ইনসাইড বাংলাদেশ

আনিসুল হক: একজন স্বপ্নবাজ নগরপিতা

প্রকাশ: ০৮:১৭ এএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail আনিসুল হক: একজন স্বপ্নবাজ নগরপিতা

নগর জীবনে একটু প্রশান্তি, একটু সহজ করতে তিনি কাজ করে গেছেন ক্রমাগত। নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। অনিয়মের বিরুদ্ধে হয়েছেন পাহাড়ের মতো দৃঢ়। তারুণ্যের উদ্দীপনায় কাজ করেছেন। শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের মানুষের প্রিয়মুখ ছিলেন। ছিলেন সফল উদ্যোক্তা এবং দর্শকপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি এক স্বপ্নবাজ নগরপিতা প্রয়াত আনিসুল হক। আজ তার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী।

আনিসুল হক জন্মেছিলেন ১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জে। নোয়াখালীর ছেলেটিই স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজধানী ঢাকাকে বদলে দেওয়ার। ব্যবসায়ী থেকে হয়ে উঠেছিলেন ঢাকার নগরপিতা। ফেনীর সোনাগাজীর নানাবাড়িতে শৈশব কেটেছে তার। আর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

আনিসুল হকের কর্মজীবন শুরু হয় টেলিভিশনে উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে। ১৯৮০ সালে টেলিভিশনে উপস্থাপক হিসেবে অভিষেক হয় তার। ১৯৯০-এর দশকে বিনোদন জগতে বেশ পরিচিতি লাভ করেন। আশির দশকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আনিসুল হক। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। ১৯৮৬ সালে গড়ে তোলেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদী গ্রুপ’। ২০০৭ সালের জরিপ অনুযায়ী মোহাম্মদী গ্রুপে কাজ করছেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ।

২০০৫ সালে আনিসুল হক বিজিএমইএ’র সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ২০০৬ সাল পর্যন্ত। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিআইপিপিএ’রও সভাপতি ছিলেন।

২০১৫ সালে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন আনিসুল হক। তিনি চেয়েছিলেন একটি পরিকল্পিত ঢাকা গড়ে তুলতে। সে কারণেই রাজনীতিতে নামেন। ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন লাভ করেন। নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকার একাংশের মেয়র নির্বাচিত হন। খুব দ্রুত পৌঁছে যান মানুষের কাছে। উত্তর সিটির উন্নয়নে বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ নেন। মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়ক দখলমুক্ত করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ চালকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরে তার নেতৃত্বে ডিএনসিসি ঐ সড়ক দখলমুক্ত করে। বছরের পর বছর অবৈধ ট্রাক স্টান্ডের কাছে জিম্মি এলাকাটি উদ্ধারে তার পদক্ষেপে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই তিনি ঢাকা শহর থেকে সব বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেন, যা নগরবাসীর কাছে ছিল অবিশ্বাস্য। শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহনের যানবাহনে রাস্তা দখল ছিল। ফলে দীর্ঘসময় যানজটে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তিনি শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত রাস্তা গতিময় করে তোলেন। 

দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করেন নগরীর পার্কগুলো। পথচারী নাগরিকদের জন্য নগরীজুড়ে নির্মাণ করেন আধুনিক টয়লেট। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় বিশেষ রঙের রিকশা এবং ‘ঢাকা চাকা’ নামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস সেবা চালু করেন মেয়র আনিসুল হক। বিমানবন্দর সড়কে যানজট কমাতে মহাখালী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে ইউলুপ করার উদ্যোগ নেন আনিসুল হক।  এছাড়াও ঢাকার খালগুলো উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। তার নির্দেশে বনানীর ২৭ নম্বরে যুদ্ধাপরাধী মোনায়েম খানের বাড়ি বাগ এ মোনয়েম-এর অবৈধ দখলে থাকা অংশ উদ্ধার করে সড়ক প্রশস্ত করা হয়। স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সবুজ ঢাকার। এ জন্য ৫ লাখ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

২০১৭ সালের ২৯ জুলাই সপরিবারে যুক্তরাজ্যে সফরে যান আনিসুল হক। সেখানেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৩ আগস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা যায় মস্তিষ্কের রক্তনালি প্রদাহের সমস্যায় (সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস) ভুগছেন তিনি। সেখানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়। ৩১ অক্টোবর অবস্থার উন্নয়ন হলে আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ২৮ নভেম্বর ফের আনিসুল হকের অবস্থার অবনতি হয়। রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার থেকে তাকে আবার আইসিইউতে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ৩০ নভেম্বর, বাংলাদেশ সময় তখন রাত ১০টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে আনিসুল হকের মৃত্যু হয়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

১৫ জানুয়ারির মধ্যেই গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচন: ইসি

প্রকাশ: ০৩:০১ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রাশিদা সুলতানা।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এই কথা জানান তিনি। চলতি সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করা হবে বলেও জানান ইসি রাশিদা সুলতানা।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর (বুধবার) অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধের ঘোষণা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন

প্রকাশ: ০১:৪৭ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এজন্য কোস্টগার্ডের সেন্টমার্টিন স্টেশনে একটি অত্যাধুনিক ড্রোন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ডকেও ড্রোনসমৃদ্ধ করা হচ্ছে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির আগের বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। রোববারের বৈঠকে ওই সুপারিশের অগ্রগতি জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সীমান্তে নজরদারি ও সার্বিকভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিজিবিতে ড্রোন/ইউএভি সংযোজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, এ বছরের জুনে কোস্টগার্ড দুটি অত্যাধুনিক ও উন্নত ফিচারসমৃদ্ধ ফটোগ্রাফি ড্রোন কিনেছে। ভাসানচরে একটি এবং মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কোস্টগার্ডের সেন্টমার্টিন স্টেশনে আরেকটি ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। 

বৈঠকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, সীমান্তে উত্তেজনার কারণে চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকার জনসাধারণের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পর্যটকরাও ওই অঞ্চলে যেতে ভয় পাচ্ছেন। 

তিনি বলেন, আপস চিন্তা বাদ দিয়ে কাউন্টার গুলির মাধ্যমে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিতে হবে। 

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মিয়ানমার থেকে যাতে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে-প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান। 

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, সীমান্তে ড্রোন দিয়ে নজরদারি করার সুপারিশ করেছিল কমিটি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ও একমত হয়। বর্তমান ভাসানচরসহ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি চলছে। বিজিবির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে।

কমিটির আগের বৈঠকের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৩০০ ফুট (পূর্বাচল রোডে) এলাকার কাশবনসহ জঙ্গল পরিষ্কার করে ডাকাতি বন্ধে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে ট্যুরিস্ট পুলিশ বা শিল্প পুলিশের আদলে পূর্ণাঙ্গ সাইবার ক্রাইম ইউনিট খোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। আগারগাঁও এবং বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে সিনিয়র সিটিজেনসহ অন্য বিশেষায়িত ব্যক্তিদের জন্য আলাদা বুথ স্থাপন ও যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।


সীমান্ত পরিস্থিতি   মিয়ানমার   ড্রোন   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০১:০৫ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করা নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলাম। তখনও অনেকে মুচকি হেসেছিল। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ সারা বিশ্বের কাছে একটা দৃষ্টান্ত। আজ গ্রামে বসে ছেলে-মেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং করে ডলার আয় করে। এই সুযোগটা আমরা করে দিয়েছি।

আজ সোমবার সকালে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স- ২০২২ ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স -২০২২ এর গ্রাজুয়েশন সেরেমনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম নিজের অর্থে পদ্মা সেতু করব। তখন অনেকে বলেছে এটা কখনও সম্ভব না। অনেক দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে যখন আলোচনা করেছি তারা বলেছে, এটা সম্ভব না। অসম্ভবকে সম্ভব করা এটাই বাঙালির চরিত্র। এটা আমরা করতে পারব, আমরা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমার ও আমার পরিবারের সকলের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

গুজব ছড়িয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি মহল বিভ্রান্ত করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশ যখন শান্তিপূর্ণভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কিছু মানুষ তা পছন্দ করছে না। দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে সরকার, অন্যথায় স্বাধীনতার চেতনা ধরে রাখা যেতো না। জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। বঙ্গবন্ধু আমাদের একটা প্রতিরক্ষা নীতিমালা দিয়ে গেছেন, সেখানে বলা আছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। বাংলাদেশই একটি দেশ পৃথিবীতে, যে দেশ প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছে এবং আমরা তা ধরে রাখতে পেরেছি। আমরা সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি, কারণ যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তি চাই।


প্রধানমন্ত্রী   ডিজিটাল বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শেষমেশ পুলিশ প্রটোকলে বিদায় ইউএনও মাশফাক

প্রকাশ: ১২:৩৭ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

শেষমেশ পুলিশ প্রটোকলে বিদায় নিতে হয়েছে রাঙ্গাবালীর নানা খাতের সরকারী অর্থ আত্মসাৎ এবং একাধিক ঘটনায় বিতর্কিত রাঙ্গাবালী ইউএনও মাশফাকুর রহমান। গত শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙ্গাবালী উপজেলা চত্বর থকে পুলিশ প্রটোকলে তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছরিয়ে পরেছে। 

এর আগে ইউএনও মাশফাক শরিয়তপুরের এডিসি হিসেবে পদন্নোতি পেলেও নানা কারণে তাকে অবমুক্ত করেনি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। 

অপরদিকে গত ২১ সেপ্টেম্বর ইউএনওকে নিয়ে একটি র্শীষগনমাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ হলে ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের এপিডি অনুবিভাগে ন্যস্ত করা হয়। 

কিন্তু ইউএনও যথাযথ ভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি অবমুক্ত হয়নি। সর্বশেষ ১ ডিসেম্বর তাকে অবমুক্ত করেন ডিসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন। 

এদিকে র্দীঘদিন রাঙ্গাবালী উপজেলায় ইউএনও ও এ্যাসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করেও পুলিশ প্রটোকলে বিদায় নেয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বলেন-রাঙ্গাবালী উপজেলার ৯টি হাট-বাজারের বিপরীতে খাস টোল আদায়কৃত তিন বছরের অন্তত চার কোটি টাকা কোষাগারে জমা না দিয়ে ইউএনও তার সাঙ্গপাঙ্গরা আত্মসাৎ করেন।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মান না করে অর্থ আত্মসাৎ, নিজ কার্যালয়ের কর্মচারীকে মারধোরসহ নানা অভিযোগের ঘটনায় তদন্তে সত্যতা পেয়েছে জেলা প্রশাসন। 

এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাঠায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। 

ইউএনও কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে ডিসির পাঠানো ওই সুপারীশ প্রতিবেদনে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সুপারিশ করেছেন বলে নিশ্চিৎ করেন জেলা প্রশাসন। ডিসির পাঠানো ওই প্রতিবেদনে আরও একাধিক অভিযোগ উল্লেখ করেছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। 

অপরদিকে মুজিব বর্ষের ঘর নির্মানে ইউএনওর নিয়োগ ঠিকাদার মাইদুল ইসলাম শাওনের অভিযোগ সংক্রান্ত ঘটনায় নিস্পত্তি করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। ডিসির কাছে শাওনের দেয়া অভিযাগের ঘটনায় একাধিকবার সাক্ষ্য নিয়েও জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে-মুজিব বর্ষের ঘর নির্মানের কাজ দিতে রাঙ্গাবালী উপজেলা ছোটবাইশদা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মিন্টুর কাছ থেকে এক গনমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা নেয় ইউএনও। যে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে দেয়নি। বড়বাইশদা ইউনিয়নের সাকুর মৃধা বলেন-মুজিব বর্ষের ঘর পেতে এলাকার দুস্থ্য পরিবারের কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাসনাত আব্দুল্লাহর মাধ্যমে ইউএনওকে দেন তিনি। ঘর না পেয়ে ভুক্তভোগীরা আমাকে টাকার জন্য চাপ দিলেও ইউএনও এরকাছ থেকে তিনি ওই টাকা উঠাতে পারেনি। 

বড়বাইশদা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন,মুজিব বর্ষের ঘর বাবদ ইউএনওর কাছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়া ছিল। রাঙ্গাবালী থেকে বিদায় নেয়ার আগমূহুর্তে তিনি ২০ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে বাকি টাকা পরে শোধ করবে বলে করেনি। 

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন,রাঙ্গাবালীর বাহেরচর বাজারে খাস জমিতে তার একটি মেরামতযোগ্য দোকানঘর ছিল। ওই জমির ডিসিআর নিতে ইউএনওকে এক লাখ টাকা দেন তিনি। কিন্তু ইউএনও তাকে ডিসিআর দেয়নি এবং টাকাও ফেরত দেয়নি। টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে তিনি শুক্রবার পুলিশ প্রটোকলে রাঙ্গাবালী থেকে বিদায় নেন ইউএনও। 

চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হানিফ মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া বলেন,মুজিব বর্ষের ঘর দেয়া কথা বলে তার বাবার কাছ থেকে ইউএনও দুই লাখ টাকা নেয়। পরে ঘরও দেয়নি,টাকাও ফেরত দেয়নি। 

রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মটরসাইকেল চালক হিরন হাওলাদার বলেন,মুজিব বর্ষের ঘর নির্মান বাবদ ইউএনওর ১ লাখ ৫৮ টাকা পেতেন। শুক্রবার ইউএনও চলে যাওয়ার সময় ওই টাকা চাইলে অফিসের নাজির মিরাজুল ইসলাম পরিশোধ করবে বলে হিরনকে আশস্থ  করেন ইউএনও। 

রাঙ্গাবালী থানার ওসি নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন,উপজেলা পরিষদের একটি মাত্র গাড়ী,যেটা নিয়ে এ্যাসিল্যান্ড মহোদরে কাছে। ইউএনও মহোদয় উপজেলা পরিষদ থেকে মটরসাইকেল যোগে কোড়ালিয়া লঞ্চঘাটে রওনা দিয়েছেন। তাই আমি তাকে আমার গাড়ীতে তাকে পৌছে দিয়েছি। পুলিশ প্রটোকলে বিদায় নিয়েছেন এটা সত্য নয়। রাঙ্গাবালী এ্যাসিল্যান্ড সালেক মুহিদ বলেন,এখানে একটি মাত্র গাড়ী। সেটা সাময়িক ভাবে বিকল থাকায় চালক আমার সঙ্গে রয়েছে। তাই ইউএনও স্যার গাড়ী দিতে পারিনি। পুলিশ প্রটোকলে বিদায় নেয়ার কথা গুজব। 

এদিকে র্দীঘদিন একই স্থানে চাকুরি করার পরও ইউএনও মাশফাকুর রহমানকে নিয়ে কোনো বিদায়ী সংবর্ধনা হয়নি। তার বিদায় বেলাতে উপজেলা চত্বরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল বলে দাবি উপজেলা পরিষদের একধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। 

ইউএনও  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বুড়িগঙ্গা থেকে তরুণের লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার ২

প্রকাশ: ১২:৩২ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

রাজধানীর বুড়িগঙ্গায় অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে নৌ-পুলিশ। গত রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার সকালে নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বসিলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি বুড়িগঙ্গায় অর্ধগলিত একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যার আলামত উদ্ধার করা হয়।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন