ইনসাইড বাংলাদেশ

আনিসুল হক: একজন স্বপ্নবাজ নগরপিতা

প্রকাশ: ০৮:১৭ এএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail আনিসুল হক: একজন স্বপ্নবাজ নগরপিতা

নগর জীবনে একটু প্রশান্তি, একটু সহজ করতে তিনি কাজ করে গেছেন ক্রমাগত। নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। অনিয়মের বিরুদ্ধে হয়েছেন পাহাড়ের মতো দৃঢ়। তারুণ্যের উদ্দীপনায় কাজ করেছেন। শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের মানুষের প্রিয়মুখ ছিলেন। ছিলেন সফল উদ্যোক্তা এবং দর্শকপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি এক স্বপ্নবাজ নগরপিতা প্রয়াত আনিসুল হক। আজ তার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী।

আনিসুল হক জন্মেছিলেন ১৯৫২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জে। নোয়াখালীর ছেলেটিই স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজধানী ঢাকাকে বদলে দেওয়ার। ব্যবসায়ী থেকে হয়ে উঠেছিলেন ঢাকার নগরপিতা। ফেনীর সোনাগাজীর নানাবাড়িতে শৈশব কেটেছে তার। আর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

আনিসুল হকের কর্মজীবন শুরু হয় টেলিভিশনে উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে। ১৯৮০ সালে টেলিভিশনে উপস্থাপক হিসেবে অভিষেক হয় তার। ১৯৯০-এর দশকে বিনোদন জগতে বেশ পরিচিতি লাভ করেন। আশির দশকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আনিসুল হক। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। ১৯৮৬ সালে গড়ে তোলেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদী গ্রুপ’। ২০০৭ সালের জরিপ অনুযায়ী মোহাম্মদী গ্রুপে কাজ করছেন প্রায় ৭ হাজার মানুষ।

২০০৫ সালে আনিসুল হক বিজিএমইএ’র সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ২০০৬ সাল পর্যন্ত। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিআইপিপিএ’রও সভাপতি ছিলেন।

২০১৫ সালে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন আনিসুল হক। তিনি চেয়েছিলেন একটি পরিকল্পিত ঢাকা গড়ে তুলতে। সে কারণেই রাজনীতিতে নামেন। ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন লাভ করেন। নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকার একাংশের মেয়র নির্বাচিত হন। খুব দ্রুত পৌঁছে যান মানুষের কাছে। উত্তর সিটির উন্নয়নে বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ নেন। মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়ক দখলমুক্ত করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ চালকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরে তার নেতৃত্বে ডিএনসিসি ঐ সড়ক দখলমুক্ত করে। বছরের পর বছর অবৈধ ট্রাক স্টান্ডের কাছে জিম্মি এলাকাটি উদ্ধারে তার পদক্ষেপে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যেই তিনি ঢাকা শহর থেকে সব বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেন, যা নগরবাসীর কাছে ছিল অবিশ্বাস্য। শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহনের যানবাহনে রাস্তা দখল ছিল। ফলে দীর্ঘসময় যানজটে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তিনি শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত রাস্তা গতিময় করে তোলেন। 

দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করেন নগরীর পার্কগুলো। পথচারী নাগরিকদের জন্য নগরীজুড়ে নির্মাণ করেন আধুনিক টয়লেট। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় বিশেষ রঙের রিকশা এবং ‘ঢাকা চাকা’ নামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস সেবা চালু করেন মেয়র আনিসুল হক। বিমানবন্দর সড়কে যানজট কমাতে মহাখালী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে ইউলুপ করার উদ্যোগ নেন আনিসুল হক।  এছাড়াও ঢাকার খালগুলো উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। তার নির্দেশে বনানীর ২৭ নম্বরে যুদ্ধাপরাধী মোনায়েম খানের বাড়ি বাগ এ মোনয়েম-এর অবৈধ দখলে থাকা অংশ উদ্ধার করে সড়ক প্রশস্ত করা হয়। স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সবুজ ঢাকার। এ জন্য ৫ লাখ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

২০১৭ সালের ২৯ জুলাই সপরিবারে যুক্তরাজ্যে সফরে যান আনিসুল হক। সেখানেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৩ আগস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা যায় মস্তিষ্কের রক্তনালি প্রদাহের সমস্যায় (সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস) ভুগছেন তিনি। সেখানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়। ৩১ অক্টোবর অবস্থার উন্নয়ন হলে আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ২৮ নভেম্বর ফের আনিসুল হকের অবস্থার অবনতি হয়। রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার থেকে তাকে আবার আইসিইউতে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ৩০ নভেম্বর, বাংলাদেশ সময় তখন রাত ১০টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে আনিসুল হকের মৃত্যু হয়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশ: ০৯:০৯ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীর বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া) শাজাহান শিকদার। 

তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত জানার জন্য ফায়ার সার্ভিসের তরফ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি করা হয়েছে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে, তিনি ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স শাখার পরিচালক। সদস্য সচিব হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগ উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিনকে। সদস্য হিসেবে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জোনের ডিএডি, সিনিয়র স্টেশন অফিসার এবং ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর।


বেইলি রোড   আগুন   তদন্ত কমিটি গঠন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নতুন ডিজি নিয়োগ দিল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

প্রকাশ: ০৮:৪৫ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে ডা. মো. রেয়াজুল হককে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) তাকে এ নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) থাকা ডা. এমদাদুল হক তালুকদার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ায় নতুন ডিজি নিয়োগ দেওয়া হয়।

১৯৯৩ সালে বিসিএস পশুসম্পদ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন ডা. মো. রেয়াজুল হক। তিনি এর আগে ডিপিসির মাধ্যমে এবং সর্বশেষ সুপ্রিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদের দায়িত্ব পালন করেন।


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর   ক্যাডার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বেইলি রোডে আগুন, মরদেহ হস্তান্তর শুরু

প্রকাশ: ০৮:৩৩ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবনে আগুনে নিহতদের মরদেহ ভোর ৫টা ৪১ মিনিটে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দুইটার পর থেকে ঢাকা জেলা প্রশাসন লাশ হস্তান্তরের জন্য নিহতদের স্বজনদের তথ্য চান। তথ্য সংগ্রহ সাপেক্ষে মরদেহ শনাক্তের পর লাশ হস্তান্তর শুরু হয়।

স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের তথ্য রয়েছে। রাতেই ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। এরপর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিহতদের স্বজনেরা যাদের শনাক্ত করেছেন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বেইলি রোডে একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। এতে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন।

এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


ঢাকা জেলা প্রশাসন   আগুন   বেইলি রোড  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সংগ্রামী জনতার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা অগ্নিঝরা ১ মার্চ ১৯৭১

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালের এই অগ্নিঝরা মার্চেই। অগ্নিঝরা মার্চের দিনগুলো ছিল বাংলার সংগ্রামী জনতার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় শামিল হওয়ার ক্ষণ। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান, ১ মার্চ দুপুর ১টা ৫ মিনিটে আসন্ন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন।

এদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বেতার ভাষণে ইয়াহিয়া খান বলেন, 'পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি আগামী ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা যেহেতু জাতীয় পরিষদের অধিবেশন পরিহার করতে চেয়েছেন সুতরাং জাতীয় পরিষদই ভেঙে যেতে পারত। এরপরও আমরা যদি ৩ মার্চ উদ্বোধনী অধিবেশনের জন্য এগিয়ে যাই তাহলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সমগ্র চেষ্টাই নষ্ট হয়ে যেত।'

'সংবিধান রচনায় একটি যুক্তিসঙ্গত বোঝাপড়ায় আসার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের আরও সময় দেওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। পাকিস্তানের কয়েকটি দলের কঠোর মনোভাব ছাড়াও ভারত যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তার ফলে সমস্ত ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং আমি পরবর্তী ১ তারিখের জন্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'

এর আগে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেছিলেন। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় পরিষদের বৈঠকে ছয় দফা ভিত্তিক শাসনতন্ত্র রচনা করার কথা বললেও ভুট্টো আরও আলোচনার কথা বলেছিলেন। তিনি চান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে হোক। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের তারিখ ঠিক করেছিলেন।

১৫ ফেব্রুয়ারি পিপিপি চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেছিলেন, 'আওয়ামী লীগ যদি তাদের ৬ দফার ব্যাপারে আপস বা পরিবর্তন করা না করে তবে আমরা জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বসতে পারি না।' ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ইয়াহিয়া খান এবং জুলফিকার আলী ভুট্টোর এবং মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে বলেন, 'শেখ মুজিব যদি শর্ত না মানে তবে আমরা কোনভাবেই অধিবেশনে যোগ দিতে পারি না।'

১ মার্চ বেতারে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কর্তৃক জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণার খবরে রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষুব্ধ মানুষ। সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা স্টেডিয়ামে চলমান আন্তর্জাতিক একাদশ এবং বিসিসিপির মধ্যকার ক্রিকেট ম্যাচটি বন্ধ হয়ে যায়। স্টেডিয়ামের দর্শকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। মিছিলের নগরীতে পরিণত হয় ঢাকা। বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রাস্তায় নেমে আসেন।

অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম কালো দিন। এই সিদ্ধান্ত জন বিরুদ্ধ ও প্রতিহিংসামূলক। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে চক্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'

এদিকে ছাত্র জনতা তখন মিছিলে নিয়ে হোটেল পূর্বাণীর দিকে জড়ো হয়। হোটেল পূর্বাণীতে চলছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি পার্টির সদস্যদের বৈঠক। যেখানে ৬ দফা দাবির উপর ভিত্তি করে শাসনতন্ত্রের খসড়া প্রণয়নের কাজ চলছিল। এরই মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল পৌঁছে হোটেল পূর্বাণীর সামনে। বাইরে তখন স্লোগানের পর স্লোগান দিচ্ছিল সাধারণ জনতা। পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কর্তৃক জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেন। এসময় তিনি বলেন, 'শুধু সংখ্যালঘিষ্ঠ দলের সেন্টিমেন্টের জন্য অধিবেশন স্থগিত রাখা হইয়াছে এবং আমরা উহা নীরবে সহ্য করতে পারি না। ইহার দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রায় ব্যর্থ হইয়াছে। পরিষদ অধিবেশনের জন্য সারা বাংলাদেশের সকল সদস্যই ঢাকায় ছিলেন। জনাব ভুট্টো ও জনাব কাউয়ুম খানের দল ছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানি সকল সদস্যই অধিবেশনে যোগ দিতে রাজি ছিলেন।'

একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেন, 'বাংলার মানুষ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে।' একই সঙ্গে তিনি ২ মার্চ সমগ্র ঢাকায় এবং ৩ মার্চ দুপুর ২টা পর্যন্ত সমগ্র বাংলায় হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত এবং একই সঙ্গে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভার ঘোষণা দেন। তিনি একই সঙ্গে বলেন আগামী ৭ মার্চ জনসভাতেই তিনি পরবর্তী পরিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করবেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

১ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি প্রেরণ করা হয়। একই সঙ্গে এদিন রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে পরবর্তী কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

১ মার্চ পাকিস্তান মুসলিম লীগের (কাইয়ুম পন্থী) প্রধান খান আবদুল কাইয়ুম খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণাকে সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করলে দলের সাধারণ সম্পাদক খান এ সবুর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

১ মার্চ সন্ধ্যায় পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) নেতারা জাতীয় পরিষদ অধিবেশনের প্রতিবাদে ২ মার্চ যে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছিল প্রেসিডেন্টের পরিষদ অধিবেশন স্থগিতের নতুন বিবৃতির পর তা প্রত্যাহার করে নেয়।

১ মার্চ রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান খ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহেবজাদা এম এম ইয়াকুব খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। এদিন গভীর রাতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহেবজাদা এম এম ইয়াকুব খান ১১০ নম্বর সামরিক আইন আদেশ জারি করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাকিস্তানের সংহতি বা সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী সংবাদ, খবর, মতামত এবং আলোকচিত্র প্রকাশের বিষয়ে সংবাদপত্রের উপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে তিনি আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তি স্বরূপ ২৫ নম্বর সামরিক আইনবিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে বলে ঘোষণা করেন।


অগ্নিঝরা   ১ মার্চ ১৯৭১   ইয়াহিয়া খান   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রাজধানীর বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৫

প্রকাশ: ০৭:৪৪ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীর বেইলি রোডে রেস্টুরেন্টের ভবনে আগুনের লাগার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৫ জন। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

ধারণা করা হচ্ছে, বহুতল ভবনের একটি ফ্লোরে থাকা রেস্টুরেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়েভয়ংকর পরিস্থিতির তৈরি হয়।

রেস্টুরেন্টে আসা শতাধিক মানুষ আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকে। বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভবনে আটকে পড়ে যায় রেস্টুরেন্টে খেতে আসা মানুষরা।

আগুনের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট।

তবে উৎসুক জনতার ভিড়ে ফায়ার সার্ভিসকে কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে। এতে নারীসহ অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওই ভবন থেকে ৭০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র‍্যাব। মোতায়েন করা হয়েছে ৩ প্লাটুন বিজিবি ও আনসার।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন জানান, বেইলি রোডের কেএফসি ভবনের পাশে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ভবনে আগুন লাগার খবর আসে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে।

খবর পেয়ে প্রথমে চার ইউনিট, পরে আরও চারটি ইউনিট পাঠানো হয়। এরপর আরও চারটি ইউনিট কাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে মোট ১৩টি ইউনিট।

রাত পৌনে ১১টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যেই একের পর এক আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে থাকে ফায়ার সার্ভিস। বিভিন্ন ফ্লোরে খাবার খেতে আসা মানুষদের অনেকেই ছাদে গিয়ে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিস মই দিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। ভেতরে আটকে থাকা অনেকেই ধোঁয়ার কারণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। রাত ১২টা পর্যন্ত ওই ভবন থেকে ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

ওই ভবনের ছাদ থেকে উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তি জানান, ছাদে অনেক মানুষ আটকা আছে।

এদিকে, আগুনের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ভবনটির সামনে ভিড় করতে শুরু করেন ভেতরে আটকে পড়াদের স্বজনরা। অনেকেই স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে কান্না করতে থাকেন। দেখা যায় নিখোঁজ স্বজনদের ছবি নিয়ে ছোটাছুটি করছেন অনেকেই।


বেইলি রোড   অগ্নিকাণ্ড   নিহত  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন