ইনসাইড বাংলাদেশ

কুমিল্লায় জোড়া খুন মামলার ২ আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

প্রকাশ: ০৮:৫৯ এএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) কাউন্সিলরসহ জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সঙ্গে 'বন্ধুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন।
 
নিহতরা হলেন- মামলার তিন নম্বর আসামি নগরীর সুজানগর এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়ার ছেলে মো.সাব্বির হোসেন (২৮) ও মামলার পাঁচ নম্বর আসামি সংরাইশ এলাকার কাকন মিয়ার ছেলে সাজন (৩২)। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিষয়টি জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সত্যজিৎ বড়ুয়া।

সত্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, সোমবার রাত সোয়া ১২টায় খবর পাই আলোচিত এই জোড়া খুনের  মামলার এজহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা সংরাইশ ও নবগ্রাম এলাকায় অবস্থান করছে। খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানা এবং ডিবি পুলিশের একাধিক টিম আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। রাত প্রায় ১টার দিকে সদর উপজেলার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের সংরাইশ বালুমহল সংলগ্ন এলাকায় ডিবি ও থানা পুলিশের টিম পৌঁছালে আসামিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে।

এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। গোলাগুলির একপর্যায়ে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী পালিয়ে যায়। গুলিবর্ষণ শেষে ঘটনাস্থলে ওই দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ঘটনাস্থলে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সত্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি পাইপ গান, পিস্তলের অব্যবহৃত গুলি, গুলির খোসা এবং কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে নগরীর পাথরিয়াপাড়া থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজে কাউন্সিলর কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কুসিক ১৭নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল (৫০) ও আওয়ামী লীগ কর্মী হরিপদ সাহাকে (৫৫)। কাউন্সিলর সোহেল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। নিহত হরিপদ সাহা নগরীর ১৭নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো পাঁচজন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জোড়া খুনের ঘটনায় গত ২৩ নভেম্বর রাতে কাউন্সিলর সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কোনো দেশে রাষ্ট্রীয় ধর্ম থাকতে পারে না: নৌপ্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১০:১৫ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‌‘কোনো দেশে রাষ্ট্রীয় কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। প্রতিটি ধর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটাই-মানবকল্যাণ। প্রত্যেক ধর্মেই মানবতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা মানবজাতি তা নষ্ট করে ফেলেছি। তাই বিভিন্ন সময় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা শোনা যায়।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দিনাজপুরের কাহারোলে সার্বভৌম ভক্ত সম্মিলনী ও ৬৩তম বার্ষিক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রী নিগমানন্দ সারস্বত সেবাশ্রম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বাংলাদেশ উন্নয়নে ভাসছে। মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ধর্ম কখনো সন্ত্রাসকে লালন করে না। ১৯৭১ সালে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এদেশ স্বাধীন হয়েছে।’

তিনি বলেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদার সরকার ধর্মকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু কোনো ধর্মীয় কাজ করেনি। তাই তখন দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল, কাহারোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম ফারুক, ৬ নম্বর রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বাবুল প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রী নিগমানন্দ সারস্বত সেবাশ্রমের পরিচালক নন্দদুলাল চক্রবর্তী।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জলাধার কীভাবে বরাদ্দ দিলেন: রেলমন্ত্রীকে মেয়র আতিক

প্রকাশ: ০৯:৩৯ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার সংলগ্ন জলাধারের জায়গায় বড় একটি বিলবোর্ড লাগানো ছিল। সেখানে লেখা, ‘সাইট ফর ফাইভ স্টার হোটেল অ্যান্ড শপিং কমপ্লেক্স- মিলিনিয়ান হোল্ডিং লিমিটেড। যেটি পাঁচ তারকা হোটেল ও শপিং কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ দেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) জলাধারের জায়গা উদ্ধারে অভিযানে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। জায়গাটি বাংলাদেশ রেলওয়ের হওয়ায় শুরুতেই মেয়র রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন।

এ সময় মোবাইলে আতিকুল ইসলাম রেলমন্ত্রীকে বলেন, এটা তো জলাধার আপনারা কীভাবে এ জায়গা বরাদ্দ দিলেন? খিলক্ষেত, এয়ারপোর্ট রোড, নিকুঞ্জসহ আশপাশের সব এলাকার পানি এখানে জমা হয়। এটা যদি ভরাট করে পাঁচ তারকা হোটেল এবং শপিং কমপ্লেক্স হয়, তাহলে তো বর্ষায় আশপাশের এলাকা ডুবে যাবে। জলাধার দখল করে আমি কোনোভাবেই এটা এখানে হতে দেব না। এ সময় রেলমন্ত্রী এবং রেলের মহাপরিচালকের সঙ্গে মেয়রের এ কথোপকথন স্থানীয়রাও শুনছিলেন।

‘জলাধার দখল করে আমি কোনোভাবেই এটা এখানে হতে দেব না’ মেয়রের এ কথা শোনামাত্রই স্থানীয়রা সেখানে গড়ে ওঠা স্থাপনা ভাঙতে শুরু করেন। মুহূর্তেই অস্থায়ী স্থাপনার বেশকিছু অংশ ভেঙে ফেলেন। পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বুলডোজার এসে সেটি গুড়িয়ে দেয়। এর আগে কুড়িল ফ্লাইওভার সংলগ্ন জলাধারের পাশে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে পুরো এলাকা স্লোগানে মুখরিত করে রাখেন তারা।

আতিকুল ইসলাম বলেন, জলাশয় আমাদের খুব প্রয়োজন। এ জলাশয়কে ঘিরেই আমরা একটি প্ল্যান করেছি, এখানে আমরা একটি ওপেন স্পেস করে দেব। আশপাশের সব এলাকার পানি এখানে এসে জমা হয়। এমন একটি জলাশয়ের জায়গা বাংলাদেশ রেলওয়ে পাঁচ তারকা হোটেল এবং শপিং মল করার জন্য কীভাবে বরাদ্দ দিল, এটা আমার বোধগম্য নয়। ১.৮৪ একর জমি, যেটা জলাশয় সেটা তারা কীভাবে বরাদ্দ দেয়?

তিনি আরো বলেন, রেলওয়ের ডিজিকে জিজ্ঞেস করার পর উনি বললেন, স্যার এটা জলাশয়? আমার বিষয়টি জানা ছিল না। এখানে ভরাট করে স্থাপনা করা হলে বর্ষায় নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, এয়ারপোর্ট রোড তো তলিয়ে যাবে। তাই আমরা এটা কোনোভাবেই হতে দেব না। আইনি লড়াইসহ যা যা করার তা আমরা করব।

দেখা যায়, কুড়িল উড়ালসড়কসংলগ্ন এলাকায় বিশালাকার একটি জলাধার রয়েছে। জলাধারের এক পাশে রেললাইন ও কুড়িল উড়ালসড়কের খিলক্ষেত-প্রগতি সরণি অংশ, অন্য পাশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে। জলাধার ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে জলাধার। নিজেদের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ও নির্মাণ করেছে মিলেনিয়াম কর্তৃপক্ষ। এই জলাধারে খিলক্ষেত, নিকুঞ্জসহ আশপাশের এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হয়। জায়গাটি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। জানা যায়, গত ডিসেম্বরে নিজেদের অব্যবহৃত ১ দশমিক ৮৪ একর রেলভূমি মিলেনিয়াম হোল্ডিংস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়।

অভিযানের সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় কাউন্সিলরসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক চাপ: ভুল পথে সরকার?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ওপর একাধিক চাপ প্রয়োগ করেছে। গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে বলেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য তারা কাজ করছেন, এটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। অর্থাৎ আপাতত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছেনা। পাশাপাশি জো বাইডেন দুর্নীতিবিরোধী নীতির আলোকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আরো কিছু ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‍্যাবকে যেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োগ না দেওয়া হয়, সেজন্য জাতিসংঘে একটি আবেদন করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১২টি মানবাধিকার সংগঠন। এদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বাংলাদেশ র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছেন একজন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টারিয়ান। যদিও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে আজ বলা হয়েছে, এটি একজন ব্যক্তির মতামত, এটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মতামত নয়। কিন্তু এ সমস্ত ঘটনা স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বলাবহুল্য, এই চাপ যে সৃষ্টি করছে বিএনপি-জামায়াত এবং যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী, তা বলার অপেক্ষাই রাখেনা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ৮টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপি-জামায়াতের লবিস্ট হিসেবে কাজ করছে এবং তারা বাংলাদেশের এই চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলেও বিভিন্ন মহল মনে করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিরা লাগাতারভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করে সেটি মূলধারার গণমাধ্যমে আনছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন সেটিকে লুফে নিচ্ছে। এভাবেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চাপ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশের যে কাজগুলো করা উচিৎ সেই কাজ করছেনা। বরং বাংলাদেশ এই সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করার যে কৌশল গ্রহণ করেছে সে কৌশলটি ভ্রান্ত বলেই অনেকে মনে করছে। বিষয়টা এরকম যে, উট পাখির মুখ গুঁজে থাকার মতো অবস্থা। কিন্তু উটপাখি মুখ গুঁজে থাকলে যেমন ঝড় বন্ধ হয়না, তেমনি বাংলাদেশ যদি সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে তাহলে সংকটের সমাধান হবেনা। এজন্যই কূটনৈতিক মহল মনে করছে বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে কিছু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।

প্রথমত, তারা মনে করছেন যে, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের যে মিশনগুলো রয়েছে সেই মিশনগুলোতে যোগ্য লোকদেরকে প্রতিস্থাপন করা উচিৎ। বিশেষ করে, স্পর্শকাতর দেশগুলোতে যথাযথ এবং রাজনৈতিকমনস্ক ব্যক্তিদের জরুরী ভিত্তিতে পদায়ন করা দরকার।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচারণা বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন যে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক সেমিনার সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক অবস্থাটা তুলে ধরা দরকার, যেটি ২০১৩-১৪ সালেও করা হতো। সেই ধারাটাই ফিরিয়ে আনা দরকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানটা সুস্পষ্ট করা দরকার।

তৃতীয়ত, তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনে প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত দেওয়া উচিৎ, যে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

চতুর্থত, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে কাজে লাগানো। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন, ফিচার, অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করা জরুরী বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

সর্বশেষ, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করা। মানবাধিকার কমিশন, তথ্য অধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় এবং গতিশীল করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের একটা চেষ্টা করতে পারে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, খুব দ্রুত এই কাজগুলো করা দরকার, না হলে সরকারের ভাবমূর্তি আরও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সরকারি ব্যাংকে নিয়োগের সব পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশ: ০৮:১৮ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিদ্যমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা (এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।  

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে স্বল্প সময়ের নোটিশে যাতে স্থগিতকৃত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন সে জন্য পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।


সরকারি ব্যাংক   নিয়োগ   স্থগিত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চৌকস অফিসারদের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ০৮:১৪ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের র‍্যাবের কিছু অফিসারের বিরুদ্ধে আমেরিকা স্যাংশন দিয়েছে। যদি বলি কাদের ওপর? এখন আমাদের বর্তমান আইজিপি, তখন র‍্যাবের ডিজি ছিলেন। হলি আর্টিসানে যখন সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে, মানুষ হত্যা করে। নৃশংস দৃশ্য! তারা কেবল হত্যাই করেনি, ছুরি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে মানুষ মেরেছে। হত্যার পরে বাবুর্চিকে জিম্মি করে বড় বড় চিংড়ি মাছ থেকে শুরু করে সব রান্না করে খেয়েছে। কী রকম বিবৃতমনা ছিল তারা। পুলিশের দুজন অফিসার সেখানে ছুটে গেলে তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। এরপর আমরা পদক্ষেপ নেই। সে সময় আমেরিকার যিনি রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি টুইট করেছিলেন, হলি আর্টিসানের সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশ একা সমাধান করতে পারবে না। রোজার দিন ছিল। সারারাত আমরা কাজ করেছি। সেহরির সময় পর্যন্ত আমি বৈঠক করি। সবাইকে নিয়ে মিটিং করি। কী করা হবে। কীভাবে অপারেশন চালানো হবে। তার পূর্ণ পরিকল্পনা করেছি। পরের দিন সকাল ৯টার মধ্যে জিম্মিদের উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সফলতার সঙ্গে তাদের আক্রমণ মোকাবিলা করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং ১৬তম অধিবেশনের সমাপনী আলোচনায় এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর পরপরই আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর টুইটটি সরিয়ে ফেলেন। এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশে আর সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারেনি। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমন করেছি। যেটা বিএনপির সৃষ্টি। যাদের মদত দিয়েছে প্রশ্ন হচ্ছে- যাদের তারা (যুক্তরাষ্ট্র) স্যাংশন দিল তাদের অধিকাংশ এই সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রেখেছিল। তাহলে এরা কেন আমেরিকার কাছে এত খারাপ হলো? সবচেয়ে ভালো ভালো অফিসার যারা। ওই অপারেশনে যারা ছিল এবং সেই …। আমার মনে হয় যারা সন্ত্রাস দমনে সফল, যারা দেশটা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। যারা সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সুসংহত করেছে তাদের ওপরই যেন আমেরিকার রাগ। আমি আমেরিকাকে দোষ দেই না। ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেবো?

বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে। দেশটাকে ধ্বংস এবং মিথ্যা অপবাদ আর অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বিদেশি ফার্মকে কোটি কোটি ডলার তারা পেমেন্ট করলো, এই অর্থ কীভাবে বিদেশে গেল? এটা কোথা থেকে এলো তার জবাব তাদের দিতে হবে। এর ব্যাখ্যা তাদের দিতে হবে।

লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ এবং এর পেছনে ব্যয় সংক্রান্ত বুধবার দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন। এই যে তার তালিকা। এটা আমি বক্তৃতার অংশ হিসেবে দিয়ে যাবো। কত লাখ ডলার এই বিএনপি খরচ করেছে, আমার প্রশ্ন। এই অর্থ কোথা থেকে তারা পেল? এটা তো বৈদেশিক মুদ্রা। বিএনপি এই বৈদেশিক মুদ্রা কোথা থেকে পেয়েছে। কীভাবে খরচ করেছে? কীভাবে এই লবিস্ট তারা রেখেছে? লবিস্ট কিসের জন্য? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য। নির্বাচন বানচাল করার জন্য। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। জঙ্গিদের রক্ষা করার জন্য। জাতির পিতাকে হত্যা করার জন্য। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাধা দেওয়ার জন্য। কোনো ভালো কাজের জন্য নয়।

সরকারের লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ নিয়ে তিনি বলেন, হ্যাঁ, সব সময় পিআর ফার্ম নেওয়া হয়। যাতে বিনিয়োগ বাড়ে, উৎপাদন বাড়ে। আমরা যেন বেশি রপ্তানি করতে পারি। দেশের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য করা হয়। কিন্তু বিএনপির কাজটি কী ছিল?

সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের তখনকার সংসদ সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করেছিল। সেই হত্যার সঙ্গেও বিএনপি জড়িত, সেটাও বেরিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এর বিচারের কাজটি বারবার বাধা দিচ্ছে তার পরিবার থেকে। যখনই বিচারের কাজটি শুরু হয় ওমনি তার পরিবার একটা বাধা দিয়ে রাখে। কেন ঠিক জানি না।

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা রিফিউজি হিসেবে ছয় বছর বাস করেছি দুই বোন। নাম-পরিচয়টাও ব্যবহার করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল, সুযোগ পেলে দেশকে গড়ে তুলবো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে দেশে ফিরি। অনেক বাধা, বিপত্তি, অনেক অপপ্রচার শুনতে হয়েছে। লক্ষ্য স্থির করে চলেছি বলে লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, করোনায় আমেরিকার আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে যায়নি। বরং দারিদ্র্য বিমোচনে বিএনপির আমলের ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বিশ্বাস করি আরও আমরা কমাতে পারবো। যদিও দারিদ্র্য আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত অর্থনীতির মধ্যেও আমরা বিনা পয়সায় করোনার পরীক্ষা করাচ্ছি। প্রায় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা লাগে একটি করোনা পরীক্ষার জন্য। পাশাপাশি বিনা পয়সায় আমরা টিকাও দিচ্ছি। দেশবাসীকে আহ্বান জানাবো যারা ভ্যাকসিন নেননি, ভ্যাকসিন নেবেন। কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা ভ্যাকসিনের জন্য আলাদা বাজেট রেখেছি। ভ্যাকসিনের অভাব হবে না। যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তারা নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে মারা যাচ্ছেন না। সবাই টিকা নেবেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলবেন। যাতে ওমিক্রন থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী   শেখ হাসিনা   আওয়ামী লীগ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন