ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

অবরোধে এক বাসে আগুন দিলে মেলে ৩ হাজার টাকা

প্রকাশ: ০৭:০৯ পিএম, ০৬ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

ঢাকায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার অন্যতম নির্দেশদাতা ছাত্রদল নেতা আমির হোসেন রকি ও তাঁর সহযোগী মো. সাকিব ওরফে আরোহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় অভিযান চালায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই বোতল পেট্রোল ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। সিটিটিসি বলছে, বিএনপি নেতাদের নির্দেশে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি সমন্বয় করে আসছিলেন রকি। একটি বাসে আগুন দেওয়ার জন্য কর্মীরা পান তিন হাজার টাকা। 

সোমবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক সহিংসতার অংশ হিসেবে গত ১ নভেম্বর সকালে মুগদা বিশ্বরোডের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় মিডলাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর পালানোর সময় জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ আল আমিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় বাসের মালিক মুহাম্মদ দুলাল হোসেন বাদী হয়ে মুগদা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। ঘটনার পরপরই সিটিটিসির ইন্টেলিজেন্স টিম ঘটনায় জড়িত ও আর্থিক সহায়তাকারীদের গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করে।’ 

জানা যায়, আল আমিন স্থানীয় বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় তাদের দলীয় নেতা মিজানসহ অন্যদের নিয়ে যাত্রীবেশে টিটিপাড়া থেকে বাসে ওঠেন এবং ঘটনাস্থলে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেন। তার দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সিটিটিসি ও মুগদা থানার একটি যৌথ দল গতকাল ভোরে গাজীপুরের বাসন থেকে অগ্নিসংযোগকারী গ্রুপের মূল সমন্বয়কারী মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিএনপির সক্রিয় কর্মী মিজানুর রহমান জানান, অবরোধের প্রথমদিন সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন রকি তাকে ফোনে বাসে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দেন। রকি তাকে বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ও তাদের নির্দেশেই কাজ হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যদি মিজান আগুন দিতে পারেন, তবে বিএনপি আর কয়েকদিন পর ক্ষমতায় এসে তাকে এমন টাকা-পয়সার ব্যবস্থা করবে যে, কোনো অভাব থাকবে না। গত ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল নিয়ে ওই নেতা গুলিস্তান এলাকায় এসে তাকে পাশে ডেকে নিয়ে পরদিন কমলাপুর থেকে মুগদা পর্যন্ত বাসে আগুন দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে এক হাজার টাকা ও এক বোতল পেট্রল দেন। এরপর মিজান তার সহযোগী আল আমিনসহ আরও দুইজনকে নিয়ে ১ নভেম্বর সকালে মুগদায় বাসে আগুন দেন।

সিটিটিসি প্রধান জানান, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি টিম কাজ শুরু করে। গোপন সূত্রে জানা যায়, রকি গতকাল সকালের দিকে দয়াগঞ্জ এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এজন্য তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুষ্কৃতিকারীদের ধরার জন্য পুলিশ কাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে সিটিটিসির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগুন দেওয়ার আগেই যাত্রাবাড়ী থানা তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশি তৎপরতায় ওই এলাকায় কিছু করতে না পারায় রকি তার এক নেতার সঙ্গে আগুন দেওয়া সংক্রান্ত পরামর্শ করেন এবং তার অপর সহযোগী সাকিবকে নিয়ে আরামবাগ পাম্প থেকে পেট্রোল নিয়ে কেরানীগঞ্জ এলাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে রওয়ানা হন। সিটিটিসির  ইন্টেলিজেন্স টিম তাকে অনুসরণ করে বাবুবাজার ব্রিজের ওপর থেকে রকি ও তার সহযোগী সাকিবকে দুই বোতল পেট্রল ও তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমির হোসেন রকি জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র শীর্ষ এক নেতার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও আর্থিক সহযোগিতায় তিনি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। নেতারা তাকে বিএনপি দলীয় ক্যাডারদের সমন্বয় করে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি বিএনপি কর্মী মিজানকে টাকা ও পেট্রোল সরবরাহ করেন। যার ভিত্তিতে মিজান, আল আমিন ও তাদের অপর দুই সহযোগী মুগদা থানা এলাকায় বাসে আগুন দেয়। আগুন দেওয়ার পরপরই মিজান তাকে ফোন দিয়ে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে তিনি মিজানের বিকাশ নম্বরে তিন হাজার টাকা পাঠান। 

জিজ্ঞাসাবাদে রকি আরও জানান, ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপির ডাকা প্রথম ধাপের অবরোধের চেয়ে ৫-৬ নভেম্বরের দ্বিতীয় ধাপের অবরোধে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে দ্বিগুণ টাকা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে।গ্রেপ্তারকৃত রকি প্রথম ধাপের অবরোধে মুগদার বাইরেও আরও বেশ কয়েকটি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে শাহবাগ ও কোতয়ালী থানায় আরও দুটি মামলা রয়েছে।

অবরোধ   বিএনপি   বাসে আগুন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

তুরস্কের নাগরিক বেনজীর?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট কেলেঙ্কারির কথা নতুন নয়। সরকারি চাকরি করে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থাকার পরও তিনি সরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বরং ভুয়া ঠিকানায়, ভুয়া পরিচয় এবং ভুয়া পেশা দিয়ে তিনি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন এবং সেই পাসপোর্ট দিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। এখন তার বেসরকারি পাসপোর্টের আসল রহস্য উদঘাটন করা গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে ২০২১ সালে তিনি তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। 

তুরস্ক ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিদেশিদের জন্য নাগরিকত্বের দরজা খুলে দিয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে বা বিনিয়োগ করে তুরস্কের নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি বিধান রাখা হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিল এবং এর ফলে তুরস্কের বাইরে থেকে সম্পদ এসেছিল ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আর এই নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ গ্রহণ করেছেন সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ। তিনি এখন তুরস্কের নাগরিক এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, তিনি তুরস্কের নাগরিকত্বের পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন এবং এই পাসপোর্ট গ্রহণের জন্যই তিনি সরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। বেনজীর তার স্ত্রী এবং কন্যার নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ কিনেছেন এবং সেখানে বেনজীরের বিনিয়োগ শত কোটির বেশি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও তুরস্কে তার অন্তত তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট, একটি বাংলো এবং দুটি দোকান রয়েছে বলেও দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন। 

সূত্রগুলো বলছে যে, ২০২১ সালের প্রথম দিকে বেনজীর, তার স্ত্রী জিসান আহমেদ এবং এক কন্যা তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বেনজীর আহমেদ জানতেন যে, তিনি যে কোন সময় সরকারের নজরে আসতে পারেন। তার ব্যাপক এবং সীমাহীন দুর্নীতির বিষয়টি একদিন না একদিন সামনে আসবেই। এ কারণেই তিনি তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বহুবিধ সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এই দেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করলে তিনি ইউরোপের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত এবং ইউরোপের নাগরিক হলে বিভিন্ন ইউরোপের দেশগুলোতে তিনি বিনা ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন। সেই সমস্ত দেশে তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও করতে পারবেন। তুরস্কের পাসপোর্টে একশোরও বেশি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়। 

দ্বিতীয়ত, তুরস্ক যে প্রশ্নহীন বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছিল, সেই বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বেনজীর আহমেদ সেখানে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এই বিনিয়োগের কারণে সেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসও করার সুযোগ লাভ করেছেন। 

তৃতীয়ত, যেহেতু তিনি একটি বিশেষ সুযোগ গ্রহণ করেছেন তাই তার সম্পদ নিয়ে কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। তিনি সেখানে নিরাপদে থাকতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো তুরস্কের নাগরিকদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সবসময় খোলা। তুরস্কের নাগরিকত্বের জন্য তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও দায় মুক্তির সুযোগ পাবেন এবং সেখানে তার বিনিয়োগ নিয়ে কোন ঝামেলা হবে। এখন দেখার বিষয় বিভিন্ন দেশে যে বেনজীর আহমেদ নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছেন সেই সম্পর্দ গুলো উদ্ধারে সরকার কি পদক্ষেপ নেয় এবং বিদেশি পাসপোর্ট ধারী সর্বোচ্চ পদে থাকা এই দুর্বৃত্তকে আইনের আওতায় আনতে সরকার কতটুকু সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

বেনজীর আহমেদ   তুরস্ক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

বেনজীর এখন কোথায়?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীরের আলাউদ্দিনের চেরাগ থেকে একের পর এক সম্পদের পাহাড় বেরিয়ে আসছে। নানা রকম সম্পদের ফিরিস্তি প্রতিদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। তার বেশ কিছু সম্পদ সরকার জব্দও করেছে। এই সম্পদগুলো এখন সরকারের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একজন সর্বোচ্চ পদে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে এত দুর্নীতিবাজ হয়ে উঠতে পারেন তা নিয়ে চলছে নানা রকম আলাপ আলোচনা চর্চা। কিন্তু যাকে নিয়ে আলাপ আলোচনা তিনি কোথায়? এ প্রশ্নের উত্তর নেই। 

বেনজীর আহমেদকে গত ৬ জুন দমন কমিশন তলব করেছিল। তিনি সেই তলবে হাজির হননি। তার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে তিনি ১৫ দিন সময় চেয়েছিলেন। তাকে সেই সময় মঞ্জুর করা হয়েছে। ৯ জুন তার স্ত্রী এবং কন্যাদেরকে তলব করা হয়েছিল। সেখানেও তারা উপস্থিত হননি। তাদেরকেও নতুন করে সময় দেওয়া হচ্ছে। বাংলা ইনসাইডার নিশ্চিত হয়েছে যে, এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেনজীর আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন না। 

বেনজীর আহমেদ এখন কোথায় আছেন? কীভাবে আছেন? বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বেনজীর আহমেদের পরিবার এখন দুটি দেশে অবস্থান করছেন। বেনজীর আহমেদের কনিষ্ঠতম কন্যা এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন এবং তার পিতাকে নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো প্রকাশিত হবার পর তিনি কিছুটা মুষড়ে পড়েছিলেন বটে। কিন্তু এখন তিনি স্বাভাবিক রয়েছেন। তার পরিচয় গোপন রেখেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। লন্ডনে বেনজীর আহমেদ তাকে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন, সেখানেই বেনজীরের কনিষ্ঠ কন্যা অবস্থান করছেন। বেনজীর আহমেদের পরিবারের বাকি সদস্যরা এখন দুবাইতে অবস্থান করছেন- এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের কেনা অ্যাপার্টমেন্ট হাউসে পরিবারের সকল সদস্যরাই অবস্থান করেন। বেনজীর আহমেদের বড় মেয়ের জামাতা দুবাইতে ব্যবসা করেন। সেই ব্যবসার বিনিয়োগ এবং উৎস কিছুই বেনজীর করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

উল্লেখ্য যে, বেনজীর আহমেদ যখন পুলিশ প্রধান ছিলেন তখন তিনি রাজকীয় কায়দায় তার বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন।বিয়ে দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তার জামাইকে দুবাই পাঠিয়ে দেন এবং দুবাইয়ে হোটেল, আবাসন সহ অন্তত তিনটি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে বেনজীরের জামাতার। আর বেনজীর আহমেদ যখন বুঝতে পারেন যে, সরকার তাকে যে কোন সময়ে বেকায়দায় ফেলতে পারে এবং যে কোন সময়ে তার দুর্নীতির কীর্তি কাহিনি ফাঁস হয়ে যেতে পারে, ঠিক সেই সময় তিনি তার স্ত্রী এবং কন্যাকে নিয়ে দুবাই চলে যান। 

কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে যে, বেনজীর আহমেদ সিঙ্গাপুরে গেছেন। তবে বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধান নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদ সিঙ্গাপুরে যাননি। যদিও মালয়েশিয়ায় তার সেকেন্ড হোম রয়েছে। কিন্তু বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গেছেন এবং এখন তিনি দুবাইতেই অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি কোন বাঙালির সঙ্গে দেখা করছেন না। বাংলাদেশের কয়েকজন তার ব্যবসায়িক পার্টনারের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় যোগাযোগ রক্ষা করছেন, খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগের চেষ্টার খবর পাওয়া গিয়েছিলো। কিন্তু সকলেই এখন বেনজীর আহমেদকে এড়িয়ে চলছে। ফলে বেনজীর সেদিকেও যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না।

দুবাইয়ের স্থানীয় লোকজন বলছেন যে, বেনজীর আহমেদ যে পরিমাণ সম্পদ দুবাইতে জমা করেছেন তা নিয়ে সারা জীবন তিনি চলতে পারবেন। কাজেই দেশে তার সম্পদ কতটুকু বাজেয়াপ্ত হলো সেটি নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। বাংলাদেশে তার যে সম্পদ জব্দ হয়েছে তার চেয়ে অত্যন্ত ১০ গুণ সম্পদ তিনি দুবাইতে করেছেন। আর এ কারণেই তিনি এখন দুবাইতে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না, যতক্ষণ না তিনি ওই দেশে কোন অন্যায় না করছেন।

বেনজীর আহমেদ   দুদক   দুবাই  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

জব্দের আগেই টাকা সরিয়ে ফেলেছেন বেনজীর

প্রকাশ: ০২:৫৪ পিএম, ৩০ মে, ২০২৪


Thumbnail

জব্দের আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। গত ২৩ মে তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। তবে এসব অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা ছিল, তা জানা যায়নি।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো জমি, ফ্ল্যাট বা অন্য কোনো সম্পদ বিক্রি বা স্থানান্তর করেছেন কিনা, সে তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে তিনি দেশে আছেন কিনা, তা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা । একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিবার নিয়ে বেনজীর দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, দুই মেয়ে ও তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৩টি অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সঞ্চয়ী, মেয়াদি, এসএনডি আমানত হিসাব। কিছু ঋণ হিসাবও আছে। অ্যাকাউন্ট জব্দ কার্যকরের আগেই আমানত হিসাব থেকে নগদ টাকা উত্তোলন কিংবা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট জব্দ হতে পারে– বিষয়টি তিনি আগেই জেনে গিয়েছিলেন, নাকি ধারণা থেকে সরিয়ে ফেলেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্তকারী একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, গত সপ্তাহে তার অ্যাকাউন্টগুলো ফাঁকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যখনই কেউ বুঝতে পারেন তাকে ধরার চেষ্টা চলছে, তখনই তিনি টাকা সরিয়ে ফেলেন। অবশ্য টাকা তুললেও নগদে রেখেছেন, নাকি অন্য কারও অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন– তা বের করা সম্ভব।

বেনজীর, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে গত ২২ এপ্রিল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে। দুদকের অনুরোধে বিএফআইইউ বিভিন্ন ব্যাংকে তথ্য তলব করে চিঠি দেয়। বিএফআইইউ এসব তথ্য পাঠায় দুদকে। এর পর দুদকের তথ্যের ভিত্তিতে আদালত গত ২৩ মে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৩টি হিসাব জব্দ ও অবরুদ্ধের আদেশ দেন। একই দিন তাদের ৩৪৫ বিঘা (১১৪ একর) জমি জব্দেরও আদেশ দেয়া হয়।

দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে গত ২৬ মে রবিবার ১১৯টি জমির দলিল, ২৩টি কোম্পানির শেয়ার ও গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা এরই মধ্যে সব অফিসে পাঠিয়েছে দুদক। দুদক জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাবের অর্থ যাতে হস্তান্তর বা রূপান্তর না হয়, সে জন্য আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি যাতে হস্তান্তর না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর আদালতের জব্দের আদেশ পাঠানো হয়েছে। 

দুদকে বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার আগে কাছাকাছি সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হলে এ ক্ষেত্রে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। ওই টাকা কোথাও বিনিয়োগ করা হলে সেটি অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে ধরা হবে। এবং এটি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত মোট সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হবে। আর উত্তোলনকৃত অর্থ কোনো খাতে বিনিয়োগ করা না হলে তাকে মানি লন্ডারিং অপরাধের আওতায় আনা হবে।

দুদক আরও জনায়, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার পর সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনোভাবেই ওই সব হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না। এ পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলে নিলে এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বেনজীর আহমেদ   দুদক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

বেনজীরের রত্নভান্ডার: দেশের সামান্যই, বিদেশেই বেশি

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

বেনজীর আহমেদ, সাবেক পুলিশ প্রধান। দেশে তার বিপুল সম্পদের হিসাব নিয়ে যখন মানুষের ভিরমি খাওয়ার অবস্থা, তখন দুর্নীতি দমন কমিশন এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, দেশে তার সম্পদ সামান্যই। এটি হল শুধুমাত্র পিনাট বা বাদাম। বেনজীরের আসল সম্পদ বিভিন্ন দেশে। 

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে কালের কন্ঠ এবং অন্যান্য সংবাদপত্রগুলোতে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল তার প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন এখন পর্যন্ত অনুসন্ধান করে তার এবং পরিবারের যে সম্পত্তি পেয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৬২১ বিঘা জমি, ১৯ টি কোম্পানির শেয়ার, গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩০ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩ টি ব্যাংক হিসাব এবং তিনটি বিও হিসাব। 

বিভিন্ন সূত্র বলছে, দুর্নীতি দমন কমিশন দেশে যে সম্পত্তির হদিস পেয়েছে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সম্পদ আছে বিদেশে। বেনজীর আহমেদের সম্পদ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়ায় থাকতে পারে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন ধারণা করছে। 

বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদদের বড় অংশ রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। এখানে তিনি গত ১০ বছর ধরে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

বেনজীর আহমেদের এক মেয়ের স্বামী দুবাইতে ব্যবসা করেন বলেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে এবং সেখানেই তিনি বসবাস করেন। আর বেনজীর আহমেদের দুবাইতে সম্পত্তির মধ্যে বাড়ি, দোকান, রেস্তোরাঁ সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বেনজীর আহমেদের পরিবারের নামে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াতে বিপুল সম্পদ আছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। বেনজীর আহমেদের স্ত্রীর সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়া সম্পদ থাকার কথা নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। 

অন্য একটি সূত্র বলছে, যুক্তরাজ্যেও বেনজীর আহমেদের সম্পদ রয়েছে এবং সেখানে তার মেয়ে লেখাপড়া করে। আরেকটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের পরিবারের অস্ট্রেলিয়াতেও বেশ কিছু সম্পত্তি রয়েছে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন এখন পর্যন্ত এদের ব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য পায়নি।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, বেনজীর আহমেদের এই তথ্যের বিস্তারিত হিসাব তারা সংগ্রহ করছে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পক্ষ থেকেও কাজ করা হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বেনজীর আহমেদের পরিবারের সম্পত্তি কত তা নিশ্চিত হতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন কোন কোন মহল। 

অনেকেই মনে করছেন, বেনজীর আহমেদের সব সম্পদ তার নিজের নামে নয়, অন্যান্য বেনামেও তিনি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টাকা বানিয়েছেন। সেই সম্পদ গুলোর হিসাব পাওয়া সত্যি সত্যি দুরূহ হবে।

বেনজীর আহমেদ   দুদক   দুর্নীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

বাতিল হচ্ছে হারিছ-জোসেফের ভুয়া এনআইডি

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের দুই ভাইয়ের নামে যে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছে সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশন তদন্ত করছে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে, তারা ভুয়া নাম পরিচয় পরিবর্তন করে ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করছেন, তাহলে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল করা হবে। নির্বাচন কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচন কমিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পরপরই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও এ ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যদি অনুসন্ধান করে দেখে যে, এই দুজন তাদের পরিচয়, ঠিকানা ইত্যাদি গোপন করেছেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই এনআইডি বাতিল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

নির্বাচন কমিশনের ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা নিয়ে আমাদের তদন্তের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। উল্লেখ্য, মিথ্যা তথ্য দিয়ে মোহাম্মদ হাসান নামে ২০১৪ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছিলেন সাবেক সেনা প্রধানের ভাই হারিছ আহমেদ। ২০১৯ সালে তিনি এনআইডিতে নিজের ছবি পরিবর্তন করেন। এটি নিয়ে আল জাজিরায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সেই নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিবৃতিতেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও সাবেক সেনাপ্রধান আরেক ভাই তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন বলে সংবাদপত্রের খবরে অভিযোগ করা হয়েছে। এর একটি মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেখানে তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফের নাম দেওয়া হয়েছে তানভির আহমেদ তানজীল। অন্যটিতে তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ নামে আছে। 

আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তির একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে পারে না। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচন কমিশন সবকিছু যাচাই বাছাই করেই এনআইডি দেয়। তবে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও ডা. সাবরিনা একই রকম ভাবে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র হয়েছিল। এ রকম ঘটনা অতীতে বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। তবে এখন নির্বাচন কমিশন এটি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করে করে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয় বলেই জানানো হয়েছে। 

২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ হাসান নামে জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন করলে তা নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করে। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন এবং তা অনুমোদিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মতো কোন রকম তদন্তের বিধি বিধান নাই। এখন এই তদন্তের বিষয়টি যোগ করা হয়েছে। এবং তদন্তের মাধ্যমে তখন এটি করা হত না জন্যই এই সুযোগ হারিছ এবং জোসেফ পেয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জেনারেল আজিজ আহমেদের আরেক ভাই তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ ২০১৪ সালে নিজের নাম ও বাবার নাম বদল করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। তার ছবি ঠিক থাকলেও তার নাম লেখা তানভির আহমেদ তানজীল। তার বর্তমান ঠিকানা দেওয়া হয়েছে মিরপুর ডিওএইচএস এর একটি বাসা। আর স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ঢাকা সেনা নিবাসের একটি বাসা। এনআইডির ছবি তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সশরীরে হাজির থাকতে হয় এবং অসত্য তথ্য দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার ঘটনা নিয়ে সে সময় কোন রকম উচ্চ বাক্য হয়নি। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পর নির্বাচন কমিশন এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে এবং এই দুটি ভুয়া এনআইডি বাতিল হবে বলে জানা গেছে।

ভুয়া এনআইডি   আজিজ আহমেদ   আল জাজিরা   নির্বাচন কমিশন   জোসেফ   হারিছ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন