ইনসাইড ইকোনমি

যুক্তরাজ্যের বাজারে ২০২৯ পর্যন্ত মিলবে এলডিসি সুবিধা

প্রকাশ: ১১:২৩ এএম, ১৭ মার্চ, ২০২৩


Thumbnail

যুক্তরাজ্যের বাজারে ২০৩০ সাল নাগাদ রপ্তানির পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। এরমধ্যে শুধু পোশাক রপ্তানি হবে ১১ বিলিয়ন ডলারের। যুক্তরাজ্যের সম্প্রতি ঘোষিত ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিটিসিএস)-এর আওতায় বাংলাদেশের এলডিসি সুবিধা ২০২৯ এর নভেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হবে। এলডিসি সুবিধার আওতায় ডিউটি-ফ্রি সুবিধাও মিলবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এবং যুক্তরাজ্য সরকারের এফসিডিও (ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস) ‘এক্সপান্ডিং অ্যান্ড ডাইভার্সিফায়িং এক্সপোর্ট টু দ্য ইউকে মার্কেট’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফসিডিও’র ডেপুটি ডিরেক্টর ড. ডানকান ওভারফিল্ড, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. ফয়জুল ইসলাম ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিড-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর প্যানেল আলোচনায় চামড়া এবং জুতা শিল্প, কৃষিজাত এবং কৃষিজাত প্রসেসড খাদ্য, মাছ এবং চিংড়ি ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ডিসিটিএস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকে এলডিসি উত্তরণ হওয়ার পরও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহায্য করবে। এই সুবিধা একই সঙ্গে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের জন্য পোশাক খাত ছাড়াও অন্যান্য খাতগুলোর প্রচারের জন্য একটি গেম চেঞ্জার হতে পারে। বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ডিসিটিএস সুবিধা নিতে এবং তাদের রপ্তানি পোর্টফোলিওকে বৈচিত্র্যময় করতে সহায়তা করার জন্য র্যাপিড গবেষণা এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কনসালটেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে বেশ কিছু পলিসি রিকমেন্ডেশন চিহ্নিত করতে পেরেছে র্যাপিড। এরমধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে অপরিহার্য বিষয় হলো, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি পোশাক খাতের বাইরের রপ্তানিকারকদের মাঝে মূল স্টেকহোল্ডারদের দ্বারা যুক্তরাজ্যের বাজারের তথ্যের প্রচার ও প্রসার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও এএইচএম আহসান তার বক্তৃতায় বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. ফয়জুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় সংস্থাকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। উচ্চ আমদানিশুল্ক ভোক্তা এবং উৎপাদক উভয়কেই নিরুৎসাহিত করে। তাই সরকার ট্যারিফ র্যানশনালিজেশনে কাজ করছে।

তপন কান্তি ঘোষ বলেন, আমাদের রপ্তানিকারকরা ইইউ জিএসপি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। কিন্তু যুক্তরাজ্যের ডিসিটিএস সম্পর্কে খুব কম জানেন। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে তারা এটি থেকে সুবিধা নিতে পারে। ২০২৬ সালের পর বাংলাদেশের শুল্কের হার কমাতে হবে। তাই আমাদের রপ্তানিকারকদের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ডেপুটি গভর্নর হচ্ছেন খুরশীদ আলম ও ড. হাবিব

প্রকাশ: ০৫:১৭ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হচ্ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. খুরশীদ আলম ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মো. হাবিবুর রহমান। এ কে এম সাজিদুর রহমান ও আবু ফরাহ মোহাম্মদ নাসের এর স্থলাভিষিক্ত হবেন তারা।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে সই করে আদেশ জারির জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

খুরশীদ আলম বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক-১ হিসেবে কর্মরত আছেন। ড. হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীবিদ। এখন দুজনকেই নিয়মিত চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে ডেপুটি গভর্নরের চুক্তিভিত্তিক পদে যোগদান করতে হবে।

চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি এ কে এম সাজেদুর রহমান খান এবং গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আবু ফরাহ মো. নাছেরের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর এ দুটি পদ খালি হয়। আবু ফরাহ মো. নাছের পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে আগামী এক বছরের জন্য নিয়োগ পাচ্ছেন।

ডেপুটি গভর্নর   মো. খুরশীদ আলম   প্রধান অর্থনীতিবিদ   ড. মো. হাবিবুর রহমান   বাংলাদেশ ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

১০ দিনে রিজার্ভ বাড়ল ৫৯ কোটি ডলার

প্রকাশ: ০৩:৩১ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

তারল্যের চাহিদা মেটাতে ‘কারেন্সি সোয়াপ’ পদ্ধতির অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রায় ৫৯ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জমা দিয়ে টাকা নিয়েছে ১২টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ফলে দেশে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ খানিকটা বেড়েছে। সোয়াপ ব্যবস্থার কারণে রিজার্ভ বাড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক জানান, বেশকিছু ব্যাংক ডলার জমা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে। এসব ডলার জমার কারণে রিজার্ভ বেড়েছে। সামনে সেই ডলার ফেরত নিলে রিজার্ভ হয়তো কমতে পারে; তবে এর মধ্যে বিভিন্নভাবে রিজার্ভ বাড়বে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়ে ২০ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর আগের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ২০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। অর্থাৎ ১০ দিনের ব্যবধানে রিজার্ভ ৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেড়েছে। 

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এক সার্কুলারে টাকার সঙ্গে ডলার অদলবদল বা সোয়াপ ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার নিয়ে সমপরিমাণ টাকা দিচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।

গত রোববার পর্যন্ত ১২টি বেসরকারি ব্যাংক ৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিয়ে তার বিপরীতে সমপরিমাণ টাকা নিয়েছে। এর বাইরে এই ১০ দিনে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি ডলারের মতো কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সময়ে আমদানি দায় মেটাতে সমপরিমাণ ডলার বিক্রিও করেছে।

নতুন এ ব্যবস্থার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডলার-টাকা অদলবদল করতে পারছে। সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য টাকা-ডলার অদলবদলের এ ব্যবস্থা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সুবিধা চালুর পর প্রায় প্রতিদিনই ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলার জমা দিয়ে সমপরিমাণ টাকা নিচ্ছে।

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকা-ডলার অদলবদলের এ ব্যবস্থা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক। কারণ, উদ্বৃত্ত ডলারের বিপরীতে ব্যাংকগুলো তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পেয়ে যাবে। আবার নির্ধারিত সময় পর টাকা ফেরত দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সমপরিমাণ ডলার পেয়ে যাবে। এ ব্যবস্থার আওতায় সর্বনিম্ন ৫০ লাখ ডলার বা তার সমপরিমাণ টাকা অদলবদল করা যাচ্ছে।

সোয়াপ ব্যবস্থা রিজার্ভ বাড়তে অবদান রাখছে বলে মনে করছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, রিজার্ভ বাড়াতে সোয়াপ ব্যবস্থা ভালো কাজে দিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার ফলে ব্যাংকগুলো এখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডলার রেখে বাকিটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা নিতে পারবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলারের জমা বাড়লে রিজার্ভও বাড়বে। তাই ডলার-টাকা অদলবদলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকও লাভবান হচ্ছে।

রিজার্ভ   বাংলাদেশ ব্যাংক   আইএমএফ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

আমদানির সঙ্গে বেড়েছে ডালের দাম

প্রকাশ: ১০:৪৪ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত। খেসারির সঙ্গে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে ছোলা ও অন্য ডালের। গত এক মাসের ব্যবধানে ছোলার দাম কেজিতে বেড়েছে ২৫ থেকে ৫০ টাকা। আর সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে ডালের চাহিদার বড় অংশই আমদানি করা হয়। ডলার সংকটের কারণে আমদানি বিল পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ডালের দামে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্যের দামে লাগাম টানতে এখনই প্রশাসনের কড়া নজরদারি দরকার। তা না হলে রমজানজুড়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভোক্তাদের ভোগাবে।

জানা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় দু-তিন গুণ বেড়েছে ডাল আমদানি। এর মধ্যে মসুর ডাল, মুগডাল, মাষকলাই ও মটর ডালের আমদানি বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয় ১৯ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন মসুর ডাল। কানাডা ও রাশিয়া থেকে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই মটর ডাল আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেছে ৫০২ মেট্রিক টন। শুধু চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই এসেছে ২৪ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই মাস কলাই আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেছে ৫ হাজার ৫৮১ মেট্রিক টন।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন, নির্বাচনের পর এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোগ্যপণ্য আমদানির ঋণপত্র খুলছে না। ফলে ভোগ্যপণ্য আমদানির বিষয়টি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ কারণে চাহিদা স্বাভাবিক থাকলেও আমদানিকারকদের বাড়তি মুনাফা করার প্রবণতায় এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, ডাল জাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুগের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি মুগডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, যা এক-দুমাস আগেও বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়। অর্থাৎ এই সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুগডালের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। একই সময়ে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে মটর ডালের দামও। এক মাস আগে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি মটর ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।

বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা মসুর (অস্ট্রেলিয়ান) ১০২ এবং চিকন মসুর (দেশি ও ভারতীয়) ১৩৪-১৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রতি কেজি মোটা মসুর ৯০ এবং চিকন মসুর ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগে প্রতি কেজি ছোলা ৯০ টাকার নিচে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সব ধরনের ডালের দাম বেড়ে বর্তমানে চিকন বা দেশি মসুর ডালের কেজি ১৫০ থেকে ১৫৫, মোটা মসুর ১১০, মুগডাল ১৮০, মটর ডাল ৯০ এবং ছোলা ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাগবে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা সমন্বিত বাজার তদারকির কার্যক্রম শুরু হলে তা অকার্যকর করতে নানা চক্রান্ত চলে। প্রশাসন অভিযান চালালেই ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠানো হয়। পরে সেই অভিযান বন্ধে চালানো হয় নানা অপতৎপরতা। গুটি কয়েক অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। 


পণ্য   দাম   রেকর্ড  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

২৪ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৮ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ১০:৩০ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে এসেছে ১৬৪ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত জানুয়ারির প্রথম ২৩ দিনের চেয়ে যা ৮ কোটি বেশি। রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, আলোচ্য সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এসময়ে মোট পৌঁছেছে ১৬৪ কোটি ডলার। গত জানুয়ারির প্রথম ২৩ দিনে এসেছিল প্রায় ১৫৬ কোটি ডলার। ওই সময়ে দৈনিক আসে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।
 
ফেব্রুয়ারি প্রথম ২৩ দিনে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৪০ কোটি ৪০ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পৌঁছেছে ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, ১৭ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ৪৯ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। ১০ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পৌঁছেছে ৫১ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার ডলার। ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি আসে ৫৬ কোটি ৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এছাড়া ১ থেকে ২ ফেব্রুয়ারি প্রবাসী আয় পৌঁছে ৭ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

বিদায়ী জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১০ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিগত ৭ মাসের মধ্যে যা ছিল সর্বোচ্চ।

রেমিট্যান্স   প্রবাসী   বাংলাদেশ ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, সফরে এলেন প্রতিনিধিরা

প্রকাশ: ০৯:৩৩ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিশ্বব্যাংক। মূলত নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৈশ্বিক অবকাঠামো বাস্তবায়ন এবং গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে খারাপ পরিস্থিতিতেও আগের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখার সাফল্যেই এমন কদর।

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এই সম্পর্ক ৫০ বছরে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ অনেক কর্তাব্যক্তিই সফর করেছেন। এরই অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অ্যানা বেজার্ডও বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনিও বাংলাদেশের ঋণমান সক্ষমতা ও সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভিভূত এবং আগামীতে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতেই তার এই ঢাকা সফর বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছান বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অ্যানা বেজার্ড। সফরকালে তার আজ রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং অন্য ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইসার।

তথ্যসূত্রগুলো বলছে, গত দুই-তিন বছরের নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এবং পাইপলাইনে থাকা অর্থের ছাড় এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে নেওয়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নকারী প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করলেই তার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। বর্তমানে বিশ্বের নিম্ন আয়ের ৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে তাদের ঋণ কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি।

বেসরকারি আর্থিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থা নিজেদের স্বার্থেই বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রমের পরিধি বাড়িয়েছে। বিশ্বের বাজারে তাদের সাফল্য দেখাতে হয়। তারাও বিশ্বের বাজার থেকেই টাকা তোলে। সেখানে যার ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা বেশি এবং উন্নয়ন চাহিদাও বেশি, বিশ্বব্যাংকের কাছে তার গুরুত্বও বেশি।

বিশ্বব্যাংক সূত্র বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) সমর্থিত বৃহত্তম কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এর আওতায় বর্তমানে দেশের বিভিন্ন খাতে ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৫৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। যার সবই এসেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোয়। এর মধ্যদিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্যমতে, আরও বেশ কিছু উন্নয়ন সহযোগী থাকলেও স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকই বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করেছে। ১৯৭১-৭২ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ৫২ বছরে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশ ঋণ পেয়েছে ৭৯.৮২৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে এককভাবে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ঋণ দিয়েছে ২৪.৫৮৩ বিলিয়ন ডলার, যা শতাংশের হারে বাংলাদেশের মোট ঋণের ৩০.৮০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সামনে এখন কয়েকটি ভিশন রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে নভেম্বরে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছাতে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টায় রয়েছে। এ লক্ষ্যে বর্তমানে ৫৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন রয়েছে। এ ছাড়া ‘স্মার্ট বাংলাদেশ আইসিটি ২০৪১ মাস্টারপ্ল্যান’ অনুসারে এর চারটি স্তম্ভ স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট ইকোনমি এবং স্মার্ট সোসাইটির আলোকে সরকার ৪০টির বেশি প্রয়োজনীয় প্রকল্প নিয়েছে। সব মিলে আগামী দিনের বাংলাদেশের বেশিরভাগ উন্নয়ন উদ্যোগেই বিশ্বব্যাংক সম্পৃক্ত হতে যাচ্ছে। তাদের আগ্রহ বাড়ছে। তার নেপথ্য কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৈশ্বিক অবকাঠামো বাস্তবায়নে সাফল্যের সূত্র ধরেই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্জাগরণ হয়েছে। তদুপরি বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যখন গোটা বিশ্ব স্থবির, বাংলাদেশও খুব খারাপ সময় পার করছে—ঠিক তখনো আগের ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ সক্ষমতা হারায়নি। হয়তো এসব কারণেই সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব বেড়েছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ কম। তবে বাংলাদেশে এখনো উন্নয়ন ক্ষুধা প্রকট। ফলে বাংলাদেশেরও বিশ্বব্যাংককে আগামীতে প্রয়োজন হবে বলেও স্বীকার করেন তারা।



বিশ্বব্যাংক   বাংলাদেশ   অ্যানা বেজার্ড   ঢাকা   সফর  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন