ইনসাইড বাংলাদেশ

সেই দুর্নীতিবাজ সাইফুলের বিরুদ্ধে চার্জশীট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:১৪ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১


Thumbnail

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইফ স্টাইল, হেলথ এডুকেশন এন্ড প্রমোশনের লাইন ডিরেক্টর ডা. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে চার্জশীট দিয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন। একটি অর্থ আত্মসাতের মামলার দীর্ঘ দেড় বছর তদন্ত করে দুদক। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়ার সুপারিশ করে। দুদকের সভায় এই চার্জশীট অনুমোদিত হয়েছে। সরকারী চাকরী শৃংখলা বিধি অনুযায়ী, এখন ডা: সাইফুল সাময়িক ভাবে বরখাস্ত হবেন।

দুদক সচিব জানিয়েছেন ‘এই চার্জশীট বিচারিক আদালতে জমা দেয়া হবে।’

জানা গেছে বিচারিক আদালত থেকে এর কপি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হলে অভিযুক্ত চাকরী থেকে সাময়িক ভাবে অব্যাহতি পাবেন।

এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন যে ডা. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত চার্জশীটের কপি হাতে পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে সাত ডাক্তারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় চার্জশীট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। আসামিদের মধ্যে সাত ডাক্তার হলেন মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ইসরাত জাহান, সাবেক জুনিয়র কনসালটেন্ট মাহফুজা খাতুন, সাবেক সহকারী কো-অর্ডিনেটর (ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ) চিন্ময় কান্তি দাস, মেডিকেল অফিসার বেগম মাহফুজা দিলারা আখতার, নাজরীনা বেগম, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম ও পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ পারভীন হক চৌধুরী।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চিকিৎসা সহায়তাসহ সংবাদপত্র হকারদের পাশে থাকবে বসুন্ধরা

প্রকাশ: ০৭:৩০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

প্রচন্ড শীত কিংবা ঝড়-বৃষ্টি যা-ই থাকুক, প্রতিদিন সূর্যের আলো ফোটার আগেই জনগণের হাতে পৌঁছে যায় দেশের খবর। কিন্তু প্রতিনিয়ত যারা এই কাজ করেন তাদের খবর রাখে না কেউ। হাজারো কষ্টে কাউকে পাশে পান না তারা। বলছি পত্রিকার সেই নেপথ্যের নায়ক হকারদের কথা। বরাবরের মতো গণমাধ্যমের অন্তরালের এই নায়কদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। দুর্ঘটনা-অসুস্থতাসহ যেকোনো বিপদে সারাদেশের ১৫ হাজারের বেশি হকারের পাশে থাকবে বসুন্ধরা। এছাড়াও কোনো হকারের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে নগদ ১ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বসুন্ধরা গ্রুপের এই ঘোষণাকে যুগান্তকারী বলে মন্তব্য করেছেন সংবাদপত্র হকার্স, এজেন্ট ও সংবাদপত্র পরিবহন সমিতির নেতারা।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব ঘোষণা দেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর।

এর আগে সংবাদপত্র হকার্স, এজেন্ট ও পরিবহন সমিতির নেতারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা-বঞ্চনা ও দাবির কথা বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের কাছে তুলে ধরেন। এসময় ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ বহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, পত্র-পত্রিকা বিতরণকারী বহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিবহন সমিতির নেতাদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। সংবাদপত্রের এজেন্ট এবং হকারসহ পত্রিকার সেবাকর্মীদের পাশে থাকার অঙ্গিকার করে বসুন্ধরা ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, চিকিৎসা সহায়তাসহ যেকোনো প্রয়োজনে সংবাদপত্রসেবী ও হকারদের পাশে থাকবে বসুন্ধরা গ্রুপ। এছাড়া কোনো পত্রিকাসেবী হকারের মৃত্যু হলে ওই পরিবারকে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। যতদিন বসুন্ধরা গ্রুপ থাকবে ততোদিন এই অনুদান চলবে।

হকারদের উদ্দেশ্য বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকেই আমার পরিবারের সদস্যের মতো। হাজারো সমস্যা মোকাবেলা করে আপনারা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মানুষের হাতে পত্রিকা তুলে দেন। তাই যেকোনো প্রয়োজনে আপনাদের পাশে পাবেন আমাকেও।’

বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের এই ঘোষণা শুনে আবেগাপ্লুত রাজধানীতে পত্রিকা বিক্রি করে জীবন চালানো আব্দুস সালাম, হানিফ মিয়া, মোহাম্মদ রফিক ও আবেদ আলী।

তারা বলেন, এতোদিন মনে হতো আমাদের কথা কেউ ভাবে না। এখন মনে হচ্ছে আমাদের জন্য কেউ একজন আছেন। আমাদের চিকিৎসা সহয়তাসহ বিপদে আপদে আমাদের পাশে থাকবে বসুন্ধরা গ্রুপ। আল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি ও তার পরিবারকে ভালো রাখুক। বসুন্ধরার এই উদ্যোগে হকাররা সবাই খুবই আনন্দিত।

বসুন্ধরা এমডির এই ঘোষণাকে যুগান্তকারী মন্তব্য করে ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এর আগে কেউ এভাবে হকারদের পাশে দাঁড়ায়নি। সায়েম সোবহান আনভীরের এই ঘোষণায় আজ ১৫ হাজারেরও বেশি হকারের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘এজেন্ট-হকারদের কাজের কোনো মূল্যায়ন নেই। কাজের সময় কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে, কিংবা অসুস্থ হলেও হকাররা কোনো সহায়তা পান না। শুধু তাই নয়, কর্মরত অবস্থায় কোনো হকার মারা গেলেও অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ায় না কেউ। তাই বসুন্ধরা গ্রপের এই ঘোষণায় সারাদেশের হকাররা খুবই আনন্দিত। এখন নিজেদের কাজ আরও ভালোভাবে করার সাহস ও প্রেরণা পাবেন হকাররা। তারা জেনে গেছেন কোনো বিপদ হলে তার পাশে থাকবে বসুন্ধরা।’

এসময় বসুন্ধরা গ্রুপের পাশের থাকার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিবহন সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন রিন্টু বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে হকারদের বিপদের বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা যেমন হকারদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তেমনি ভবিৎষতে হকাররাও বসুন্ধরার পাশে থাকবে সবসময়।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইষ্ট ওয়েষ্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ও বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ গোলাম ও সার্কুলেশন বিভাগের প্রধান বিল্লাল হোসেন মন্টু প্রমুখ।


বসুন্ধারা   সায়েম সোবহান আনভীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

র‍্যাব নিয়ে ষড়যন্ত্র: উৎসের সন্ধানে

প্রকাশ: ০৭:০১ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

সাম্প্রতিক সময়ে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের দৃশ্যমান উদ্দেশ্য হলো র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করা। আর এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এক ধরনের অমানবিক সরকার হিসেবে উপস্থাপন করা। প্রশ্ন হলো যে, হঠাৎ করেই র‍্যাবকে কেন টার্গেট করা হয়েছে? র‍্যাবের বিরুদ্ধে কেন বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার এবং মিথ্যাচার করা হচ্ছে? প্রথমেই ডিসেম্বর মাসে র‍্যাবর বর্তমান এবং প্রাক্তন সাত কর্মকর্তার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ট্রেজারি বেঞ্চের এই নিষেধাজ্ঞাপত্রে বলা হয়েছে যে, কক্সবাজারে একরাম চৌধুরী নামের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে বিচার বহির্ভূত হত্যার ব্যাপারটিতে তাদের সংশ্লিষ্ট থাকার জন্য তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর নিগ্রহ করার উদ্দেশ্যেই এইরকম বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যে ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারের দেওয়া অভিযোগ এনে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, ওই ব্যক্তি কোনো বিরোধীদলের নেতা নন। তিনি যুবলীগের একজন নেতা ছিলেন। এর পরপরই দেখা যায় যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১২টি সংগঠন জাতিসঙ্ঘে র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সেই  অভিযোগে বলা হয় র‍্যাবকে যেন জাতিসঙ্ঘের শান্তি মিশনে নিষিদ্ধ করা হয়। শান্তি মিশনে কোন ব্যক্তি থাকবে, না থাকবে সেটি জাতিসঙ্ঘ একটি নিজস্ব প্রক্রিয়ার মধ্যে দেয় এবং র‍্যাব একটি গোটা বাহিনী। র‍্যাবের কোনো ব্যক্তি কোনোরকম অপকর্ম বা অপরাধের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। সেটির জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের রীতি র‍্যাবের শৃংখলা বিধিতেই রয়েছে এবং র‍্যাব এধরনের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু একটি ব্যক্তির অপরাধের জন্য পুরো আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীকে নিষিদ্ধ করাটা কোনো যৌক্তিক বিষয় হতে পারেনা এবং এটি কখনোই একটি গ্রহণযোগ্য আবেদন হতে পারেনা। কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই আবেদনটি করেছে। 

এই আবেদনের রেশ কাটতে না কাটতেই ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের একজন সদস্য র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টে। এখন যদি আমরা দেখি যে হঠাৎ করে র‍্যাবের বিরুদ্ধে এরকম আন্তর্জাতিক প্রচারণা করা হচ্ছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদেরকে একটু গভীরে যেতে হবে। বাংলাদেশের এলিট এই ফোর্সটি গঠিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে। র‍্যাব গঠিত হওয়ার পর থেকেই বাহিনীটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কাছে র‍্যাব একটি আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। র‍্যাব যখন আইন-শৃংখলা রক্ষা করার জন্য কঠোরভাবে কাজ করে, তখন কার গাত্র দাহ হয়? আমরা যদি একটু উৎসের সন্ধানে যাই তাহলে লক্ষ্য করবো যে র‍্যাব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রিত দুটি পত্রিকা বিভিন্নভাবে র‍্যাবের বিরোধিতা করছে। র‍্যাবের ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে। এই দুটি পত্রিকার প্রতিবেদন ধরে দেশীয় কিছু এনজিও র‍্যাবের বিরুদ্ধে প্রতিবছর বিভিন্ন রকমের প্রতিবেদন, রিপোর্ট ইত্যাদি প্রকাশ করে। আর এই প্রতিবেদনগুলোই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পাঠানো হয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাব আলোচিত ছিল দুটি কারণে। প্রথমত, জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে র‍্যাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দ্বিতীয়ত, মাদক নিয়ন্ত্রণে র‍্যাবের সাহসী ভূমিকা। আর এই দুটির সঙ্গে যারা যুক্ত তারাই মূলধারার জনপ্রিয় কিছু গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে র‍্যাব সম্পর্কে ক্রমাগতভাবে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির একটা নিরন্তর অপপ্রচার চালিয়েছে এবং যে অপপ্রচারগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা এখন দৃশ্যমান। মূলত যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী যারা জানে যে র‍্যাব থাকা মানেই জঙ্গীবাদমুক্ত বাংলাদেশ, র‍্যাব থাকা মানেই সন্ত্রাসবাদমুক্ত বাংলাদেশ, তারাই র‍্যাবের বিরুদ্ধে এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পিত প্রচারণায় অংশ নিয়েছে কিনা, সেটি খুঁজে দেখা দরকার।

র‍্যাব   আইন শৃঙ্খলা বাহিনী   পুলিশ   জাতিসংঘ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

একজন জাফর ইকবাল স্যার

প্রকাশ: ০৬:০৭ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

একজন শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক কি হওয়া উচিত, তা হাতেনাতে দেখালেন অধ্যাপক মোঃ জাফর ইকবাল। অধ্যাপক মোঃ জাফর ইকবাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়েছেন বেশ কিছু দিন আগে। এখন তিনি একরকম অবসর জীবন যাপনই করছেন। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যে তার আত্মার সম্পর্ক, তার হৃদয়ের সম্পর্ক, তিনি তা আরেকবার প্রমাণ করলেন। ড. জাফর ইকবাল একজন মেধাবী এবং একজন উদ্ভাবনী চিন্তার মানুষ। তিনি চাইলেই বিদেশে অনেক দামী দামী, অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠানে অনেক বেশি বেতনে চাকরি করতে পারতেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং মানুষ গড়ার কারিগর এই মানুষটি অর্থলোভে বিদেশে বিত্তশালী হওয়ার মোহে সেখানে অবস্থান করেননি। তিনি দেশে এসেছেন। দেশে এসেও মোঃ জাফর ইকবালের সামনে অনেকগুলো পথ খোলা ছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে পারতেন। তিনি যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বেতনে চাকরি করতে পারতেন। কিন্তু এসব না করে, তিনি চলে গেলেন হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তখন কেবল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একেবারেই নতুন আনকোড়া। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তিনি যেন সন্তানের মতো লালন করলেন। আজকে যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইমেজ, সেই ইমেজের পেছনে অনেকখানি অবদান আছে এই অসামান্য মানুষটির। তিনি শিক্ষক হিসেবে নয়, ছাত্রদের একজন অভিভাবক হিসেবে কাজ করেছেন। আর এ কারণেই তিনি সবসময় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। শিক্ষার্থীরা তাকে বিশ্বাস করতো এবং তার উপর আস্থা রাখতো। 

প্রশ্ন হলো, মোঃ জাফর ইকবালের কি অভিনবত্ব আছে? কেন তিনি শিক্ষার্থীদের এত আপন করে নিতে পেরেছিলেন? এর উত্তর খুব সহজ। মোঃ জাফর ইকবাল শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে দেখেছেন। শিক্ষার্থীদের তিনি অভিভাবক হিসেবে দেখেছেন। তিনি এবং তার স্ত্রী দুইজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে শিক্ষকদের ভূমিকা কি হওয়া উচিত, সেটি বারবার দেখিয়েছেন। একারণেই শিক্ষার্থীরা তাকে বিশ্বাস করে এবং তাকে অভিভাবক হিসেবে মনে করে। আসলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক এটাই হওয়া উচিত। জাফর ইকবাল অবশ্যই একটি রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনাকে ধারণ করেন, লালন করেন এবং তিনি তার বিশ্বাস প্রকাশে কোনো রকম কার্পণ্য করেন না। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে, তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে, তিনি একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। এজন্য তার জীবনের উপর হুমকিও এসেছে। তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি তার আদর্শ থেকে দূরে থাকেননি। 

একদিকে তিনি যেমন আদর্শে অটল ছিলেন, অন্যদিকে শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে কেবল একজন শিক্ষক। তিনি শিক্ষকদের দলাদলি, কোন্দল ইত্যাদিতে কখনোই মনোযোগী হননি। সবসময় তিনি চেয়েছেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি পবিত্রভূমি, এখানে শিক্ষকদের একমাত্র কাজ হলো তার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষিত করে তোলা। এই কাজটি নিষ্ঠার সাথে পালন করলেই যে একজন শিক্ষক শ্রদ্ধার পাত্র হন, একজন শিক্ষকের কথায় শিক্ষার্থীরা সবকিছু করতে পারেন, তার প্রমাণ হলো আজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন বা অন্যান্য রাজনৈতিকপ্রবণ লেজুড় শিক্ষকরা কি মোঃ জাফর ইকবালের কাছ থেকে কিছু শিখবেন? যারা দলকানা হয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেন, যারা দলকানা হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে অমানবিক আচরণ করেন, যারা চাটুকারিতা করে শিক্ষার মান মর্যাদাকে ভুলন্ঠিত করেন, তাদের জন্য ড. জাফর ইকবাল একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। জাফর ইকবাল যে নতুন কিছু করছেন এটি না, যেকোনো শিক্ষকেরই এই কাজটি করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো আমাদের শিক্ষকেরা অধিকাংশই এই কাজের সাথে যুক্ত না। সেই কারণেই শিক্ষার্থীরা তাদের পদত্যাগ দাবি করে, তাদের কুশপুত্তলিকা জ্বালায়। যদি সত্যিকারের শিক্ষকের মতো কেউ শিক্ষক হন, তবে তিনি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা পাবেনই। একজন জাফর ইকবাল সেটি আবার প্রমাণ করলেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়   ছাত্র আন্দোলন   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পাবনা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতার্তদের মাঝে এফডিএসআরের কম্বল, মাস্ক ও খাবার বিতরণ

প্রকাশ: ০৫:৫৫ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর) এর উদ্যোগে পাবনা জেলার মানিকহাট, রাঘবপুর, মাছপাড়া, বোনকোলা, ও উলাট গ্রামে দুই শতাধিক দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল, মাস্ক এবং খাবার বিতরণ করা হয়। 

আজ (২৬ জানুয়ারি) সকাল দশটায় এফডিএসআর পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। 

উক্ত অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেছে এফডিএসআর স্টুডেন্টস উইংয়ের রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং রংপুরের সদস্যবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটা মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় করেন এফডিএসআর স্টুডেন্টস উইংয়ের মডারেটর শাকিলা দিল আফরোজ মিষ্টি। 

আগের দিন যখন গ্রহীতাদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছিল, তখন থেকেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের এইসব শীতার্ত মানুষের মধ্যে সাড়া পড়ে গিয়েছিলো। সকালে অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিল। অনুষ্ঠানে প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বক্তারা মহৎ কর্মের জন্য এফডিএসআরকে ধন্যবাদ জানান। গণমানুষের স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারে এফডিএসআর গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলেও বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সকল চিকিৎসকদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। 

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রিন্সিপাল মো. রাজা মিয়া ,হাই স্কুলের  শিক্ষক আব্দুর রউফ,  প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা শিরিন আক্তার,  স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা আব্দুল হানিফ প্রামাণিক, দাউদ শেখ, মজিদ খান, প্রমুখ । 

এফডিএসআর এবং এফডিএসআর স্টুডেন্টস উইংয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, আল ফয়সাল ইমন, মোঃ সোয়ায়েব হোসেন, মোঃ ফাহাদ, আনান ইসলাম, ডা. মো. মেহেদী হাসান, মো. সফল, মো. আরাফাত পারভেজ, মোছা: নাবিলা, এবং ডা.মো. অভি।

এফডিএসআর   শীত বস্ত্র   মাস্ক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মোদিকে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা

প্রকাশ: ০২:৪৭ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ভারতের ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান শেখ হাসিনা। 

শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আপনাকে এবং ভারতের জনগণকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

গত বছর ছিল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক বছর। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মার্চে আপনার (মোদি) ঢাকা সফরের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। এসব উপলক্ষগুলোতে আপনার (মোদি) উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি আমাদের চলমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করেছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী লিখেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সরকার এবং জনগণ যে সমর্থন দিয়েছিল তা আমাদের অনন্য সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। ১৯৭১ সালে যখন ভারত বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ৬ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী মৈত্রী দিবসের যৌথ উদযাপন এই বিশেষ সম্পর্ককে তুলে ধরেছে।

শেখ হাসিনা আরও লিখেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং আস্থার জায়গা আরও শক্তিশালী থেকে শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে করোনা মহামারি চলাকালীন সময়েও আমাদের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে।

আগামী ৫০ বছর দুই দেশ শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে একযোগে এগিয়ে যাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ভারতের সংবিধান কার্যকর হয়। তাই এই দিনটিকে ভারত প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। 

বাংলাদেশ   শেখ হাসিনা   ভারত   নরেন্দ্র মোদি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন