ইনসাইড পলিটিক্স

মির্জা ফখরুল কি আল্লাহর ফেরেশতা, প্রশ্ন কাদেরের

প্রকাশ: ০৭:০৭ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আপনি কি আল্লাহর ফেরেশতা? আপনি কি করে জানেন আজরাইল কার পেছনে ঘুরছে? ফখরুল সাহেব আল্লাহ আপনাকে কবে ফেরেশতা বানাল, নবী বানাল? 

শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

তিনি বলেন, সব আজগুবি খবর, সব নষ্ট রাজনীতি, তারা করে নষ্ট রাজনীতি, ওসব নষ্ট কথা তারাই বলেন। কী ভয়াবহ? এসব রাজনীতিতে এসব কুসংস্কার আছে? যে প্রতিপক্ষকে মেরে ফেলছে। এই রকম ভয়াবহ গুজব ছড়ায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আজকে পথহারা পথিকের মতো, কী করবে, কী কর্মসূচি দেবে এ নিয়ে ৫৪ দল, ৫৪ পথ, ৫৪ মত। এ দল ছোট হয়ে আসবে বেশি দেরি নয়। ডানে বামে একাকার, এখন অদৃশ্য রিমোট কন্ট্রোলে বিএনপি চলে। বিএনপির এখন আন্দোলন চলে রিমোট কন্ট্রোলে, অদৃশ্য নির্দেশে। বিদেশিরা কখন সরকারকে নিষেধাজ্ঞা দেবে, আল্লাহর উপর ভরসা করে বিদেশিদের উপর তাকিয়ে আছে। জনগণ নেই, পাবলিক নেই, নিষেধাজ্ঞা ও অদৃশ্য নির্দেশ তাদের রাজনীতি। আমরা তাদের দুর্বল ভাবি না। আওয়ামী লীগ বিরোধী সকল শক্তি, কিছু অপশক্তি, আওয়ামী লীগ বিরোধী নিয়ে গঠন করেছে বিএনপির নেতৃত্বে। আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে বিদেশে থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে বারে বারে বাঁধা দেয়া হয়েছে। আপনাদের কামনায় আওয়ামী লীগের ধ্বংস করা। অন্তরজ্বালা, শেখ হাসিনার জীবন নিরাপদ নয়, এটা বলে নাকি মহা অন্যায় করে ফেলেছি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর প্রমুখ। 

এছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

মির্জা ফখরুল   আওয়ামী লীগ   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তরাও কোরবানির সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন: রিজভী

প্রকাশ: ০৪:০৬ পিএম, ১৬ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তরাও এখন পশু কোরবানি করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। সরকার মানুষের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। তাই গরুর হাটে লোক নেই। এরপরে যারাও আছেন, হাটে গরু কিনছেন তাদের বেশির ভাগ সরকারের দুর্নীতিবাজ লোক।

রোববার (১৬ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় কোরবানির বাজারে পশুসহ নানা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারকে দায়ী করেন রিজভী।

রিজভী বলেন, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শেয়ারবাজার থেকে আরম্ভ করে পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজার পর্যন্ত প্রতিটি সেক্টরেই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অসহায় সাধারণ জনগণ। বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা, এলাচির কেজি চার হাজার টাকা, লবঙ্গের কেজি প্রায় দুই হাজার, দারুচিনির কেজি প্রায় ৬০০ টাকা, তেজপাতার কেজি ৩০০ টাকা। জনগণ যেন খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির এক আগ্নেয়গিরির ওপর বসে আছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। তারল্য সংকটে সাধারণ গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারছে না। বুথে টাকা নেই। ডলার সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে পারছেন না। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা বিদেশে যেতে পারছেন না। ব্যাংকগুলোকে অনিরাপদ করে তোলা হয়েছে।

মিয়ানমার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন সীমান্তে মিয়ানমার যা করছে তা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। সরকার এহেন কাণ্ডে নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

আজিজ-বেনজীরদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে সরকারি আরও দুর্নীতিবাজদের তথ্য বের হয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


বিএনপি   রিজভি   কোরবানি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘সেন্টমার্টিন নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াত’

প্রকাশ: ০৩:৩২ পিএম, ১৬ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার কখনো নতজানু আচরণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। সেন্টমার্টিন ইস্যুতে বিএনপি মহাসচিব দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখছেন। ‘কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন দখল হয়ে যাচ্ছে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। বিএনপি-জামায়াত এসব গুজব ছড়াচ্ছে,' বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রোববার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা ইস্যু নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য রেখেছেন। তিনি কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশলের বাইরে গিয়ে এমন কথা বলেছেন যা শুনে মনে হয় পরিস্থিতি নিয়ে তাদের ন্যূনতম ধারণা নেই। 

মির্জা ফখরুল ইসলামের বলার আগেই আমি বলেছি সরকার এখানে নিষ্ক্রিয় নয়। আক্রান্ত হলে পাল্টা আক্রমণে প্রস্তুত আছে সরকার। সেখান থেকে যুদ্ধজাহাজ এরইমধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে। যান চলাচল নিয়মিত হয়ে গেছে, লোকজন যাওয়া আসা করছে। আমরা গায়ে পড়ে ঝগড়া করব না। মির্জা ফখরুলকে বলতে চাই এখানে উসকানি দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধাব? সারা বিশ্ব রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সমস্যা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চায় সরকার। 

রোহিঙ্গারা যখন দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছিল ওইদিক থেকে তখনও কিছু উসকানি ছিল, আমরা উসকানিতে পা দেইনি। গায়ে পড়ে যুদ্ধ বাঁধানোর ইচ্ছে নেই। আলাপ আলোচনার দরজা এখনও খোলা আছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী শেখ হাসিনার সরকার। ভিশনারি লিডার শেখ হাসিনা জানেন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। 

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে বিএনপি বেহুদা মন্তব্য করেছিল। এখনো তারা সেটাই করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা সতর্ক আছে। সেন্টমার্টিন সীমান্তে গোলাগুলি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে আমরা সতর্ক আছি। সেন্টমার্টিনে গুলিটা আরাকানরা করেছে, মিয়ানমার সরকার করেনি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের উপর বোঝা হয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রথম বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়েছিল বিএনপি সরকার। রোহিঙ্গাদের জঙ্গি কাজে ব্যবহার করেছে। রোহিঙ্গারা বোঝা হয়ে আছে তাদের ফিরে যেতেই হবে। সে প্রয়াস অব্যাহত আছে। আমরা নতজানু আচরণ কখনো করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। 

মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।


ওবায়দুল কাদের   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

হস্তক্ষেপ চাইলেন ফখরুল: খালেদা নিরুপায়

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ১৬ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির গঠনতন্ত্রের একটি কপি নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে রাত টার দিকে ফিরোজায় প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে উদ্বিগ্ন, বিমর্ষ এবং ক্ষুব্ধ দেখাচ্ছিল। আগে থেকেই বেগম জিয়ার সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা ছিল তার। বেগম খালেদা জিয়ার একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে তিনি জানিয়েছিলেন যে, অত্যন্ত জরুরি তাকে আসতেই হবে। বেগম জিয়াও সম্মতি জানান। রাত টার দিকে তাকে আসতে বলেন।

রাতের খাবার শেষে বেগম খালেদা জিয়া শুয়ে ছিলেন। শোবার আগে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়াগুলো চলছিল। একজন নার্স বেগম জিয়ার প্রেশার মাপ ছিলেন। তার জ্বর, ব্লাড সুগার সহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছিল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। এরপর হুইল চেয়ারে করে বসার ঘরে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়াকে দেখে দাঁড়িয়ে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পর তাদের মধ্যে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে দলের সর্বশেষ সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। কিন্তু এই আলোচনায় কোন ফলাফল হয়নি। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র তথ্য নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য যে, গত দুদিনে তারেক জিয়ার তাণ্ডব চলছে বিএনপিতে। বিএনপিতে তিনি ইচ্ছামতো কমিটিগুলো বাতিল করছেন, নতুন করে কমিটি করছেন, অনেকে পদোন্নতি দিচ্ছেন। আবার কাউকে বাদ দিচ্ছেন। সবচেয়ে মজার ব্যপার হল যে, এই সমস্ত কর্মকাণ্ডে তিনি দলের মহাসচিবকে রাখছেন অন্ধকারে। মহাসচিবের কোন ক্ষমতা নেই। মহাসচিব সংবাদপত্রের পাতায় দেখছেন যে, কাকে পদোন্নতি দেওয়া হল, কাকে বাদ দেওয়া হল কিংবা কোন কমিটি বাতিল হল। লন্ডন থেকে রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত -মেইল পাঠানো হচ্ছে এসব কমিটির সংবাদ। তারপর রিজভীর কাছে ফোন আসছে। ভাইয়া, এই কমিটি এখনই ঘোষণা করতে বলেছেন।

রুহুল কবির রিজভীর নির্ঘুম রাত কাটছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় প্যাডে এই নির্দেশনামা টাইপ করছেন এবং সংবাদপত্র দিচ্ছেন। রুহুল কবির রিজভীর কাছে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোন অবস্থাতেই যেন এটি গণমাধ্যমে যাওয়ার আগে ফাঁস না হয়ে যায়। কারণ ফাঁস হলে অন্যরা ব্যবস্থা নেবে। অন্যরা দেনদরবার তদবির করবে, এটি নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ হতে পারে বা লন্ডনে ফোন যেতে পারে। আর এই কারণেই একেবারে গোপনে হচ্ছে এই সমস্ত রদবদলের কাজ। সামনের দিনগুলোতে আরও রদবদল হবে।

রুহুল কবির রিজভী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। কিন্তু দলের মহাসচিবকেও তিনি কোন কিছু জানানোর প্রয়োজন মনে করছেন না। রিজভী ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এটি ভাইয়ার নির্দেশ, যেন কেউ ঘুণাক্ষরেও কোন কিছু না জানতে পারে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটাই যে গঠনতন্ত্রবিরোধী এটি বলার জন্যই বেগম জিয়ার কাছে গতকাল গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন যে, এভাবে একটি দল চলতে পারে না। একটি দলের কমিটি পরিবর্তন বা কমিটি বাতিল স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করতে হয়। আর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলে কোনো পদ নেই। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ধরনের কর্মকাণ্ড করতেই পারে না। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।তিনি বলেন যে, বিএনপিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে গেলে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খালেদা জিয়া ধীর স্থিরভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সব কথাই শোনেন। তারপর তিনি বলেন যে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান আমি, এটা সত্যি কথা। কিন্তু চেয়ারম্যানের সব ক্ষমতা আমি লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দিয়েছি অর্থাৎ তারেক জিয়াকে দিয়েছি। তাই এখন আমার কিছু করার নেই। তবে তিনি মনে করেন, যেভাবে কমিটিগুলো হচ্ছে তা সঠিকভাবে হচ্ছে না। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

দুজনের এই আলাপ-আলোচনায় কোন ইতিবাচক ফলাফল হয়নি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বিষয় নিয়ে লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার সঙ্গে আলাপ করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে তার অসুস্থতার কথা এবং অক্ষমতার কথা জানান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ জানান।


খালেদা জিয়া   মির্জা ফখরুল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১০:৫৪ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি তার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন।

শনিবার (১৫ জুন) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বেগম জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। আধা ঘণ্টা অবস্থান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফিরোজা ভিলা ত্যাগ করেন তিনি। বিএনপি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি দেশের চলমান রাজনীতির সার্বিক পরিস্থিতি তাকে অবহিত করেন মির্জা ফখরুল।

এদিকে শনিবার (১৫ জুন) বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ৪৫ জন নেতাকে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির বদলে ২৯ সদস্যের দুটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল দলে এই রদবদলের বিষয়টিও খালেদা জিয়াকে অবহিত করেন বলে ওই সূত্রের দাবি।

খালেদা জিয়া   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ঈদের আগে তারেকের শত কোটি টাকার পদ বাণিজ্য

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৫ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপিতে যে কমিটি নিয়ে নাটক চলছে, সেই নাটকের পেছনে রয়েছে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার অর্থলোভ। টাকার জন্যই তিনি কমিটিগুলো ভাঙছেন, নতুন কমিটি করছেন। বিএনপির বিভিন্ন পদ এখন রীতিমতো নিলামে উঠেছে। যদিও বলা হচ্ছে যে, আন্দোলনের ব্যর্থতার জন্যই যারা নিষ্ক্রিয় তাদের বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, আন্দোলনের ব্যর্থতার কথাই যদি বলা হবে, তাহলে এতদিন পরে কেন কমিটিগুলো বাতিল করা হচ্ছে। সেটি তো ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পরপরই করার কথা ছিল।

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপির বিভিন্ন কমিটি ভাঙা গড়ার খেলা চলছে মূলত অর্থ আহরণের জন্য। ঈদের আগে তারেক জিয়া পদ বাণিজ্য করে শত কোটি টাকা উপার্জন করার একটি মিশনে নেমেছেন। 

নানা কারণে তারেক জিয়া এখন অর্থ সংকটে ভুগছেন। গত নির্বাচনের আগেও যেমন বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা লন্ডনে তারেক জিয়াকে অর্থ পাঠাতেন, এখন সেই অবস্থা নেই। নির্বাচনের পর এই সরকার স্থিতিশীল এবং সরকারের ওপর কোন চাপ নেই, এটা ব্যবসায়ীরা ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন। আর এ কারণেই তারেক জিয়াকে যারা এতদিন গোপনে টাকা দিয়েছিলেন তারা এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তারা মনে করছেন যে, তারেক জিয়ার জন্য বিনিয়োগ কোনভাবেই লাভজনক নয় বরং একটি ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার যদি শেষ পর্যন্ত জানতে পারে যে, তারেক জিয়াকে তারা টাকা দিচ্ছেন তাহলে তারাই বিপদে পড়তে পারে। এ কারণে নির্বাচনের পর থেকে গত পাঁচ মাসে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারেক জিয়ার চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।

তারেক জিয়াকে যারা বিভিন্নভাবে টাকা পয়সা দিত বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী এবং নেতারা তারাও নির্বাচনের পর নানা রকম চাপে আছে। তাদের পক্ষে এখন তারেক জিয়াকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারেক জিয়া এখন বিএনপিকেই জিম্মি করে তার নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি এই কমিটি নাটক সাজিয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপিতে যে কয়েকজনকে ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টামণ্ডলীতে আনা হয়েছে তারা সকলেই তারেক জিয়াকে বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়েছেন। ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত পদ বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকায় তারেকের অন্তত পাঁচজন এজেন্ট এই অর্থ সংগ্রহ করছেন এবং এই সমস্ত এজেন্টের মাধ্যমে লন্ডনে টাকা পাচার করা হচ্ছে। লন্ডনে এই টাকা পৌঁছানোর পরপরই তারেক জিয়া কমিটিতে কাউকে নিচ্ছেন আবার কাউকে বাদ দিচ্ছেন। 

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপিতে পদ এবং কমিটির বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। যে যত বেশি টাকা দিচ্ছে তিনি তত ভালো পদে যাচ্ছেন। আর এ কারণেই বিএনপির নেতাদের মধ্যে ঈদের আগে টাকা সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। 

বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা বলছেন, এমন নেক্কারজনক ভাবে বাণিজ্য লেনদেন এবং অর্থ সংগ্রহের ঘটনা আগে কখনও ঘটে। একটি রাজনৈতিক দল কতটা দেউলিয়া হলে সেই দলের প্রধান দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। বিএনপিতে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়, সকলে আলোচনা করছে কে কত টাকা দিয়ে কোন পদ পেলো। আর পদ পাওয়ার জন্য টাকা কাকে দিতে হবে সে সম্পর্কে তথ্যাদি বিএনপি নেতাদের এখন মুখে মুখে। এই কমিটি বাণিজ্য এবং পদ বাণিজ্য করে দলের অস্তিত্ব শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না সে নিয়েও কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ঈদ   তারেক জিয়া   পদ বাণিজ্য   লন্ডন   ছাত্রদল  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন