ক্লাব ইনসাইড

বই একটি সমৃদ্ধ জাতি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে - রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য

প্রকাশ: ০৪:০৭ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

গত রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত তিনদিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম।

 

উপজেলা পরিষদের স্বাধীনতা সোপানে (মুক্তমঞ্চ) অনুষ্ঠিত এই বই মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ও পাবনা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য  বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ্যাড. শামসুল হক টুকু। সভাপতিত্ব করেন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলপনা ইয়াসমিন।

 

বইমেলার উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে শাহাদতবরণকারী সকল শহীদ, ১৯৫২'র ভাষা আন্দোলনে সকল শহীদ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মবলিদানকারী সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

 

উপাচার্য বলেন, ‘আমরা শোককে শক্তিতে পরিণত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত অর্থনীতির স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে তৈরি করবো।

 

বই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বই একটি সমৃদ্ধ জাতি এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে। বই আমাদের অনেক পুরোনো অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত করে এবং পুরোনো একজন ব্যক্তির যে উপলব্ধি সেটিকে জানবার সুযোগ করে দেয়। বই সম্পর্কে নানা মানুষের নানা উপলব্ধি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’।

 

তিনি বলেছেন ‘বই অতীত এবং বর্তমানের সেতু বন্ধন রচনা করতে পারে"। সুতরাং বইকে সঙ্গে করে আমরা একটি জাতি এবং একটি সুদীর্ঘ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নির্মাণ করতে পারি। বই হচ্ছে শত সহস্র বছরের ব্যক্তিবর্গ, বিজ্ঞানী, শিল্পী ও সাহিত্যিকের যে গচ্ছিত উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা সেই অভিজ্ঞতাকে দুই মলাটের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা। বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক দেকার্তের মতে, "ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা’।

 

উপাচার্য আরও বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা যখনই একটি নতুন এলাকা দখল করতো তখন তারা প্রথমেই সেই অঞ্চলের লাইব্রেরিকে ধ্বংস করে দিতো। কারণ, তারা জানতো যে লাইব্রেরির মধ্যেই থাকে বহু মানুষের ভাষার উপলব্ধি এবং এই বইয়ের মধ্যেই উচ্চারিত হয়েছে সকল মুক্তিকামী মানুষের মুক্তি সংগ্রামের প্রেরণা। বইয়ের মধ্যে থাকে একজন লেখকের শিল্পঋদ্ধ এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির বয়ান, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। বইয়ের মধ্যে একটি জাতির আত্মপরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যশক্তির যে গুপ্তসঞ্চয় রয়েছে, তা সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের জন্য সবসময় ভীতিপ্রদ ছিল’।

 

 

এসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটি পড়তে সবাইকে পরামর্শ দেন উপাচার্য। তিনি আরও বলেন, আপনি বইটি পড়লে আপনার ভেতরে আস্তে আস্তে দেশপ্রেমের উপলব্ধি তৈরি হবে।

 

এছাড়াও তিনি তরুণ প্রজন্মকে বই পড়ার প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির জন্য গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা ও ব্যবস্থাপনা এবং গ্রন্থ মুদ্রণ ও প্রকাশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, পৌরসভার মেয়রসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।


রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়   উপাচার্য  


মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

ইবিতে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন


Thumbnail

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট ও বই বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২৫ মে) দুপুরে খালেদা জিয়া হলে এই ক্যাম্পেইন করে ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদনকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল।

এ সময় খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট এবং যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে গঠিত অভিযোগ কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আরা সাথী, কমিটির সদস্য সচিব এবং উপ-রেজিস্টার (প্রশাসন) আলমগীর হোসেনসহ হলের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায়সই যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটিকে জানালে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কারও সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে নির্ভয়ে অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে গঠিত অভিযোগ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী বলেন, ইবির যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে গঠিত অভিযোগ কমিটি ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত। ক্যাম্পাসে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এগুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনা সৃষ্টিতে এই প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ছাত্রীরা তাদের নিজেদের অধিকার এবং ঘটনাগুলোর বিষয়ে সচেতন হতে পারে। কেউ এ ধরণের ঘটনার সম্মুখীন হলে আমাদের জানালে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ইবি   যৌন নিপীড়ন   ক্যাম্পেইন  


মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

বাঙলা কলেজে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রকল্যাণের কমিটি

প্রকাশ: ০৫:১০ পিএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজে আগামী এক বছরের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্র কল্যাণের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের আসাদুল ইসলাম নিরবকে। এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে।

গত ১৭ মে সংগঠনটির উপদেষ্টাদের স্বাক্ষরে এ কমিটি গঠন করা হয়। 

কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি আসাদুল ইসলাম নিরব বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করবো। তাদের রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করবো। আমাদের সংগঠনের স্বাস্থ্যবান সকল শিক্ষার্থী রক্তদান করবে জরুরি মুহুর্তে। যারা আর্থিকভাবে দুর্বল তাদের পাশে দাঁড়াবো। ভর্তি ফি বা পরীক্ষার ফি দিতে না পারলে তাদের যথাসাধ্য সাহায্য করবো।’


কমিটির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ থেকে বাঙলা কলেজে পড়ালেখা করতে আসা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের এ সংগঠন। সকলের কল্যাণে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করব। গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সকল বিপদে আপদে আমরা পাশে থাকবো।’

উল্লেখ্য, সরকারি বাঙলা কলেজস্থ রাজশাহী বিভাগীয় ছাত্রকল্যাণ পরিষদের আওতায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। 


বাঙলা কলেজ   সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্র কল্যাণ  


মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

জবির নতুন ক্যাম্পাসের অনিয়ম তদন্তে উচ্চতর কমিটি গঠন

প্রকাশ: ০৩:৪০ পিএম, ২৫ মে, ২০২৪


Thumbnail

গণমাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) নতুন ক্যাম্পাসের নানা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর তা তদন্তে উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

আজ শনিবার (২৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. শওকত জাহাঙ্গীরকে আহবায়ক ও উপ-প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) মো. আমিরুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। 

 

কমিটির সদস্যরা হলেন, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ-উল-আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনিরা জাহান সুমি, ইউজিসি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোশারফ হোসেন। 

এর আগে নানা জাতীয় গণমাধ্যমে জবির নতুন ক্যাম্পাসের ৫ তলা বিশিষ্ট প্রকৌশলী ও প্লানিং ভবনের পাইলিং ৪০ ভাগ কম দেয়া, ভবনের পাইল ভেঙ্গে পুকুরের ঘাটে ঢালাই দেয়াসহ ঠিকাদার ওমর ফারুক রুমির সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারীর স্বজনপ্রীতি ও যোগসাজশের বিষয়টি উঠে আসে। এছাড়া নতুন ক্যাম্পাস ঘিরে একটি টেন্ডার চক্র গড়ে উঠেছে বলেও জানা যায়।


জবি   নতুন ক্যাম্পাস   তদন্ত কমিটি  


মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

ইবি ক্যাম্পাসে জুয়ার আসর, আটক ৪ বহিরাগত


Thumbnail

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে জুয়ার আসর থেকে চার বহিরাগতকে আটক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর প্রভাষক ইয়ামিন মাসুম ও নাসির মিয়ার উপস্থিতিতে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে তাঁরা আর এমন কাজে লিপ্ত না হওয়ার মর্মে অঙ্গীকার করিয়ে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২১ মে) সন্ধ্যায় ক্রিকেট মাঠের পশ্চিম পাশে এই ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন, শৌলকুপার পদমদী গ্রামের নজরুল শাহের ছেলে আশিকুর রহমান, উকিল উদ্দিনের ছেলে তানজিল ও মোকাদ্দেসের ছেলে সাগর হোসেন। এছাড়াও অন্যজন হলেন শেখপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে রাকিব হোসেন।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইয়ামিন মাসুম বলেন, ‘প্রক্টর স্যার গোপন সংবাদ পেয়ে আমাদেরকে ঘটনাস্থলে পাঠান। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে সতর্ক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমি তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করা সহকারী প্রক্টরদের জানায়। এছাড়া তাদেরকে প্রয়োজনে পুলিশেরও সহযোগিতা নিতে বলি। পরে তাঁরা গিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে আটক করে। পরে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি৷’


ইবি   জুয়া   বহিরাগত  


মন্তব্য করুন


ক্লাব ইনসাইড

ইবিতে র‌্যাগিং কাণ্ড: তদন্তে সত্যতা মিললেও ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি


Thumbnail

তিনমাস আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হলে এক নবীন ছাত্রকে বিবস্ত্র করে র‌্যাগিং ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে হল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি করা হয়।

তদন্তে ঘটনার সত্যতা পায় কমিটি। গত এপ্রিলে কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তারা। একইসঙ্গে শাস্তির সুপারিশও করা হয়। তবে প্রতিবেদন জমা দেয়ার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ঘটনা ধামাচাপা দিতে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে ঢিলেমি করছে বলে অভিযোগ সচেতন শিক্ষার্থীদের।

সূত্র মতে, চলতি বছরের ৭ই ফেব্রুয়ারি লালন শাহ হলের গণরুমে (১৩৬ নম্বর কক্ষে) নবীন ছাত্রকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠে। ভুক্তভোগী আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওইদিন রাত সাড়ে ১২ টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় তার উপর নির্যাতন চালানো হয় এবং ভয় দেখিয়ে বার বার বেড-পত্র বাইরে ফেলে দেয়া হয় বলে জানায় ভুক্তভোগী। নির্যাতনের সময় উলঙ্গ করে বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা, বারংবার রড দিয়ে আঘাত, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নাকে খত দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করে সে।

ঘটনা প্রকাশ্যে এলে ১৩ই ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষ। পরে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী থাকলে মৌখিক বা লিখিতভাবে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য পৃথকভাবে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় তদন্ত কমিটি। বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দাতার নাম ও পরিচয় শতভাগ গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়। পরে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনে তদন্ত কমিটি।

সব তথ্য যাচাই বাছাই শেষে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ও ২২শে এপ্রিল হল কর্তৃপক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তের প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানায় সূত্র। ফলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল। দ্রুত বিষয়টির সুরাহা করার দাবি তাদের। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় গুরুতর অভিযুক্ত হিসেবে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের মুদাচ্ছির খান কাফী ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মোহাম্মদ সাগরের নাম উঠে আসে। এছাড়া ইতিহাস বিভাগের উজ্জ্বল হোসেনের কম সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জানা যায়। তারা সবাই ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী।

এই বিষয়ে প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, গত ঈদের ছুটির আগেই আমরা ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিয়েছি। সিদ্ধান্তের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ নানাবিধ ব্যস্ততায় বিষয়টা একটু পিছিয়ে গেছে। তবে হয়তো খুব দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, এখনও ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির সভা ডাকা হবে। সেখানে তদন্ত রিপোর্টের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


র‌্যাগিং   তদন্তে গড়িমসি   ইবি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন