ইনসাইড বাংলাদেশ

জাতীয় আয়কর দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮:২০ এএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail জাতীয় আয়কর দিবস আজ

আজ (৩০ নভেম্বর) জাতীয় আয়কর দিবস। ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, সবাই মিলে দেব কর’ স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবার সারাদেশে দিবসটি উদযাপন করছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘কর আহরণে করদাতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মুজিববর্ষের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন’।

২০০৮ সাল থেকে দেশে আয়কর দিবস উদযাপিত হচ্ছে। আগে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর দিবসটি উদযাপিত হতো। তবে ২০১৬ সাল থেকে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস পালন করছে এনবিআর। এদিন ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়ারও শেষ দিন।
 
নির্ধারিত সময়ের পর দুই শতাংশ হারে বিলম্ব সুদ গুনতে হবে করদাতাদের। তবে বিলম্ব সুদ পরিশোধ করে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে করদাতারা ইচ্ছে করলে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়ে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট উপ কর কমিশনার বরাবর আবেদন করা হলে তিনি করদাতাকে দুই মাস পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিতে পারেন।

চলমান বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে জনসমাগমের ঝুঁকি বিবেচনায় ১৪তম আয়কর দিবসে র‍্যালি করছে না এনবিআর। তবে দিবসটি উপলক্ষে সব আয়কর অফিস সজ্জিত করা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।

৩০ নভেম্বর বেলা ১১টায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে ‘রূপকল্প বাস্তবায়ন ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আয়করের ভুমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতীয় আয়কর দিবসে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা করেছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিশেষ আয়োজন রেখেছে।
 
বর্তমানে দেশের প্রায় ৬৮ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ লাখের মতো টিআইএনধারী নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দেন বলে জানা গেছে। করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণে এবার এক ছাদের নিচে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে দেশের ৩১টি কর অফিসে গত ১ নভেম্বর থেকে মেলার পরিবেশে করদাতাদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বেইলি রোডে আগুনে নিহত ৪৫, শনাক্ত হয়নি ৬ জনের মরদেহ

প্রকাশ: ১০:১৬ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে ৩৯ জনের। বাকি ছয় জনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। 

শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের ঢাকা জেলা প্রশাসনের অস্থায়ী তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। 

ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম. হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ জনে। এখন পর্যন্ত ৩৯ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হয়নি ছয় জনের মরদেহ।

তিনি আরও বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন ২১ জন। আর সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ২৯ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। এতে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


বেইলি রোড   আগুন   নিহত   মরদেহ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

অন্যদের বাঁচাতে নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করলেন রেস্টুরেন্টের ক্যাশিয়ার-ওয়েটার

প্রকাশ: ০৯:৫৯ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

মোহাম্মদ আলতাফ নামের এক রেস্টুরেন্ট কর্মী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘তার দুই সহকর্মী ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। যারা অন্যদের ভবন থেকে বের হতে সাহায্য করেছিলেন; কিন্তু অন্যরা বের হয়ে যেতে সমর্থ হলেও তারা নিজেরা বাঁচতে পারেননি।’

আলতাফ আরও বলেছেন, ‘যখন সামনে আগুন লাগে এবং কাঁচ ভেঙে যায়, আমাদের ক্যাশিয়ার এবং ওয়েটার সবাইকে বের হতে সাহায্য করে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা দু’জনই মারা যায়। আমি রান্নাঘরে যাই এবং একটি জানালা ভেঙে লাফ নিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাই।’

এদিকে, ফায়ার সার্ভিস ধারণা করছে, বহুতল ভবনের একটি ফ্লোরে থাকা কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

মুহূর্তেই সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রেস্টুরেন্টে আসা শতাধিক মানুষ আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকে। বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভবনে আটকে পড়ে যায় খেতে আসা মানুষরা।

আগুনের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস। ১৩টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। তবে উৎসুক জনতার ভিড়ে ফায়ার সার্ভিসকে কাজ করতে বেগ পেতে হয়েছে। এতে নারীসহ অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওই ভবন থেকে ৭০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র‍্যাব। মোতায়েন করা হয়েছে ৩ প্লাটুন বিজিবি ও আনসার।


বেইলি রোড   আগুন   ফায়ার সার্ভিস   ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে প্রতি ইউনিটে সাড়ে ৮ শতাংশ

প্রকাশ: ০৯:৫৬ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

গ্রাহক পর্যায়ে আবারও বাড়ল বিদ্যুতের দাম। গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দর অনুসারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে বেড়েছে ৭০ পয়সা। 

নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের নতুন দাম নির্ধারণ করে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বিদ্যুতের দাম বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণিতে ভাগ করে নির্ধারণ করা হয়। এতে যারা কম ব্যবহার করেন, তারা সরকারের ভর্তুকি বেশি পান। আর যারা বেশি ব্যবহার করেন, তারা তুলনামূলক বেশি দাম পরিশোধ করেন।  

ফেব্রুয়ারি মাসের বিল থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর করা হবে। 

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মাসের বিলের ধারণাটি নেওয়া হয়েছে। এতে বাসাবাড়িতে সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য বেড়েছে ইউনিটপ্রতি ২৮ পয়সা। এ গ্রাহকেরা মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। এটি লাইফলাইন শ্রেণি, নিতান্ত দরিদ্র মানুষ এ শ্রেণির গ্রাহক। তারা মূলত বাসায় একটি ফ্যান ও দুটি বাতি চালান। সাড়ে ৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে তাদের জন্য। মাসে তাদের বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে ২২ টাকা। প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরপর প্রথম ধাপ হিসেবে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য আরেকটি শ্রেণি আছে। বর্তমানে এ শ্রেণির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৮৫ পয়সা। এখানে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিটে বেড়েছে ৪১ পয়সা। এ গ্রাহকেরা দুটি বাতির সঙ্গে দুটি ফ্যান চালান। মাসে এ শ্রেণির গ্রাহকের বিল বাড়তে পারে ৪০ টাকা। এ শ্রেণির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের নতুন দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা।

দ্বিতীয় ধাপে আছে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা। তাদের বাসায় একাধিক বাতি, ফ্যান, ফ্রিজ ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ছোট পরিবারের কেউ কেউ একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও (এসি) ব্যবহার করতে পারেন। এ শ্রেণিতে বেড়েছে ৫৭ পয়সা। এতে মাসে ১২২ টাকা বিল বাড়তে পারে। ৬ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রতি ইউনিটের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ টাকা ২০ পয়সা।

তবে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি বেড়েছে ১ টাকা ৩৫ পয়সা। তারা বাসায় একাধিক এসিসহ বিদ্যুৎ–চালিত অনেক যন্ত্র ব্যবহার করেন। মাসে তাঁদের ব্যবহার ৬০০ ইউনিটের বেশি। মূলত বিত্তবানেরা এ শ্রেণির গ্রাহক। তাদের জন্য সরকারের কোনো ভর্তুকি নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনেন তাঁরা। বর্তমানে তাদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৩ টাকা ২৬ পয়সা। ১০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে এ শ্রেণিতে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ টাকা ৬১ পয়সা। এতে তাঁদের মাসের বিল ১ হাজার ৪৪৩ টাকা বাড়তে পারে।

এর বাইরে কৃষিকাজের সেচে ব্যবহৃত বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৪৩ পয়সা। এ ক্ষেত্রে সাড়ে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ৫০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী একজন সেচ গ্রাহকের মাসে বিল বাড়তে পারে ২৬২ টাকা। প্রতি ইউনিটের দাম ৪ টাকা ৮২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ২৫ পয়সা করা হয়েছে।


বিদ্যুৎ বিল   বিদ্যুৎ   জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রকাশ: ০৯:৪৯ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীর বেইলি রোডের বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ সংক্রান্ত একটি বার্তা পাঠানো হয়।

শোক বার্তায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

এছাড়া বার্তায় জানানো হয়, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সকলের প্রতি প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। 

জানা গেছে, বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও ৪২ জনকে। একই পরিবারের পাঁচজনসহ মারা গেছেন ৪৫ জন।

এর মধ্যে ঢামেক হাসপাতালে ৩১, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ এবং রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি মরদেহ।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান তারা। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৯টা ৫৬ মিনিটে। পরে আগুনের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে আরও ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও এনএসআই। ১৩টি ইউনিটের ২ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভবনটিতে পিৎজা ইন, স্ট্রিট ওভেন, খানাসসহ আরও রেস্টুরেন্ট এবং  ইলিয়েন, ক্লোজেস্ট ক্লাউডসহ জনপ্রিয় বিপণিবিতানও রয়েছে। 


প্রধানমন্ত্রী   বেইলি রোড  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মর্গের আঙ্গিনায় আর্তনাদ, দিশেহারা নিহতদের স্বজনরা

প্রকাশ: ০৯:৪২ এএম, ০১ মার্চ, ২০২৪


Thumbnail

রাজধানীর বেইলি রোডে এক ভবনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিহদের স্বজনদের আহজারিতে থমকে যাচ্ছে বেইলি রোড সহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ। ‘কোথায় গেলি ও সম্পূর্ণা, ও সান, ও পপি...। এ কী হয়ে গেল আমাদের? আগুনে একটি পরিবার শেষ হয়ে গেল?’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গের সামনে এভাবেই চিৎকার করছিলেন পীযূষ পোদ্দার। বেইলি রোডের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন তার বোন পপি, ভাগনে সান রায় (১০) ও ভাগনি সম্পূর্ণা রায় (১২)।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মর্গের সামনে কথা হয় পীযূষ পোদ্দার জানা, ভাগনি সম্পূর্ণা পড়ত সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। আর সান রায় পড়ত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণিতে। মা–বাবার সঙ্গে মালিবাগে থাকত তারা।

সম্পূর্ণা ও সানকে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন মামা পীযূষ পোদ্দার। স্কুল শেষে আবার বিকেলে তাদের বাসায় নিয়ে আসেন তিনি। সম্পূর্ণা ও সান মা পপি রায়ের সঙ্গে সন্ধ্যার সময় আসে বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয়।

পীযূষ পোদ্দার প্রথম আলোকে বলেন, রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখানে চলে যান। এসে দেখেন দাউ দাউ করে রেস্তোরাঁ জ্বলছে। কিন্তু কোথাও পপি, সম্পূর্ণ ও সানের খোঁজ পাননি। এরপর মধ্যরাতে ছুটে এসেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। সম্পূর্ণা ও সানের মরদেহ খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু পপির কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

বেইলি রোডের বহুতল ভবনের আগুনে সম্পূর্ণা, সানের মতো মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। এছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত একটার পর একে একে বেইলি রোড থেকে লাশের সারি আসতে থাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। খবর পেয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ছুটে আসেন নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা।


বেসরকারি একটি ব্যাংকে চাকরি করতেন মেহেরা কবির (দোলা)। তার বোন মায়েশা কবির পড়তেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুই বোন মিলে মতিঝিলে থাকতেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মতিঝিল থেকে তারা বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় খেতে আসেন। আগুনে পুড়ে এই দুই বোনও মারা গেছেন। তাদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস।


দুই সন্তান আয়ান (৮) ও আয়াতকে (৬) নিয়ে বেইলি রোড এলাকায় বসবাস করতেন নাজিয়া আক্তার (৩১)। তাঁর স্বামী মো. আশিক পেশায় ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্যবসার কাজে বনানীতে যান। নাজিয়া দুই সন্তানকে নিয়ে ভবনের তৃতীয় তলার একটি রেস্তোরাঁয় খেতে যান। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বামীকে ফোন দিয়ে বলেন তারা বিপদে আছেন।

নাজিয়ার আত্মীয় রিফাত হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার সময় ওই ভবনের সামনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ ভবনটির নিচতলায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তৃতীয় সিঁড়ি থেকে আয়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে মারা গেছেন নাজিয়া এবং আয়াতও। ঢাকা মেডিকেলের মর্গে তাদের মরদেহ রাখা হয়েছে।

মধ্যরাত থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনহারাদের ভিড়। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাতাস। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার এতটুকু ভাষাও যেন জানা নেই কারও।


মর্গ   আর্তনাদ   দিশেহারা   অগ্নিকান্ড   নিহত   বেইলি রোড  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন