ইনসাইড বাংলাদেশ

মিয়ানমারে গোলাগুলি চলছে, সীমান্তে এসএসসির কেন্দ্র স্থানান্তর

প্রকাশ: ১০:৩২ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারে জান্তা সরকারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাত চলছে। এ কারণে বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্ত থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। সোমবারও দিনভর থেমে থেমে গুলির শব্দ এবং ধোঁয়া দেখা গেছে। মিয়ানমারে ছোড়া মর্টার শেল পড়ে বাংলাদেশে নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকার ঘুমধুম উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র গতকাল বাতিল করা হয়েছে। এখন তিন কিলোমিটার দূরের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনটি বলছে, রোহিঙ্গারা যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে টেকনাফের নাফ নদীতে দ্রুতগতির নৌযান নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের। এ ছাড়া গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নূরে আলম মিনা ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এরপর ঘুমধুম উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। এ সময় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসহ এ দেশে ঢুকে পড়ছে—সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিআইজি নূরে আলম মিনা বলেন, এ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী প্রবেশ করেনি। যে ২৩ জন ঢুকেছে, তাদের বিজিবি আটক করেছে। এ ঘটনায় করা মামলা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সংঘর্ষ চলছে। এর মধ্যেই ১২টি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২৩ রোহিঙ্গা গ্রেপ্তারের পর গতকাল ২২ জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা। এরা সকলে ৬ ফেব্রুয়ারি উখিয়ার রহমতের বিল সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করলে আটক ও মামলা হয়।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে ঢেঁকিবনিয়া ও টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিলের বিপরীতে কুমিরখালী সীমান্তচৌকি এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। গতকাল দুপুরে এই কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এ সময় কোস্টগার্ড ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক পাহারায় থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ওপারের কুমিরখালী, শিলখালী ও বলিরবাজার এলাকায় দিনভর থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গেছে। 

ঘুমধুম ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া-নয়াপাড়ার সোজা বিপরীত পাশের ওপারে মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়া এলাকা। এ এলাকায় রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির একটি সীমান্তচৌকি ও একটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর। ঠিক ওই জায়গায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এ ছাড়া টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্তের ওপারে কুমিরখালী এলাকায় বেলা দুইটার দিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। কুমিরখালী এলাকায় একটি বিজিপির সীমান্তঘাঁটি রয়েছে। ওই এলাকায় কয়েক শ রোহিঙ্গা বসবাস করে।

অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষাকেন্দ্রের ৪৬৩ এসএসসি পরীক্ষার্থী। নিরাপত্তার কারণে কেন্দ্রটি সরিয়ে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিদ্যালয় দুটি হলো ১ নম্বর উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২ নম্বর উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঘুমধুম উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রটি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে মিয়ানমার সীমান্ত। কেন্দ্রটিতে ঘুমধুম উচ্চবিদ্যালয়, কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার কথা ছিল।


মিয়ানমার   সীমান্ত   গুলি   মর্টারশেল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ফিরে দেখা ভাষার মাস: তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরি থেকে

প্রকাশ: ০৯:০০ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালের শুরু থেকেই এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ১১ মার্চ ১৯৪৮ তৎকালীন পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ পালনের কর্মসূচি থেকে প্রথমবার গ্রেফতার হন। এরপরই ভাষা আন্দোলন গতি সঞ্চারিত হয়। এরপর রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত দিন ঘটিয়ে আসে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ দিয়ে রচিত হয় বাংলা ভাষার উত্থানের ইতিহাস।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অমূল্য দলিলগুলোর অন্যতম ‘তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরি’। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে হয়েছিল তার একটি পরিপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় এই ডায়েরি থেকে যা অমূল্য দলিল হিসেবে পরিগণিত হয়। মহান ভাষা আন্দোলনে মাসে তাই বাংলা ইনসাইডারে হুবহু প্রকাশিত হচ্ছে তার লেখা ভাষা আন্দোলনের সেই দিনগুলোর চিত্র। তাজউদ্দীন আহমদ ইংরেজি ভাষায় লিখলেও তা অনুদিত হওয়া পাঠকের জন্য তা প্রকাশ করা হলো-


‘২১.২.৫২

-ঢাকা-

ভোর সাড়ে ৫টায় উঠেছি।

সকালে আমি যখন পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিলাম তখন রফিক আমার বিছানার বালিশের নিচ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। নাশ মিয়া, জয়তুনের বাপ প্রমুখের সহায়তায় ১৪৭ টাকা আট আনার মতো তার কাছ থেকে উদ্ধার করা গেল। এই ঝামেলার কারণে আমি সকালের ট্রেন ধরতে পারলাম না।

বেলা ১২টা ১৪ মিনিটের ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম । একই কামরায় আমার সহযাত্রী ছিলেন এফ করিম ও ডা. আহসানউদ্দিন। রাজেন্দ্রপুর থেকে উঠলেন হাসান মোড়ল। স্কুল সম্পর্কিত বিষয়াবলি, তার দায়িত্ব ও ২৪.২.৫২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ম্যানেজিং কমিটির সভা নিয়ে আমি তার সঙ্গে কথাবার্তা বললাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ট্রেন থামতেই আমি এবং এফ করিম সেখানে নেমে গেলাম।

পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশাল জনসমাবেশ। মেডিকেল কলেজ ও অ্যাসেমরি হলের কাছে এইমাত্র পুলিশের টিয়ার গ্যাস ছোড়ার বিষয়ে লোকজন বলাবলি করছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রায় ২০ মিনিটের মতো থেমে ডিপিআই অফিসে গেলাম। মুসলিম এডুকেশন ফান্ডের গ্রান্ট-ইন-এইডস সম্পর্কিত সহকারীর সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি আমাকে জানালেন এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি স্মারক পাঠিয়ে দেবেন। বেলা ৩টার দিকে আমি ওখান থেকে বেরিয়ে পড়লাম।

ইডেন ভবনের দ্বিতীয় গেটের কাছে আকবর আলী বেপারির সঙ্গে রেনুকে পেলাম। তিনি আমাকে বললেন, তারক সাহার বাড়ি ও বরমি বাজারের দোকানটি তিনি কিনে নেবেন। এটি কিনতে টাকার জন্য তিনি জমি বিক্রি করবেন। তার সঙ্গে কথা বলে বাসে উঠলাম এবং বেলা সাড়ে ৩টায় এসডিও (উত্তর)-এর আদালতে উপস্থিত হলাম। এসডিওর সঙ্গে তার খাস কামরায় দেখা করলাম বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে।

আমাদের স্কুল ও ২৪.২.৫২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ম্যানেজিং কমিটির সভা নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করলাম । প্রধান শিক্ষকের বিষয়াবলি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি কীভাবে সুরাহা করা যায় সে ব্যাপারে আমার পরামর্শের সঙ্গে তিনি একমত হলেন । তিনি আমাকে ৩.৩.৫২ তারিখে ম্যানেজিং কমিটির একটি সভা আয়োজন করার জন্য বললেন। তখন তিনি শ্রীপুর থাকবেন। এরই মধ্যে তিনি আমার অনুরোধে শ্রীপুরের উদ্বাস্তু মিস্ত্রিদের ত্রাণের আবেদন অনুমোদন করলেন। তার চেম্বার ছাড়লাম বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে। আদালতের রেস্তোরাঁয় সিআইবির অ্যাসিস্ট্যান্ট মহিউদ্দিন ও আমাকে সাদির মোক্তার নাস্তা খাওয়ালেন। বিকেল পাঁচটার দিকে আদালত ছেড়ে এলাম ।

কামরুদ্দীন সাহেবের সঙ্গে তাঁর বাড়িতে দেখা করলাম এবং দেরি না করে তাঁর সঙ্গে ৯৪ নবাবপুর এএমএল অফিসে এলাম। মিনিট পাঁচেকের জন্য সেখানে থেমে কেমব্রিজ ফার্মেসিতে গেলাম। জহির ভাই এস এম জহিরউদ্দীন ও আমাদের চা দিলেন।

ডা. করিম ও আমি নেডিকেল কলেজে গেলাম। পুলিশের গুলিতে আহত ও নিহতদের মৃতদেহ দেখার চেষ্টা করলাম। কিন্তু পারলাম না। ডা. করিম চলে গেলেন। আমি মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে ইতস্তত ঘোরাফেরা করে রাত ১১টায় যোগীনগরে ফিরে গেলাম ।

রাতের খাবারের পর ভাবীর সঙ্গে কথা বললাম রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত । বিছানায় গেলাম রাত ১টায়।

আবহাওয়া : স্বাভাবিক। অপেক্ষাকৃত কম ঠাণ্ডা ।

বি. দ্র. আজ দুপুরে খেতে পারিনি।

গভীর রাত সাড়ে ৩টায় পুলিশ বাহিনী আমাদের বাড়ি ঘেরাও করল এবং যুবলীগের অফিসে তল্লাশি চালাল। তারা ক্ষতিকর বা অবৈধ কিছু খুঁজে পেল না। যুবলীগের অফিস লাগোয়া আমার শোবার ঘর, তাই আমি ঘর থেকে সরে পড়ায় তারা আমার উপস্থিতি টের পায়নি।

ভোর ৪টায় তারা চলে গেল। এরপর আর ঘুমাইনি ।

বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট চলছে। গতকাল থেকে এক মাসের জন্য সিআর, পিসি, ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ বিকেলে অ্যাসেমব্লি বসেছে। ধর্মঘট পালনকারী ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অ্যাসেমব্লি হাউসের কাছে জড়ো হয়; যাতে তাদের কণ্ঠ অধিবেশনে উপস্থিত এমএলএরা শুনতে পান।

প্রথমে শুরু হলো গ্রেফতার করা । এরপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হলো। তারপর গুলি চালানো হলো মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে। গুলিতে চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হলো। আহত হলো ৩০ জন। জানা যায় ৬২ জনকে জেলে পোরা হয়েছে। আরো শোনা যায় পুলিশ কয়েকটি মৃতদেহ সরিয়ে ফেলেছে। বেসরকারি সূত্রের দাবি, 

মৃতের সংখ্যা ১০ থেকে ১১ জন।



ভাষা   আন্দোলন   বাংলা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বিদেশে বসেই ঢাকায় ডাকাত দল চালায় ইলিয়াস

প্রকাশ: ১০:২১ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

মাদারীপুর জেলার কালকিনির খাসের হাট এলাকায় বাড়ি ইলিয়াস হোসেন, থাকেন সৌদি আরব। সেখান থেকে হোয়াটস্ অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকায় ডাকাত দল পরিচালনার করে সেই টাকায় এলাকায় কিনেছেন বাড়ি ও জমি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ খুলে সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে বসে দেশের ডাকাত দলের সদস্যদের দেন নানা নির্দেশনা। কেউ গ্রেপ্তার হলে জামিনের ব্যবস্থা করেন, ডাকাতির টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করেন প্রবাস থেকেই।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসূত্র বলছে, গত বছর অক্টোবরে রাজধানীর ডেমরা থেকে ডিবি পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে গাড়িতে তুলে সাড়ে ৩৬ লাখ টাকা লুট করে এই ডাকাতরা। ওই ঘটনায় করা মামলা তদন্তে ইলিয়াসের ডাকাত দলের সন্ধান পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।

ডিবি সূত্র জানায়, এই ডাকাতরা হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি মোবাইল অপারেটরের নম্বর ব্যবহার করে। ইলিয়াস এসব নম্বর সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করে তাদের জন্য পাঠায়। এরপর তারা ভিন্ন রাউটার ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে। ডাকাতিতে ব্যবহৃত গাড়িটিতে ভুয়া নম্বর প্লেট বসায়। চক্রটি রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট, সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, আবদুল্লাহপুর ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডিবি ও র্যাব পরিচয়ে ডাকাতি করত। প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করায় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির বাইরে ছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রবাসী ব্যক্তি বা নতুন গাড়ি এলে বা ব্যাংক থেকে কেউ টাকা তুললে, জমি বিক্রি করলে ডিবি পরিচয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ আসে। এ ধরনের করেন এক ব্যবসায়ী। তদন্ত করতে গিয়ে ওই ডাকাত দলের সন্ধান মেলে। এরই মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ও আবুল কাশেম ওরফে জাহিদ নামে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবিপ্রধান বলেন, গ্রেপ্তারদের তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, চক্রের মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ডাকাতির টাকায় তারা এসব গাড়ি কেনে। অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

ডিবির ওয়ারী বিভাগের এডিসি শাহিদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, গত বছর ৮ অক্টোবর ব্যবসায়ী জাকির হোসাইন ও তার সহযোগী সজীব নারায়ণগঞ্জ থেকে ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তাদের প্রাইভেটকারটি সুলতানা কামাল সেতুতে উঠলে মাইক্রোবাস দিয়ে গতিরোধ করে ডাকাতরা। এরপর দুজনের চোখ বেঁধে এবং হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে তাদের কাছ থেকে সব টাকা রেখে পূর্বাচলে ফেলে রেখে যায়। ওই ঘটনায় ডেমরা থানায় মামলা হলে ডিবি ছায়াতদন্ত শুরু করে।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আবুল কাশেম ওরফে জাহিদ এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য সদস্য মোস্তাফিজকে গতকাল মঙ্গলবার দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

ডিবির ডেমরা জোনাল টিমের এডিসি খন্দকার আরাফাত লেলিন গণমাধ্যমকে বলেন, মামলাটির তদন্তে মূলহোতা ইলিয়াস হোসেন শনাক্ত হয়। তাকে ধরতে গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে গিয়ে জানা যায়, ইলিয়াস সৌদি থাকেন। এরপর গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত সর্দার ইলিয়াসের নাম সামনে আসে। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ডাকাতির ৬ থেকে ৭টি মামলা রয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবরে ডেমরায় ডাকাতির নেতৃত্বেও ছিল সে। এরপর সৌদি চলে যায়। কিন্তু দলের কাজ থেমে যায়নি। তার চক্র পরেও বেশ কয়েকটি ডাকাতি করে। আর ইলিয়াস সৌদি বসেই দেশের ডাকাত দলকে পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়।


মাদারীপুর   সৌদি আরব   হোয়াটস্ অ্যাপ   ঢাকা   ডাকাত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে রাজধানীতে এবার শিশু আহনাফ’র মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯:৫৩ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

আবারও রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশু আহনাফ তাহমিদ (১০) মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলে।

রাজধানীর মালিবাগের জেএস হাসপাতাতে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর দশ বছর বয়সী ছেলে আহনাফ তাহমিদকে সুন্নতে খতনা করতে নিয়ে আসেন বাবা ফখরুল আলম। 

পরিবারের অভিযোগ, আসার পরই হাসপাতাল পরিচালক ডা. এস এম মুক্তাদিরদের নেতৃত্বে তাহমিদকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায় হাসপাতালে দায়িত্বরত ডা. মাহাবুব এবং ডা. ইশতিয়াক আজাদ।

স্বজনদের অভিযোগ, লোকাল এনেস্থেশিয়া না দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত জেনারেল এনেস্থেশিয়া দেয়াতেই শিশুটির মারা গেছে। তবে মালিবাগের জেএস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটির রোগ সম্পর্কে স্বজনরা না জানানোয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়। বুক চাপড়ে মা খাইরুন নাহারের আর্তনাদ। সুস্থ-সবল ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে এলেও ফিরতে হয় তার নিথর দেহ নিয়ে। এর ঠিক ২০ মিনিট পর আহনাফকে দেখতে চায় পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে শুরু হয় হট্টগোল। এরপরই তাকে মৃত ঘোষণা করে তারা।

পরিবার বলছে, প্রথমে লোকাল এনেস্থেশিয়া প্রয়োগ করার কথা থাকলেও দেয়া হয় জেনারেল এনেস্থেশিয়া। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলেও বমি করে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায় তাহমিদ।

স্বজনরা বলছেন, তাহমিদ হেঁটে হেঁটে হাসপাতালে এসেছে। এরপর সাড়ে ৮টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। ৯টার পর সে মারা যায়।

এমন ঘটনার পরও দায় এড়াতে ব্যস্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জেনারেল এনেস্থেশিয়া দেয়া হয়নি জানিয়ে তাদের দাবি, আগে থেকেই শারীরিক সমস্যা ছিল তাহমিদের। সে ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে সঠিক তথ্য না দেয়াতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল পরিচালক ডা. এস এম মুক্তাদির গণমাধ্যমকে দাবি করেন, ছেলেটির ওজন বেশি ছিল। বয়সও ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। ফুসফুসে সমস্যা ছিল। কিন্তু সব তথ্য পরিবার জানায়নি।

এঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক করতে পারলেও অপারেশনের পরপরই পালিয়েছেন একজন।

হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, হট্টগোলের খবর পেয়েই উপস্থিত হন তারা।

এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর খতনার জন্য আয়ানকে বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে অ্যানেসথেসিয়া দেয়া হয়। পরে জ্ঞান না ফেরায় তাকে গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার পিআইসিইউতে (শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আয়ানের বাবা-মায়ের অভিযোগ, ইন্টার্ন চিকিৎসক দিয়ে সুন্নতে খতনার সময় অতিরিক্ত অ্যানেসথেশিয়া দেয়ায় ঘটেছে এমন ঘটনা।


রাজধানী   বেসরকারি   হাসপাতাল   শিশু   মৃত্যু  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আবার তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আভাস

প্রকাশ: ০৮:২০ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

ফের বাড়তে পারে অতি প্রয়োজনীয় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম গ্রাহক পর্যায়ে; আর গ্যাসের দাম উৎপাদন পর্যায়ে বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তার দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে দাম সমন্বয় করতে চাই। বিদ্যুতের গ্রাহক পর্যায়ে দাম সামান্য পরিমাণে বাড়তে পারে। যারা বড় গ্রাহক তাদের দাম তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। আমরা স্বাবলম্বী গ্রাহকদের ভর্তুকি দিতে চাই না।

নসরুল হামিদ আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়ে গেছে ডলারের রেট। আগে ডলার ৭৮ টাকায় পাওয়া যেত। এখন প্রায় ১২০ টাকার মতো হয়ে গেছে। এক ডলারে প্রায় ৪০ টাকার মতো বেশি খরচ হচ্ছে। এতে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দাম সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মার্চ থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে জ্বালানি তেলের দাম। নতুন দর প্রথম সপ্তাহ থেকেই কার্যকর করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে দাম বাড়বে, আর কমে গেলে কমে আসবে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী সমন্বয় করা হলে দাম বাড়বে, না-কি কমে আসবে? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেল আমদানির কর্মাশিয়াল এনভয়েজ অনুযায়ী ডিউটি ধরা হলে দাম কিছুটা বেড়ে যাবে। আর যদি পরিমাণ ভিত্তিক ডিউটি বিবেচনা করা হয় তাহলে দাম না বাড়ালেও চলে।

গত বছরের ৩০ জানুয়ারি সর্বশেষ গ্রাহক পর্যায়ে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। এর তিন সপ্তাহ আগে ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি দাম গড়ে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাহী আদেশে গ্যাসের দাম বাড়ায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আর গণশুনানির মধ্যদিয়ে ২০২২ সালের জুন মাসে গ্যাসের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।


তেল   গ্যাস   বিদ্যুৎ   দাম  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জার্মানি সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮:০৩ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

সম্প্রতি জার্মানিতে ‘মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন’ অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে আগামী শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংবাদ সম্মেলন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।িএদিন সকাল ১০টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত যে, মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জার্মানি যান প্রধানমন্ত্রী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর এটি ছিল তার প্রথম কোনো রাষ্ট্রীয় সফর।

মিউনিখে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা নিরাপত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যুদ্ধ, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়কমন্ত্রী লর্ড ক্যামেরন এবং জার্মান ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নমন্ত্রী সভেনজা শুলজেও সাক্ষাৎ করেন।

উইমেন পলিটিক্যাল লিডারের (ডব্লিউপিএল) প্রেসিডেন্ট সিলভানা কোচ-মেহরিন, সিনিয়র ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ডেভেলপমেন্ট পলিসি অ্যান্ড পার্টনারশিপ অ্যাক্সেল ভ্যান টর্টসেনবার্গ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক পেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস, মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ড. স্যার নিক ক্লেগও আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।


প্রধানমন্ত্রী   জার্মানি   সফর   মিউনিখ   সম্মেলন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন