ইনসাইড গ্রাউন্ড

অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়াল ব্রাজিল

প্রকাশ: ০৮:৪৫ এএম, ২৫ মে, ২০২৩


Thumbnail

প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে নেইমার-ভিনিসিউসদের উত্তরসূরিরা। ডমিনিকা রিপাবলিককে বড় ব্যবধানে উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আশা টিকিয়ে রাখল তারা।

বুধবার (২৪ মে) রাতে মালভিনাস আর্জেন্টিনাস স্টেডিয়ামে ডমিনিকা রিপাবলিককে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল যুবারা। এ জয়ের ফলে ইতালিকে টপকে গ্রুপের দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে দলটি।

টুর্নামেন্টে ২৪টি দল থেকে ১৬টি দল উঠবে নকআউটে। সেক্ষেত্রে ৬টি গ্রুপ থেকে ১২টি দল নিশ্চিতভাবে নকআউটে উঠে যাবে। এছাড়া গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা ৪টি দল যাবে নকআউট পর্বে। এই পর্বের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়াকে হারাতে পারলেই নিশ্চিতভাবে শেষ ষোলোর টিকিট মিলবে তাদের অথবা নাইজেরিয়ার কাছে হারলে কিংবা ড্র করলেও বাদ পড়বে না ব্রাজিল। সেক্ষেত্রে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপ এবং গ্রুপের বাইরের অন্য দলগুলোর দিকে। তাই তৃতীয় হয়েও নকআউটে যাওয়ার সুযোগ থাকবে ব্রাজিলের। 

মালভিনাসে শক্তির বিচারে বেশ পিছিয়ে থাকা ডমিনিকার বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। তবে প্রথমবার জালের দেখা পেতে সময় লেগেছে বেশ। ৩৭তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন সাভিও। পরের মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্কোস লিওনার্দো। ২-০ গোলের লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে ব্রাজিল দল।

ব্রাজিরের দ্বিতীয়ার্ধের খেলার গতি ছিল আরও বেশি । তাতে ফলাফল এসেছে দ্রুতই। ৫৭তম মিনিটে জিন হেনরিক পেদ্রোসো সেলেসাওদের হয়ে স্কোরশিটে নাম লেখান। ব্যবধানটা ৪-০ হয় ৮২ মিনিটে জিওভানের গোলে।

৮৫ মিনিটে এডিসন আজকোনা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশ জনের দলে পরিণত হয় ডমিনিকা। সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে ব্রাজিল। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে মার্লোন গোমেজ এবং অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে ম্যাথিউস মার্তিনস দলের হয়ে পঞ্চম ও ষষ্ঠ গোল করে। শেষ পর্যন্ত ৬-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

ব্রাজিল যুবাদের এমন জয়ে উচ্ছ্বাসিত ব্রাজিল ভক্ত সমর্থকেরা ।


অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ   ব্রাজিল   ফুটবল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

রোনালদো কি পারবে দেশকে আরেকটি ইউরো উপহার দিতে?

প্রকাশ: ১২:৪৩ এএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আপাতত ক্লাব ফুটবলের পাঠ চুকিয়ে ফুটবল প্রেমীরা এখন ফুল টাইম হতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর ইউরোর দিকে। অপেক্ষার প্রহর শেষে আগামী এক মাস ফুটবল প্রেমীরা বুঁদ হয়ে থাকবেন রোনালদো-এমবাপ্পে-হ্যারি কেইনদের দেশের জার্সিতে ফুটবল উপভোগ করার দিকে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলছে জার্মানি-স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়েই পর্দা উঠছে ইউরোর ১৭তম আসরের।

ফুটবলে বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইউরো’কে। ২০২৪ সালের আসরের বিশেষত্ব হচ্ছে, পশ্চিম আর পূর্ব জার্মানি এক হয়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইউরো’র আয়োজক হচ্ছে জার্মানি। এর আগে সর্বশেষ জার্মানিতে ইউরো আয়োজিত হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। 

জার্মানি, ইতালি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন ইউরোপের বিশ্বকাপজয়ী সবগুলো দলই আছে এবারের ইউরো আসরে। আয়োজক দেশ জার্মানির ১০টি শহরে ফুটবল-শ্রেষ্ঠত্বের এবারের লড়াই চলবে।

এবারের ইউরো ২০২৪ মূল আসর শুরুর আগে বাছাইপর্বে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, রোমানিয়া এবং হাঙ্গেরি এই দলগুলো অপরাজিত ছিল। তবে পর্তুগালই একমাত্র দল, যারা প্রতিটি ম্যাচ জিতেছে। এছাড়া স্পেন এবং স্কটল্যান্ড মাত্র একটি করে ম্যাচ হেরেছে।

ইউরো’র এবারের আসরই হয়তো শেষবারের দেখা যেতে পারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। ৩৯ বছর বয়সী পর্তুগিজ তারকা কি পারবেন আরেকটি ইউরো জিতে বিদায় সংবর্ধনা নিতে?

এছাড়া ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনো মেজর ট্রফি না জেতা ইংল্যান্ড কি পারবে প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা হতে? নাকি চতুর্থ ইউরোর জন্য জার্মানির ২৮ বছরের অপেক্ষা ঘুচে যাবে। এছাড়া ফেভারিটের তালিকায় আছে ইতালি ফ্রান্স ও স্পেন। আর বাকিদের সম্ভাবনাই–বা কতটুকু? ১৪ জুলাই বার্লিনের ফাইনালেই মিলবে উত্তর।

ইউরো’র এবারের আসরে সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ ধরা হচ্ছে ‘বি’ গ্রুপটাকে। স্পেন, ইতালি, ক্রোয়েশিয়া যে একই গ্রুপে। মৃত্যুকূপের অপর দলটি আলবেনিয়া।

ফুটবলের একটি পরিচিত দেশ হলো সুইডেন, ১৯৯৬ সালের পর থেকে এবারই প্রথম বাছাইপর্ব উত্তীর্ণ হতে না পারায় অংশ নিচ্ছে না দেশটি।


রোনালদো   ইউরো   চ্যাম্পিয়ন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

অপেক্ষার প্রহর শেষ, শুরু হতে যাচ্ছে ইউরো ২০২৪

প্রকাশ: ১২:১৮ এএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

অবশেষে শেষ হচ্ছে অপেক্ষার প্রহর। আজ শনিবার (১৫ তারিখ) রাত ১ টায় জার্মানি এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর ইউরো ২০২৪। যা চলবে ১৫ জুলাই পর্যন্ত।

টুর্নামেন্টের ১৭ তম আসরের আয়োজক জার্মানি। ইউরোপের ২৪টি দল এবারের ইউরোতে অংশগ্রহণ করছে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের পর এটিই জার্মানিতে আয়োজিত সবচেয়ে বড় ক্রীড়া অনুষ্ঠান। ২৪ দলের এ টুর্নামেন্টে জার্মানির বিভিন্ন স্থানের ১০ টি স্টেডিয়াম সর্বমোট ৫১ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। 

এবারের ইউরোতে অংশ নেয়া ২৪ টি দলকে মোট ৬টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্য থেকে প্রতি গ্রুপ থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় দল শেষ ষোলোতে যাবে। এছাড়াও পয়েন্ট বিবেচনায় প্রতিটি গ্রুপের তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলো থেকে আরো ৪ টি দল শেষ ষোলো নিশ্চিত করবে। 

৩৬ ম্যাচের গ্রুপ পর্ব শেষে আগামী ২৯ জুন থেকে শুরু হবে ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’। এবং সেই পর্যায়ের বিজয়ী দলগুলো ৫ জুলাই থেকে মুখোমুখি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর ১০ ও ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে দুইটি সেমিফাইনাল। 

ইউরোর ১৭ তম এই আসরের ফাইনাল জার্মানির বার্লিনে আগামী ১৫ জুলাই রাত ১১ টায় অনুষ্ঠিত হবে। 

এবারের ইউরোর অংশগ্রহণকারী দলগুলো: 


গ্রুপ-এ: জার্মানি, স্কটল্যান্ড, হাঙ্গেরি, সুইজারল্যান্ড

গ্রুপ-বি: স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি, আলবেনিয়া

গ্রুপ-সি: স্লোভেনিয়া, ডেনমার্ক, সার্বিয়া, ইংল্যান্ড

গ্রুপ-ডি: নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া

গ্রুপ-ই: ইউক্রেন, স্লোভাকিয়া, বেলজিয়াম, রোমানিয়া

গ্রুপ-এফ: পর্তুগাল, চেক প্রজাতন্ত্র, জর্জিয়া, তুরস্ক


ইউরো   রোনালদো   অপেক্ষা   জার্মনি   এমবাপ্পে  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

অবশেষে পাকিস্তানের কপাল পোড়াল বেরসিক বৃষ্টি

প্রকাশ: ১২:১৫ এএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

এবারের বিশ্বকাপে অবসর ভেঙ্গে মোহাম্মদ আমিরকে দলে ফেরানো, বোর্ডের নীতি নির্ধারক বদল, বিশ্বসেরা বোলিং ইউনিট- এমন বেশ কিছু শক্তি নিয়েই মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান। কিন্তু কথায় আছে, ‘কপালের লিখন, যায় না খণ্ডন’। ঠিক যেন তাই ঘটল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সাথে। 

শক্ত পোক্তভাবে এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতে চাইলেও শুরুর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সুপার ওভারে ধাক্কা আর দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে আকস্মিক হার টাই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল পাকিস্তানের জন্য। যার জন্য তৃতীয় ম্যাচে জিতেও কোন লাভ হলোনা গতবারের রানার্স আপদের।

পর পর দুই ম্যাচ হেরে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া পাকিস্তানের সুপার এইটের সমীকরণ ঝুলছিল ‘যদি কিন্তুর’ বেড়াজালে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ ছিল আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ। যেখানে পাকিস্তানের সুপার এইটে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হারের। তবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ এ’র যুক্তরাষ্ট্র-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। আর এতে করে দু’দলই ১টি করে পয়েন্ট পাওয়ায় সুপার এইট সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে পাকিস্তানের।

শুক্রবার (১৪ জুন) লডারহিলের সেন্ট্রাল ব্রওয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের। সেই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিলো পাকিস্তানও। কারণ এই ম্যাচে আইরিশদের জয়ের পাশাপাশি নিজেদের শেষ ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিতলেই সুপার এইটে প্রবেশ করতে পারতো বাবর আজমের দল।

তবে মাঠ ভেজা থাকায় টস করতে ও নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হতে বিলম্ব হয়। মাঝখানে বৃষ্টি থেমে গেলেও খেলার জন্য পিচ ও মাঠের আউটফিল্ড তৈরি করতে বেশ সময় লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর ফের শুরু হয় বৃষ্টি। আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সময় দুপুর ২.১৬ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। সে সময়ের মধ্যে মাঠ পুরোপুরি খেলার জন্য উপযুক্ত হলে ম্যাচ হবে ৫ ওভারের। অর্থাৎ, টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ফল নির্ধারণের জন্য ন্যূনতম যে গণ্ডি, সেটি যুক্তরাষ্ট্র-আয়ারল্যান্ডকে খেলাতে চায় আইসিসি। ৫ ওভারও খেলা সম্ভব না হলে, ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যাবে এবং বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে পাকিস্তানের। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ৪ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ম্যাচ আইরিশদের বিপক্ষে পাকিস্তান জিতলেও তাদের পয়েন্ট হবে ৪। তাই আর কোন সমীকরণ ছাড়াই বিশ্বকাপে বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠলো পাকিস্তানের।

উল্লেখ্য, রোববার বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে একই মাঠে আইরিশদের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। এ গ্রুপ থেকে সুপার এইটে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।


পাকিস্তান   টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ   ক্রিকেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশের অনন্য সাফল্য

প্রকাশ: ০৯:৫৯ পিএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

একটা লম্বা সময় ধরে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সাফল্য বলতে যেন কিছুই ছিল না। সেই ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সবকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে বাংলাদেশ অংশ নিলেও কোনোটিতেই উঠতে পারেনি দ্বিতীয় রাউন্ডে। গত আটটি আসরের প্রতিটিতেই বাংলাদেশ বাদ পড়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। 

এত কিছুর পরও বছর ঘুরে পুনরায় সামনে এলো আরো একটি বিশ্বকাপ। যেখানে অংশ নিতে বেশ আট-ঘাট বেঁধেই  চলতি বছরে প্রস্তুতিস্বরূপ শ্রীলংকা সিরিজের মধ্য দিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে সেখানেও ধরাশায়ী টাইগাররা। 

নতুন ক্যাপ্টেন, তারুণ্য নির্ভর দল। সেই সাথে নির্বাচক প্যানেলও পরিবর্তিত। সব মিলিয়ে যেন নতুন এক বাংলাদেশকে দেখার অপেক্ষায় ছিল ভক্ত-সমর্থকরা। কিন্তু শ্রীলংকার পর জিম্বাবুয়ের সাথে বাজে পারফরমেন্স এবং অভিবাসীদের নিয়ে গড়া দল আনকোরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও সিরিজ হারে মুখ থুবড়ে পড়ে টাইগাররা। 

আর বিশ্ব ক্রিকেটের এমন একটি বড় টুর্নামেন্টের পূর্বে টাইগারদের এমন পারফরম্যান্স যেন শঙ্কায় ফেলে দিয়েছিল ভক্ত-সমর্থকদের। অনেকে এটাও ভেবে নিয়েছিলেন যে, এবারও পূর্বের মতই গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়বে বাংলাদেশ। 

তবে একের পর এক বাজে পারফর্মেন্সের পরও দলের উপর ভক্ত-সমর্থকদের আস্থা রাখতে বলেছিলেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সিরিজ হারের পরও শান্ত বলেছিলেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো করবে। আপনারা আস্থা রাখুন। 

এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার সাথে ম্যাচ দিয়েই নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। যেখানে সব আলোচনা-সমালোচনা পেরিয়ে লঙ্কানদের নাস্তানাবুদ করে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছিল টাইগাররা। আর শ্রীলংকার বিপক্ষে এই জয়ের মধ্য দিয়ে টাইগাররা একদিকে যেমন নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিল, ঠিক অন্যদিকে ভক্ত-সমর্থকরা নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছিল। 

তবে ভাগ্যের ফেরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আবারো যেন ব্যাকফুটে চলে গেছিল বাংলাদেশ। বিতর্কিত আম্পায়ারিং এর কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশকে চার রানে হারতে হয়েছিল এই ম্যাচে। 

কিন্তু এত কিছুর পরেও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। আশা ছিল এবারের বিশ্বকাপে সেকেন্ড রাউন্ডে যাবে টাইগাররা। সেই লক্ষ্যে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। যেখানে আগে ব্যাট করে ১৫৯ রানের চ্যালেঞ্জিং কর গড়ে তুলেছিল টাইগার ব্যাটাররা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল ডাচরা। 

তবে বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার বিষাদ হোসেন এর এক ওভারে যেন মোড় ঘুরে যায় ম্যাচের। পর পর দুই উইকেট নিয়ে ডাচদের ব্যাটিং লাইনআপ চুরমার করে দেয় সে। আর সেই ধারাবাহিকতায় শেষমেষ ২৫ রানের জয় পায় টাইগাররা। 

যাতে করে এবার টাইগাররা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ হওয়ার সেই রেকর্ড ভাঙতে চলেছে। তবে এর পেছনে রয়েছে কিছু বিশেষ কারণও। যার মধ্যে রয়েছে-

প্রথমত, তারুণ্য নির্ভরতা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবার তারুণ্য নির্ভর এক দল। যেখানে যেমন রয়েছে তানজিদ তামিম ও তাওহীদ হৃদয়দের মতো ব্যাটাররা, তেমন রয়েছে  রিশাদ হোসেন ও তানজিম সাকিবদের মত প্রতিভাবান বোলাররা। আর এই তরুণদের উপর নির্ভর করেই এবারের বিশ্বকাপে সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। 

দ্বিতীয়ত, অভিজ্ঞতার কান্ডারী সাকিব ও মাহমুদুল্লাহ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই রত্ন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটে-বলে পারফর্ম করে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। আর এই দুই রত্নের প্রভাব রয়েছে এবারের বিশ্বকাপেও। টপ অর্ডারদের ব্যর্থতার পর প্রতিনিয়ত ব্যাট হাতে একদিকে যেমন হাল ধরছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ঠিক তেমনি অলরাউন্ডিং পারফরমেন্সের মধ্য দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। 

তৃতীয়ত, ভারসাম্যপূর্ণ ক্রিকেট। বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টিতে বরাবরই নড়বড়ে অবস্থানে ছিল। তবে এবারের বিশ্বকাপে তারুণ্য নির্ভর এই বাংলাদেশকে দেখে মনে হয়েছে এ যেন এক নতুন বাংলাদেশ। যেখানে ব্যাটারদের সাহসী ব্যাটিং এবং বোলারদের নৈপূণ্যতা ছিল প্রশংসনীয়। 

আর এই তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশ এবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে লাখো কোটি ভক্ত-সমর্থকদের। আর তাই বাংলাদেশের সামনে এখন একটি বড় প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সেটি হচ্ছে, এই লাখো কোটি ভক্তদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পারবে টাইগাররা?

উল্লেখ্য, গ্রুপ-ডিতে ৩ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে সবার আগে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬ পয়েন্ট পাওয়া প্রোটিয়াদের নেট রান রেট প্লাস ০.০৬৩। ৩ ম্যাচে দুই জয় ও এক পরাজয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ নেট রান রেট প্লাস ০.৪৭৮, পয়েন্ট ৪। ৩য় স্থানে থাকা ডাচদের ৩ ম্যাচে ১টি মাত্র জয় রান রেট মাইনাস ০.৪০৮, পয়েন্ট ২।

যেহেতু শ্রীলঙ্কার এই পয়েন্ট অর্জন করা আর কোনোভাবেই সম্ভব না, তাই গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছে লঙ্কানরা। শেষ ম্যাচে টাইগাররা নেপালের বিপক্ষে জয় পেলেই হবে। বাড়তি কোনো হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন হবে না।

তবে বাংলাদেশ নেপালের কাছে হেরে গেলে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডাচরা জিতে গেলে নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৪। এমন অবস্থায় নেট রানরেটের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে সুপার এইটের সমীকরণ। কিন্তু কোনো প্রকার সমীকরণে যেতে চায় না শান্ত বাহিনী। তাই নেপালের বিপক্ষে জয় ছাড়া আর কিছু ভাবছে না।

ধরে টি-টোয়েন্টি   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

আয়ারল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে বৃষ্টি হলে কপাল পুড়বে পাকিস্তানের!

প্রকাশ: ০৭:৩২ পিএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

চলমান টি-২০ বিশ্বকাপের নবম আসরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে সুপার এইটের পাঁচ দল। বাকি তিন দল হিসেবে কারা উঠছেন কোয়ার্টারে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

এবারের বিশ্বকাপে শুরুর দিকে শক্তিশালী দল হিসেবে অন্যান্য দলের সাথে পাকিস্তানকেও ধরা হয়েছিল। কিন্তু আসরের প্রথম দুই ম্যাচে পর পর হেরে ইতোমধ্যেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে বাবর-রিজওয়ানরা। যদিও সুপার এইটের আশা এখনও শেষ হয়নি পাকিস্তানের।

অপরদিকে টানা তিন জয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। আর তিন ম্যাচের দুটিতে জিতে পরের পর্বে এক পা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনও নিশ্চিত নয় তারা। কারণ, পয়েন্ট কম হলেও তাদের চেয়ে রান রেট ভালো পাকিস্তানের। স্বাভাবিকভাবেই আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের জয়ের বিকল্প নেই।

তবে যদি হার কিংবা বেরসিক বৃষ্টিতে ম্যাচটি ভেস্তে যায় তাহলে কপাল পুড়বে পাকিস্তানের। কারণ, আইরিশদের হারালে দুই পয়েন্ট পেয়ে মোট ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে যাবে স্বাগতিকরা। বৃষ্টি হলেও আমেরিকারই লাভ। আগে থেকে ৪ পয়েন্ট পাওয়া দলটি আর এক পয়েন্ট পেলেই সুপার এইটের টিকিট পাবে। অতএব পাকিস্তান নিজেদের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারালেও কোনো লাভ হবে না।

সুপার এইট বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শুক্রবার মাঠে নামছে যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ড। ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আশঙ্কা আছে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ারও। আর সেটা হলে কপাল পুড়বে পাকিস্তানের।

বছরের এই সময়টাই ফ্লোরিডায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা থাকে সবসময়। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও কথা বলছে বৃষ্টির পক্ষে। দুই দিন আগে এই মাঠে অনুষ্ঠিতব্য শ্রীলঙ্কা-নেপালের ম্যাচও ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। এই ম্যাচেও এমন চিত্র দেখার সম্ভাবনা আছে।  
 
বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই সুপার এইটে উঠবে যুক্তরাষ্ট্র। আর বাদ পড়ে যাবে কানাডা, পাকিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড। সেক্ষেত্রে এই দুই দলের শেষ ম্যাচটা স্রেফ নিয়মরক্ষার ম্যাচে পরিণত হবে।


ভারত   পাকিস্তান   ক্রিকেট   টি-২০ বিশ্বকাপ   যুক্তরাষ্ট্র   আয়ারল্যান্ড  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন