ইনসাইড বাংলাদেশ

হাইকোর্টে হারলেন ড. ইউনূস, দিতে হবে ৫০ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৪:৫৭ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীন টেলিকম ট্রাস্টকে ৫০ কোটি টাকা জমা দিয়ে ২০১১ থেকে ১৩ করবর্ষের আয়কর আপিল ফাইল করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ড. ইউনূসের আবেদন খারিজ করে এ রায় দেন। একই সঙ্গে বলেন, আইন অনুযায়ী যেটা দেয়ার সেটাই ড. ইউনূসকে দিতে হবে। এখানে অনুকম্পা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি বেলা ১১টায় আদালতে উপস্থিত হয়ে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন ড. ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের অন্য তিন শীর্ষ কর্মকর্তা।

ওইদিন ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, নিম্ন আদালতের আদেশে এক মাসের জামিন দেয়া হয়েছিল। সেটিও বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন তারা। আগের দিন ২৭ জানুয়ারি তিনি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে ২৫ থেকে ৩০টি পয়েন্টসহ একটি পিটিশন জমা দেবেন তারা।

গত ১ জানুয়ারি ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান শেখ মেরিনা সুলতানা এক মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনুস এবং এর পরিচালক আশরাফুল হাসান, নুরজাহান বেগম ও এম শাহজাহানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাদের চারজনকেই ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ২৫ দিন কারাদণ্ড দেন আদালত। আর রায়ের পরই পৃথক জামিন আবেদন করলে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চারজনকেই জামিন দেন আদালত।

এর আগে গত ১৬ নভেম্বর মামলাটিতে তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপষ্ট। তারও আগে গত বছরের ৬ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হলে রাষ্ট্রপক্ষের চার সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) এসএম আরিফুজ্জামান। নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট আইএফইডি কর্মকর্তারা রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ টেলিকমের অফিস পরিদর্শন করে শ্রম আইনের সঙ্গে কিছু লঙ্ঘন দেখতে পান।

হাইকোর্ট   ড. মুহাম্মদ ইউনূস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রমজানে ২৫টি স্থানে সুলভ মূল্যে পাওয়া যাবে মাংস, দুধ ও ডিম

প্রকাশ: ০৭:৩২ পিএম, ০৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

রমজানে প্রাণিজ পণ্যের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ করে নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা শহরের ২৫টি স্থানে ড্রেসড ব্রয়লার, গরু ও খাসির মাংস, দুধ ও ডিম সাশ্রয়ী মূল্যে বিপণন করা উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সোমবার (৪ মার্চ) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর ফলে এসব পণ্যের বাজারদর সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যে সব স্থানে সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাবে মাংস, দুধ ও ডিম

সচিবালয় সংলগ্ন আব্দুল গণি রোড, খামারবাড়ি, মিরপুর ৬০ ফুট রাস্তা, আজিমপুর মাতৃসদন, পুরান ঢাকার নয়াবাজার, গাবতলী, হাজারীবাগ, আরামবাগ (মতিঝিল), মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটি, মিরপুরের কালশী, যাত্রাবাড়ী, নতুন বাজার,  খিলগাঁও রেলগেইট, নাখালপাড়ার লুকাস মোড়, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুরের বসিলা, উত্তরার দিয়াবাড়ি, বনানীর কড়াইল বস্তি, কামরাঙ্গীরচর, রামপুরা, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর (ঝিলপাড়া), তেজগাঁও, পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার), কাকরাইলে এ কার্যক্রম চালু থাকবে। 

রমজান   মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নিঁখুত ভাবে জেলেদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬:১২ পিএম, ০৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

প্রকৃত জেলেদের খুঁজে বের করে সঠিকভাবে তালিকা প্রস্তুত এবং বিলুপ্ত ও পরিত্যক্ত জলাশয় সংস্কারপূর্বক মাছ চাষের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ আব্দুর রহমান। 

সোমবার (০৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ডিসিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী এ আহবান জানান।  
ডিসিদের উদ্দেশ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পুকুর, পচা, ডোবা, ছোট ছোট খাল, নদী যেগুলো বিলুপ্তির পথে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারপূর্বক মাছ চাষের আওতায় আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। শেখ হাসিনার বাংলাদেশে মাছে ভাতে সকলেই ভালোভাবে বেঁচে থাকবে, কেউ খাবারের অভাবে, পুষ্টির অভাবে মারা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদেরকে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়। এক্ষেত্রে তিনি প্রকৃত জেলে এবং যেসব জেলে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের তালিকা যেন নিঁখুতভাবে প্রস্তুত করা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য ডিসিদের প্রতি আহবান জানান। তিনি কারেন্ট জালসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত অন্যান্য জাল যেগুলো দিয়ে অপ্রাপ্ত বয়সের মাছগুলোকেও ধরে ফেলা হয়, সেসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের বিষয়টি যেকোন উপায়ে প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিসিদের প্রতি আহবান জানান।

তিনি বলেন, মাইকিংসহ অন্যান্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সরকার জাটকা রক্ষায় কেবল আইন প্রয়োগ করছে না বরং এই মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি করেছে।

তিনি জানান, এবছর আগামী  ১১ মার্চ হতে ১৭ মার্চ পর্যন্ত “জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ, ২০২৪” উদ্‌যাপন করা হবে। যার উদ্বোধন অনুষ্ঠান আগামী ১১ মার্চ ইলিশ সমৃদ্ধ অন্যতম জেলা চাঁদপুর-এর সদর উপজেলার মোলহেড প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে । 

অধিবেশন শেষে সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসন্ন রমজান মাসে রাজধানীর ২৫ থেকে ৩০টি স্থানে ট্রাকে করে কম দামে মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রি করা হবে। আাগামী ১০ মার্চ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ট্রাকে করে এ কার্যক্রম চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার তাগিদ আছে। ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ, আপনারা মানুষকে কষ্ট দিয়ে অধিক মুনাফা লাভের চেষ্টা করবেন না। এই কার্যক্রম সারা দেশে চলবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত ঢাকায় ২৫ থেকে ৩০টি স্থানে এটা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সামর্থ্য অনুসারে আরও বেশি জায়গায় প্রসারিত করার চেষ্টা করা হবে। 

ইলিশ সংরক্ষণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জাটকা ধরা থেকে মৎস্যজীবীদের নিবৃত্ত করতে হবে। এটা বন্ধ হলে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি হবে। মাছ উৎপাদন নিয়ে প্রাণিসম্পদে আমরা সন্তোষজনক অবস্থায় আছি। এটার প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা আছে বলে এসময় তিনি মন্তব্য করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী   মোঃ আব্দুর রহমান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে ছাত্রকে গুলি করলেন শিক্ষক

প্রকাশ: ০৬:০৫ পিএম, ০৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। 

সোমবার (৪ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শ্রেণিকক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

আহত তমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম রায়হান শরিফ। তিনি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক রায়হান শরিফ ভাইভা চলাকালীন কোনো কারণ ছাড়াই তমালের ডান পায়ে গুলি করেন। পরে তমালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন শাহরিয়ার বলেন, ‘ভাইভা চলাকালীন ৪৫ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে শিক্ষক রায়হান শরিফ তমালের ডান পায়ে গুলি করেন। ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।’

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, এ ঘটনায় কলেজে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি না জেনে কিছু বলা যাচ্ছে না।

শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে এস আলম চিনি মিলে ভয়াবহ আগুন

প্রকাশ: ০৬:০২ পিএম, ০৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম চিনি মিলের আগুন ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট।

সোমবার (৪ মার্চ) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন ইছানগর এলাকার চিনি মিলটির গোডাউনে আগুন লাগে। আগুন লাগার খবর পেয়ে কর্ণফুলী, আনোয়ারা ফায়ার স্টেশন আগুন নির্বাপণে কাজ করছে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।

চট্টগ্রাম   এস আলম চিনি মিল   আগুন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সাবেক মন্ত্রীর লন্ডন বিলাস: চার প্রশ্নের উত্তর নেই

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ০৪ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন যে, বিদেশে তার সম্পদ আছে কিন্তু এই সম্পদ কোনটা অবৈধ না। দুর্নীতি করে তিনি কোনো সম্পদের মালিক হননি। তিনি বলেছেন, তার বাবা ষাটের দশকের শেষ দিকে লন্ডনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি লন্ডনে ব্যবসা করছেন। করোনা কাল তার জন্য নাকি সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিল এবং সেই সুযোগে তিনি সেখানে তার ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী এটিও বলেছেন যে, তিনি তার মন্ত্রণালয়ে কোন দুর্নীতি করেননি। কেউ যদি তার দুর্নীতির প্রমাণ করতে পারেন তাহলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। তিনি আরও বলেছেন যে, ব্লুমবার্গ এর যে প্রতিবেদনে সেই প্রতিবেদনটি পড়লেই বোঝা যায় যে, তিনি যে সম্পত্তি বানিয়েছেন, সবই মর্টগেজ বা ঋণ নিয়ে করছেন। এটা স্বাভাবিক ব্যবসা। শুধুমাত্র লন্ডনে না, অন্যান্য দেশেও তার ব্যবসা আছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর এই সমস্ত বক্তব্য যদি পর্যালোচনা করা যায় তাহলে দেখা যাবে যে, একটি বক্তব্য ছাড়া আর সব বক্তব্য অস্পষ্ট ধোঁয়াশে। যে বক্তব্যটি সত্য তা হল, তিনি বিগত পাঁচ বছর যে ভূমি মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন, তা নিষ্ঠার সঙ্গে চালিয়েছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ে তার কোন বদনাম নেই। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে তিনি কোন দুর্নীতি করেছেন বলে কেউ কোনদিন অভিযোগ করেনি। বরং তার পাঁচ বছরের মন্ত্রিত্বে ভূমি মন্ত্রণালয়কে তিনি একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এনেছেন, আধুনিক মানের করছেন এবং এ জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। কিন্তু লন্ডনে দুই হাজার সাতশ কোটি টাকার সম্পদ এবং বিদেশে তার ব্যবসা সংক্রান্ত অনেকগুলো প্রশ্নের কোন উত্তর নেই। সেখানে যারা গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন তারা বুঝে, না বুঝে এই সমস্ত প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন কিনা সেটিও দেখার বিষয়। 

যে চারটি প্রশ্নের উত্তর নেই সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলনে সেগুলো হল;

১. তিনি যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন কি লন্ডনে ব্যবসা করছেন। একজন মন্ত্রী যখন শপথ নেন তখন তাকে সমস্ত ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হয়। যদি তিনি কোন কোম্পানির মালিক থাকেন। চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকেন, সেখান থেকে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়। দেশে বিদেশে সব ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা প্রযোজ্য। তাহলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী লন্ডনে যে ব্যবসা করেন মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তিনি কি এই ব্যবসা পরিচালনা করেছেন? তার বক্তব্য অনুযায়ী তিনি করেছেন। কারণ তিনি বলেছেন, করোনা তাকে সুযোগ দিয়েছে এবং এই সময়ে তিনি ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছেন। তাই যদি সত্যি হবে তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। কারণ একজন মন্ত্রী মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশে বিদেশে কোথাও ব্যবসা করতে পারে না।

২. সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, ১৯৯১ সাল থেকে তিনি লন্ডনে ব্যবসা করেন এবং তিনি আগে ব্যবসায়ী, পরে মন্ত্রী। ১৯৯১ সাল থেকে যদি তিনি বিদেশে ব্যবসা করেন তাহলে সেটি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। কাজেই সাইফুজ্জামান চৌধুরী বিদেশি যদি ১৯৯১ সাল থেকে ব্যবসা করেন সেই ব্যবসার কোন তথ্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে, বাংলাদেশ সরকারকে বা অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন কি না সেই প্রশ্ন তিনি উহ্য রেখেছেন। এটা যদি না করে থাকেন, তাহলে তিনি আইনত হবে অন্যায় করেছেন। কারণ একজন বাংলাদেশের নাগরিক বিদেশে যে জায়গাতেই ব্যবসা করুক না কেন তিনি যদি বাংলাদেশের নাগরিক হন তাহলে তাকে সেই তথ্য বাংলাদেশের আয়কর বিভাগকে অবহিত করতে হবে। তিনি সেক্ষেত্রে আয়কর রেয়াত পাবেন বা পাবেন না সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু তথ্য অভিহিত করা তার জন্য বাধ্যতামূলক। 

৩. সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন যে, তার সম্পদের বিবরণী তিনি তার নির্বাচনী হলফনামায় প্রকাশ করেননি। এটা প্রকাশ না করার পিছনে তিনি যে যুক্তি দেখিয়েছেন তা হল হলফনামায় বিদেশে সম্পদের কোন ঘর ছিলনা। এটি অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য। কারণ একজন ব্যক্তির সম্পদ সেটা দেশে হোক বিদেশে হোক তা হলফনামায় প্রকাশ করা। বিষয়টি হল যে, যিনি সংসদ সদস্য হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন তিনি সম্পত্তির মালিক কতটুকু। এটি দেশেও হতে পারে, বিদেশিও হতে পারে। কাজেই সাইফুজ্জামান চৌধুরী যদি বিদেশে কোন সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই তিনি এই সম্পত্তিগুলোকে তিনি হলফনামায় দিবেন এবং হলফনামায় না দেওয়াটা অপরাধ। এই বিষয়টি নিশ্চিয় নির্বাচন কমিশন ভালো মতই জানে এবং নির্বাচন কমিশন বিষয়টি দেখবে।

৪. সর্বশেষ যে বিষয়টি তা হল সাইফুজ্জামান চৌধুরী লন্ডনে ব্যবসা করছেন কি হিসেবে? তিনি কি দ্বৈত নাগরিক? তিনি তি ব্রিটেনের পাসপোর্ট ধারী নাকি তিনি বাংলাদেশি হিসেবে ব্যবসা করছেন। যদি তিনি বিদেশি পাসপোর্ট হন তাহলে তিনি বাংলাদেশে সংসদ সদস্য হবার অযোগ্য। আবার যদি তিনি বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে ব্যবসা করেন তাহলে তিনি টাকা যেখান থেকেই নিক না কেন তার সমস্ত তথ্য ‍উপাত্ত বাংলাদেশ সরকারকে দিতে বাধ্য। এ সমস্ত ধ্রুমজাল এবং এই সমস্ত উত্তরহীন প্রশ্নের জবাব সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে দিতে হবে। না হলে তার দুই হাজার সাতশ কোটি টাকার দায় দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে।

সাবেক মন্ত্রী   সাইফুজ্জামান চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন