এডিটর’স মাইন্ড


আওয়ামী লীগের ‘কুইনাইন’ সারাবে কে?

কথা সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি অসামান্য গ্রন্থ ‘দেশে-বিদেশে’। বলা হয়ে থাকে বাংলা সাহিত্যে এটি প্রথম সার্থক ভ্রমণ কাহিনী। ‘দেশে-বিদেশে’ গ্রন্থে একটি উক্তি অমরত্ব পেয়েছে। এখনও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এই উক্তিটি বহুল চর্চিত। উক্তিটি হলো-‘কুইনাইন জ্বর সারাবে বটে, কিন্তু কুইনাইন সারাবে কে?’ ম্যালেরিয়া জ্বর নিরাময়ে কুইনাইন বেশ কার্যকর দাওয়াই। কিন্তু কুইনাইনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া শরীরকে দুর্বল করে, মুখের স্বাদ নষ্ট করে দেয়। কুইনাইন খেয়ে জ্বর সারলেও তা নতুন এক অসুস্থতা এবং অস্বস্তি তৈরী করে। এই উক্তিটির সঙ্গে এখন আওয়ামী লীগের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। দলকে বিভক্ত করে আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী কৌশল নিয়েছিল, সেটি এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সমস্যা।

আরো পড়ুন...
নানা চাপে ড. রাজ্জাক

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক গত মেয়াদে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ক্ষমতাবান ব্যক্তি। একদিকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অন্যদিকে তিনি কৃষিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে আগে নানা বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। এ বার তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। প্রেসিডিয়ামেও তিনি কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। রাজনীতিতেও তিনি নানা রকম চাপের মধ্যে রয়েছেন। সব কিছু মিলিয়ে ড. আব্দুর রাজ্জাক এখন রাজনীতিতে একটি সংকটের সময় কাটাচ্ছেন।

আরো পড়ুন...
বাংলাদেশে কূটনৈতিক কৌশলে ভারতের কাছে হেরে গেল চীন

টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতা গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। চতুর্থবার সরকার গঠন করার পর আওয়ামী লীগের বন্ধুর অভাব নেই। আন্তর্জাতিক মহলেও দলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিযোগিতা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে জাপান, রাশিয়া থেকে শুরু করে ইউক্রেন সকলেই এখন বাংলাদেশের বন্ধু হতে চায়। এর একটি বড় কারণ হলো ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নতি।

আরো পড়ুন...
যুক্তিহীন চুক্তিতে অচল প্রশাসন

বাংলাদেশ এখন কারা চালাচ্ছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই হয়তো নানা ধরনের মত দেবেন। কেউ বলবেন, এটা আবার কোন ধরনের প্রশ্ন? আওয়ামী লীগই দেশ চালাচ্ছে গত ১৫ বছর ধরে। সামনের পাঁচ বছর আওয়ামী লীগই দেশ চালাবে। আওয়ামীবিরোধী গোষ্ঠীরা বলবে, বিদেশি প্রভুরা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখেছে। আসলে দেশ চালাচ্ছে তারাই। ক্ষমতাহীন রাজনীতিবিদরা বলবেন, দেশ চালাচ্ছেন আমলারা। তাদের হাতেই সব কলকাঠি। মন্ত্রী, এমপিরাই সব অলংকার। আর আমলারা বলবেন, দেশ চালাচ্ছেন চুক্তিতে থাকা এক ডজন আমলা। একটা সিন্ডিকেট। প্রশাসনের সব শীর্ষ পদ এই চুক্তিভিত্তিক আমলারা দখল করেছেন, তারাই দেশ চালান এখন।

আরো পড়ুন...
সোনারগাঁও হোটেলে জামায়াতের ইফতার পার্টি হয় কীভাবে?

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কাওরান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল সরকারি মালিকানাধীন একটি হোটেল, যে হোটেলটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত এবং প্যান প্যাসিফিক হোটেলস এন্ড রিসোর্ট এটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। এই হোটেলের যে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে, সেই পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন। যিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব। এছাড়াও এই পরিচালনা পরিষদে আছেন এনবিআর-এর চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিবসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তারা। অর্থাৎ সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং সরকারের মালিকানাধীন এই হোটেলটি।

আরো পড়ুন...

রাজনীতিতে আবার তৃতীয় ধারার আওয়াজ

আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে রাজনীতিতে একটি তৃতীয় শক্তি উত্থানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছে পশ্চিমা দেশগুলো এবং বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একাংশ। বিভিন্ন সময় থেমে থেমে এই প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনের আগে আগে এই ধরনের উদ্যোগ বেশি লক্ষ্য করা যায়।

আরো পড়ুন...
ইন্ডিয়া আউট, পাকিস্তান ইন

‘ইন্ডিয়া আউট’ কর্মসূচী প্রথম শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে মালদ্বীপে। মালের সাবেক মেয়র এবং তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা মোহাম্মদ মুইজ্জু এই কর্মসূচীর প্রবক্তা। মুইজ্জুর ‘ভারত বিরোধীতা’ তার মালদ্বীপের প্রতি ভালবাসা থেকে উৎসারিত নয়। দেশপ্রেম থেকেও মুইজ্জু এরকম ঘোষণা দেননি। এর পেছনে ছিলো ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল। মূলত চীনের পৃষ্ঠপোষকতায় মোহাম্মদ মুইজ্জু ‘ইন্ডিয়া আউট’ কর্মসূচী বাজারজাত করেছেন। নির্বাচনে তার জয়ের পিছনে ছিলো সরাসরি চীনের পৃষ্ঠপোষকতা। মালদ্বীপে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে চীন এবং ভারতের লড়াই বেশ পুরনো। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভারত এবং চীনের হস্তক্ষেপে কোন রাখ ঢাক ছিলো না। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রান অফ নির্বাচনে (কোন প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণকে রান অফ বলা হয়) মালদ্বীপের ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেসের মোহাম্মদ মুইজ্জু।

আরো পড়ুন...
এবার কি ব্যারিস্টার খোকনও বিদায় নেবেন বিএনপি থেকে?

বিএনপির জনপ্রিয় নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন। শুধু তিনি নন, তার সঙ্গে আরও কয়েকজন এবারের নির্বাচনে চমক দেখিয়ে আওয়ামীপন্থী প্যানেলকে ধরাশায়ী করে সুপ্রিম কোর্টে জায়গা করে নিয়েছেন।

আরো পড়ুন...
আবার লাইমলাইটে আমু

আমির হোসেন আমু আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে অন্যতম। আওয়ামী লীগের অন্য সব প্রবীণ নেতারা এখন নিজেদের গুটিয়ে নিলেও এখনও আমির হোসেন আমু স্ব অবস্থানে আছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি আবারও লাইমলাইটে আসছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আরো পড়ুন...
‘ধোঁকা’ ধাক্কায় গর্তে বিএনপি

বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনকে যখন স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল, তখন কে জানত তার বিএনএম কাহিনি। কে জানত তিনি বিএনপি ছেড়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে অভিযুক্ত হতে যাচ্ছিলেন। সাকিব আল হাসানের মতো ক্রিকেট তারকাকেও তিনি বিএনএমে ভিড়িয়েছিলেন। এখন মেজর (অব.) হাফিজ অনেক কিছুই বলতে পারেন। কিন্তু সবকিছুর পরও একটি কথা সত্যি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে (বিএনএম) তার যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া হয়েছিল। এই প্রক্রিয়া বহু দূরে এগিয়েছিল।

আরো পড়ুন...
আওয়ামী লীগে সুবিধাবাদীদের ভীড় এবং সাকিব

আওয়ামী লীগ তার প্রতিষ্ঠার পর এখন সবচেয়ে সুসময় কাটাচ্ছে। টানা ১৫ বছরের বেশী সময় ক্ষমতায়। বাঁধাহীন ভাবে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। মাঠে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করার মতো কোন রাজনৈতিক শক্তি নেই। সংসদেও আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ। কোথাও আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কেউ নেই। আওয়ামী লীগের কোন চাপ নেই, নেই উৎকণ্ঠা। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দলটি আরো নির্ভার। কিন্তু এই সুসময়ে আওয়ামী লীগের দিকে তাকালে একটু ভয়ও হয়। এই আওয়ামী লীগ কি সেই আওয়ামী লীগ?

আরো পড়ুন...
আওয়ামী লীগের অনাহূতরা

আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সাথী তারা। ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। কঠিন সময়ে লড়াকু ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলন সংগ্রামে তাদের কখনও পিছপা হতে দেখা যায়নি। আদর্শের প্রশ্নে তারা কখনও আপস করেননি। কিন্তু তারপরেও আওয়ামী লীগে অনাহূত। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তারা জায়গা পান না, এমপি হতে পারেন না। মন্ত্রিসভা তো অনেক দূরের কথা। অথচ তাদের চেয়ে কম উজ্জ্বল নেতারা এখন মন্ত্রী হয়েছেন, এমপি হয়েছেন। দলে এবং সরকারে প্রভাবশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাদের কি অপরাধ কেউ জানে না। অথচ কর্মীদের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। আওয়ামী লীগের পরিচয় নিয়েই তারা থাকতে চান এবং আওয়ামী লীগের পরিচয় নিয়ে তারা গর্ববোধ করেন। হৃদয়ে ক্ষোভ হতাশা থাকলেও মুখে তাদের হাসি থাকে। তারা তাদের দুঃখ হতাশার কথা কাউকে বলেন না।

আরো পড়ুন...
ড. ইউনূস জেলে যাবেন কবে?

ড. ইউনূসের মামলা এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত নিয়ে এখন আলোচনা চলছে নানা পর্যায়ে। এই সমস্ত আলোচনার মোদ্দা কথা যেটা বেরিয়ে আসছে সেটা হল শেষ পর্যন্ত হয়তো ড. ইউনূসকে জেলে যেতেই হবে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ড. ইউনূস জেলে যাবেন কবে?

আরো পড়ুন...
মন্ত্রী নন-এমপি নন, তবু তারা ক্ষমতাবান

টানা ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। ১৬ বছরে পা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগ। টানা ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্ষমতার কেন্দ্রে একটা ভারসাম্য লক্ষ্য করা যায়। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদেরকে বিভিন্ন সময় পরিবর্তন করে একেক মেয়াদে একেক জনকে মন্ত্রী করেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন করে নেতাদের যেমন যোগ্যতা পরিমাপ করেন, ঠিক তেমনি তাদেরকে ক্ষমতাবান করেন।

আরো পড়ুন...
ইফতার পার্টির রাজনীতি

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল। দুটির অবস্থান দুই মেরুতে। আওয়ামী লীগ যা বলবে এবং করবে তার উল্টো বলা এবং করাটাই বিএনপির রাজনীতি। একইভাবে যে কোনো বিষয়ে বিএনপির অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান গ্রহণই আওয়ামী লীগের ‘পবিত্র দায়িত্ব’। সবক্ষেত্রেই তারা এরকম পরস্পরবিরোধী অবস্থানে। কোনো বিষয়ই এ দুটি দল একমত নয়। এমনকি মৌলিক ইস্যুতেও তাদের অবস্থান দুই মেরুতে। এবার ইফতার নিয়েও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পরস্পর বিপরীত অবস্থান চোখে পড়ল।

আরো পড়ুন...
মাহবুব উদ্দিন খোকনের নীরব উত্থান

বিএনপির রাজনীতিতে একটা অস্থির সময় চলছে। দলের সিনিয়র নেতারা একে একে অসুস্থ, রাজনীতি থেকে ক্রমশ নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। মাঝের সারির নেতাদের মধ্যে হতাশা, নেতৃত্বের কোন্দল, একে অন্যের প্রতি অবিশ্বাস, নেতৃত্বের জন্য কেউ কাউকে যোগ্য ভাবছেন না, ঠিক এরকম সময় দলের মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক হতাশা দানা বেঁধে উঠেছে। আর এরকম একটি হতাশগ্রস্ত ক্রান্তিকালে বিএনপিতে উত্থান ঘটছে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের।

আরো পড়ুন...
বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনা, তারপর কে?

১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এলেই একটা প্রশ্ন আমাকে তাড়িত করে, শেখ হাসিনা যদি রাজনীতিতে অসামান্য সাফল্য অর্জন না করতেন, তাহলে বঙ্গবন্ধু কি এভাবে ফিরে আসতেন? যেভাবে এখন জাতির পিতাকে স্মরণ করা হয়, সেভাবেই স্মরণ করা হতো?

আরো পড়ুন...