ইনসাইড বাংলাদেশ

ঢাকা-বেইজিং বৈঠক আজ, আলোচনায় থাকছে যেসব বিষয়

প্রকাশ: ০৯:০১ এএম, ২৭ মে, ২০২৩


Thumbnail

পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ও চীন। আজ (শনিবার) ঢাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দুই দেশের সামগ্রিক বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পাবে। এ ক্ষেত্রে কিছু রোহিঙ্গাকে পাইলট প্রকল্পের অধীনে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

ঢাকার পক্ষে এফওসিতে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং বেইজিংয়ের পক্ষে ভাইস মিনিস্টার সান ওয়েইডং নিজ নিজ দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন।

এফওসিতে নেতৃত্ব দিতে চীনের ভাইস মিনিস্টার ওয়েইডং একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে শুক্রবার (২৬ মে) রাতে ঢাকায় পৌঁছায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইস্ট এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক হাসান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

এফওসিতে আলোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় অনেক কিছু আসতে পারে। দ্বিপাক্ষিক সব ইস্যু থাকবে। আঞ্চলিক ইস্যুও আসবে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো কোন অবস্থায় আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দুই দেশের রাজনৈতিক পর্যায়ে সফর বিনিময়ের প্রসঙ্গও আলোচনায় আসবে।

আলোচনায় রোহিঙ্গাদের পাইলট প্রকল্পের অধীনে প্রত্যাবাসনে বিশেষ গুরুত্বের কথা জানান এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে মিয়ানমার ইস্যুতে আলোচনা হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মূল আলোচনা হবে। নির্বাচনের আগে কিছু রোহিঙ্গা পাঠানো দরকার। প্রসেসটা আমরা শুরু করতে চাই।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে হতে যাওয়া সভায় থাকছে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে (জিডিআই) ঢাকার যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গ। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত বিস্তর আলোচনা ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ইস্যু আলোচনায় থাকছেই।

চীনের ভাইস মিনিস্টার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

এছাড়া ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি পদ্মা সেতু দেখতে যাবেন চীনের ভাইস মিনিস্টার এবং তার সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদল।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ব্র্যাকের দেওয়া গরু পেলেন বিদেশ ফেরত কুমিল্লার পাঁচ তরুণী

প্রকাশ: ১০:৫৩ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

ভাগ্য বদলাতে কাজের সন্ধানে কুমিল্লার পাঁচ তরণী গিয়েছিল মধ্য-প্রাচ্যের ভিন্ন ভিন্ন দেশে। ভাগ্য তাদের সহায় হয়নি। লম্বা সময় থাকার সুযোগ পাননি তারা। পাননি তারা কাঙ্খিত কাজ। ফলে তাদের ফেরত আসতে হয় দেশে। এই পাঁচ তরুণীরা হলেন কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ফারজানা, লিমা, ফেরদৌসি, তানিয়া, জোসনা। 

বিদেশ ফেরত তরুণীদের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রত্যাশা-২ প্রজেক্ট। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রত্যাশা প্রজেক্টের অর্থায়ন করেছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন। এই পাঁচ তরুণীকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার পাঁচটি গাভী এবং দুটি ছোট খাসি কিনে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিরশান্নী বাজার থেকে ব্র্যাক প্রত্যাশা প্রজেক্টের সহায়তায় পাঁচ তরণীকে   গাভী গুলো কিনে দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন অফিস কুমিল্লা জেলার ইকোনোমিক রিইন্টিগ্রেশানের   সেক্টর স্পেশালিস্ট  শেখ আব্দুল কাইয়ুম, ব্র্যাঞ্চ অ্যাকাউন্ট অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম, বিদেশ ফিরত পাঁচ তরুণী এবং তাদের অভিভাবক। 

গাভী পেয়ে আপ্লুত হয়ে ফেরদৌসি বলেন, গরুটি পেয়ে আমার অনেক উপকার হলো। এখন থেকে দুধ নিজেরাও খেতে পারবো আবার বাজারেও বিক্রি করতে পারবো। বছর শেষে একটা ষাঁড় বাছুর থাকবে। আমি চেষ্টা করবো এখান থেকে যেন একটি গরুর খামার গড়ে তুলতে পারি।

সৌদি আরব থেকে ফিরত  তানিয়া বলেন নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরত আসতে বাধ্য হয়েছিলাম।  দিনদিন হতাশায় চলে যাচ্ছিলাম। এই সাপোর্ট আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকারে আসলো। চেষ্টা করবো ভাগ্যের যেন বদল হয়।

ব্র্যাক মাইগ্রেশনের প্রত্যাশা -২ প্রজেক্ট শুরু হয় ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে যা চলবে ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত। 

কুমিল্লা   ব্র্যাক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শাহজালাল বিমানবন্দরের ১২ প্লেন বাজেয়াপ্ত

প্রকাশ: ১০:৪৭ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২টি উড়োজাহাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৬ মে) একটি বিজ্ঞপ্তিতে উড়োজাহাজগুলো বাজেয়াপ্ত করার তথ্য জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এখন নিলামের প্রস্তুতি চলছে।

পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮টি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের। রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি, জিএমজি এয়ারলাইন্সের একটি ও অ্যাঞ্চেল এয়ারওয়েজের একটি রয়েছে।

জানা গেছে, এই ১২ উড়োজাহাজ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে। এগুলোর মালিক বেসরকারি কয়েকটি এয়ারলাইন্স। তবে সেই এয়ারলাইন্স ও সংস্থাগুলো এখন তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে তাদের কোনো কার্যক্রমও নেই।

বেবিচক সূত্র জানায়, তারা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও সংস্থাগুলোকে চিঠি দিলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উড়োজাহাজসহ আনুষঙ্গিক গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্টস পার্কিং এরিয়াতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় আনুমানিক ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ স্কয়ার ফুট জায়গা দখল করে রেখেছে। এতে করে দৈনিক বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক আয় ও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বেবিচক। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অব্যবহৃত উড়োজাহাজগুলো অপসারণে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স দেওয়া হয়। চিঠি অনুসারে ৩০ দিনের মধ্যে সংস্থাগুলো উড়োজাহাজ অপসারণ করে বেবিচককে লিখিতভাবে অবহিত করতে ব্যর্থ হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বোয়িং নয়, এয়ারবাস কিনছে বিমান: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির শঙ্কা

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

শেষ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চারটি এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছে। ১৮০ মিলিয়ন ডলার করে প্রতিটি এয়ারবাসের মূল্য পড়বে। ইতোমধ্যে এয়ারবাস কেনার জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে বিমানের বোর্ড। এর ফলে বিমানের বিমান ক্রয় নিয়ে যে আন্তর্জাতিক মেরুকরণ এবং দরকষাকষি তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু ফ্রান্সের তৈরি এয়ারবাস কেনার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। এর ফলে নতুন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও কূটনৈতিক বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। 

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমানকে বোয়িং কেনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল এবং এ নিয়ে মার্কিন দূতাবাস এবং মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বেশ দরকষাকষিও করা হয়েছিল। ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফরের সময়ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে বোয়িং কেনার ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এছাড়াও নির্বাচনের আগে বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেন পিটার হাস। তিনি বাংলাদেশকে বোয়িং কেনার জন্য অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশ বিমানে নতুন করে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি গত এক বছর ধরেই আলোচনার মধ্যে ছিল। এর মধ্যেই সরকার ফ্রান্সের এয়ারবাস কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সেই আগ্রহের অংশ হিসেবে ফ্রান্সের সঙ্গে আলাপ আলোচনা অনেকদূর গড়িয়ে যায়। কিন্তু এই আলোচনার মাঝেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমানে এয়ারবাসের পরিবর্তে বোয়িং দেওয়ার জন্য চেষ্টা তদবির করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমানের বোর্ড সভায় এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নতুন করে টানাপোড়েন হতে পারে বলে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেছে। 

তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এটি যাচাই বাছাই এবং নীরিক্ষার মাধ্যমে করা হয়েছে। কাজেই এই নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হবার কোন কারণ নেই। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিল। দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার পরেও নতুন সরকারের সাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফর করে অতীতের তিক্ততা ভুলে সামনের দিকে এগোনোর বার্তা দিয়েছিলেন। এ রকম একটি পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে বলে অনেকে ধারণা করেছিল। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এক বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর যে নানামুখী চাপ প্রয়োগ করেছিল সেই চাপের কারণে বাংলাদেশের নির্বাচন এবং সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি নিয়ে একটি সংকট তৈরি হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা চ্যুত চায় এমন কথা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছিলেন। কিন্তু তারপরও শেষ পর্যন্ত বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হয়েছে। এবং এই নির্বাচন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

নির্বাচনের পরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই ক্ষেত্রে প্রথম দফায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ল। ইতোমধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সামনের দিনগুলোতে এই বোয়িং বিক্রি না হওয়ার প্রভাব দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে পড়বে কি না সেটি নিয়েও নানামুখী জল্পনা-কল্পনা চলছে।


এয়ারবাস   বিমান   যুক্তরাষ্ট্র   ডোনাল্ড লু  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শীর্ষ পদে থেকে দুর্নীতি: তালিকা তৈরি হচ্ছে

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

সরকার এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে হার্ড লাইনে গেছে। কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আর এ কারণেই শীর্ষ পদে বিভিন্ন সময়ে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে যারা দুর্নীতিবাজ তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বেনজীর আহমেদের এই ঘটনা সারা দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সরকার এই ঘটনায় হতবাক। অনেকেই জানতেন যে, বেনজীর আহমেদ দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা। বিশেষ করে র‌্যাবের মহাপরিচালক হওয়ার পর থেকে তিনি দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। একদা এই মেধাবী কর্মকর্তার বহু অবদান থাকার পরও দুর্নীতির কারণে তিনি পুলিশ প্রধান থাকা অবস্থাতেই তার সহকর্মীদের কাছে সমালোচিত হয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তার ভয়ে মুখ খুলতে পারত না। বিশেষ করে যারাই তার দুর্নীতির ব্যাপারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আপত্তি জানাত, তাদেরকে তিনি কঠোর কঠোর শাস্তি দিতেন, অগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বদলি করতেন।

বেনজীর আহমেদের এই দুর্নীতির ঘটনা একটি দৈনিকে প্রকাশের পর দুর্নীতি দমন কমিশন তা অনুসন্ধান শুরু করে।  অনুসন্ধান করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে, তারা কল্পনাও করতে পারেননি যে, বেনজীর আহমেদের এরকম সীমাহীন দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আছে। আর এ কারণেই ঘটনাটি তাদের চোখ-কান খুলে দিয়েছে। এখন দুর্নীতি দমন কমিশন বিভিন্ন সময়ে যারা শীর্ষ পদ ছিলেন, তাদের দুর্নীতির হদিস করছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব সূত্রগুলো বলছে যে, বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিরা শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হবার পর কত সম্পত্তির মালিক ছিলেন এবং এখন তাদের বিত্ত-বৈভব কেমন, এই বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং তাদের দুর্নীতি সম্বন্ধে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে দুদক একাই নয়, সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, দুর্নীতি দমন কমিশন ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং সরকারি অন্তত দুটি সংস্থাকে এ সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা মূলত দেখবেন যে, চাকরি জীবনের শুরুতে তার কী অবস্থা ছিল, চাকরি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার সম্পদের কী পরিমাণ স্ফীতি হয়েছে এবং অবসর গ্রহণের পর তার সম্পদ কতটুকু বেড়েছে- সেই হিসাবগুলো তারা করবেন।

তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, কাউকে হয়রানি বা আতঙ্কে ফেলার জন্য নয়, যারা দুর্নীতিবাজ হিসেবে সামাজিকভাবে পরিচিত এবং যাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা আছে বা ছিল তাদের ব্যাপারে এই ধরনের তদন্তগুলো করা হবে। এই তদন্তের মাধ্যমে যারা প্রকৃত দুর্নীতিবাজ হিসাবে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হবেন তাদের বিরুদ্ধে বেনজীরের মতোই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, পুলিশ প্রশাসন এবং প্রশাসন ক্যাডারের বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে বিভিন্ন সময়ে মুখরোচক আলোচনা হয় এবং তাদের নানারকম দুর্নীতির কাহিনী প্রায়ই প্রকাশিত হয়। এ সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে এখন দুর্নীতি দমন কমিশন এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো নির্মোহভাবে তদন্ত করবে।


দুদক   দুর্নীতি দমন কমিশন   বেনজীর আহমেদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুদ্ধি অভিযান

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীর আহমেদের ঘটনার পর সারা দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকার নতুন করে দুর্নীতিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। দুর্নীতির ব্যাপারে হার্ড লাইনে গেছে সরকার। আর এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ এক দিনে দুইজনের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলেই অনেকে মনে করছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব গাজী হাফিজুর রহমানের সাথে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। গাজী হাফিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ছিলেন। আগামী পয়লা জুন থেকে তার চুক্তি বাতিল করা হয়েছে মর্মে আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। 

শুধু তাই নয়, একই দিনে আরেক আদেশে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও পয়লা জুন থেকে বাতিল হয়েছে। তুষার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের পিছনে কি কারণ রয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে বিতর্ক মুক্ত করার জন্য এবং কোন রকম অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বেচ্ছাচারীতাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্যই প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। 

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে হাসান জাহিদ তুষারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে তার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিরোধের কারণে। তার সম্পর্কে তার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুতর অভিযোগ করেছেন এবং সেই অভিযোগ গুলোর সততা যাচাই করে প্রমাণ হওয়ার প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

অন্যদিকে গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে এই দুটি শেষ নয় এমনটাই মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে, স্বচ্ছ এবং একটি দুর্নীতি মুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এই শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। 

উল্লেখ্য, আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হচ্ছে। নতুন করে তার চুক্তির নবায়ণ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে বলেও একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছিল এবং দুর্নীতি প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে জানিয়েছিল। আর তার অংশ হিসেবে নির্বাচনের পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের সাবেক প্রধান বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার বিভিন্ন সম্পত্তি জব্দ করা হচ্ছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুদ্ধি অভিযান নতুন করে দুর্নীতিবিরোধী বার্তা দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়   শুদ্ধি অভিযান  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন