ইনসাইড বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

প্রকাশ: ০৩:৩০ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত।

চলমান বৈশ্বিক সংঘাত, আর্থিক-জ্বালানি-খাদ্যসংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে গুতেরেস এ কথা বলেন। 

গুতেরেস জানান, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে সারের কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা বাংলাদেশ সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির কথা বিবেচনা করতে পারে। এ বিষয়ে আব্দুল মোমেন ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন’ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে সার ও শস্য আমদানির মাধ্যমে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় সহায়তা করে।

জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগানোর কথা বিবেচনা করবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়নের গতিধারার প্রশংসা করেন গুতেরেস। বাংলাদেশ আগামী বছরগুলোতে বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে শীর্ষ সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শান্তি নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের ধারাবাহিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন গুতেরেস।

বৈঠকে সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার বিষয়ে গৃহীত প্রস্তাবের (রেজল্যুশন) পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সংকটসহ তার সম্ভাব্য উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন গুতেরেস ও আব্দুল মোমেন। তাঁরা এই সংকট সমাধানে আসিয়ানের কার্যকর নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মহাসচিব ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। জোর করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাঁদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি সাবা কোরেসি, সংস্থার ডিপার্টমেন্ট অব পিসবিল্ডিং অ্যান্ড পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের (ডিপিপিএ) আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো ও পিস অপারেশন বিভাগের আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁপিয়েরে ল্যাক্রুয়া সঙ্গে বৈঠক করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষভাবে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘ সভাপতির সঙ্গে ‘সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন’ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগে মন্ত্রিপর্যায়ের একটি নতুন ফোরাম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।

উদ্যোগটির জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অসাধারণ নেতৃত্ব, কার্যকর সম্পৃক্ততা ও উল্লেখযোগ্য অবদানের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) চেয়ারম্যান থাকাকালে ২০২২ সালে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন ডিপিপিএর আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো।

জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল বৈঠকে ভবিষ্যতে সংস্থার শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে যৌথ উদ্যোগে শান্তিরক্ষী মোতায়েনে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে স্বাগত জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন, তাঁর বিভাগ এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে, যাতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে অন্যান্য দেশ উপকৃত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনে বাংলাদেশের অব্যাহত প্রতিশ্রুতিসহ প্রয়োজনে আরও শান্তিরক্ষী ও সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ঢাকার প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকগুলোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।


বাংলাদেশ   জাতিসংঘ   সমর্থন   পুনর্ব্যক্ত   পররাষ্ট্রমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার টোল প্লাজায় আগুন

প্রকাশ: ১০:১৭ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় আগুন দেয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।

বুধবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, যাত্রাবাড়ীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। এ সময় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় আগুন দেয়া হয়।
 
এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে টোল প্লাজা বন্ধ থাকায় হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার   টোল প্লাজা   আগুন   ফায়ার সার্ভিস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কোটা সংস্কার: সমঝোতার পথ কি বন্ধ হয়ে গেল?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সরকার এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সেই ভাষণে তিনি শিক্ষার্থীদের আদালতের রায় পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি ১৬ জুলাই যারা নাশকতা তাণ্ডব করেছে, সেই সমস্ত ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। 

সরকারের অবস্থানের তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সমঝোতা বা আলাপ আলোচনার কোনও বার্তাও দেননি প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের পরপরই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা আগামীকাল সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। যদিও এই কর্মসূচির অবয়ব এবং প্রকৃতি এখন পর্যন্ত ব্যাখ্যা করা হয়নি। তবে বোঝাই যাচ্ছে যে সরকার এবং শিক্ষার্থীরা অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছে। কিন্তু সুধীজন মনে করছেন যে এখনও কোটা সংস্কার নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণ সম্ভব। সরকার এবং কোটা সংস্কারের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নতি করা সম্ভব বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন। আর এজন্য সরকারকে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। 

আওয়ামী লীগের ভেতর অনেক নেতা আছেন যারা এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধহস্ত। অতীতে তারা দায়িত্বশীলতার সাথে বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। শিক্ষা আন্দোলনের ক্ষেত্রেও অতীতে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন, আলাপ আলোচনা করেছেন এবং একটি সমঝোতার পথে এসেছেন। এবারও আওয়ামী লীগ তেমন একটি উদ্যোগ নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরও সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বলেই মনে করেন বিভিন্ন মহল। তারা মনে করছেন যে, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। কারণ এই পরিস্থিতি আস্তে আস্তে খারাপের দিকে যাচ্ছে। 

গতকালকের ঘটনার পর আজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হবে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এবং শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার পর আজকে বড় ধরনের সংঘাত ঘটবে না বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। একটি ইতিবাচক দিক হল যে ছাত্রলীগকে আজ দেখা যায়নি। এর ফলে সরকারের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা শিক্ষার্থী আছে তারাও আলোচনাকে নাকচ করে দেবে এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং এই মুহূর্তে যদি সরকার আলোচনার প্রস্তাব দেয় এবং সেটি যদি তারা নাকচ করে দেয় তাহলে জনমত তাদের বিপক্ষে চলে যাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে যে ঘটনাপ্রবাহগুলো ঘটছে তার নেপথ্যে যারাই জড়িত থাকুক না কেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি জনগণের একটা সহানুভুতি তৈরি হচ্ছে। আর এ কারণেই সরকারের দ্রুত রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা উচিত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা আছেন যারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং তাদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের একটি পথ বের করতে পারেন। অত্যন্ত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যে সহিংস পরিস্থিতি সারা দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে তা বন্ধ হতে পারে। সকলকে ধৈয্যের পরিচয় দিতে হবে এবং অনড় অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। নাহলে এই সংঘাত সামনের দিনগুলোতে খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


কোটা সংস্কার   সমঝোতা   আওয়ামী লীগ   কমপ্লিট শাটডাউন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯:৫৬ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা আন্দোলন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনে বৈঠক করছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে এ বৈঠক শুরু হয়।

এর আগে এদিন দুপুরে সরকারের নির্দেশনা মেনে সিন্ডিকেট সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার ঘোষণা দেয় ঢাবি প্রশাসন।

এদিকে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরপর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা এবং নিহতদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলেও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওইসব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা বাতিল করা হলো।

এ পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। এর প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন ২০১৮ সালের জারিকৃত পরিপত্রটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর থেকেই সারা দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুঁসে ওঠেন। কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে নানা স্থানে বিক্ষোভ করেন কোটাবিরোধীরা। ঢাবি ছাড়াও বিক্ষোভ হয় জাবি, জবি, রাবি, সাত কলেজসহ দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন কলেজে।

কোটা আন্দোলন   কমপ্লিট শাটডাউন   শিক্ষামন্ত্রী   ঢাবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জবিতে ‌‘ছাত্রলীগ প্রবেশ নিষিদ্ধ’ ঘোষণা

প্রকাশ: ০৯:৪৫ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে (জবি) ‘ছাত্রলীগ প্রবেশ নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। 

বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ সংক্রান্ত নোটিশ লিখে প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসের সব ভবনে ঝুলিয়ে দেন। একইসঙ্গে, ‘ফাঁসির মঞ্চে ঝুলছে কে? গণতন্ত্র’, ‘পনেরোর হায়না’ লেখা পোস্টারও সেখানে দেখা গেছে।

এসময় নোটিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কয়টি ফটক ও ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে ঝুলিয়ে দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা।

এর আগে, বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধসহ ৬ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়   জবি   ছাত্রলীগ   কোটা আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আবার এক দফা আন্দোলন: নেপথ্যে কারা?

প্রকাশ: ০৮:৩০ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো। গত বছরের শেষ দিকে তারা এক দফা আন্দোলন শুরু করেছিল, সেই আন্দোলন নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিএনপি-জামায়াত সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তারা শুধু কোটা আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছে না। তারা সরকার পতনের আন্দোলনকে এর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর এই আন্দোলনে মৌন সম্মতি দিচ্ছে গত বছর যে সমস্ত পশ্চিমা দেশগুলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আওয়াজ তুলেছিল তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কোটা আন্দোলন নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু হয়েছে। গতকাল সারাদেশে কোটা আন্দোলন নিয়ে এক ধরণের বিস্ফোরণ ঘটে। আর এই বিস্ফোরণের জেরে ছয় জন মারা যায়। সরকারের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে যে, এই কোটা আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি এবং জামায়াত যুক্ত হয়েছে। যার ফলে কোটা আন্দোলনকারীদের আন্দোলনটি এখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে নেই। এটি একটি রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, বিএনপি এবং জামায়াত পরিকল্পিত ভাবে কোটা আন্দোলনকে বিকশিত হতে দিয়েছে যেন এটি রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেয় এবং সেই লক্ষ্যে ধীরে ধীরে তারা সংগঠিত হয়েছে। এখন সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। আর এখান থেকে সুযোগ নিতে চায় বিএনপি। আর সেকারণেই গতকাল বিএনপির নেতাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন কোটা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি ভাবে যুক্ত হয়। 

ছাত্রদল গতকালই সংবাদ সম্মেলন করে কোটা আন্দোলনের সঙ্গে নিজের একাত্মতা ঘোষণা করেছে। আজ তারা গায়েবানা জানাজা করার চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে ছাত্রশিবির পর এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য হচ্ছে না। কিন্তু কোটা আন্দোলনের আসল কলকাঠি তাদের হাতেই- এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনভাবে কোটা আন্দোলন এখানেই শেষ না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করার প্রেক্ষাপটে এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়ার ফলে এখন একটা নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই নতুন পরিস্থিতিতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আজ ছাত্রদল, ছাত্র শিবির ছাড়াও বিএনপি এবং অন্যান্য নির্বাচন বিরোধী সংগঠনগুলোকে মাঠে দেখা গেছে। আগামীকাল তারা আরও সংঘবদ্ধভাবে মাঠে নামবে বলে জানা গেছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই কোটা আন্দোলনের ব্যাপারে রহস্যময় ভূমিকা পালন করছে। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে দুইজনের মৃত্যুর খবর বলা হয়েছিল৷ অথচ সেই সময় পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলনে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্পষ্টতই এই আন্দোলনের পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। তাছাড়া সুশীল সমাজের একটি অংশ এই আন্দোলনকে উস্কানি দিচ্ছে। অর্থাৎ গত বছরের শেষদিকে যারা যারা নির্বাচন বানচাল করে সরকার পতনের নীল নকশার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল তারাই এখন নতুন করে একট্টা হচ্ছে এবং আবার নতুন করে এক দফা আন্দোলন শুরু করার পাঁয়তারা করছে।

উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এক দফা আন্দোলন শুরু করেছিল। সেই এক দফার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন এবং সহানুভূতি দৃশ্যমান হয়েছিল। একই সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনকে ইন্ধন যুগাচ্ছিল। এবার প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। এবার মূল বিষয় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার এবং এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে তার ওপর করে বিএনপি-জামায়াত এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্ট করছে। সামনের দিনগুলোতে কেটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সারাদেশে সরকার পতনের আন্দোলন নতুন করে দৃশ্যমান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ রকম বাস্তবতায় সরকার কিভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে সেটি দেখার বিষয়। 

কোটা আন্দোলন   বিএনপি   জামায়াত   শিবির   সহিংস   রাজনৈতিক আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন