ইনসাইড বাংলাদেশ

কারাবাস থেকে ৩২ বছর পর মুক্ত শাহজাহান, বিয়ে করে ফের মামলা

প্রকাশ: ১০:৪৩ এএম, ০১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করা শাহজাহান ভূঁইয়া জল্লাদ হিসেবে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন। গত বছর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তিনি খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। ৬৬ বছর বয়সী শাহজাহান ভূঁইয়া নতুন জীবন শুরু করেছিলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের গোলামবাজার এলাকায়। সেখানে একটি চায়ের দোকান দিয়ে বসেছেন। ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই সুখের সংসার বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সাথী আক্তার নামের ওই তরুণীকে বিয়ে করেন শাহজাহান। কিন্তু ৫৩ দিনের মাথায় তাঁর ঘর ছেড়ে যান সাথী। আদালতে শাহজাহানের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলাও দিয়েছেন।

রোববার (৩১ মার্চ) পাল্টা ওই তরুণী এবং তার মায়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার একটি মামলা করেছেন শাহজাহান। মামলায় তিনি বলেছেন, ওই তরুণী ও তাঁর মা বিয়ের ফাঁদে ফেলে তাঁর (শাহজাহান) কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তরুণীর মামা।

শাহজাহান ভূঁইয়ার জন্ম নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ইছাখালী গ্রামে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। হত্যা ও অস্ত্র মামলায় তার ৪২ বছরের সাজা হয়েছিল। ফাঁসি কার্যকর ও অন্যান্য কারণে তাঁর সাজার মেয়াদ কমিয়ে ৩২ বছর করা হয়। কারাগারের নথি অনুসারে, ১৯৯২ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির জন্য ১২ বছর এবং ১৯৯৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর অপর একটি মামলায় ডাকাতি ও হত্যার জন্য ৩০ বছরের কারাদণ্ড হয় তাঁর।

শাহজাহানের আইনজীবী ওসমান গনি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর স্থানীয় একজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে এলাকাছাড়া হন শাহজাহান। প্রায় তিন যুগ কারাভোগের পর গত বছর জুনে মুক্তি পান তিনি।

কারাগারের নথি অনুযায়ী, কারাবন্দী থাকাকালে শাহজাহান ভূঁইয়া ২৬ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছয় খুনি, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর কাসেম আলী ও জেএমবির দুই জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করেছেন তিনি।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, গত বছরের ১৮ জুন কারামুক্তির পর শাহজাহান ভূঁইয়া ঢাকার কেরানীগঞ্জের গোলামবাজারে বসবাস শুরু করেন। এরপর সেখানে একটি চায়ের দোকান দেন। একদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কেরানীগঞ্জের কদমতলী থেকে কোনাখালায় যাচ্ছিলেন। তখন গাড়ির ভেতর তিনি একটি ভ্যানিটি ব্যাগ খুঁজে পান। পরে ব্যাগের ভেতর থাকা কাগজে লেখা ছিল একটি মুঠোফোন নম্বর। সেই নম্বরে ফোন করে শাহজাহান ভ্যানিটি ব্যাগের মালিককে ব্যাগ নিয়ে যেতে বলেন। পরে ব্যাগের মালিক ২৩ বছরের এক তরুণী তাঁর বান্ধবীকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের গোলামবাজারে হাজির হন। পরে তরুণীর মা শাহিনূর বেগমের সঙ্গে শাহজাহানের পরিচয় হয়। শাহজাহানের দাবি, মুঠোফোনে পরিচয়ের পর তরুণীর সঙ্গে তিনি বেশ কয়েকবার কথা বলেন। একপর্যায়ে তরুণী ও তাঁর মা জুরাইন থেকে কেরানীগঞ্জের গোলামবাজারে চলে আসেন। শাহজাহান ভূঁইয়ার বাসায় রান্নার কাজ নেন তিনি। পরিচয়ের দেড় মাস পর ২১ ডিসেম্বর তরুণীর সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে শাহজাহানের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাসের মাথায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই তরুণী শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে নালিশি মামলা করেন।

মামলায় তরুণী দাবি করেন, বিয়ের উপঢৌকন হিসেবে শাহজাহানকে এক লাখ টাকার মালামাল দেয় তাঁর পরিবার। পাশাপাশি নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বিয়ের কয়েক দিন পর তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন শাহজাহান ভূঁইয়া। একই সঙ্গে শাহজাহান তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করেন তরুণী।

ঢাকার সিজেএম আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবীর জানান, শাহজাহানের বিরুদ্ধে করা মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত।

তবে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, শাহজাহান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তরুণীর দায়ের করা কোনো মামলার কাগজপত্র কিংবা আদালতের কোনো আদেশ হওয়ার তথ্য তাঁর জানা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান ভূঁইয়া কাছে দাবি করেন, তরুণীকে শারীরিক কিংবা মানসিক কোনো প্রকারের নির্যাতন তিনি করেননি। যৌতুক চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং ওই তরুণী প্রতারণা করে তাঁর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

শাহাজাহন ভূঁইয়া আজ ওই তরুণী ও তাঁর মাসহ ছয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, তরুণী ও তার মা বিয়ের আগে নানা কৌশলে তাঁর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেন। বিয়ের দিন একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে তরুণী তাঁর কাছ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা নেন। শাহজাহান বলেন, কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। আর কারাগারে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে আশীর্বাদ হিসেবে পাওয়া টাকাসহ মোট ১৮ লাখ টাকা তিনি সাহায্য হিসেবে পান। সেই টাকা দিয়েই তিনি এই বিয়ে করেছেন।

তরুণীর সঙ্গে শাহজাহানের করা অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ রয়েছে, তরুণী ১০ লাখ টাকা শাহজাহানের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছেন। বিয়ে বলবৎ রাখতে অপারগ হলে তিনি ১০ লাখ টাকা শাহজাহানকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হবেন। অঙ্গীকারনামায় আরও উল্লেখ রয়েছে, বিয়ের চার মাসের মাথায় শাহজাহান তরুণীর নামে ২ শতাংশ জমি হেবা (দান) করবেন। স্ত্রী হিসেবে স্বামী শাহজাহানের আদেশ তরুণী মেনে চলবেন। স্বামী–স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সম্পর্ক উন্নয়নসহ সব ধরনের কাজ করতে বাধ্য থাকবেন। অঙ্গীকারনামায় তরুণী ও শাহজাহানের স্বাক্ষর রয়েছে।  

মামলায় শাহজাহান দাবি করেন, বিয়ের কিছুদিন পর স্ত্রী ও শাশুড়ি তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা শুরু করেন। বিয়ের ৫৩ দিনের মাথায় স্ত্রী তাঁর বাসা থেকে বেরিয়ে যান। শাহজাহানের সঙ্গে সংসার করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে শাহজাহান অঙ্গীকারনামার শর্ত অনুযায়ী স্ত্রীকে দেওয়া ১০ লাখ টাকা ফেরত চান। তখন তারা সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। স্ত্রী, শাশুড়িসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা প্রতারণার মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাথী আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তাঁর মামা দীন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মুঠোফোনে শাহজাহানের সঙ্গে তাঁর ভাগনি সাথী আক্তারের পরিচয় হয়। এরপর নানা প্রলোভন দেখিয়ে তিনি সাথীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁর আচরণ ভালো ছিল না। ভয়ভীতি ও মারধরের কারণে সাথী শাহজাহানের বাসা থেকে চলে আসে।

দীন ইসলাম বলেন, ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো টাকা দেননি শাহজাহান ভূঁইয়া। কিন্তু অঙ্গীকারনামায় সাথীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল।


কারাবাস   শাহজাহান   মামলা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনিতে আগুন

প্রকাশ: ০৯:০৬ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

নোয়াখালীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র বেগমগঞ্জের চৌমুহনী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে আগুনে প্রায় ১৫-১৬টি দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে।

রোববার (২১ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে চৌমুহনী বাজারের বাদমতলা রোডের মসজিদ মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে নোয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে চৌমুহনী বাজারের বাদমতলা রোডের মসজিদ মার্কেটের ভূঞা হোসিয়ারি নামক কাপড় দোকানে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে জুয়েলারির দোকানসহ আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পানি সঙ্কট, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণের অত্যাধিক জটলা থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

নোয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি ১৫-১৬টি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে বলা যাবে। আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করছে।

নোয়াখালী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সারাদেশে হিটস্ট্রোকে ৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১০:১০ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

তীব্র দাবদাহে শরীয়তপুর সদরে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হারুন চৌকিদার (৪৩) নামে অটো রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে জেলা পরিষদের সামনে অটো রিকশার গ্যারেজে তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া সারাদেশে হিটস্ট্রোকে ২৪ ঘণ্টায় এখন পর্যন্ত মোট ৬ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দুজন, মেহেরপুরে একজন, নরসিংদীর মাধবদীতে একজন, ঝালকাঠি ও সিলেটে একজন করে রয়েছেন।

রোববার (২১ এপ্রিল) বিভিন্ন সময় তাদের মৃত্যু হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ থেকে হিটস্ট্রোকে সারাদেশে মৃত্যুর এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দিনাজপুর

তাপপ্রবাহে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে হিটস্ট্রোকে দুজন মারা গেছেন। তারা হলেন- পৌর এলাকার চকসাবাজপুর গ্রামের মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোতাহার আলী (৫৮) এবং অপরজন যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকার রাজারহাট গ্রামের ট্রাকচালক বিল্লাল হোসেন (৫২)।

দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান।

মেহেরপুর

মেহেরপুরের গাংনীতে হিটস্ট্রোকে শিল্পী খাতুন (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের রুয়েরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শিল্পী খাতুন রুয়েরকান্দি গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী আমতৈল গ্রামের বিল্লাল মালিথার মেয়ে।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শামীম হাসান বলেন, শিল্পী খাতুনের মৃত্যু হিটস্ট্রোকে হয়েছে কি না সেটা নিশ্চিত করতে ইউএনও এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জেলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বইছে। তীব্র গরমে অতি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হতে এবং নিজেকে সুস্থ রাখার নির্দেশনা দিয়ে মাইকিং করা হয়েছে।

নরসিংদী

নরসিংদীর মাধবদীতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সাফকাত জামিল ইবান (৩২) সদর উপজেলার মাধবদী থানার ভগীরথপুর এলাকার মৃত জাকারিয়া জামিলের ছেলে এবং শেখেরচর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকলে অফিসার (আরএমও) ডা. মাহমুদুল কবির বাশার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রচণ্ড রোদের মাঝে চলাফেরা এবং প্রচুর ঘামের ফলেই অজ্ঞান হয়ে যান ইবান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যু হিটস্ট্রোকে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

শরীয়তপুর

হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হারুন চৌকিদার (৪৩) নামে এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দুপুরে জেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হারুন চৌকিদার নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের নয়ন মাদবরকান্দি এলাকার আলী হোসেন চৌকিদারের ছেলে।

এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাবিকুন নাহার বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারি অতিরিক্ত গরমে কাজ করার ফলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান হারুন নামের ওই ব্যক্তি। রোগীর স্বজনরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সদর হাসপাতালে সামনে নিয়ে আসলে, আমি অ্যাম্বুলেন্সে গিয়ে তাকে দেখি। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ঝালকাঠি

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম আউরা গ্রামে মো. আফজাল তালুকদার (৪৫) নামের এক যুবক হিটস্ট্রোকে মারা গেছেন।

আফজালের মৃত্যুর বিষয়টি হিটস্ট্রোকে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দিলীপ চন্দ্র হাওলাদার।

সিলেট

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় হিটস্ট্রোকে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে দক্ষিণ সুরমা পুলিশ বক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

রিকশাচালকের পরিচয় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হিটস্ট্রোক   তীব্র দাবদাহ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

দুবাই পৌঁছেছে এমভি আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ০৬:১২ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

জিম্মিদশা থেকে মুক্ত বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ পৌঁছেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আল হামরিয়া বন্দরে।

বাংলাদেশ সময় রোববার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় জাহাজটি আল হামরিয়া বন্দরে বহির্নোঙর করা হয়।

জাহাজের অবস্থান নির্ণয়কারী বৈশ্বিক সংস্থা মেরিন ট্রফিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মেরিন ট্রফিক সূত্র বলছে, শনিবার রাতে এমভি আবদুল্লাহ ওমান সাগর পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় জাহাজটি দুবাই আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছে।

এ বিষয়ে এমভি আবদুল্লাহর ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ বলেন, জাহাজের ২৩ নাবিকের সবাই সুস্থ আছেন। দুবাই পৌঁছানোর পর নাবিকদের দুজন ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফিরবেন। বাকি ২১ জন কয়লা খালাসের পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে জাহাজ নিয়ে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এ দিকে জাহাজের মালিকপক্ষের একটি সূত্র বলছে, হামরিয়া বন্দরে ৫৫ হাজার টন কয়লা খালাস করা হবে। এরপর জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেবে। ২৩ নাবিকের ২১ জন সেই জাহাজেই ফিরবেন। ১৭-১৮ দিন পর তারা দেশে এসে পৌঁছাতে পারেন। অপর দুই নাবিক দুবাই থেকে ফ্লাইটে দেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, সোমালীয় দস্যুরা গত ১২ মার্চ বাংলাদেশি ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটি জিম্মি করে। দেশটির উপকূল থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে জাহাজটি জিম্মি করা হয়। এর ৩২ দিন পর গত ১৪ এপ্রিল জাহাজটি মুক্ত করে দেয় জলদস্যুরা। এরপরই সেটি সোমালিয়া উপকূল থেকে আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। জাহাজটি ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা পরিবহন করছে।

দুবাই   এমভি আবদুল্লাহ   আরব আমিরাত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বরিশালে বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যা, ৭ মাস পর লাশ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৫:৩৬ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail বৃদ্ধাকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ পুঁতে রাখা হয় তারই ঘরের মেঝেতে। বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের মধ্য কাটাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রবিবার (২১ মার্চ) বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের মধ্য কাটাদিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল গাজীর স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৬০) একাই বসবাস করতেন। প্রায় ৭ মাস আগে নিখোঁজ হন রিজিয়া বেগম। গত ১৩ এপ্রিল রিজিয়া বেগমের ছেলে রাসেল বাড়িতে এলে ঘরের ভেতরে মাটির স্তূপ দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে তারা আদালতের নির্দেশে ঘরের ভেতর থেকে রিজিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় বাদী হয়ে ওই দিন মামলা করেন নিহতের ভাই হাওলাদার মাসুদ। মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে বরিশাল জেলা পুলিশ। প্রযুক্তির ব্যবহার করে এ ঘটনায় জড়িত দু জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, একই ইউনিয়নের মধ্য কাটাদিয়া গ্রামের মৃত আইউব আলীর ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) ও মৃত কালাম হাওলাদার কালুর ছেলে লালচাঁন (৩২)।

 এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম  বলেন, ফয়সাল ও লালচাঁন প্রতিনিয়ত ওই বৃদ্ধার ঘরে ও আশপাশে মাদক সেবন করত। সেই ঘটনায় বাধা দেওয়ায় ঘটনার দিন অর্থাৎ প্রায় ৭ মাস আগে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে ফয়সাল ও লালচাঁন। এর পর বৃদ্ধার ঘরেই মাটি খুঁড়ে তাকে চাপা দেয় তারা। ফয়সাল ও লালচাঁন দুজনেই মাদকসেবী বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার। গ্রেফতারকৃত দুজনকে রবিবার (২১ এপ্রিল) আদালতে সোপর্দ করা হয়।


ধর্ষণ   লাশ উদ্ধার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে এবার মুখ খুললেন হিট অফিসার

প্রকাশ: ০৫:২৬ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন হাঁসফাঁস। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে পথঘাট সব কিছুই উত্তপ্ত। কোথাও সড়কের পিচ গলতে শুরু করেছে। গরমের কারণে বাড়ছে হিটস্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডায়রিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এরইমধ্যে হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পরিস্থিতি যখন এমন তখন স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, কী করছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন?

তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব পেয়ে বসে নেই তিনি। চেষ্টা করে যাচ্ছেন কেন ঢাকায় তাপমাত্রা বাড়ছে তা খুঁজে বের করার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটার চেষ্টা করছেন।

রোববার (২১ এপ্রিল) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে এসব পরামর্শ তুলে ধরেন বুশরা আফরিন।

তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজের সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি সম্ভব। খুব সাধারণ কিছু পন্থা অবলম্বন করে আমরা নিজেদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পারি। যেমন, বেশি বেশি পানি পান করা, ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা, যথাসম্ভব ছায়ার মধ্যে থাকার চেষ্টা করা এবং অসুস্থ বোধ করলে বিশ্রাম নেওয়া বা বেশি খারাপ বোধ করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

খাবার পানির সুব্যবস্থা ও ছায়াযুক্ত স্থান বাড়াতে সিটি কর্পোরেশন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কুলিং স্পেস’-এর ব্যবস্থা করার জন্য, যেন পথচারীরা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পায়, চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের অবশ্যই আরও বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।

গত এক বছরে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বুশরা আফরিন বলেন, এর মধ্যে অন্যতম হলো বস্তি এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। কারণ তারা অন্যতম প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। সেসব জায়গায় গাছ লাগানোর মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে, সেসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও সচেতন করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এছাড়া, আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ আরও বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি ও এনজিওর সঙ্গে আমরা যুক্ত হয়ে বেশ কিছু কার্যক্রম শিগগিরই চালু করতে যাচ্ছি। এগুলো সম্পর্কে আপনাদের বিশদভাবে অবহিত করা হবে। কল্যাণপুর ও বনানীতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে আমরা নগর বন তৈরি করতে যাচ্ছি, যা একই সঙ্গে শীতলকরণ, বায়ু দূষণ রোধ ও মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধি করবে।

তীব্র তাপপ্রবাহ   হিট অফিসার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন