ইনসাইড বাংলাদেশ

৫০ বছরে প্রায় ১৩৫ লাখ কোটি টাকা পাচার

প্রকাশ: ১০:৪২ এএম, ২৬ মে, ২০২৩


Thumbnail

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত বলেছেন, গত ৫০ বছরে দেশ থেকে কালো টাকা ও অর্থ পাচার হয়েছে প্রায় ১৩৫ লাখ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মাত্র ৭ শতাংশও যদি উদ্ধার করা যায়, তাহলে অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবিত ২১ লাখ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট বাস্তবায়নের যে ঘাটতি, তা অনেকখানি পূরণ হবে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ২০ লাখ ৯৪ হাজার ১১২ কোটি টাকার বিকল্প বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। তাদের এই বাজেটের পরিমাণ অর্থমন্ত্রী যে বাজেট দিতে যাচ্ছেন তার তুলনায় ২ দশমিক ৭ গুণ বেশি। আগামী ১ জুন অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কার্যালয়ে এই বিকল্প প্রস্তাব দেন সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৩-২৪: বৈষম্য নিরসনে জনগণতান্ত্রিক বাজেট শীর্ষক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম।

আগামী ১০ বছরে ছয়টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। সেগুলো হচ্ছে ৭০-৮০ শতাংশ মানুষকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত করা, বৈষম্য সর্বনিম্ন শ্রেণিতে নামিয়ে আনা, ধনিক শ্রেণির সম্পদ দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বণ্টন, উন্নয়নে দেশজ অর্থনীতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব, মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক ও আলোকিত করার সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, লাগামহীন কর্মবাজার সংকোচন, মহামারি ও ইউরোপ যুদ্ধের অভিঘাত—এসব বিষয় মাথায় রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

অধ্যাপক বারকাত বলেন, বিকল্প বাজেটে কালো টাকাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত ৫০ বছরে কালো টাকার পরিমাণ মোট ১৩২ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যার মাত্র ২ শতাংশ সরকারকে উদ্ধারের প্রস্তাব করেছি। এটা যদি উদ্ধার করা সম্ভব হয়, তাহলে সরকার ২ লাখ ৬৫ হাজার ৭০ কোটি টাকা পাবে। অন্যদিকে অর্থ পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের মোট পরিমাণ ১১ লাখ ৯২ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেটে বলা হয়েছে, ওই অর্থের মাত্র ৫ শতাংশ যদি উদ্ধার করা যায় তাহলে সরকার ৫৯ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা পাবে। দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ উদ্ধারের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান উৎস হতে পারে কালো টাকা ও অর্থ পাচারের ওই খাত।

তিনি বলেন, বিকল্প বাজেটের হিসাবে রাজস্ব আয় থেকে আসবে ১৯ লাখ ২৯ হাজার ১১২ কোটি টাকা, যা চলমান অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ দশমিক ৪২ গুণ বেশি। অর্থাৎ মোট বাজেটের ৯৩ দশমিক ২ শতাংশের জোগান দেয় রাজস্ব। বাকি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ তথা ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি হবে ঘাটতি বাজেট।

এ বিষয়ে অধ্যাপক বারকাত বলেন, এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের মধ্যে আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর অর্থাৎ আয়কর প্রস্তাব ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। দেশে কোটি টাকার বেশি আয়কর দেন ১০০ জনের মতো। আমাদের গবেষণা বলছে, এই সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার মানুষ কোটি টাকার ওপরে কর দেওয়ার কথা। আর সম্পদ কর নেওয়া হয় না। এই খাতে ২ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা আসা সম্ভব। ভ্যাট খাতে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান সরকারের বাজেটের মতোই। এই খাতে হাত দেয়নি, কারণ ভ্যাট বৈষম্য হ্রাসে কোনো সহায়তা করে।

অন্যদিকে এনবিআরবহির্ভূত কর—যেমন মাদক শুল্ক ১৫২ কোটি টাকা। যেখানে ৩০ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে এবং ভূমি রাজস্ব থেকে আসবে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

বিকল্প বাজেটে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হবে। আর বাজেট ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা বিদেশি অর্থায়ন ও ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পক্ষে নেই। বরং ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র, বন্ড, বিদেশে বসবাসরত নাগরিক ও কোম্পানি থেকে নেওয়ার কথা বলেছি।

অর্থনীতিবিদ বারকাত আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, লাগামহীন কর্মবাজার সংকোচন, মহামারি ও ইউরোপ যুদ্ধের অভিঘাত এসব বিষয় মাথায় রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র। ধনী ও অতি ধনীর সংখ্যা ১ শতাংশ। বহুমাত্রিক দরিদ্রের সংখ্যা কভিডকালীনের চেয়ে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে প্রকৃত মজুরি না বাড়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সঞ্চয় ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। অনেকেই ধার-দেনা করে জীবন চালাচ্ছে, আমিষ জাতীয় খাবার তালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। পূর্ণ কর্মসংস্থান, শিশুর জন্য সুস্থ জীবন, সবার জন্য আবাসন ও মূল্যস্ফীতি রোধ এই বিষয় মাথায় রেখে অর্থনীতি সমিতি বাজেট প্রণয়ন করেছে।

অর্থনীতি সমিতির সভাপতি বলেন, সম্পদ কর থেকে ২ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব। বৈষম্য কমাতে হলে সম্পদ করে হাত দিতে হবে। সম্পদশালীদের ওপর কর কমানো হলে বৈষম্য কমে না। এ ছাড়া সমাজের ৯০ শতাংশ কম আয়ের মানুষের ওপর কর কামালে তাদের কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের সংখ্যা ৯০ শতাংশ, যাদের আমেরিকার ভিসা দরকার নেই। তিনি বলেন, কার ভিসা প্রবলেম, আমরা বুঝতে পারছি না। দেশে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ। এদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দরকার নেই। ভিসা না দিলেও এদের কোনো সমস্যা নেই। বরং এই শ্রেণির মানুষের ভিসা পেলে সমস্যা, তাহলে যাওয়ার জন্য টাকা-পয়সা খুঁজবে। এটা নিয়ে রাজনৈতিক দলের লোকজন চিন্তা করবে।

বিকল্প বাজেট সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও কনফারেন্সে দেশের ৬৪টি জেলা, ১৩৫টি উপজেলা এবং ৪৫টি ইউনিয়ন থেকে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পালিয়ে যাইনি, শনিবার দেশে আসছি: আছাদুজ্জামান মিয়া

প্রকাশ: ১০:২১ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, আমেরিকা পালিয়ে যাননি, হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর গেছেন। ২২ জুন ফিরবেন দেশে ফিরবেন।

বুধবার (১৯ জুন) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি দুই-একটি মিডিয়া খবর প্রকাশ করেছে যে, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরে আমি সস্ত্রীক বিদেশে পালিয়ে এসেছি- যা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য, ডাক্তারের পূর্ব-নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আমি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে এসেছি। চিকিৎসা শেষে আমি আগামী ২২ তারিখে দেশে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।

নিজের নামে বিপুল সম্পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার সকল সম্পদ বৈধ আয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা। বাবার একমাত্র সন্তান হিসাবে পারিবারিকভাবে বেশ কিছু সম্পদও পেয়েছি। সেসবের কিছু বিক্রি করে নতুন করে সম্পদ কেনা হয়েছে। সে সব আয়কর নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। আমার ছেলে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে বড় পদে আছেন এবং ছেলের বউ একটি বিদেশি ব্যাংকে চাকরি করেন। তার মেয়ে এবং জামাতা চিকিৎসক। তাদেরও সম্পদ কেনার যোগ্যতা আছে।

সবশেষে ডিএমপির সাবেক এ কমিশনার বলেন, আমি সম্মানিত মিডিয়াকর্মী ভাইদের কাছে অনুরোধ করব, আমার এবং আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয় এই ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অপপ্রচার থেকে সবাই বিরত থাকবেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আছাদুজ্জামান ও তার পরিবারের বিপুল পরিমাণ সম্পদের খবর প্রকাশ পায়। এরপরই দেশজুড়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঈদুল আজহার ছুটি শেষে তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।

আছাদুজ্জামান মিয়া   দুর্নীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বেনজীরের বিরুদ্ধে জারি হতে পারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীর আহমেদকে গত ৬ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন তলব করেছিল। সরজমিনে তার বক্তব্য এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলোর ব্যাপারে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বেনজীর আহমেদকে। কিন্তু বেনজীর আহমেদ এদিন হাজির হননি। ৮ জুনের আগেই তার আইনজীবীর মাধ্যমে ১৫ দিনের সময় প্রার্থনা করেছিলেন সাবেক পুলিশপ্রধান। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন তাকে আবার ২৩ জুন তলব করেছে। আগামী রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনে হাজির হতেই হবে বেনজীর আহমেদকে। যদিও ঐদিন তিনি হাজিরা দিতে ব্যর্থ হন তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুযায়ী এরপর তারা বেনজীর আহমেদকে হাজির করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করবেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্যও আবেদন করা হবে। 

উল্লেখ্য যে, বেনজীর আহমেদের ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের তথ্যাদি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত দুদককে এই তদন্ত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছিল। তদন্ত করতে চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রাথমিকভাবে পায় এবং এই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালতের কাছে দুই দফায় দুর্নীতি দমন কমিশন বেনজীরের বিপুল সম্পদ ক্রোক করার অনুমতি প্রার্থনা করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেনজীরের বিপুল সম্পদ এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। 

অবশ্য এ সব ঘটনার আগেই বেনজীর আহমেদ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি এখন কোথায় অবস্থান করছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কোন কোন মহল বলছেন, তিনি দুবাই অবস্থান করছেন। কারও কারও মতে, তিনি তুরস্কে অবস্থান করছেন। বেনজীর আহমেদ তার স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন বলেও কোনো কোনো গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে সুনিশ্চিত ভাবে কোন তথ্য কেউ দিতে পারেনি। তবে বিদেশে থেকেও বেনজীর আহমেদ তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ঢাকায় যোগাযোগ করেছেন এবং তার আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি কথা বলছেন। 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, আপাতত বেনজীর আহমেদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, হয়রানির শিকার হতে পারেন- এই কারণেই বেনজীর হয়তো দেশে ফিরবেন না। 

একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদ ইতোমধ্যে তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সেখানকার পাসপোর্ট নিয়ে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। সেটি যদি সত্যি হয় তাহলে বেনজীর আহমেদের আপাতত দেশে ফেরার কোন সম্ভাবনা নেই। আর সে ক্ষেত্রে বেনজীর আহমেদের মামলার আইনি প্রক্রিয়া কী হবে সে সম্পর্কে আইনজীবীরা বলছেন যে, যদি দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে সাড়া না দিয়ে বেনজীর বিদেশে অবস্থান করেন, তাহলে দুদকের আইন খুবই পরিষ্কার। এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রথমে তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য আবেদন করবেন। এরপর তাকে ফেরারি ঘোষণা করা হবে। এই অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে মামলাকে এগিয়ে নেবে। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুযায়ী একজন আসামি যদি অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার অনুপস্থিততে বিচারে আইনগত কোন বাঁধা নেই। সে ক্ষেত্রে বেনজীর আহমেদ পালিয়ে থাকলেও তার বিচার বাঁধাগ্রস্ত হবে না। বরং এক্ষেত্রে বিচার আরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। আর এ কারণেই দুদকের মামলায় পালিয়ে থাকার চেয়ে আত্মসমর্পণ করাই সঠিক বলে অনেকে মনে করেন। তবে বেনজীর আহমেদ কি করবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত সে সমস্ত মনোভাব দেখা যাচ্ছে তাতে আগামী ২৩ জুন তার ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।

বেনজীর আহমেদ   দুর্নীতি দমন কমিশন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের শেষ কোথায়?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও সরকার এখন প্রচ্ছন্ন ভাবে একটি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাঁড়াশি অভিযান জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। এর মধ্যে আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি কেচ্ছা কাহিনী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনিও বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে জানা গেছে, আগামী ২১ জুন তার দেশে ফেরার কথা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কি ধরনের ব্যবস্থা নেয় তা অধীর আগ্রহে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। 

তবে সাধারণ মানুষ মনে করছে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতির যে সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। একজন ক্যাডার কর্মকর্তা শুধুমাত্র দুর্নীতি করার জন্য নন-ক্যাডার সাব রেজিস্ট্রার পদে চাকরি গ্রহণ করেন। এই ধরনের ঘটনাগুলো কেন ঘটছে, কিভাবে ঘটছে তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র সরকার একা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হতে পারবে না বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যখন দুর্নীতি, তখন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই দুর্নীতি বন্ধ হবে কি না তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। 

অবশ্য এর উল্টো পিঠও রয়েছে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যদি শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে সেটি একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থিত হবে। সাধারণ মানুষ মনে করবে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শাস্তি হয়। এমনকি যারা দুর্নীতিবাজ তারা মনে করবেন যে, এখন যত ক্ষমতাবানই থাকি না কেন একদিন না একদিন বিচারের আওতায় আসতে হবে। এটি একটি ইতিবাচক মনোভাব। কিন্তু সমাজের ভেতর যে উৎকট প্রতিযোগিতা এবং যে কোন মূল্যে ধনী হওয়ার মানসিকতা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং সেটি করার জন্য আমাদের মনোজগতের পরিবর্তন দরকার।

গত এক দশকে প্রশাসনের মধ্যে বিশেষ করে যারা সরকারি চাকরিতে আছেন, তাদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা মারাত্মক ভাবে বেড়ে গেছে। প্রশাসনের ছোটখাটো পুঁচকে কর্মকর্তারও যে পরিমাণ সম্পদ এবং বিত্ত বৈভব তৈরি হচ্ছে তা অসহনীয়। বিশেষ করে আমলা এবং পুলিশ প্রশাসনের দুর্নীতির বিভিন্ন কাহিনী মাঝে মাঝে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সমস্যা হল যে যখন একটি দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তখনই তার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। তার আগে এই সমস্ত দুর্নীতিবাজদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেই। উপরন্তু একজন দুর্দান্ত প্রভাবশালী ক্ষমতাবান ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর লিখতে ভয় পান অনেকেই।

বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির অপকীর্তির কথা সকলেই জানত। কিন্তু অবসর গ্রহণে আগে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। এ রকম বহু ব্যক্তি আছেন যারা নির্বিচারে দুর্নীতি করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ লিখতে বা বলতে সাহস পাচ্ছে না। হয়ত আমাদের ভেতর একটা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এ কারণেই। আর এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ বা দুর্নীতিবাজদেরকে শাস্তির আওতায় আনা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ। এর জন্য আমাদের রাষ্ট্র সমাজ কাঠামোতে পরিবর্তন প্রয়োজন। একটা দুর্নীতি মনস্ক সমাজ এবং রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয়েছে আমাদের অলক্ষ্যে। যে কারণে সবাই দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, অনেক ধনী হতে চাইছেন। অনেকে অর্থের নেশায় মত্ত হয়ে উঠছেন। এই মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য দরকার একটি সামাজিক আন্দোলন। আর সেই সামাজিক আন্দোলন কিভাবে গড়ে উঠবে, সেই সামাজিক আন্দোলনকে কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে সেটিই হলো সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়।


দুর্নীতিবিরোধী অভিযান   বেনজীর আহমেদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শুক্রবার দিল্লি সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

প্রকাশ: ০৭:৩৩ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্রবার (২১ জুন) নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিপাক্ষিক এ সফর উপলক্ষে শুক্র ও শনিবার তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। 

বুধবার (১৯ জুন) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফরে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লির ফোরকোর্টে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র সালাম গ্রহণ ও গার্ড অব অনার পরিদর্শন করবেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

একই দিন হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে সেখানে। এরপর সেখানে দুই নেতার প্রেস বিবৃতি আয়োজন করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজ আয়োজনের কথা রয়েছে সেখানে। 

এদিকে সফরের প্রথম দিন শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবাসস্থলে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর। শনিবার বিকেলে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখারের সঙ্গে তার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাত করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে যাবেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি মিজ দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, দুই দিনের এ সফর শেষে ২২ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দিল্লি সফর   ‍শেখ হাসিনা   ভারত   নরেন্দ্র মোদি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সাময়িক বরখাস্ত হলেন মন্ত্রীর বাসার লিফটে মারধরকারী সেই আজিজুল

প্রকাশ: ০৭:১১ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আবদুর রহমানের বাসার লিফটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মলয় কুমার শূরকে মারধর রক্তাক্ত করায় অভিযুক্ত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সেই জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (লিড, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভ) মো. আজিজুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ জুন) সেখানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দরের স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ১২ (১) মোতাবেক ১৯ জুন চাকরি থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি প্রচলিত বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পরীবাগ এলাকার দিগন্ত টাওয়ারে মন্ত্রীর বাসার লিফটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে আজিজুল ইসলাম মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ওঠার পর ‘হামলাকারী’ কর্মকর্তার নতুন পদায়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মলয় কুমার শূর শাহবাগ থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা তথ্যানুযায়ী, প্রশাসনিক বিষয়ে দিকনির্দেশনার জন্য প্রাণিসম্পদমন্ত্রী তাঁর বাসভবন দিগন্ত টাওয়ারে মলয় কুমারকে আসতে বলেছিলেন। ১৩২ জুন রাত সোয়া আটটার সময় মন্ত্রীর বাসায় যান তিনি। কাজ শেষে সোয়া নয়টার দিকে টাওয়ারের লিফটে নিচতলায় নামেন।

এজাহারে বলা হয়, আজিজুল লিফটের সামনে আগে থেকেই ভারী কোনো বস্তু নিয়ে অবস্থান করছিলেন। লিফটের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে মলয় শূরকে ধাক্কা দিয়ে লিফটের ভেতর ফেলে দেন তিনি। হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা ও নাকে আঘাত করে জখম করেন। মলয় চিৎকার করলে নিরাপত্তা প্রহরীরা এগিয়ে আসেন। তখন ভয়ভীতি দেখিয়ে ও জীবননাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান আজিজুল। এরপর মলয়কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর মুখমণ্ডল ফেটে যাওয়ায় সেলাই দিতে হয়েছে এবং স্থায়ী ক্ষত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ ছাড়া বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন