ইনসাইড ইকোনমি

ষষ্ঠবারের মতো ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা পেল ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫:৪৭ পিএম, ২৪ নভেম্বর, ২০২১


Thumbnail

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দীর্ঘ মেয়াদি ও সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে ‘ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা’ পুরস্কার পেল বসুন্ধরা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডসহ (ইডব্লিউএমজিএল) ১৪১ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে দেশের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের হাত থেকে ইডব্লিউএমজিএলের কার্ড ও সম্মাননা গ্রহণ করেন বসুন্ধরা গ্রুপের (সেক্টর-বি) হেড অফ ফাইন্যান্স নুরে আলম সিদ্দিকী।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ আ হ ম মুস্তফা কামাল ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া’ ক্যাটাগরিতে ইডব্লিউএমজিএল পরপর গত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় এবার ষষ্ঠবারের মতো সেরা করদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেল।

ইডব্লিউএমজিএল-এর মালিকানাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- দৈনিক কালের কণ্ঠ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি সান, টেলিভিশন চ্যানেল নিউজটোয়েন্টিফোর, টি স্পোর্টস এবং রেডিও ক্যাপিটাল ৯৪.৮।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ

প্রকাশ: ০৩:৩৬ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৮৫ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৮.৯১ শতাংশ।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মূল্যস্ফীতির এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। 

মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর আগের মাস অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। সে হিসেবে এই হার সামান্য একটু কমেছে, শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতি হিসাবকে সরকার দুই ভাগে ভাগ করে থাকে। খাদ্য এবং খাদ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্য। নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে তা বেড়েছে। এ সময় খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। অপর দিকে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশে। 

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী তেল গ্যাসের দাম কমে এসেছে, আমাদের দেশেও অবধারিতভাবে কমবে। তাই সামনের দিনগুলোতে আমাদের মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে। শুধু তাই নয় চলমান ইউক্রেন-রাশিয়ার এ যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন যেমন আছে তেমনটি স্থির থাকলেও চলতি অর্থবছর শেষে আমাদের কাঙ্ক্ষিত মাত্রা, প্রায় ৭ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বলে আশা করছি।’

নভেম্বর মূল্যস্ফীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

তিন দিনের পর্যটন মেলায় শতকোটি টাকার ব্যবসা

প্রকাশ: ০৯:০৮ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে (বিআইসিসি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা। দেশের পর্যটন খাতকে চাঙা করতে এই মেলার আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। সাড়াও মিলেছে বেশ। তিন দিনব্যাপী মেলায় বুকিংসহ ১০০ কোটির মতো ব্যবসা হয়েছে বলে আটাব এর সূত্রে জানা গেছে।

আটাব বলছে, এবারের মেলায় ভারত, মালয়েশিয়া, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, ওমান, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, আজারবাইজান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১৫টি দেশ থেকে ৯০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভালো ব্যবসা করেছে বলে জানান আয়োজকেরা।

পর্যটন মেলায় বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর স্টলে বেশি ভিড় লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও সদ্য বাজারে আসা এয়ার অ্যাস্ট্রার স্টলে ছিল বেশি ভিড়। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্টলেও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলায় ভ্রমণ, ভিসাসহ বিভিন্ন রিসোর্ট ও ভ্রমণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশ নেয় অনলাইনভিত্তিক সেবা প্রদানকারী শেয়ার ট্রিপ, ফ্লাইট এক্সপার্ট ও ট্রাভেল চ্যাম্পের মতো প্রতিষ্ঠান।

এসব প্রতিষ্ঠান মেলা উপলক্ষে ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রির জন্য উপস্থাপন করে। এ সুযোগ লুফে নেন মেলায় আসা বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বাড়লো সোনার দাম, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

প্রকাশ: ০৭:৫০ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। সব থেকে ভালোমানের সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নতুন দাম রোববার (৪ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

এর আগে গত ১৮ ও ১৩ নভেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়। ফলে ২১ দিনের মধ্যে দেশের বাজারে তিন দফা বাড়লো সোনার দাম। এতে দেশের বাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে গেছে দামি এ ধাতুটি।

এর আগে চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সব থেকে ভালোমানের সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ২৮৩ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভালোমানের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৫৬৪ টাকা। দেশের বাজারে এতদিন এটিই সোনার সর্বোচ্চ দাম ছিল।

এখন সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো সোনার দাম। ভালোমানের সোনার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের সোনার দাম। মান অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩৩ টাকা পর্যন্ত। তবে রুপার দামে কোন অপরিবর্তিত আসেনি।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি শনিবার বৈঠক করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমেছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজুস সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা ৪ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী— সব থেকে ভালোমানের বা ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে ৮৩ হাজার ২৮১ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৪৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭১ হাজার ৩৮৪ টাকা করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৭৯৯ টাকা বাড়িয়ে ৫৯ হাজার ৪৮৬ টাকা করা হয়েছে।

সোনার দাম বাড়লেও রুপার আগের নির্ধারিত দামই বহাল রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম এক হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৯৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ ও ১৩ নভেম্বর সোনার দাম বাড়ানো হয়। তার আগে ২৫ অক্টোবর এবং ২৭, ১৯ ও ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়। তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২২ আগস্ট সোনার দাম বাড়ানো হয়। এর আগে ১৮ আগস্ট সোনার দাম কিছুটা কমানো হয়েছিল। তবে ৪ ও ৭ আগস্ট এবং ২৭ ও ২৯ জুলাই সোনার দাম বাড়ানো হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বিশ্বব্যাংক থেকে ২৫ কোটি ডলার পেলো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৫:৪১ পিএম, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বিশ্বব্যাংক থেকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রতি ডলার ১০২ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, এ অর্থায়ন বাংলাদেশকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এবং সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে এই অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।

‘বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ প্রকল্পে এই ঋণ ব্যবহার করা হবে। দূষণ রোধে এবং পরিবেশগত মান উন্নত করতে পরিবেশগত বিধিবিধান এবং প্রয়োগের উন্নতিতেও প্রকল্পটি সহায়তা করবে। প্রকল্পের লক্ষ্যবস্তু সবুজ বিনিয়োগ উন্নীত করার জন্য নতুন অর্থায়নের পথ সৃষ্টি। এটি বায়ু দূষণ কমাতে সবুজ বিনিয়োগকে সমর্থন করার জন্য আর্থিক খাতকে উৎসাহিত করার জন্য একটি গ্রিন ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমও প্রতিষ্ঠা করবে। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দূষণ মোকাবিলায় সাহায্য করবে। বৃহত্তর ঢাকা এবং তার বাইরে বসবাসকারী ২১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান ড্যান চেন বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। পাশাপাশি নগরায়ণের ফলে দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। দূষণ শুধু যে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে তা নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষমতাও নষ্ট করছে। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার। এই প্রকল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য দেশের পরিবেশ সংস্থাগুলিকে শক্তিশালী করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ৪৬ হাজার যানবাহন পরিদর্শনের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে চারটি যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা করবে। বার্ষিক সাড়ে তিন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য একটি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য এক মিলিয়ন টন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সহায়তা করা।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং টাস্ক টিমের নেতা জিয়াং রু বলেন, পত্র-পত্রিকায় আমরা নিয়মিত ঢাকার উচ্চ মাত্রার বায়ু দূষণের প্রতিবেদন দেখি। বিশ্বব্যাংকের অনুমান দেখায় যে, ২০১৯ সালে বায়ু দূষণ এবং সীসার এক্সপোজার বাংলাদেশে মৃত্যুর এক-পঞ্চমাংশেরও বেশির জন্য দায়ী, যা দেশের জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশ ব্যয় করে। পরিবেশগত বিধিবিধান এবং কঠোর পরিবেশগত প্রয়োগ বেসরকারি খাতকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সবুজ বাড়াতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে প্রকল্পটি। দেশকে ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য নির্গমনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশকে এই ঋণ বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে দেওয়া হবে। যা পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড সহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। প্রচলিত ঋণের শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংক   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ঋণ নিয়ে ফের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ: ০২:৫৫ পিএম, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তা পর্যায়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এখন শর্তসহ বাকি খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে আগামী জানুয়ারিতে ফের বৈঠক করতে চায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহিবল-আইএমএফ ঋণ।

এবারের বাংলাদেশ সফরে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সংস্থার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্তোনেত্তে মনসিও সাইয়া। বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে আইএমএফ ঢাকা কার্যালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংককে।

১৪ থেকে ১৮ জানুয়ারি চার দিনের ওই সফরের সম্ভাব্য সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএমএফ এর মধ্যে। উচ্চ পর্যায়ের এ সফরের প্রটোকল নিশ্চিত রতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে আইএমএফ এর পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, “ঋণ সম্পর্কিত বিষয়ে ফলোআপ করতে জানুয়ারির ১৪ তারিখে আইএমএফ প্রতিনিধি দল বৈঠকের আগ্রহ জানিয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা ওই চিঠিতে জানিয়েছে আইএমএফ।

কোভিড মহামারীর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও ইউক্রেইন যুদ্ধের জেরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বড় ধরনের চাপে পড়েছে; ডলারের বিপরীতে মান হারিয়ে চলছে টাকা, মূল্যস্ফীতিও পৌঁছেছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে।

রিজার্ভ ধরে রাখতে আমদানিতে লাগাম টানায় অর্থনীতি সঙ্কুচিত হয়েছে; জ্বালানি সংকটের মুখে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের মত দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিও বাংলাদেশের সামনে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতেই গত জুলাই মাসে আইএমএফ এর কাছে ঋণ চেয়েছিল বাংলাদেশ। আইএমএফ  এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অক্টোবরের শেষে ঢাকায় আসেন। দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর ঋণের বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতার কথা জানানো হয় সরকারের তরফ থেকে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ৯ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইএমএফ সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে রাজি। এই অর্থ বাংলাদেশ পাবে সাত কিস্তিতে। সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম কিস্তির ৩৫২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার তারা ছাড়তে পারে।

ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ কিস্তি বাংলাদেশ হাতে পাবে ২০২৬ সালে। সুদের হার হবে ২.২ শতাংশ।

আইএমএফ কর্মকর্তা রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে আইএমএফের নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করবেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা সেরে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আইএমএফ বোর্ড এ ঋণ প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারে।

৪২ মাসের চুক্তিতে সরকারের নেওয়া ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে’ সহায়তা হিসেবে আইএমএফের এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি ( ইসিএফ) এবং এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি থেকে ৩২০ কোটি ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ। আর রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় পাবে বাকি ১৩০ কোটি ডলার।

এ ঋণের অর্থ দিয়ে যেসব প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার হাতে নেবে, তার উদ্দেশ্য হবে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং দুর্দশায় পড়া জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিয়ে দৃঢ়, অর্ন্তভুক্তিমূলক এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি কমিয়ে আনতেও এই ঋণের অর্থ ব্যয় করা হবে।

তবে ঋণের শর্ত নিয়ে কোনো পক্ষই তখন স্পষ্ট কিছু জানায়নি।সাংবাদিকদের প্রশ্নে রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, আইএমএফ এর ঋণ পেলে অন্যান্য বৈশ্বিক উৎস থেকে ঋণ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে।

তার পরামর্শ ছিল, প্রবৃদ্ধির চাকাকে আরও গতিশীল করার জন্য কাঠামোগত সমস্যাগুলোতে নজর দিতে হবে, সেই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সুসংহত করা এবং জলবায়ু সহিষ্ণুতা গড়ে তুলতে হবে।

বিদেশি মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, মহামারীর সময়ে শুধু ব্যাংকিং চ্যানেল খোলা থাকায় বাংলাদেশে রেমিটেন্স বেশি এসেছিল। সেই গতি ধরে রাখতে হলে সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

রেমিটেন্স বাড়াতে সরকারও ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে হুন্ডি বন্ধের কিছু উদ্যোগও রয়েছে। অবৈধ ‘হুন্ডি’র মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার কয়েকশ এজেন্টের হিসাব সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি মোবাইল হিসাব বিদেশে বসে পরিচালনা ও মোবাইলেই সরাসরি রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইএমএফ প্রতিনিধি দলের ওই সফরের সময় দেশে আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়টি বিভিন্ন অঙ্গনে আলোচনায় গুরুত্ব পায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার, আইন বাস্তবায়ন ও ডিজিটালাইজেশন, ব্যাংক খাতেরর সংস্কার ও খেলাপি ঋণ এবং সরকারের বিভিন্ন খাতের ভর্তুকির বিষয়গুলো সেই আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসে।

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেভাবে হিসাব করা হয়, সেই পদ্ধতি নিয়েও তখন কথা হয়।

রাহুল আনন্দ ৯ নভেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আইএমএফ যে কোনো দেশের রিজার্ভ হিসাবের বেলায় বিপিএম ৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) পদ্ধতি অনুসরণ করে।

এ পদ্ধতিতে রিজার্ভের প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য তহবিলই প্রকাশ করার কথা। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী সেদিন তার সংবাদ সম্মেলনে রিজার্ভের হিসাবে মোট ও নিট– দুই ধরনের তথ্যই প্রকাশ করার কথা বলেছিলেন।

আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সেদিন বলেছিলেন, “অতীতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে সেই সংস্কারের বিষয়গুলো আগেই আলোচিত হয়েছে। সেগুলো একটি প্যাকেজ আকারে এক জায়গায় করা হয়েছে। সেই সংস্কারে তারা (আইএমএফ) সহায়তা করবে।”


ঋণ আলোচনা   আইএমএফ   বৈঠক  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন