ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০


Thumbnail

আমি শুকরিয়া মুন্নি। থাকি চট্টগ্রাম শহরে। করোনা ভাইরাসের তান্ডবে পুরো বাংলাদেশ দীর্ঘসময় লকডাউনে ছিল। যদিও লকডাউন শেষ হয়েছে তবে শেষ হয়নি করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব। লকডাউন শেষ হওয়ায় এবং ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে এসেছি ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বরিশাল গ্রামে।

আমার গ্রামটি দেখতে অনেক সুন্দর। সবুজে সবুজে ভরা গ্রামটা যেন সজিবতায় ভরা। কিন্তু সজিব, সতেজ আর মুখভরা হাসি নেই দেশের গ্রামীন মানুষগুলোর মুখে। কারণ গ্রামের লক্ষাধিক নিম্নশ্রেণীর ও মধ্যবিত্ত পরিবার শহরে বসবাস করতেন, থাকতেন ভাড়া বাসায়। ছাত্রদের কেউ কেউ থাকতেন ব্যাচেলর। করোনার কারণে চাকরি হারিয়েছেন হাজার পরিবারের গৃহকর্তা। চাকরি হারানোর পরে আয় উপার্জনের ভিন্ন পথ খুজেও ব্যর্থ হন অনেকে। যার ফলে বেশিরভাগ মানুষ সব হারিয়ে ভাগ্যকে মেনে নিয়েছেন। তিলে তিলে গড়া সংসারকে মাত্র একটি ট্রাকে নিয়ে ফিরেছেন গ্রামে। দীর্ঘ লকডাউনের কারনে ভেঙ্গে পড়েছে দেশের  অর্থব্যাবস্থা। বেড়েছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা। এসব কারনে গ্রামের মানুষের মধ্যে বাড়ছে বিষণ্ণতা। করোনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাদের বাবা মায়ের সাথে গ্রামে চলে এসেছে। ফলে গ্রামের স্কুলে শিক্ষার্থীদের চাপ বাড়ার একটি আশঙ্কা রয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর শ্রেণীকক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় পাঠদান চালিয়ে নিতে দূরশিক্ষন পদ্ধতি চালু করেন সরকার। কিন্তু গ্রামে অনুকুল পরিবেশ না থাকায় বাড়িতেও এগুচ্ছেনা পড়ালেখা। দীর্ঘ ছুটি ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ার ঝুকিও বেড়েছে বহুগুন। গ্রামে শিক্ষকদের অবস্থাও ভাল নয়। টানাপোড়েন বেড়েছে গ্রামের অনেক শিক্ষকদের সংসারেও। উপার্জন করার ব্যাবস্থা না থাকায় জীবন কাটছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়ছে বাল্যবিবাহ। গ্রামে নানান অজুহাতে বিদেশ ফেরত গৃহকর্তাদের সহমতে হচ্ছে বাল্য-বিবাহ। অনেক অভিভাবক তাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেবার কারণ হিসাবে বলছেন, চারদিকে বাড়ছে ধর্ষণ আর নেই সঠিক বিচার, তাই কন্যা সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে দিয়েছেন বিয়ে। আবার কেউ বলছেন আর্থিক দূরবস্থার কথা। নানান অজুহাতে গ্রামের শিক্ষার্থীরা শিকার হচ্ছে বাল্যবিয়ের। আর এই বাল্যবিয়ের কারণে ভাঙছে হাজার কিশোরীর স্বপ্ন।

করোনার কারণে বাড়ছে শিশু-শ্রম, যেখানে রয়েছে কিশোর কিশোরী উভয়। গ্রামের বেশিরভাগ শিশুরা উপার্জনের পথে নেমেছে। কেউ কেউ নতুন কাজের সন্ধানে চলেছে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে। অনেকে ভাড়ায় নৌকা ও অটোরিকশা চালাচ্ছে। আবার কেউ করছে ইট ভাঙ্গার কাজ। জীবন বাচিয়ে রাখতে তারা নেমেছে জীবনসংগ্রামে।

করোনার কারণে সৃষ্ট লকডাউনের ফলে বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। খেয়ে না খেয়ে কাটছে গ্রামের সাধারন মানুষের জীবন। করোনা মহামারী হয়তো একদিন কেটে যাবে, কিন্তু গ্রামের এই গরীর দুঃখী মানুষেরা করোনার এই যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে তো?

 

শুকরিয়া আকতার মুন্নি

বয়সঃ ১৮

কলেজঃ মেকানিকাল টেকনোলজি, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক



মন্তব্য করুন


ইয়ুথ থট

কোভিভ ১৯ মহামারিতে মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:২৭ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০


Thumbnail

বিশাল এই বড় শহরের  এক কোণায় বসাবাস করে মধ্যবিত্ত একটি পরিবার। একজন মধ্যবিত্ত পরিবার লোক দেখে কখনো বুঝা যায় না বা বুঝতে দেয়না সে কত কষ্টের মধ্যে আছে। তার পরিবার আর্থিক অবস্থা ভালো নয় সে এতো  কষ্ট লুকিয়ে সবার সাময়ে হাসি-খুশি থাকে। কষ্ট আড়ালে  রাখে যেন কেউ বুঝতে না পারে তার মধ্যবিত্ত পরিবার জীবন। মধ্যবিত্ত পরিবার বেশিরভাগ সদস্য হয় ৫-৬ জন। ইনকাম থাকে একজনের ১২-১৫ হাজার টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা সপ্ন  দেখে পড়ালেখা শেষ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর। মধ্যবিত্ত পরিবার এমন একটি পরিবার তারা কখনো অন্য কারো কাছে হাত পাততে পারে না বা লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারে না। 

 

সারাবিশ্ব যখন আক্রান্ত করনায় এবং বাংলাদেশেও যখন আস্তে আস্তে আক্রান্ত হতে শুরু করল তখন সরকার সবকিছু বন্ধ করে দিতে শুরু করল। ২৬-৩-২০২০ থেকে সরকার লকডাউন ঘোষণা  করে।  লকডাউনে আর্থিক সংকটে পড়ে যায় মধ্যবিত্ত পরিবার গুল। উপার্জন বন্ধ হয় যায় মধ্যবিত্ত পরিবার গুলর। দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার কারণে বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।  হাজার -হাজার  মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী চাকরি হারিয়ে বেকারে পরিণত হয়। নেমে আসে মধ্যবিত্ত পরিবার অন্ধকার ছায়া। থমকে যায় মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এই শহরের বেঁচে থাকা কঠিন হয় ওঠে তাদের জন্য। মাস শেষের বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়ার জন্য কড়া নাড়ে ভাড়াটিয়ার দরজায়।  মুদি দোকানদার চাপ দিতে থাকে টাকার জন্য।  এইভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখী হতে হয় মধ্যবিত্ত পরিবার গুলর। স্বপ্ন ভেঙে তছনছ হয়ে যায় এই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ গুলর। পরিবার কষ্ট সন্তানরা বুঝতে পারে অনুভব করতে পারে, তারপরও বাইরে লোককে লজ্জায় কিছু বলতে পারে না। বলে আমরা ভাল আছি। 

 

কিছুদিন পর সরকারের নির্দেশনা অললাইনে ক্লাস চালু হয়। তখন মধ্যবিত্ত সন্তানের জন্য বড় ধরণে ধাক্কা শিকার হয় । ক্লাস করা জন্য ভাল মোবাইল সেট ও নেট প্রয়োজন হয়। যেখানে মধ্যবিত্ত দুইবেলা ভালা খাবার খেতে হিমশিম পরিণত হয় সেখানে আবার কিভাবে অললাইন ক্লাস চালিয়ে নিবে। পড়তে হয় নানা ধরনের না বলতে পারা  সমস্যায়। তারপর বাবার -মা কে মিথ্যা কথা বলে সমস্যা নাই অললাইন ক্লাস চালিয়ে নিবে। যখন ক্লাস শুরু হয়  তখন বন্ধুকে ও সহপাঠী কে মিথ্যে বলে বন্ধু নেটে প্রব্লেম দিয়েছ। স্যার কি পড়ায় আমাকে মেসেজ করে দিস। এতো সমস্যা ও কষ্টের মাঝে কাউকে কিছু বুঝতে দেয় না তারা, কিভাবে চলছে তাদের জীবন।  এভাবে প্রতিদিন বিভিন্ন সমস্যার শিকার হয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবার গুল।

 

মধ্যবিত্ত পরিবারের শহরের জন্মানো আর সপ্ন দেখানো ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। সত্যিকারের ভাল থাকুক প্রতিটা মধ্যবিত্ত পরিবার। 

 

রিপোর্টঃ ফারজানা রহমান (সাদিয়া) 

বয়সঃ ২০

কলেজঃওমর গণি এম.এস.কলেজ।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন