ইনসাইড বাংলাদেশ

বাংলাদেশে যত জঙ্গি সংগঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬:১১ পিএম, ২১ অগাস্ট, ২০১৯


Thumbnail

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময় ঘাঁটি গেড়েছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। এদেশে জঙ্গি বা উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সংখ্যাটা জানলে অবাক হবেন যে কেউ। আইন শৃংখলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫০টি উগ্রবাদ ও জঙ্গি সংশ্লিষ্ট সংগঠন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এরমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মাত্র সাতটিকে।

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও গোয়েন্দা রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে ২০টি সংগঠন বর্তমানে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে। বাকিগুলো সদস্যের অভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় আছে। তবে যে ৭টি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেগুলোর কর্মকাণ্ড পুরো বন্ধ হয়নি। বরং নিষিদ্ধগুলোই বেশি সক্রিয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় ত্রাস সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠনগুলো নিয়েই এই প্রতিবেদন।

জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)

বাংলাদেশে জঙ্গি সংঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ১৯৯৮ সালে শায়খ আবদুর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দেশ্য বাংলাদেশে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই ছিল এর শীর্ষস্থানীয় নেতা। ২০০১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার একটা সিনেমা হল ও সার্কাস প্যান্ডেলে বোমা হামলা চালিয়ে আত্মপ্রকাশ করে জেএমবি। ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাজশাহীতে কথিত চরমপন্থীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে দেশের ৬৩ জেলায় আদালত, জেলা প্রশাসন কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনে একযোগে প্রায় ৫০০ বোমা ফাটায়। ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জেএমবিকে নিষিদ্ধ করে সরকার। ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ‘মানুষের বিচার করতে পারে একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লা’ এই বক্তব্য দিয়ে দুই বিচারককে আত্মঘাতী হামলায় হত্যা করে জেএমবি। ২০০৭ সালের ৩ মার্চ শায়খ আবদুর রহমান, দ্বিতীয় নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ ৬ জঙ্গির ফাঁসি হয়।

২০১৩ সালের ২০ জুন এই সংগঠনের ১০ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-৪। প্রধান নেতাদের ফাঁসির পর জেএমবি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তারা তাদের অস্তিত্বের জানান দেয় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে ছিনতাই ও এক পুলিশকে হত্যার মধ্য দিয়ে। এদিন তারা ত্রিশাল ও ভালুকার মাঝামাঝি সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানের গতি রোধ করে এ ঘটনা ঘটায়।

হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশকেই (হুজি-বি)

হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশকেই (হুজি-বি) বলা হয় দেশের `ফার্স্ট জেনারেশন` জঙ্গি সংগঠন। এদেশের মাদ্রাসাগুলো থেকে তারা সদস্য সংগ্রহ করতো। চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের পাহারী এলাকায় তাদের প্রশিক্ষন কার্যক্রম পরিচালনা হতো। ১৯৯৯ সালে সাহিত্যিক শামসুর রহমানকে হত্যার চেষ্টা করে হুজি। ২০০১ সালে সংগঠনটি রমনা বটমূলে বর্ষবরণ উৎসবে বোমা হামলা চালায়। এতে আত্মঘাতি হামলাকারী সহ মোট দশ জন নিহত হয়। ২০০৪ এর ২১ আগস্ট এই সংগঠনটিই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালায়।

হিজবুত তাহরীর

বাংলাদেশে ২০০১ সাল হতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দলটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৯ সালের অক্টোবরে স্বরাষ্ষ্ট্র মন্ত্রণালয় দলটিকে নিষিদ্ধ করে। হিজবুত তাহরীর সন্ত্রাসকে লালন এবং উৎসাহিত করে। সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াতে প্রচারণা চালায়। বাংলাদেশের মতো বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বেশ কিছু আরব দেশ, রাশিয়া ও তুরস্কেও এটি নিষিদ্ধ। হিজবুর তাহরীরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ কম পাওয়া যায়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো উগ্রবাদে তরুণদের আকৃষ্ট করা।

শাহাদত-ই-আল হিকমা

২০০২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শাহাদাত-ই আল হিকমা নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন কাওসার হুসাইন সিদ্দিকী। ওই সংবাদ সম্মেলনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ’ উল্লেখ করে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ মহানগরীজুড়ে রাষ্ট্রবিরোধী পোস্টার ছড়িয়ে দেয় এই সঙ্গঠনটি। পরবর্তীতে শাহাদাত-ই আল-হিকমাকে জঙ্গি সংগঠন আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। ২০১৭ সালে সংগঠনটির প্রধান কাওসারকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে শাহাদাত-ই আল-হিকমার বিষয়ে আর কিছু জানা যায় নি।

আনসারুল্লাহ বাংলা টিম

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ছড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে শিক্ষিত মেধাবী তরুণদের সদস্য হিসেবে দলে টানার দিকেই বেশি মনোযোগী তারা।   

এছাড়াও বাংলাদেশে যেসব দল জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদী আদর্শ ধারণ করে এবং তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সেগুলো হলো আল্লাহর দল, ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, তামীরউদ্দীন বাংলাদেশ, তৌহিদী ট্রাস্ট, হিজবুত তাওহিদ, শাহাদত-ই-নবুয়ত ও জামাত-আস-সাদাত, জামিউতুল ফালাহ, ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, মিয়ানমার লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা ইনডিপেন্ডেন্স পার্টি, রোহিঙ্গা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট, মুসলিম মিল্লাত, আল হারাত-আল-ইসলামিয়া, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফ্রন্ট, তৌহিদী জনতা, জুমা`আতুল আল সাদাত, তামিরউদ্দীন দ্বীন বাংলাদেশ, আল খিদমত, হিজবুল মাহদি, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, দাওয়াতি কাফেলা, বাংলাদেশ এন্টি টেররিস্ট পার্টি, আল মারকাজুল আল ইসলামী, আল ইসলাম মার্টেনস ব্রিগেড, সত্যবাদ, মুসলিম মিল্লাত, শরিয়া কাউন্সিল, জমিয়ত আহলে হাদিস আন্দোলন, আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশ, তাজির বাংলাদেশ, হায়াতুর ইলাহা, ফোরকান মুভমেন্ট, জামিউতুল এহজিয়া এরতাজ, আনজুমানে তালামিজ ইসলামিয়া, কলেমার জামাত, সাহাবা পরিষদ, কাতেল বাহিনী, মুজাহিদিন-ই-তাজিম, এশার বাহিনী, আল ফাহাদ, হরকাতুল মুজাহিদিন ও জাদিদ আল কায়দা।

বাংলা ইনসাইডার



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

তারেককে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করব: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১০:৪৯ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে এবার সরকার আনুষ্ঠানিক আবেদন করবে। আর সেই প্রক্রিয়া সরকারের তরফ থেকে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন একটাই কাজ তারেককে দেশে ফেরত আনা। ১০ ট্রাক অস্ত্রমামলা, গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক। তাকে দেশে ফেরত পাঠোনোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।’

রোববার (২৬ মে) গণভবনে কোটালীপাড়া উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলররা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন একটিই কাজ, ওই কুলাঙ্গারটাকে ফেরত নিয়ে আসা। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি, গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। সে (তারেক জিয়া) যেখানেই থাকুক, আমরা তাকে নিয়ে আসব। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি, ওই সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক জিয়াকে যেন ফেরত দেয়। আমরা তাকে নিয়ে এসে সাজা কার্যকর করব। 

শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ ও অগ্নিসন্ত্রাসীদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ওই কুলাঙ্গারটার সাজা কার্যকর করতে পারলে এ দেশের মানুষ ওই জঙ্গিবাদ-অগ্নিসন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্তি পাবে। তারা ২০১৩, ১৪ ও ২০২৩ সালে যে অগ্নিসন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও করেছে, তা থেকে মানুষ মুক্তি পাবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি, যারা বিদেশে পলাতক, তাদেরও ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করা এবং দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি ও দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখাই আমার লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা সেভাবে কাজ করছি।

নিজ নির্বাচনি এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাদের জবাব দিতে হবে। সেই দায়িত্বটাও নিতে হবে আমার নির্বাচনি এলাকা কোটালীপাড়া টুঙ্গিপাড়ার মানুষকে। যে যেখানে আছে, এটি সবার কাছে প্রচার করতে হবে। এটি খুবই দরকার। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি আমাকে সাহায্য না করতেন, তাহলে আমি এত কাজ করতে পারতাম না। আমি নিশ্চিত, আমার এলাকা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই, আপনারা আছেন বলেই আমি দেশের জন্য কাজ করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

উপকূল অতিক্রম করছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’

প্রকাশ: ০৯:৫৪ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপকূল অতিক্রম করেছে। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এর আগে বিকেল থেকেই রেমালের অগ্রভাগ উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করে।

রোববার (২৬ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রধান ড. শামীম হাসান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। পুরোপুরি অতিক্রম হতে রাত ৯ থেকে ১০টা বাজতে পারে। এরপর এর পেছনের অংশ অতিক্রম করবে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তীব্র বাতাস, জলোচ্ছ্বাস, ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী ও অতিভারী বৃষ্টি এবং বন্যা পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিকেলের দিকে এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩ কিলোমিটার। উপকূল অতিক্রম শুরুর পর থেকে এর গতিবেগ বেড়েছে। এখন রিমালের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৭ কিলোমিটার। এটি পুরোপুরি অতিক্রম করতে মধ্যরাত পার হতে পারে বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা বহাল রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রবন্দর এবং নদী বন্দর থেকে সবধরনের লঞ্চসহ নৌযান চলাচলও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

উপকূল   ঘূর্ণিঝড়   রেমাল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বেনজীর আহমেদ: বেটার লেট দ্যান নেভার

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের আরও কিছু সম্পত্তি আদালত জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী এবং তিন সন্তান এর আরও ১১৯টি স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার জন্য আদালত এক সম্পূরক আদেশ দিয়েছেন। এর ফলে বেনজীর আহমেদের মোট দুইশ’র বেশি সম্পদ জব্দ করা হল।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের এই সাঁড়াশি অভিযানের ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন যে, বেনজীর আহমেদ এই সমস্ত বিপুল সম্পত্তি করেছিলেন, যখন তিনি র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বা পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সেই সময়। সেই সময় তিনি বেপরোয়া এবং লাগামহীন দুর্নীতি করেছেন।

কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে চাইছেন যে, সেই সময়ে তার এ সমস্ত দুর্নীতি অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত হল না কেন এবং তখনই সরকার ব্যবস্থা নিল না কেন? তবে এর বিপরীতে অনেকে মনে করছেন যে, বেনজীর আহমেদ যখন পুলিশ প্রধান ছিলেন তখন তিনি অত্যন্ত ক্ষমতাশীল ছিলেন। এই সময়ে গণমাধ্যম তার দুর্নীতির ব্যাপারে কোন সংবাদ প্রকাশের মতো সাহস সঞ্চয় করতে পারেনি। কারণ বেনজীর আহমেদ একজন বেপরোয়া পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং ক্ষমতার দাপট দেখাতেন।  সেই সময়ের বাস্তবতা হল যে, তার দুর্নীতিগুলো আলোর মুখ দেখা অসম্ভব ছিল।

তবে অনেকে মনে করেন যে, সেই সময় হয়তো সংবাদপত্র তার দুর্নীতির রিপোর্টগুলো প্রকাশ করতে পারেনি। কিন্তু সরকারের তো অজানা থাকার কথা না যে বেনজীর আহমেদ কী করছেন। তাহলে সরকার কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি? তবে সরকারের সূত্রগুলো বলছে, যখন প্রথম কালের কণ্ঠে বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি এবং অনিয়ম সম্পর্কে রিপোর্টগুলো প্রকাশিত হয়েছে, তখন অনেকের কাছেই তাকে অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্পের মতো মনে হয়েছে। তারা কেউ বিশ্বাসই করতে পারেননি যে, একজন ব্যক্তির পক্ষে এরকম বিপুল পরিমাণ সম্পদ আত্মসাৎ করা সম্ভব। এত বিপুল দুর্নীতি সরকারের একটি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদে থেকে করা সম্ভব না।

যখনই বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে তখন এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা তদন্ত করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধানে যখন দেখেছেন যে, কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বাস্তব ভিত্তি রয়েছে, তখনই সরকার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। দেরিতে হলেও এই ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টিকে অধিকাংশ মানুষ স্বাগত জানাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ মনে করেন, বেটার লেট দ্যান নেভার।

অতীতে দেখা গেছে যে, এই ধরনের ঘটনাগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে এ ধরনের বেশ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে কোহিনূর কেলেঙ্কারির কথা সকলে জানেন। আজকে বেনজীর আহমেদের যে সম্পদের কথা বলা হচ্ছে, পুলিশের একজন মধ্যমানের কর্মকর্তা বিএনপি-জামাত জোট আমলে আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সম্পদ বানিয়েছিলেন। কিংবা তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর প্রতিমন্ত্রী থেকে যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন তা অবিশ্বাস্য এবং রূপকথাকেও হার মানায়। এক সময় এনএসআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর বিপুল সম্পদের হিসাব এখন পর্যন্ত মেলানো যায়নি। কিন্তু এই সমস্ত সম্পদের হিসাবগুলো কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তারা অবসরে যাওয়ার পরেও তাদের সম্পর্কে কেউ উচ্চবাচ্য করতে পারেনি এবং সরকারের মধ্যে তাদেরকে ময়দায় মুক্তি দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

এখন বিষয়টি তেমন নয়। যে মুহূর্তে বেনজীর আহমেদের এই স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং বিপুল বিত্তের তথ্য পাওয়া গেছে, তখনই সরকার তার বিরুদ্ধে নির্মোহ এবং নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত করছে এবং ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর এ কারণেই এ বিষয়টি ইতিবাচক। বেনজীর আহমেদের এই ঘটনা সকলের জন্য একটি শিক্ষা। যারা প্রশাসন বা বিভিন্ন জায়গায় উচ্চ পদে আছেন, দুর্নীতি করলে ভবিষ্যতে যে তাদেরকে বেনজীরের মতো পরিণতি বরণ করতে হবে-, সেই বার্তাটি সুশাসন এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য, সর্বোপরি দুর্নীতিমুক্ত সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরী।


দুদক   দুর্নীতি দমন কমিশন   বেনজীর আহমেদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বিটিআরসির কর্মকর্তাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ: ০৮:২৭ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

প্রায় ২০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বিটিআরসির উপপরিচালক মো. হাসিবুল কবির এবং আইজিডব্লিউ অপারেটর বেসটেক টেলিকমের চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

রোববার (২৬ মে) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- বেসটেক টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো তরিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েত কবির ও বিটিআরসির উপপরিচালক (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) মো. হাসিবুল কবির।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বেসটেক টেলিকম লিমিটেড সেবা রপ্তানির জন্য বিটিআরসি থেকে আইজিডব্লিউ লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল বা সেবা রপ্তানি বাবদ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলে ফরেন কারেন্সি/এফসি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানকালে আইজিডব্লিউ অপারেটর বেসটেক টেলিকমের মাধ্যমে ২০১৩ সলের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৯ মাসে ১০১ কোটি ৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৫০ কল মিনিট এসেছে। ওই সেবার মূল্য বাবদ প্রতি কল মিনিট ০.০৩০ মার্কিন ডলার হিসাবে ৩ কোটি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৫৯৪ মার্কিন ডলার বা ২৩৪ কোটি ৭২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়া কথা। এ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের গুলশান শাখার প্রাপ্ত রেকর্ড থেকে দেখা যায় মাত্র ৪৬ লাখ ৮ হাজার ৪৬১ মার্কিন ডলার বা ৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৯ টাকা জমা হিয়েছে। বাকি ২ কোটি ৫৭ লাখ ১১ হাজার ১৩৪ মার্কিন ডলার দেশে আসেনি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৯ টাকা। ওই সময়ে ওই প্রতিষ্ঠঅনের চেয়ারম্যান ও এমডি ছিলেন মো. তরিকুল ইসলাম এবং এনায়েত কবির। তারা রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যমান মানিলন্ডারিং আইন লঙ্ঘন করে পাচার কিংবা মানিলন্ডারিং অপরাধ করেছেন।

যে কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা বা সম্পত্তি পাচার করে মানিলন্ডারিংজনিত অপরাধ করায় কিংবা বাংলাদেশে আনয়ন যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে না এনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) (৩) ধারায় বেসটেক টেলিকমের ওই দুই কর্মকর্তা ও বিটিআরসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসিবুল কবিরকে আসামি মামলা দায়ের করেছে দুদক।


বিটিআরসি   দুদক   মামলা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বিমান ও বিএফডিসিতে নতুন এমডি

প্রকাশ: ০৮:১৩ পিএম, ২৬ মে, ২০২৪


Thumbnail

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

রোববার (২৬ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম ভূঞা। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিলীপ কুমার বনিককে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে।

একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব শাহানা সারমিনকে জাতীয় মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহমুদ আলীকে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক করা হয়েছে। 


বিএফডিসি   বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড   প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন