ইনসাইড পলিটিক্স

১০ ডিসেম্বর কি জলিলের ট্রাম্পকার্ড হতে যাচ্ছে?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৪ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আব্দুল জলিল। ২০০৪ সালে আকস্মিকভাবে তিনি ঘোষণা করলেন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পতন ঘটবে। কিভাবে ঘটবে, কেন ঘটবে তার কোনো বিশদ ব্যাখ্যা তিনি দেননি। তিনি শুধু বলেছিলেন যে, তার কাছে ট্রাম্পকার্ড আছে। ৩০ এপ্রিল এই ট্রাম্পকার্ড দেখানো হবে। এর ফলে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পতন ঘটবে। সেই সময় বিএনপি-জামাত জোটের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিলো সংসদে। দেশের পুরো নিয়ন্ত্রণ, কর্তৃত্ব ছিল হাওয়া ভবন এবং বেগম খালেদা জিয়ার কাছে। তারপরও আব্দুল জলিল কেন এই ট্রাম্পকার্ড তত্ত্ব হাজির করেছিলেন, তা নিয়ে রাজনীতিতে এখনও নানা বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকার্ড তত্ত্ব একটি কৌতুকে পরিণত হয়েছিল। ৩০ এপ্রিল বিএনপির পতন ঘটেনি। বরং বিএনপি নেতারা এ নিয়ে আওয়ামী লীগকে নানারকম বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছিল। এতো বছর পর আবার যেন আব্দুল জলিলের ট্রাম্পকার্ড তত্ত্ব ফিরে আসছে রাজনীতিতে। ১০ ডিসেম্বর নিয়ে রাজনীতিতে মাতামাতি করছে ১৬ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। বিএনপি নেতারা বলছেন, ১০ ডিসেম্বরের পর সরকারের কর্তৃত্ব দেশে থাকবে না, খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলবে। এখন তারা বলছেন, ১০ ডিসেম্বরের পর দেশে এক দফার আন্দোলন শুরু হবে। আবার বিএনপির কোনো কোনো নেতা বলছেন, ১০ ডিসেম্বর সরকারের পতন ঘণ্টা বাজবে। এরপর সরকারের পতন হবে সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিএনপি নেতারা কেন, কোন যুক্তিতে এই কথা বলছেন তার কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না।

বিএনপি দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতার বাইরে। ক্ষমতার বাইরে থেকে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের আন্দোলন করার চেষ্টা করেছিল। সেই চেষ্টাগুলোয় একে একে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ২০১৩ সালে বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু সেই আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তাদের জ্বালাও-পোড়াও, হঠকারিতা মানুষ প্রত্যাখ্যান করে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির বাধা সত্বেও। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ তার পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করে। ওই সংসদের প্রথম বছর পূর্তি উপলক্ষে আবার বিএনপি সরকার পতনের ডাক দেয়। বেগম খালেদা জিয়া অবস্থান গ্রহণ করেন গুলশানে তার কার্যালয়ে। তিনি ঘোষণা দেন যে, সরকারের পতন ছাড়া তিনি ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটেনি। বিএনপি যে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছিল সেই অবরোধও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করার সুযোগ পায়নি। বিএনপির সেটিই ছিল শেষ আন্দোলন। এরপর আন্দোলনের মাঠে বিএনপিকে আর পাওয়া যায়নি।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন সময় আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন যে, ঈদের পর আন্দোলন হবে। কখনও তিনি বলেছিলেন যে, শীঘ্রই সরকার পতনের আন্দোলন করবে। এরকম বারবার ঘোষণার পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণ করে এবং ওই নির্বাচনে শোচনীয় ভরাডুবি ঘটে বিএনপির। এখন বিএনপি নতুন করে আন্দোলনের চেষ্টা করছে এবং প্রথমবারের মতো বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তাঁরা যে বিভাগীয় সমাবেশগুলো করছে সেখানে লোকসমাবেশ তাদেরকে চমকিত করেছে, বিস্মিত করেছে এবং অতি উৎসাহিত করেছে বটে। আর এখান থেকেই বিএনপি এখন সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছে। বিএনপি নেতারা বলছেন যে, ১০ ডিসেম্বরের পর সরকারের অস্তিত্ব থাকবে না। তবে ১০ ডিসেম্বরের আগে থেকেই বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাচ্ছে, তারা পালানোর পথ পাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু একটি সরকারের পতনের জন্য যে ধরনের আন্দোলন দরকার সেই আন্দোলনের ধারে কাছেও বিএনপি নেই। কয়েকটি সমাবেশ করে সরকারের পতন যদি ঘটানো যেত তাহলে পৃথিবীতে কোনো দেশেই কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের টিকতো না। তাই আগামী ১০ ডিসেম্বর দেশে কি হবে, তা নিয়ে রাজনীতিতে এখন কৌতুক শুরু হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর কি আব্দুল জলিলের মত আরেকটি ট্রাম্পকার্ড দেখবে দেশের মানুষ? ১০ ডিসেম্বর কি রাজনীতিতে আরেকটি প্রহসন মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে? এটিই এখন দেখার বিষয়।

বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘১০ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতকে খুঁজে পাওয়া যাবে না’

প্রকাশ: ০৮:৪২ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঢাকার রাজপথে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সুতরাং ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সেদিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলে থাকবে রাজপথ।

সোমবার (৫  ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ফের নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সবাই মিলে আমাদের দেশটাকে রক্ষা করতে হবে। দেশ রাজাকার-আলবদরের হাতে চলে যেতে দেওয়া যাবে না। তাদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে টিপু মুনশি বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। আমরা তৃণমূল আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে চাই।

বর্ধিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রোজী রহমান, পীরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর ইকবাল প্রমুখ।

বর্ধিত সভায় আগামী এক মাসের মধ্যে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জেএসডির সভাপতি আ স ম রব, সম্পাদক স্বপন

প্রকাশ: ০৬:৪৬ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডির) ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে আ স ম আবদুর রব সভাপতি এবং শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে দলটির দপ্তর সম্পাদক আবুল মোবারক এ তথ্য জানান।

নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি আ স ম রব আগের কমিটিতেও সভাপতি ছিলেন। আর শহীদ উদ্দিন স্বপন কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সেই হিসেবে নতুন কমিটিতে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের ডাক’ শিরোনামে দলটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ নতুন কমিটি ঘোষণা হলো।

জেএসডি   আ স ম আবদুব রব   শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সমাবেশের জন্য মাঠের বিকল্প রাস্তা নয়: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬:৩৪ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সমাবেশের জন্য মাঠের বিকল্প মাঠ হতে পারে, রাস্তা হতে পারে না। কিন্তু বিএনপি সবসময় ব্যস্ত রাস্তার কথা বলছে। এটি দূরভিসন্ধিমূলক।’

সেই সাথে বিএনপির গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ খন্ডন করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তবে যারা আগুনসন্ত্রাসের জন্য অর্থ দিয়েছিল, হুকুম দিয়েছিল তাদেরকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি, মানুষ মনে করছে যে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা দরকার।’

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশস্থল নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব প্রসঙ্গে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, জনসভা তো হয় ময়দানে, ব্যস্ত রাস্তায় হয় না। গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ করে, মানুষকে আতংকের মধ্যে ফেলে জনসভা করা কোনো দায়িত্বশীল রাজনীতি দলের কাজ না। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবসময় বড় জনসভা যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হয়েছে, সেটি তাদের পছন্দ না। তাদের শুধু রাস্তা পছন্দ কারণ সেখানে গাড়ি-ঘোড়া ভাংচুর করা যাবে এবং ২০১৩-১৪-১৫ সালের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়া যাবে।

ড. হাছান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জনসভায় ভোগান্তি হলেই তো পত্রিকা লেখে যে, জনসভায় মানুষ হয়েছে তবে ভোগান্তি হয়েছে। জনসভা অবশ্যই ময়দানে হয়। গতকাল যেমন আমরা চট্টগ্রামে জনসভা করেছি লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ হয়েছে। পাঁচ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুরোটা ছিল মানুষে সয়লাব। বিএনপির সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিকল্প হতে পারে পূর্বাচল বাণিজ্য মেলার মাঠ বা টঙ্গীতে বিশ্ব ইস্তেমার মাঠ কিম্বা বুড়িগঙ্গার তীরেও মাঠ আছে, সেখানেও হতে পারে।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তারের অভিযোগের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার পয়লা ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিজয় দিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ইংরেজি নববর্ষ -এগুলো নিয়ে প্রতি বছরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এগুলো নতুন কিছু নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও নয়। সারাদেশে রাজনীতির নামে যারা ২০১৩-১৪-১৫ সালে আগুনসন্ত্রাস চালিয়েছিল, মানুষ হত্যার মহোৎসব করেছিল, তারা তো বিএনপির নেতাকর্মী। তাদের কাউকে যদি গ্রেপ্তার করা হয়, সেটি আইনগত বিষয়।’

এর আগে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর সাথে বিদায়ী সাক্ষাতে মিলিত হন। সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে এবং স্বাধীনতা অর্জনের পর আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ভূমিকার জন্য জাপানের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। আমরা এ বছর জাপান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক মিত্রতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছি। বাংলাদেশে জাপানের অনেকগুলো প্রজেক্ট চলমান আছে, আগামীকাল নারায়ণগঞ্জে আড়াইহাজারে জাপানিজ ইকোনোমিক জোন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এবং মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরেও জাপান ইতিমধ্যেই বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে -সেগুলো নিয়েও আলোচনা করেছি। বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বাংলায় গান গাইতে পারেন। তিনি সেই চর্চা চালু রাখবেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আরো আলোচনা করেছি যে, বাংলাদেশে রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা বিরাজ করুক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। এবং বাংলাদেশে ‘পলিটিকস অভ ডিনাইয়াল’ ‘পলিটিকস অভ কনফ্রন্টেশন’ বন্ধ হওয়া দরকার। অর্থাৎ সবকিছুতে না বলার সংস্কৃতি এবং বিএনপিসহ তাদের সাংঘর্ষিক রাজনীতির বিষয়টাও আমি তার সামনে তুলে ধরেছি। আলাপচারিতায় আগামী নির্বাচনে সবাই অংশগ্রহণ করুক এমন আশা প্রকাশ করেন তিনি।’

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার কাজে আমি সবসময় সহযোগিতা পেয়েছি। এ বছর জাপান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি। সে উপলক্ষে আমরা ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফর নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছি যা তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ উদ্বোধন করেছিলেন। আমরা দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার নানা বিষয় নিয়ে আজ আলোচনা করেছি।’

তথ্যমন্ত্রী   ড. হাছান মাহমুদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যে সমস্ত কারণে পিছু হটছে বিএনপি

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

১০ ডিসেম্বর নিয়ে যখন দেশব্যাপী নানা রকম আশঙ্কার ডালপালা ছড়াছে তখন হঠাৎ করেই সেই উত্তেজনায় জল ঢাললো বিএনপি। গতকাল এক সংবাদ সন্মেলনের এক পযার্য় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, সোহরাওয়ার্দী এবং তুরাগ নদীর তীর ব্যতিত বিকল্প স্থানের প্রস্তাব পেলে তারা বিবেচনা করবে। বিষয়টি নিয়ে গতকালই বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। সমাবেশের বিকল্প জায়গার ব্যাপারে আজ নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে একই কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের স্থান হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে বিকল্প প্রস্তাব এলে সেটা বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ এটি পরিষ্কার যে, বিএনপির নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  নয়াপল্টনের বিকল্প হিসেবে তারা এখন আরামবাগে ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ করতে চায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যেকোনো মূল্যে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত থেকে বিএনপি হঠাৎই কেন পিছু হটছে? হঠাৎ করে কি এমন ঘটেছে যে, বিএনপি তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? এব্যাপারে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা মূলত তিনটি কারণের কথা জানিয়েছেন।

১. দলের মধ্যে মত বিরোধ: ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ব্যাপারে বিএনপির মধ্যে দুটি শিবির গড়ে উঠেছে। একটি এর পক্ষে এবং অন্যটি ১০ ডিসেম্বরে সমাবেশ করার বিপক্ষে। বিপক্ষের মতাদর্শীরা বিএনপির নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনো এক বছরেরও বেশি সময় বাকি আছে। সুতরাং এতো আগে থেকেই মাঠে নামলে আন্দোলনের ধরে রাখা সম্ভব নয়, কঠিন হয়ে পড়বে। এখন থেকেই যদি বিএনপি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে মাঠে নামে তাহলে সেই সিদ্ধান্ত হবে হঠকারী সিদ্ধান্ত। ফলে সে বিবেচনা থেকে বিএনপি এখন আগের অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

২. পুলিশের ভূমিকা: সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে ডিএমপি। কিন্তু ডিএমপির সে অনুমতি প্রত্যাখান করেছে বিএনপি। ডিএমপিও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিএনপি অনুমোদিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও সমাবেশ করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিএনপির নেতারা বলছে, বিএনপি অতীতেও বিভিন্ন সময় সমাবেশ করতে চেয়েছিল কিন্তু বারবার পুলিশ বাধা দিয়েছে এবং পুলিশের বাধা উপক্ষো করে কোনো কিছু করার চেষ্টার কারণে অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এর কারণে বিএনপি এবার সেই ঝুঁকি নিতে চায় না। কারণ তারা মনে করছে বিএনপি এখনো সাংগঠনিকভাবে তেমন শক্তিশালী নয়। এমন অবস্থায় আবার পুলিশের গ্রেফতার শুরু হলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এই ঝুঁকি নিতে চায় না বিএনপি।

৩. কূটনীতিকদের আপত্তি: বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে কূটনীতিকদের আপত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা ইতোমধ্যে বিএনপির নেতাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংস এবং সন্ত্রাসকে মেনে নেবেন না। তারা একটি শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থান দেখতে চায়। যে কারণে বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার অনড় অবস্থান থেকে সরে আসছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, কূটনীতিকপাড়ায় তাদের তৎপরতার কারণে কূটনীতিকরা এখন বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু এখন তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে নয়াপল্টনে সমাবেশ করলে হিতে বিএনপি বিপদে পড়তে পারে বলে ঝুঁকি নিয়ে চায় না বিএনপি।

বিএনপি   ১০ ডিসেম্বর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সাম্প্রদায়িকতা, অগণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্য ঠিকানা বিএনপি : কাদের

প্রকাশ: ১০:৩০ এএম, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখনও সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি, জঙ্গিবাদী শক্তি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সক্রিয়। এদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে বিএনপি। বিএনপি হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্য ঠিকানা। গণতন্ত্র বিকাশে অন্তরায়।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র বিকাশে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকা জরুরি। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রাণ। সেই নির্বাচন আমরা জানি কী ভাবে হয়েছে। ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার, ১৫ ফেব্রুয়ারির সে প্রহসনের নির্বাচন। 

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য রয়েছে, এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না সেটা আমরা আজও জানি না। কোনো দিন জানা যাবে সেটাও এই মুহূর্তে বলা যাবে না। হোসেন সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের মানসপুত্র। গণতন্ত্রই তার জীবনের মূল ভিত্তি। তিনি বলেছেন, শাসনতন্ত্রেরপ্রশ্নে জনগণের রায়ই শেষ কথা। আজ জনগণই হচ্ছে আমাদের ক্ষমতার উৎস। বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশের প্রক্রিয়া পদে পদে বাধার মুখে রয়েছে। কণ্টকাকীর্ণ পথ। এখানে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের শৃঙ্খল ঘটেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর গণতন্ত্রের জন্য তিনি লড়াই শুরু করেন। সারা দেশ ঘুরে ঘুরে মুক্তিযুদ্ধের মুল্যবোধের পক্ষে, স্বাধীনতার আদেশের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে তিনি ক্যাম্পিং করেন। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রের শৃঙ্খল মুক্তি ঘটিয়েছেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা বেগম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনিবাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজি, আজিজুস সামাদ আজাদ (ডন) ও সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম প্রমুখ 


ওবায়দুল কাদের   বিএনপি   গণতন্ত্র   বাংলাদেশ   রাজনীতি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন