ইনসাইড বাংলাদেশ

ফিরে দেখা ভাষার মাস: তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরি থেকে

প্রকাশ: ০৮:০২ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালের শুরু থেকেই এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ১১ মার্চ ১৯৪৮ তৎকালীন পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ পালনের কর্মসূচি থেকে প্রথমবার গ্রেফতার হন। এরপরই ভাষা আন্দোলন গতি সঞ্চারিত হয়। এরপর রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত দিন ঘটিয়ে আসে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ দিয়ে রচিত হয় বাংলা ভাষার উত্থানের ইতিহাস।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অমূল্য দলিলগুলোর অন্যতম ‘তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরি’। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে হয়েছিল তার একটি পরিপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় এই ডায়েরি থেকে যা অমূল্য দলিল হিসেবে পরিগণিত হয়। মহান ভাষা আন্দোলনে মাসে তাই বাংলা ইনসাইডারে হুবহু প্রকাশিত হচ্ছে তার লেখা ভাষা আন্দোলনের সেই দিনগুলোর চিত্র। তাজউদ্দীন আহমদ ইংরেজি ভাষায় লিখলেও তা অনুদিত হওয়া পাঠকের জন্য তা প্রকাশ করা হলো-

 

‘১৩.২.৫২

-ঢাকা-

ভোর সাড়ে ৫টায় উঠলাম ।

সকাল ৮টা ২২ মিনিটের ট্রেনে জাহান্দারকে সঙ্গে নিয়ে জেলা ক্রীড়া ফাইনালে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম। ঢাকা স্টেশনে পৌছে সোজা কে এল জুবলি স্কুলে গেলাম। তবে ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের কাউকে সেখানে খুঁজে পেলাম না। রায় সাহেব বাজারে ইসলামিয়া রেস্তোরাঁয় আমরা দু'জন নাস্তা করলাম ।

সকাল সাড়ে ১১টায় জাহান্দারকে বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে পাঠালাম । এর আগে হাফিজ বেপারির বাড়ি গেলাম। সেখানে জাহান্দার গোসল সেরে নিল। আইয়ুব আলী, হাসান ও শামসু তখন বাড়িতে ছিল।

এসডিও (উত্তর)-এর আদালতে সাদির মোক্তারের সঙ্গে দেখা করলাম। এমএলএ মান্নান সাহেব তার নির্বাচনের পথ পরিষ্কার করতে আমাকে যে কোনো ফৌজদারি মামলায় জড়াতে মতলব আঁটছেন— এমন কথার সত্যতা সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলাম। সাদির মোক্তার এর সত্যতা স্বীকার করলেন। আমি এটা জহির ভাইকে জানালাম ।

দুপুর ১টায় কামরুদ্দীন সাহেব, ডিএম জহিরউদ্দীন, জমিরউদ্দীন, কফিলউদ্দীন চৌধুরী ও অন্যান্য অনেক আইনজীবীর সঙ্গে দেখা হলো। শুধু দেখা হলো না। আতাউর রহমান খান সাহেবের সঙ্গে। দুপুর ২টায় জহিরউদ্দীনের সহায়তায় প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এ কে বিশ্বাসের সামনে আমার নামের ইংরেজি বানান শুদ্ধ করে সংশোধন করলাম- Tajuddin Ahmad. 

বিকেল সাড়ে ৪টায় এফ এইচ এম হল হয়ে রেঞ্জ ইন্সপেক্টরের অফিসে গেলাম। সরকারি গ্রান্ট-ইন-এইড কেরানি অনুপস্থিত ছিল।

এখান থেকে গেলাম বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে। সেখানে ফজলুর রহমান ভূঁইয়া সাহেব, কাপাসিয়ার সাহাজুদ্দিন, চর সিন্দুরের মহিউদ্দিন খান প্রমুখের সঙ্গে দেখা হলো। জাহান্দারের জন্য ফজলুর রহমান ভূঁইয়ার কাছ থেকে টাকা নিলাম । এফএইচএম হলে ফিরে এলাম। রাতে এন/২তে ভিপি এস আলম ও মমিনের সঙ্গে থাকলাম । তারা আমাকে রাতের খাবার দিল।

বিছানায় গেলাম রাত ১০টায় ।

আবহাওয়া : আগের মতোই।’


চলবে...


ভাষা   আন্দোলন   বাংলা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রণক্ষেত্র রংপুর, আ. লীগ ছাত্রলীগৈর অফিস ভাঙচুর

প্রকাশ: ০৭:৩৪ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

রংপুরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালিয়েছেন কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা। এসময় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন আন্দোলনকারীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে শহরের জাহাজ কোম্পানির মোড়, শাপলা চত্বর, বেরোবি সংলগ্ন পার্ক মোড়, তাহহাট থানা মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনাগুলো ঘটে।

এছাড়াও এদিন পৌনে ৬টার দিকে জাহাজ কোম্পানি মোড়ের পাশে বাটার গলিতে জেলা ছাত্রলীগের কার্যালয় এবং জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হয়।

সময় সাংবাদিকদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীদের। এতে আহত হয়েছেন তিন সাংবাদিক। 

এর আগে সকাল থেকে দফায় দফায় নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে রংপুর জিলা স্কুল মোড়ে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে দুপুর ১ টায় বিশাল মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। হয়। মিছিলে সংহতি জানিয়ে অভিভাবক সরকারবিরোধী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এরপর নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বোরোবি সংলগ্ন পার্ক মোড় হয়ে মডার্ন মোড়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেন। সেখান থেকে তাজহাট থানা ঘেরাও করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ।

এদিকে সন্ধ্যা ৬টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা বিশাল মিছিল বের করেন। নগরীর সিটি পার্ক মার্কেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিল থেকে কোটাবিরোধী আন্দোলন নিহত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। 


আন্দোলন   রণক্ষেত্র   ভাঙচুর   অগ্নি সংযোগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও সেতু ভবনে আগুন আন্দোলনকারীদের

প্রকাশ: ০৭:৩২ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ভবন এবং বনানী সেতু ভবনে আগুন দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হলেও ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে পারছে না। 

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  তিনি বলেন,

আমরা বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ভবন ও বনানী সেতু ভবনে আগুনের খবর পাই। খবর পেয়ে দ্রুত চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।


কোটা আন্দোলন   ফায়ার সার্ভিস   আগুন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কোটা নিয়ে আপিল বিভাগের শুনানি রোববার, বিশেষ চেম্বার আদালতের আদেশ

প্রকাশ: ০৭:২০ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে আগামী রোববার। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিশেষ চেম্বার আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছেন, কোটা বাতিল চেয়ে লিভ টু আপিল দ্রুত শুনানি করতে সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা রোববার সকালেই আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দ্রুত শুনানির জন্য মেনশন করব। আশা করছি জনগুরুত্ব বিবেচনায় আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করবেন। শুনানিতে আমরা হাইকোর্টের রায় বাতিল চাইব।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। 

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, শুনানি এগিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে এই মামলার শুনানি এগিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে আপিল বিভাগে আগামী রোববার আবেদন করবেন। আইনমন্ত্রী বলেন, মামলাটি যখন শুনানি হবে, তখন কোটার বিষয়ে একটা প্রস্তাব দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করেছে দুই শিক্ষার্থী।

কোটা আন্দোলন   আপিল বিভাগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সরকারের ভেতর ‌‌‌'অনুপ্রবেশকারী'দের চেহারা উন্মোচিত হচ্ছে

প্রকাশ: ০৭:১১ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

যে কোনও সংকটে আসল মানুষকে চেনা যায়। যে কোনও সংকটে বন্ধু পরিচয় পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ বর্তমানে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে সৃষ্ট সংকটে তার আসল বন্ধুদের চিনছে। গত ১৫ বছরে যারা আওয়ামী লীগার হয়ে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়েছে, সুযোগ পেয়ে তারা চেহারা পাল্টে ফেলেছে। এই চেহারা পাল্টানোদেরকে চেনার এক সুবর্ণ সুযোগ এসেছে আওয়ামী লীগের সামনে। এখন দেখার বিষয় আওয়ামী লীগ তাদেরকে চিনে রাখতে পারে কিনা। 

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে যখন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালাচ্ছে, তখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, তিনি আর ছাত্রলীগকে পড়াবেন না। এই শিক্ষিকা আওয়ামী লীগ আমলে চাকরি পেয়েছেন। তার পরিবারের সকল সদস্য বিএনপির সঙ্গে জড়িত। তারপরেও আওয়ামীপন্থি ব্যক্তিরা তদবির করে তাকে চাকরি দিয়েছেন। এখন তিনি তার মুখোশ খুলে ফেলেছেন। শুধু এই শিক্ষিকা একা নন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের আমলের চাকরি পাওয়া অনেকেই এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। 

কোটা আন্দোলনের সাথে সাথে শুরু হয়েছিল প্রত্যয় স্কিম নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলন। সেই শিক্ষকদের আন্দোলনে এক শিক্ষক দম্পতিকে দেখা গেছে যে শিক্ষক একদা বাকশালে ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী শিক্ষকদের নেতা হয়েছেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাকে করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি এখন কিছু পাওয়ার আশায় সরকার বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। আরও বেশ কিছু শিক্ষককে দেখা গেছে যারা আওয়ামী লীগের আমলে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন। এখন কোটা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন। 

শুধু শিক্ষকদের মধ্যে নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে একই জিনিস দেখা গেছে। শোবিজের তারকাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের দহরম মহরম নতুন নয়। প্রায় নির্বাচনী প্রচারণা সহ বিভিন্ন জায়গায় শোবিজের তাদেরকে সরব দেখা যায়। তারা আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এবার কোটা সংকটের সময় দেখা গেল শোবিজের কিছু কিছু তারকার আসল চেহারা। 

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুক স্ট্যাটাসে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সুস্পষ্টভাবে সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে এবং উস্কানিমূলক। অথচ এই মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সরকারের কাছ থেকে কম সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেননি। 

জাকিয়া বারী মম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পক্ষে। এ রকম বেশ কিছু তথাকথিত শিল্পীদের শনাক্ত করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগার সেজে সরকারের কাছ থেকে অনুদান সহ নানা রকম সুবিধা নিয়েছেন। এখন তারা কোটা সংস্কারের জন্য আর্তনাদ করছেন। 

সংস্কৃতি জগৎ ছাড়াও প্রশাসনের মধ্যেও এক ধরনের ভিন্ন অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমলাদের মধ্যে অনেকেই এই সংকটে হঠাৎ নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে ফেলেছেন। অতি আওয়ামী লীগ হয়ে যাওয়া আমলারা যারা এই সরকারের আমলে সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন তারা সচিবালয়ে আলোচনায় সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। এমনকি লেখক বুদ্ধিজীবীদের অনেকে যারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে নানা রকম সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন তারা এখন কোটা সংস্কার নিয়ে মুখরোচক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলছেন। কেউই সত্যি কথা বলছেন না। 

মূল বিষয়টি হল সরকারও কোটার সংস্কার করতে চায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও কোটা সংস্কার চায়। দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। বিষয়টি হল শুধুমাত্র আদালতের নিষ্পত্তির। যে জায়গায় দু পক্ষ আটকে আছে তা হল সরকার চায় আদালত আগে নিষ্পত্তি করুক। তারপর সমাধান। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা চাইছে আদালত পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নাই। তার আগে সংকটের সমাধান করতে হবে। এখন আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিয়ই সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিন্তু এই সংকটের অন্ধকারে বিদ্যুতের ঝলকানিতে কিছু কিছু মানুষের মুখোশ দেখা গেল।

কোটা আন্দোলন   হাইব্রিড   অনুপ্রবেশকারী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পাবনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পুলিশসহ কয়েকজন আহত

প্রকাশ: ০৭:০৫ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

পাবনায় আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে পুলিশসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে।


বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর তিনটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ও আটককৃতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষনিকভাবে দিতে পারেনি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষার্থী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাবনা শহর থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় জড়ো হন। এসময় তারা একসাথে হয়ে আবারও পাবনা শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

 

এতে পুলিশ বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে পুলিশসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ছত্রভঙ্গ হওয়ার সময় অন্তত ১০-১৫ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।

 

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে কলেজের ডিগ্রি বটতলা মোড়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় ছাত্রলীগের কর্মীরা পালিয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের ৫টি মোটরসাইকলে ভাংচুর করে। পরে মুল শহর দখল করে ব্যাপক শোডাউন দিয়ে বাস টার্মিনালের দিকে চলে যায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘আমরা শান্তিপূর্নভাবে কর্মসূচী পালন করছিলাম। পুলিশ আমাদের হঠাৎ করেই শহরে যাবার সময় বাধা দেয়। সেই বাধা উপেক্ষা করে যাবার সময় তারা আমাদের উপর টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। তখন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ হয়।’

এ বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘সকাল থেকেই আমরা ধর্য্যের সঙ্গে মোকাবেলা করেছি। কিন্তু টার্মিনালে হঠাৎ করেই পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। তখন আমরা আত্মরক্ষার্থে  টিয়ারশেল ও শর্টগান ব্যবহার করেছি। তাদের হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কতজনকে আটক করা হয়েছে তা এই মুুহুর্তে বলা যাচ্ছে না।’


শিক্ষার্থী   পুলিশ   সংঘর্ষ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন