ইনসাইড ইকোনমি

আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:১৩ এএম, ১৯ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ছুটির দিন আজ শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর কোনো কোনো এলাকার দোকানপাট, মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ : 
বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজীরবাগ, দোলাইরপার, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারী বাজার, চানখাঁরপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ।

বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট : 
আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তানবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শরিফ ম্যানশন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট।

যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ :
সামরিক জাদুঘর : এটি বিজয় সরণিতে অবস্থিত। প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ।

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, আগারগাঁও : বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির জন্য বন্ধ থাকে। শনি থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫ টাকা। এ ছাড়া শনি ও রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা যায়।

শিশু একাডেমি জাদুঘর : শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।  



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বাড়লো সোনার দাম, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

প্রকাশ: ০৭:৫০ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। সব থেকে ভালোমানের সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নতুন দাম রোববার (৪ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

এর আগে গত ১৮ ও ১৩ নভেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়। ফলে ২১ দিনের মধ্যে দেশের বাজারে তিন দফা বাড়লো সোনার দাম। এতে দেশের বাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে গেছে দামি এ ধাতুটি।

এর আগে চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সব থেকে ভালোমানের সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ২৮৩ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভালোমানের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৫৬৪ টাকা। দেশের বাজারে এতদিন এটিই সোনার সর্বোচ্চ দাম ছিল।

এখন সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো সোনার দাম। ভালোমানের সোনার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের সোনার দাম। মান অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩৩ টাকা পর্যন্ত। তবে রুপার দামে কোন অপরিবর্তিত আসেনি।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি শনিবার বৈঠক করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমেছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজুস সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা ৪ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী— সব থেকে ভালোমানের বা ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে ৮৩ হাজার ২৮১ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৪৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭১ হাজার ৩৮৪ টাকা করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৭৯৯ টাকা বাড়িয়ে ৫৯ হাজার ৪৮৬ টাকা করা হয়েছে।

সোনার দাম বাড়লেও রুপার আগের নির্ধারিত দামই বহাল রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম এক হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৯৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ ও ১৩ নভেম্বর সোনার দাম বাড়ানো হয়। তার আগে ২৫ অক্টোবর এবং ২৭, ১৯ ও ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়। তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২২ আগস্ট সোনার দাম বাড়ানো হয়। এর আগে ১৮ আগস্ট সোনার দাম কিছুটা কমানো হয়েছিল। তবে ৪ ও ৭ আগস্ট এবং ২৭ ও ২৯ জুলাই সোনার দাম বাড়ানো হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বিশ্বব্যাংক থেকে ২৫ কোটি ডলার পেলো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৫:৪১ পিএম, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বিশ্বব্যাংক থেকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রতি ডলার ১০২ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, এ অর্থায়ন বাংলাদেশকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এবং সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে এই অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

‘বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ প্রকল্পে এই ঋণ ব্যবহার করা হবে। দূষণ রোধে এবং পরিবেশগত মান উন্নত করতে পরিবেশগত বিধিবিধান এবং প্রয়োগের উন্নতিতেও প্রকল্পটি সহায়তা করবে। প্রকল্পের লক্ষ্যবস্তু সবুজ বিনিয়োগ উন্নীত করার জন্য নতুন অর্থায়নের পথ সৃষ্টি। এটি বায়ু দূষণ কমাতে সবুজ বিনিয়োগকে সমর্থন করার জন্য আর্থিক খাতকে উৎসাহিত করার জন্য একটি গ্রিন ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমও প্রতিষ্ঠা করবে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দূষণ মোকাবিলায় সাহায্য করবে। বৃহত্তর ঢাকা এবং তার বাইরে বসবাসকারী ২১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান ড্যান চেন বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। পাশাপাশি নগরায়ণের ফলে দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। দূষণ শুধু যে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে তা নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষমতাও নষ্ট করছে। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার। এই প্রকল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য দেশের পরিবেশ সংস্থাগুলিকে শক্তিশালী করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ৪৬ হাজার যানবাহন পরিদর্শনের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে চারটি যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা করবে। বার্ষিক সাড়ে তিন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য একটি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য এক মিলিয়ন টন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সহায়তা করা।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং টাস্ক টিমের নেতা জিয়াং রু বলেন, পত্র-পত্রিকায় আমরা নিয়মিত ঢাকার উচ্চ মাত্রার বায়ু দূষণের প্রতিবেদন দেখি। বিশ্বব্যাংকের অনুমান দেখায় যে, ২০১৯ সালে বায়ু দূষণ এবং সীসার এক্সপোজার বাংলাদেশে মৃত্যুর এক-পঞ্চমাংশেরও বেশির জন্য দায়ী, যা দেশের জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশ ব্যয় করে। পরিবেশগত বিধিবিধান এবং কঠোর পরিবেশগত প্রয়োগ বেসরকারি খাতকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সবুজ বাড়াতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে প্রকল্পটি। দেশকে ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য নির্গমনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশকে এই ঋণ বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে দেওয়া হবে। যা পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড সহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। প্রচলিত ঋণের শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংক   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ঋণ নিয়ে ফের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ: ০২:৫৫ পিএম, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তা পর্যায়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এখন শর্তসহ বাকি খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে আগামী জানুয়ারিতে ফের বৈঠক করতে চায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহিবল-আইএমএফ ঋণ।

এবারের বাংলাদেশ সফরে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সংস্থার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্তোনেত্তে মনসিও সাইয়া। বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে আইএমএফ ঢাকা কার্যালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংককে।

১৪ থেকে ১৮ জানুয়ারি চার দিনের ওই সফরের সম্ভাব্য সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএমএফ এর মধ্যে। উচ্চ পর্যায়ের এ সফরের প্রটোকল নিশ্চিত রতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে আইএমএফ এর পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, “ঋণ সম্পর্কিত বিষয়ে ফলোআপ করতে জানুয়ারির ১৪ তারিখে আইএমএফ প্রতিনিধি দল বৈঠকের আগ্রহ জানিয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা ওই চিঠিতে জানিয়েছে আইএমএফ।

কোভিড মহামারীর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও ইউক্রেইন যুদ্ধের জেরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বড় ধরনের চাপে পড়েছে; ডলারের বিপরীতে মান হারিয়ে চলছে টাকা, মূল্যস্ফীতিও পৌঁছেছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে।

রিজার্ভ ধরে রাখতে আমদানিতে লাগাম টানায় অর্থনীতি সঙ্কুচিত হয়েছে; জ্বালানি সংকটের মুখে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের মত দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিও বাংলাদেশের সামনে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতেই গত জুলাই মাসে আইএমএফ এর কাছে ঋণ চেয়েছিল বাংলাদেশ। আইএমএফ  এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অক্টোবরের শেষে ঢাকায় আসেন। দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর ঋণের বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতার কথা জানানো হয় সরকারের তরফ থেকে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ৯ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইএমএফ সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে রাজি। এই অর্থ বাংলাদেশ পাবে সাত কিস্তিতে। সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম কিস্তির ৩৫২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার তারা ছাড়তে পারে।

ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ কিস্তি বাংলাদেশ হাতে পাবে ২০২৬ সালে। সুদের হার হবে ২.২ শতাংশ।

আইএমএফ কর্মকর্তা রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে আইএমএফের নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করবেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা সেরে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আইএমএফ বোর্ড এ ঋণ প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারে।

৪২ মাসের চুক্তিতে সরকারের নেওয়া ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে’ সহায়তা হিসেবে আইএমএফের এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি ( ইসিএফ) এবং এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি থেকে ৩২০ কোটি ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ। আর রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় পাবে বাকি ১৩০ কোটি ডলার।

এ ঋণের অর্থ দিয়ে যেসব প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার হাতে নেবে, তার উদ্দেশ্য হবে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং দুর্দশায় পড়া জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিয়ে দৃঢ়, অর্ন্তভুক্তিমূলক এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি কমিয়ে আনতেও এই ঋণের অর্থ ব্যয় করা হবে।

তবে ঋণের শর্ত নিয়ে কোনো পক্ষই তখন স্পষ্ট কিছু জানায়নি।সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, আইএমএফ এর ঋণ পেলে অন্যান্য বৈশ্বিক উৎস থেকে ঋণ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে।

তার পরামর্শ ছিল, প্রবৃদ্ধির চাকাকে আরও গতিশীল করার জন্য কাঠামোগত সমস্যাগুলোতে নজর দিতে হবে, সেই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সুসংহত করা এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতা গড়ে তুলতে হবে।

বিদেশি মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, মহামারীর সময়ে শুধু ব্যাংকিং চ্যানেল খোলা থাকায় বাংলাদেশে রেমিটেন্স বেশি এসেছিল। সেই গতি ধরে রাখতে হলে সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

রেমিটেন্স বাড়াতে সরকারও ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে হুন্ডি বন্ধের কিছু উদ্যোগও রয়েছে। অবৈধ ‘হুন্ডি’র মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার কয়েকশ এজেন্টের হিসাব সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি মোবাইল হিসাব বিদেশে বসে পরিচালনা ও মোবাইলেই সরাসরি রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইএমএফ প্রতিনিধি দলের ওই সফরের সময় দেশে আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়টি বিভিন্ন অঙ্গনে আলোচনায় গুরুত্ব পায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার, আইন বাস্তবায়ন ও ডিজিটালাইজেশন, ব্যাংক খাতেরর সংস্কার ও খেলাপি ঋণ এবং সরকারের বিভিন্ন খাতের ভর্তুকির বিষয়গুলো সেই আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসে।

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেভাবে হিসাব করা হয়, সেই পদ্ধতি নিয়েও তখন কথা হয়।

রাহুল আনন্দ ৯ নভেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আইএমএফ যে কোনো দেশের রিজার্ভ হিসাবের বেলায় বিপিএম ৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) পদ্ধতি অনুসরণ করে।

এ পদ্ধতিতে রিজার্ভের প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য তহবিলই প্রকাশ করার কথা। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী সেদিন তার সংবাদ সম্মেলনে রিজার্ভের হিসাবে মোট ও নিট– দুই ধরনের তথ্যই প্রকাশ করার কথা বলেছিলেন।

আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সেদিন বলেছিলেন, “অতীতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে সেই সংস্কারের বিষয়গুলো আগেই আলোচিত হয়েছে। সেগুলো একটি প্যাকেজ আকারে এক জায়গায় করা হয়েছে। সেই সংস্কারে তারা (আইএমএফ) সহায়তা করবে।”


ঋণ আলোচনা   আইএমএফ   বৈঠক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বার্ষিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে দেশের পোশাক রপ্তানি

প্রকাশ: ০৮:৩২ এএম, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

২০২১ সালে বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ আবারও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এর আগে ২০২০ সালে ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে তৃতীয় অবস্থানে ঠেলে দিয়ে দ্বিতীয় হয়েছিল। 

গত বুধবার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) প্রকাশিত বিশ্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যান পর্যালোচনা-২০২২ প্রকাশিত হয়। সেখানে বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে বৈশ্বিক আরএমজি বাজারে বাংলাদেশের অংশ ২০২০ সালে ৬.৩০ শতাংশ থেকে গত বছর ৬.৪০ শতাংশে উন্নীত হয়। এই অনুপাত ২০১৯ সালে ৬.৮০ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ছিল ৬.৪০ শতাংশ।

অন্যদিকে, ভিয়েতনামের অংশ ২০২০ সালের ৬.৪০ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৫.৮০ শতাংশে নেমে আসে। চীন ২০২০ সালে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বাজারে দেশটির অংশ ৩১.৬০ শতাংশ থেকে গত বছরে ৩২.৮০ শতাংশে উন্নীত করে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গত বছর বাংলাদেশ থেকে আরএমজি রপ্তানি বার্ষিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। ২০২০ সালে, এই রপ্তানি ১৭ শতাংশ হ্রাস  পেয়ে এক বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছিল।

ডব্লিউটিওর প্রকাশনা অনুসারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরএমজির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ব রপ্তানিকারক। সুতরাং, প্রযুক্তিগতভাবে, বাংলাদেশ তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্ব আরএমজি রপ্তানিকারক দেশ এবং ভিয়েতনাম চতুর্থ।

ইইউ-এর সম্মিলিত রপ্তানি পরিসংখ্যান দেশভিত্তিক আলাদা করা হলে, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক হবে। তুরস্ক ও ভারত পঞ্চম এবং ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। এরপরে রয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং এবং পাকিস্তান।

ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শীর্ষ ১০ পোশাক রপ্তানিকারকের বার্ষিক মোট রপ্তানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২০ সালের ৩৭৮ বিলিয়ন থেকে একটি বড় উত্থান। এ মূল্য ২০১৯ সালে ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেকর্ড করা হয়েছিল।


বিশ্ববাজার   আরএমজি   গার্মেন্টস   পোশাক রপ্তানি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

সঙ্কট সত্ত্বেও ২০২২ সালে ৫ শতাংশ রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে: বিশ্বব্যাংক

প্রকাশ: ১০:১০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোর (এলএমআইসিএস) রেমিট্যান্স ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী সঙ্কট মোকাবিলা করেও আনুমানিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬২৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বব্যাংকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্রিফ অনুসারে, এটি ২০২১ সালের ১০.২ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।

রেমিট্যান্স হলো এলএমআইসিস-এর পরিবারের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা দারিদ্র্য দূর করে, পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নত করে এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের জন্মেকালীন ওজন বৃদ্ধি এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির হারের সঙ্গে যুক্ত। সমীক্ষাগুলোতে দেখা যায় যে রেমিট্যান্স প্রাপক পরিবারগুলোকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে, যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উন্নত আবাসনের অর্থায়নের মাধ্যমে এবং দুর্যোগের পরে ক্ষতি মোকাবেলা করার মাধ্যমে এটি হতে পারে।

উন্নয়নশীল অঞ্চলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০২২ সালে বেশ কয়েকটি কারণে সংগঠিত হয়েছিল। কোভিড-১৯ মহামারী হ্রাস পাওয়ায় স্বাগতিক অর্থনীতিগুলো পুনরায় চালু করা অভিবাসীদের কর্মসংস্থান এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা করার ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করেছিল। অন্যদিকে দাম বৃদ্ধি অভিবাসীদের প্রকৃত আয়ের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এছাড়াও রেমিট্যান্সের মূল্যকে প্রভাবিত করে রুবলের মূল্যায়ন, যা রাশিয়া থেকে মধ্য এশিয়ায় বহির্মুখী রেমিট্যান্সের মার্কিন ডলারের প্রকৃতি উচ্চতর মূল্যে রূপান্তরিত হয়।
এতে বলা হয় ২০২২ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স আনুমানিক ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ১৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাড়িয়েছে, তবে ভারতের আনুমানিক ১২ শতাংশ লাভ থেকে বিভিন্ন দেশে একটি বড় বৈষম্য রয়েছে- যা এই বছরের জন্য প্রাপ্তিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পথে রয়েছে - নেপালের ৪ শতাংশ বৃদ্ধি এই অঞ্চলের অবশিষ্ট দেশগুলোর জন্য ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

প্রবাহের সহজীকরণ মহামারী চলাকালীন প্রবাহকে আকর্ষণ করার জন্য কিছু সরকার প্রবর্তিত বিশেষ প্রণোদনা বন্ধ করার পাশাপাশি অবৈধ পথে ভালো বিনিময় হার অফার করার সুযোগগুলোকে প্রতিফলিত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ওইসিডি দেশগুলোতে মজুরি বৃদ্ধি এবং একটি শক্তিশালী শ্রম বাজারের মাধ্যমে ভারতে রেমিট্যান্স বাড়ানো হয়েছিল। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল গন্তব্যমুখী দেশগুলোতে, সরকারগুলো সরাসরি সহায়তা ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে কম মুদ্রাস্ফীতি নিশ্চিত করেছে, যা অভিবাসীদের রেমিট্যান্স করার ক্ষমতা রক্ষা করে। ২০২২ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এই অঞ্চলে ২০০ ডলার পাঠানোর জন্য গড়ে ৪.১ শতাংশ খরচ হয়েছিল, যা এক বছর আগে ৪.৩ শতাংশ ছিল।

ইউরোপের ক্ষেত্রে, একটি দুর্বল ইউরো উত্তর আফ্রিকা এবং অন্যত্র রেমিট্যান্স প্রবাহের ইউএস ডলারের মূল্যায়ন হ্রাস করার বিপরীত প্রভাব ফেলে। যেসব দেশে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং একাধিক বিনিময় হারের সম্মুখীন হয়েছে, সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ডকৃত রেমিট্যান্স প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে কারণ প্রবাহ আরও ভালো হারের প্রস্তাবকারী বিকল্প চ্যানেলগুলোতে স্থানান্তরিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সামাজিক সুরক্ষা ও চাকরির জন্য বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ডিরেক্টর মাইকেল রুটকোভস্কি বলেন, অভিবাসীরা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে সহায়তা করার পাশাপাশি স্বাগতিক দেশগুলোতে কঠোর শ্রমবাজার সহজ করতে সহায়তা করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা নীতিগুলো শ্রমিকদের কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তৈরি করা আয় এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তাগুলো কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। 

এই ধরনের নীতিগুলো রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলে এবং এটি অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। অঞ্চলভেদে, আফ্রিকা সবচেয়ে মারাত্মকভাবে সমসাময়িক সংকটের সম্মুখীন হয়, যার মধ্যে রয়েছে মারাত্মক খরা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি। সাব-সাহারান আফ্রিকায় রেমিট্যান্স গত বছরের ১৬.৪ শতাংশের তুলনায় ৫.২ শতাংশ বেড়েছে বলে অনুমান করা হয়।

সূত্র : বাসস।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন