ইনসাইড বাংলাদেশ

মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত বেড়ে ১৯

প্রকাশ: ০১:১০ পিএম, ১৯ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভাঙ্গা-মাওয়া-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

রোববার (১৯ মার্চ) সকাল সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার কুতুবপুর এলাকায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের বাস খাদে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার বিষয়ে মাদারীপুর রিজিওনের ডিআইজি সালমা বেগম জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বাসটির ওভার স্পিডের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত গতির কারণে প্রথমে বাসটির ডান পাশের চাকা ফেটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে এক্সপ্রেসওয়ের ১০০ মিটার উঁচু থেকে উড়ে এসে নিচের সার্ভিস লেনের ব্রিজে সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে এখন পর্যন্ত নারীসহ ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। এদিকে, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত করবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাঈম মো. মোফাজ্জেল হক। তিনি বলেন, রোববার (১৯ মার্চ) সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ১৪ জন নিহত হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৫ জন মারা যান। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি। 


সড়ক-দুর্ঘটনা   মৃত্যু   মাদারীপুর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আশরাফ উদ্দিন

প্রকাশ: ০৯:১৪ এএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর মোঃ আশরাফ উদ্দিন খানকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ মে) এ বিষয়ে পৃথক আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উভয়ের আদেশ আগামী ৩০ মে কার্যকর হবে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়   সচিব   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আজ নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস

প্রকাশ: ০৮:৫০ এএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ‘হাসপাতালে সন্তান প্রসব করান, মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচান।

নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য, মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালিত হয়ে আসছে। গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তীকালে সব নারীর জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই হলো নিরাপদ মাতৃত্ব।

১৯৯৮ সাল থেকে দেশব্যাপী নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন শুরু হয়। এরপর থেকে নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য, মাতৃমৃত্যু হার কমানো ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৮ মে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে এ বিষয়ে অনুমোদন দিলে পরের বছর থেকে দেশব্যাপী দিবসটি পালন শুরু হয়। পরে ২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ উদ্যোগ টেকসই উন্নয়নের অন্তর্ভুক্ত করে।


নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

তৃতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ১০৬ জন

প্রকাশ: ০৮:৪৯ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে প্রার্থীদের আয় ও সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তাতে জানা গেছে, এ ধাপে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯০ জন কোটিপতি প্রার্থী। পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ১১। সঙ্গে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন কোটিপতি। সব মিলিয়ে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন ১০৬ জন কোটিপতি।

সোমবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি বলেছে, প্রার্থীদের হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের যে হিসাব দেয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে কোটিপতির হিসাব করা হয়েছে। ভূমির মতো স্থাবর সম্পদের মূল্য নির্ধারণ কঠিন হওয়ায়, তা কোটিপতির হিসাবে আনা হয়নি।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৃতীয় ধাপে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ৬৬ দশমিক ৫৩ শতাংশই নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন কৃষিকাজ। পেশার ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন আইন পেশা (৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ) ও শিক্ষকতা (৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ)।

একইভাবে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদেরও ৬৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ গৃহিণী। গৃহস্থালির কাজকে তারা পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের প্রায় ৩২ শতাংশ পেশায় ব্যবসায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় আসছেন কি না এবং মুনাফা করার উদ্দেশ্যে আসছেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। তথ্য বলছে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতায় থাকলে অনেকের আয় ও সম্পদ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ফলে জনস্বার্থের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে না।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আগামী (২৯ মে) বুধবার দেশের ৯০ উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হবে। যদিও দ্বিতীয় ধাপে ১১২টি উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় সব পদে একক প্রার্থী থাকায় ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না। দুটি উপজেলায় ভোট আগে স্থগিত করা হয়। আর ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে ১৯টি উপজেলায় ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। ২১ মে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রায় ৭১ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ছিলেন ১০৫ জন।

উপজেলা নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আবার সর্বহারা বিরোধী অভিযান শুরু করবে সরকার

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলাগুলো স্বাধীনতার পর পর সর্বহারার দখলে চলে যায়। পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি সহ বিভিন্ন ধরনের উগ্র বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে আস্তানা গাড়ে। তাদের সন্ত্রাস এবং সহিংসতায় জনজীবন অস্থির হয়ে ওঠে।

পূর্বাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা এলাকায় পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির ব্যাপক বিস্তৃত ছিল আলোচিত। এসময় সিরাজ সিকদার সহ বিভিন্ন বিপদগামী সর্বহারারা একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করেছিল। এই ধারা অব্যাহত থাকে পঁচাত্তরের পরবর্তীতে। সেই সময় সর্বহারাদেরকে বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলো জিয়াউর রহমান। 

তরিকুল ইসলাম, মসিউর রহমানের মতো সন্ত্রাসী সর্বহারা রাতারাতি বিএনপির রাজনীতিতে দীক্ষিত হন। আর এরপর থেকেই এই অঞ্চলগুলোতে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। দিনের বেলা বিএনপির রাজনীতি, রাতের বেলা সর্বহারার নামে চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, মানুষ হত্যাই ছিল তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলের চিত্র। এই অবস্থার পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি পূর্ব বাংলার এই তথাকথিত বাম বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। সর্বহারাদের বিরুদ্ধে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। সেই সাঁড়াশি অভিযানে সর্বহারা সন্ত্রাসীদের সমস্ত নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অনেকেই আত্মসমর্পণ করেন। অনেকে জেলে যান। অনেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। এরপর আস্তে আস্তে সর্বহারা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই সময় সর্বহারাদের দাপট কমে গেলেও সর্বহারাদের একটি বড় অংশ বিএনপিতে যোগ দেয়। তরিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন সর্বহারারা প্রাক্তন সর্বহারা নেতারা বিএনপির হর্তা কর্তা বলে যান। এখন সেই অবস্থা পাল্টে যাচ্ছে। 

আনার হত্যার পর উন্মোচিত হয়েছে যে পূর্ববাংলায় সর্বহারা পার্টি নামে এই সমস্ত সন্ত্রাসীরা এখন বিএনপিতে নয়, বরং আওয়ামী লীগে ভিড় করেছে। এই সমস্ত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা যাদের চাঁদাবাজি, মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অপকর্মের নেটওয়ার্ক হিসেবে এই অঞ্চলগুলোকে ব্যবহার করে এবং এটি বাংলাদেশে মাদক চোরাচালানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও এই অঞ্চলগুলোতে অস্ত্র চোরাচালান, স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে রাজনীতিবিদরা।দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে এই সমস্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী বিএনপির প্রতি আর আগ্রহী হয়ে উঠছেন না। বিশেষ করে তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর পরে এই অঞ্চলে সর্বহারাদের নিয়ে বিএনপির নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়ে। এখন এখানে গডফাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার এবং তার সাথে আরও কিছু ব্যক্তি। এখন আনার হত্যাকাণ্ডের পর এই সর্বহারা নেটওয়ার্কের অনেক তথ্যই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আসছে। তারা কীভাবে সন্ত্রাস এবং চোরাচালান কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে জড়াচ্ছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব সূত্রগুলো বলছে, আনারের হত্যাকাণ্ডের পর আবার নতুন করে সর্বহারা বিরোধী অভিযান শুরু করবে সরকার।



সর্বহারা   চরমপন্থী   আনোয়ারুল আজীম আনার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কোন সরকার যা পারেনি, শেখ হাসিনার সরকার তা করে দেখাল

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৭ মে, ২০২৪


Thumbnail

আশরাফুল হুদার কথা মনে আছে কিংবা রকিবুল হুদা অথবা কোহিনুর মিয়া। এরা পুলিশের একেকজন দুর্নীতিবাজ, জাঁদরেল কর্মকর্তা ছিলেন। বিভিন্ন সরকারের সময়ে এরা ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। সরকারের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিলেন। এদের দুর্নীতি এবং অপকর্মের দীর্ঘ ফিরিস্তি বলে শেষ করা যাবে না। 

সাবেক আইজি হিসেবে আশরাফুল হুদা একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলার অন্যতম নাটের গুরু ছিলেন। গ্রেনেড হামলায় তিনি সমস্ত পরিকল্পনা ঠিকঠাক করে দিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সেটি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে নির্মোহ তদন্তের মাধ্যমে আশরাফুল হুদাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। 

রকিবুল হুদার কথা নিশ্চয়ই অনেকেরই মনে থাকবে। এই রকিবুল হুদা চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি করেছিলেন। যুবলীগের নেতারা মানববর্ম রচনা করে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে সেদিন শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়েছিলেন। সেই রকিবুল হুদার দুর্নীতির ফিরিস্তিও রূপকথার গল্পকে হার মানাবে। আর কোহিনুর মিয়া ছিলেন একজন মধ্য স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা। এই কোহিনুর মিয়ার দুর্নীতি এবং অত্যাচারের কাহিনি লিখে শেষ করা যাবে না। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত কোনদিনই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি।

পঁচাত্তরের পর থেকে যারা বিভিন্ন সময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন, তারা পুলিশকে ব্যবহার করেছেন লাঠিয়াল হিসেবে।জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া প্রত্যেকেই তাই। এবং যে কারণে পুলিশ হয়ে উঠেছিল দুর্বৃত্ত। তারা ছিল আইনের ঊর্ধ্বে, বিচারের ঊর্ধ্বে। ব্যাপক দুর্নীতি, লুণ্ঠন এবং অবৈধ অর্থের মালিক হয়ে যাওয়াটা ছিল পুলিশ প্রশাসনের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। 

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে পুলিশের মধ্যেও কিছু সৎ, দায়িত্ববান, নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা সবসময় ছিলেন, আছেন। কিন্তু বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সরকারের লেজুর, চাটুকার এবং এক ধরনের ভাড়াটে মাস্তানের মত পুলিশের দাপট বেড়েছিল পঁচাত্তরের পর থেকে। অনির্বাচিত সরকার গুলো ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, জনগণকে শায়েস্তা করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে। সেই সংস্কৃতি থেকে বর্তমান সরকার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। 

দুর্ভাগ্যজনক হল জিয়াউর রহমান, এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া কেউই পুলিশের দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। শেখ হাসিনার সরকার এবার সাবেক পুলিশ প্রধান দুর্দান্ত ক্ষমতাশালী বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে চোখ খুলে গেলেন। তিনি সবসময় যে বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, দুর্নীতির ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি সেটি আরও আরেকবার প্রমাণিত হল। দুর্নীতি দমন কমিশন এখন পর্যন্ত বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পত্তির দুটি অংশ জব্দ করেছে। যে দুই অংশ জব্দ করা হয়েছে তার পরিমাণ বিপুল।

অতীতে কোন সরকারই ক্ষমতায় থেকে পুলিশের কোনো কর্মকর্তার গায়ে আঁচড় দিতে পারেনি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। কিন্তু শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে নির্মোহ ভাবে দুঃশাসন দমন করছেন। শুধু মাত্র যে বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে এমনটি নয়, বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতিবাজ বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, জেলে যেতে হয়েছে। যিনি আইন লঙ্ঘন করেছেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কার্পণ্য করেনি শেখ হাসিনার সরকার।

আমরা কক্সাবাজারের ওসি প্রদীপের কথা জানি। আমরা ডিআইজি মিজানের কথা জানি। এ রকম অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়, যেখানে পুলিশ দুর্নীতি করে বা অপরাধ করে পাড় পাননি। আগে পুলিশ কর্মকর্তাদের যে দায়মুক্তি দেওয়া সংস্কৃতি ছিল সেই সংস্কৃতি ভাঙছেন শেখ হাসিনাই। অন্যরা যা পারেননি, শেখ হাসিনা তা করে দেখাচ্ছেন।

দুর্নীতি   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন