ইনসাইড পলিটিক্স

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: ভোটের আগের দিন কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

প্রকাশ: ০৬:৪০ পিএম, ২৪ মে, ২০২৩


Thumbnail গাজীপুর সিটি নির্বাচন: ভোটের আগের দিন কাউন্সিল প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। 

এদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের আগের দিন এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিনি হলেন, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আজিজুর রহমান। বুধবার (২৪ মে) ইসি সচিব জাহাংগীর আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা যায়, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আজিজুর রহমানকে শোকজ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

গতকাল মঙ্গলবার ইসির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আশাদুল হক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে কাউন্সিলর প্রার্থীকে শোকজ করার কথা জানানো হয়। তাকে আজ বুধবার সশরীরে এসে নির্বাচন কমিশনে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। ইসি তার বক্তব্য শুনে তার ক্ষমার আবেদন নাকচ করে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

জানা গেছে, তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময় বক্তব্যে বলেছিলেন যে, বিএনপির কোনো প্রার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তিনি এ বিষয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেও বক্তৃতা করেছিলেন। এ কারণেই আজ নির্বাচন কমিশনে তাকে ডাকা হয় এবং তার সাথে কথা বলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। 


গাজীপুর   সিটি নির্বাচন   কাউন্সিল প্রার্থী   প্রার্থিতা   বাতিল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি নেতারা কে কোথায় ঈদ করছেন?

প্রকাশ: ০৫:১২ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ঈদুল আজহার সময়টিতে দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দলের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা এবার দেশের বাইরে আছেন, যাদের ঈদও কাটছে বাইরে। যথারীতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশেই ঈদ পালন করছেন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঈদের দিন রাত সাড়ে ৮টায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে ঈদের নামাজ আদায় করে দলের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদের পর দিন ঢাকায় আসবেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান ঢাকায় ঈদ করছেন। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ, তিনি বাসায় চিকিৎসাধীন। বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঈদের দিন নিজ এলাকায় যাবেন। ড. আব্দুল মঈন খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশের বাইরে, সালাউদ্দিন আহমেদ ভারতে আছেন।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকায় ঈদ করছেন। 

বিএনপি   ঈদ   কোরবানি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

এবারের ঈদে আনন্দ উপভোগের সুযোগ নেই: ফখরুল

প্রকাশ: ০১:২৭ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশে এই ঈদুল আজহা একটি কষ্টকর দিন। কারণ, এবার মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রয় ক্ষমতার ঊর্ধ্বে কোরবানির পশু কিনতে অনেকেই আর্থিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন।

মির্জা ফখরুল সোমবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের তাতীপাড়াস্থ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন। এর আগে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেন।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। কোরবানির মাংস রান্না করতে যে মসলা উপকরণ প্রয়োজন হয় তাও সংগ্রহ করতে হিমসিম খেতে হয়েছে। তাই এবারের ঈদে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ নেই।

সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে জীবনের অশুভ ইন্দ্রিয়কে বিসর্জন দিয়ে জীবনকে সুন্দর করার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল আরও জানান, সারাদেশে যেভাবে দুর্নীতির আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়েছে ত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অশুভ আকাঙ্খা ত্যাগ করতে হবে।


মির্জা ফখরুল   ঈদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে’

প্রকাশ: ১২:৪৮ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

কুরবানির তাৎপর্য এবং মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি কল্যাণের পথ রচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার (১৭ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেয়া এক শুভেচ্ছা (ভিডিও) বার্তায় আহ্বান জানান তিনি।

শুভেচ্ছা বার্তায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বছর ঘুরে আবার এল ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল। মহান আল্লাহ পাকের প্রতি গভীর আনুগত্য সর্বোচ্চ ত্যাগের নিদর্শনে ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। আমাদেরকে কুরবানির তাৎপর্য এবং মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি কল্যাণের পথ রচনা করতে হবে। আর জন্য সকলকে সংযম ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অর্জনের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভারসাম্যপূর্ণ, শোষণহীন, ন্যায়নিষ্ঠ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন- তা সফল করতে প্রয়োজন নিষ্ঠা, সততা এবং ত্যাগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অকৃত্রিম ভালোবাসা ত্যাগের আদর্শ আমাদের ব্যক্তি সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হলে, প্রতিষ্ঠিত হবে প্রত্যাশিত শান্তি সৌহার্দ্য। আমি দল-মত নির্বিশেষে সকলকে একটি অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কর্ম চিন্তায় ত্যাগ, আনুগত্য এবং সততা চর্চায় নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানাই। আহ্বান জানাই, ঐক্যের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার।

প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পবিত্র ঈদে তিনি দেশবাসী, প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি সকলকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন।


ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বাম দলে নতুন মেরুকরণ

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৬ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে বাম রাজনৈতিক দলগুলো একটি নতুন ধরনের মেরুকরণ করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তাদের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার জন্য একটি তৃতীয় ধারা সৃষ্টির প্রাথমিক আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের আদর্শিক জোট ১৪ দল থেকে কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং বাম মোর্চা সহ কিছু বাম দল একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের জন্য প্রাথমিক ভাবে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। 

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের বাম রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছে। তারা প্রায় অস্তিত্ববিহীন। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে যতটা না ধর্মান্ধ মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান ঘটেছে, ততটাই নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে বাম ধারার রাজনৈতিক দলগুলো। 

মোটা দাগে বামধারার রাজনৈতিক দলগুলো তিনটি ভাগে বিভক্ত অবস্থায় আছে। একটি ভাগ স্বতন্ত্র অবস্থায় বাম মোর্চা নিয়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। সিপিবি, বাসদ সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই ঘরনায় আছে। তবে ভিন্ন একটি অবস্থান থেকে এই বাম গণতান্ত্রিক জোট খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। আরেকটি ধারা যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে আছে, এই ধারার মধ্যে আছে ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাসদের ইনু সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এদের অবস্থাও এখন অনেকটা এতিমের মতো। আওয়ামী লীগ এই রাজনৈতিক জোটকে এখন খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে তাদেরকে রীতিমতো গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। মাঝখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে গণভবনে নিমন্ত্রণ করেন বটে, তবে তাতে বাম জোট সক্রিয় হয়েছে বা সজাগ বা আদৌ তাদের মধ্যে হতাশা কেটে গেছে এমন ভাবার কোন কারণ নেই। 

তৃতীয় ধারায় রয়েছে কিছু বাম দল, যারা পরিত্যক্ত বিভ্রান্ত বাম হিসেবে পরিচিত। এই বাম দলগুলো বিএনপির লেজুরবৃত্তি করছে। এদের মধ্যে রয়েছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, জেএসডি, জোনায়েদ সাকির রাজনৈতিক দল সহ কয়েকটি ছোট ছোট দল। এই দলগুলো অস্তিত্বহীন, তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি নেই। বিএনপির সঙ্গে পরগাছার মতো লতাপাতার মতো আষ্টেপিষ্ঠে জড়িয়ে তারা কোন রকমে টিকে আছে। 

তবে এখন এই তিন ধারার মধ্যে দুটি ধারা নিজেদেরকে একটি পৃথক অবস্থান গ্রহণের জন্য প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টির একাংশ, বাসদ তারা বৃহত্তর পরিষদের বাম গণতান্ত্রিক জোটকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আর এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধা যে বাম দলগুলো আছে, তাদের সঙ্গে মিলিয়ে একটা যৌথ স্বতন্ত্র অবস্থান নেওয়া যায় কি না তা নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে। 

এবার জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনের পর জাসদের ইনু এবং ওয়ার্কার্স পার্টি একটি স্বতন্ত্র অবস্থান নেয়। তারা সরকারের বাজেটের কঠোর সমালোচনা করেছে। জোটসঙ্গীদের মধ্যে এই দুটি দলই প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে এত সাঁড়াশি এবং কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল। এর প্রেক্ষিতে রাজনীতিতে একটি মেরুকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের অবস্থান অনেকটাই বাম মোর্চার অবস্থানের কাছাকাছি। তাহলে কি এই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্য হওয়া সম্ভব?

রাজনৈতিক ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যারা বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা এবং জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দলের মৌলিক চিন্তা ধারা একই। তারা বাংলাদেশে একটি উদার প্রগতিশীল, ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ধারা প্রচলন করতে চায়। এরা প্রত্যেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাস করে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভিত্তি করে একটি প্রগতির বাংলাদেশ বিনির্মাণই তাদের স্বপ্ন। আর এ কারণেই যদি তারা শেষ পর্যন্ত একটি স্বাতন্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

জাসদ   বাম মোর্চা   বিএনপি   সিপিবি   ১৪ দল   হাসানুল হক ইনু  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

একদা ক্ষমতাবান, এখন অপাংক্তেয়

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ১৬ জুন, ২০২৪


Thumbnail

এক সময় তারা প্রচণ্ড ক্ষমতাবান ছিলেন। তাদের কথায় অনেক কিছুই হতো। আওয়ামী লীগে তাদেরকে অত্যন্ত সমীহ করে চলা হত। এমনকি বড় বড় নেতারাও তাদেরকে অনেক বেশি ভয় পেতেন। বিভিন্ন সময় তারা আওয়ামী লীগ নেতাদেরকেও হুমকি ধামকি দিতেন। কিন্তু এখন তারা ক্ষমতাহীন, নিষ্প্রভভ। অনেকটা অপাঙ্ক্তেয় হয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। এই ধরনের কিছু নেতা নতুন করে ক্ষমতাবান হওয়ার চেষ্টা করছেন বটে কিন্তু তারা আবার ক্ষমতাবান হতে পারবেন কি না এই নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা রকম সন্দেহ রয়েছে। এই সমস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন;

হাবিবে মিল্লাত: হাবিবে মিল্লাতের উত্থান ছিল বিস্ময়কর। ঠিক যেন এলাম দেখলাম জয় করলাম এর মতো। তিনি সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জামাতা। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এই পারিবারিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিপুল ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন। মন্ত্রী না হলেও তিনি মন্ত্রীদের চেয়ে ক্ষমতাবান ছিলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তিনি নেতাদেরকে নির্দেশনা দিতেন। এমনকি সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা মোহাম্মদ নাসিমকেও তিনি কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে। সেই হাবিবে মিল্লাত এবার নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তিনি এখন রাজনীতিতে অনেকটা অপাংক্তেয়। রাজনীতিতে তিনি ক্ষমতাবান হওয়ার চেষ্টা করছেন বটে কিন্তু সেই চেষ্টা কতটুকু সফল হবেন তা কেউ জানে না। 

ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন ছিলেন এক সময় দুর্দান্ত ক্ষমতাবান নেতা।ফরিদপুর থেকে নির্বাচিত এই সাবেক সংসদ সদস্য প্রথম দফায় হয়েছিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। এর পর তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লিগের অন্যতম নীতি নির্ধারক মনে করা হত তাকে। কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে অর্থাৎ ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি মন্ত্রিত্ব হারান। এরপর তার বিভিন্ন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিপুল অর্থ পাচারের কাহিনি ফাঁস হতে থাকে। এরপর তিনি চলে যান বিদেশে। এখন তিনি সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। গত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। সুইজারল্যান্ডে ক্ষমতাহীন ভাবে নীরবে নিভৃতে জীবন যাপন করছেন। 

সাইফুজ্জামান চৌধুরী: সাইফুজ্জামান চৌধুরী চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি গত মেয়াদে ভূমি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে তিনি একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে তিনি যেমন প্রচণ্ড ক্ষমতাবান ছিলেন, তেমনি প্রশংসিত হয়েছিলেন। তবে মন্ত্রিত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর লন্ডনে তার বিপুল সম্পদের তথ্য ফাঁস হয়। এখন তিনি রাজনীতিতে অনেকটা কোনঠাসা। এমনকি চট্টগ্রামে স্থানীয় পর্যায়েও তিনি অর্থ প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রীর কাছে কোণঠাসা অবস্থায় আছেন। অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তাকে এখন লড়াই করতে হচ্ছে। 

জাহিদ মালেক: জাহিদ মালেক দুই মেয়াদে মন্ত্রী ছিলেন। প্রথম দফায় তিনি প্রতিমন্ত্রী। এর পরে তিনি পূর্ণমন্ত্রী হন। তার ক্ষমতার দাপটের কথা সবাই জানত। মন্ত্রী থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পরও তিনি পাঁচ বছর বহাল তবিয়তে মন্ত্রী ছিলেন। তবে মন্ত্রিত্ব চলে যাবার পর এখন তার নানা রকম অপকর্ম এবং দুর্নীতির ফিরিস্তি প্রকাশিত হচ্ছে। রাজনীতিতে তিনি এখন অনেকটাই কোণঠাসা, অনেকটাই ক্ষমতাহীন।

এনামুর রহমান: এনামুর রহমানের রাজনীতিতে উত্থান ছিলে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো। তিনি রানা প্লাজার ঘটনার পরপর আলোচনায় আসেন এবং তার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা করেই তিনি আলোচিত হন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। পরবর্তীতে তিনি ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। কিন্তু এবার নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর রাজনীতিতে তিনি গুটিয়ে গেছেন। এখন তিনি নিষ্প্রভ। এরকম বেশ কিছু একদা ক্ষমতাবানরা এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অপাংক্তেয় হয়ে পড়েছেন।

আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন