ইনসাইড পলিটিক্স

ভিসা সতর্কবার্তা: আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি বেশি ঝুঁকিতে

প্রকাশ: ০১:১১ পিএম, ২৫ মে, ২০২৩


Thumbnail

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নীতির আওতায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বিবৃতির পর কূটনৈতিক পাড়ায় এক ধরণের চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিএনপি বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিকদের কেউ কেউ। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে, মিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ধারা ২১২/(এ)(৩)(সি) (“৩সি”) এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে মনে করা যেকোনো বাংলাদেশি ব্যক্তির জন্য ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপে সক্ষম হবে এবং বর্তমান ও প্রাক্তন বাংলাদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সরকারপন্থি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং আইন প্রয়োগকারী, এমনকি বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সুতরাং নির্বাচনে বাধাদানকারী সেই হোক তার বিরুদ্ধে ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে এবং এর ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন ধরণের সসিংসতা করার সুযোগ পাবে না বিএনপি। 

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে বেশ অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করছে বিএনপি। কিন্তু তাদের আন্দোলন ক্রমশ সহিংস হয়ে পড়ছে। গত কিছুদিন ধরে ঢাকা এবং বিভিন্ন জেলায় বিএনপি’র সঙ্গে পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে এবং এ সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপি’র মধ্যে যারা উগ্রপন্থী রয়েছেন, যারা ধ্বংসাত্মক রাজনীতি আবার ফিরিয়ে আনতে চান এবং সেই সহিংসতার মাধ্যমে তারা নির্বাচনকেই অনিশ্চিত করতে চায়। ঠিক এমন সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিবৃতি তাদের পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা অমান্য করে যদি বিএনপি জালাও-পোড়াও রাজনীতির মাধ্যমে নির্বাচনকে অনিশ্চিত করতে চায় তাহলে এটি তাদের জন্য হিতে বিপরীত হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি’ই বেশি ঝুঁকিতে আছে বলে মনে করছেন তারা।


মার্কিন ভিসা নীতি   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সঙ্কটেই জ্বলে ওঠে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২০ জুন, ২০২৪


Thumbnail

৭৫ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই উপমহাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের ৭৫ বছর পূর্ণ করা একটি বিরল ঘটনা। এই ৭৫ বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষয়িষ্ণু হয়নি, অস্তিত্বের সঙ্কটে ভোগেননি, বরং ক্রমশ যেন আরও উজ্জ্বল এবং দৃপ্ত হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এখন অপরিহার্য একটি নাম। আওয়ামী লীগ গত ৭৫ বছরে বারবার বিভিন্ন সঙ্কট এবং চড়াই উতরাই এর মধ্য দিয়ে গেছে এবং এই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই আজকের অবস্থানে অটুট রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া এই রাজনৈতিক দলটি।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল সঙ্কটে এই দলটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বটে, তবে সঙ্কটেই আওয়ামী লীগ বারবার জ্বলে উঠেছে। আওয়ামী লীগকে মনে করা হয় অনেকটা ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে যেন আওয়ামী লীগ নতুন করে গড়ে ওঠে। ১৯৬৬ সালে দফা আন্দোলন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তখন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিল। আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তখন বাতি জ্বালানোর লোক ছিল না। আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না নিয়েও নানা রকম সন্দেহ সংশয় ছিল। কিন্তু বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর বিচক্ষণতা এবং তরুণদের উদ্দীপ্ত সংগ্রাম এবং মনোবলের কারণে ১৯৬৯ ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিল আওয়ামী লীগ। জাতির পিতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল আইয়ুব সরকার। আর আওয়ামী লীগ আবার জনগণের বিপুল ভালবাসা এবং সমর্থন নিয়ে সত্তরের নির্বাচনে দেশের একক বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। 

স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর অনেকেই মনে করেছিল আওয়ামী লীগ হয়তো কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং অস্তিত্ব থাকবে না। আওয়ামী লীগ কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, নেতাকর্মীরা ছিল অসহায়, ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। ঠিক এরকম সময় ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে সমস্ত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন এবং সেখান থেকে শুরু হয় আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবনের নতুন গল্প। আওয়ামী লীগ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেই আবার বিকশিত হয়, উজ্জীবিত হয়, গণমানুষের দলে পরিণত হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে জাগরিত হওয়া এই রাজনৈতিক দলটি। 

১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ছিল অবধারিত। সকলে মনে করেছিল, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। তখন অনেকেই আওয়ামী লীগের শেষ দেখেছিল। অনেকে বলেছিল যে, এই দলটি আর টিকবে না। আবার একটি মুসলিম লীগ কবে হবে তা নিয়েও নানারকম জল্পনা কল্পনা ছিল। কিন্তু সেই জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতায় আওয়ামী লীগকে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আনেন। 

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপর্যস্ত হয়। ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েও আওয়ামী লীগ আসন অত্যন্ত কম। তখনও আওয়ামী লীগের শেষ দিকে ছিল অনেকে। অনেকে বলেছিল, এই দলটি আর টিকবে না। আওয়ামী লীগ আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাবে। কিন্তু ২০০১ এর সেই নাটকীয় নির্যাতন নিপীড়নের পরও আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিঃশেষিত করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে অস্তিত্ববিহীন এবং আওয়ামী লীগের শেকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর অলৌকিক ভাবে শেখ হাসিনা বেঁচে যান। ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনাও।

২০০৭ সালেও এক এগারোর সময় মাইনাস ফর্মুলা দেওয়া হয়েছিল। সেই মাইনাস ফর্মুলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্রকেও প্রতিহত করেন শেখ হাসিনা এবং তার বিশ্বস্ত সহচররা। এভাবে প্রতিটি দুর্যোগে, প্রতিটি সঙ্কটে আওয়ামী লীগ বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আর এই ঘুরে দাঁড়ানোটাই যেন আওয়ামী লীগের সৌন্দর্য। সঙ্কট কখনও আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পারে না। বরং সঙ্কটকে জয় করেই আওয়ামী লীগ আজকের এই অবস্থায় এসেছে।


আওয়ামী লীগ   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগ ছেড়ে রাজনীতিতে উদ্বাস্তু তারা

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

এক সময় তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। মেধাবী নেতা ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ত্যাগ করার পর তারা রাজনীতিতে আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে থাকেন। এখন নিজেরাই রাজনীতিতে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে মূলধারার নেতৃত্বের বাইরে যে কেউ টিকতে পারে না- এই সত্যটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এ রকম অনেক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যারা তাদের নিজেদের ভুলে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে নিজেরাই সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ আগামী ২৩ জুন তার ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। আওয়ামী লীগের এই প্লাটিনাম জয়ন্তীর সময় এই সমস্ত উদ্বাস্তু নেতাদের নিয়ে এই প্রতিবেদন।

ড. কামাল হোসেন: আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। জাতির পিতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন নেতা হিসেবে তরতর করে রাজনীতির সিঁড়িতে তার উত্তরণ ঘটেছিল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনি ১৯৭১ এ পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। ৭৫ পরবর্তী সময়ে তার ভূমিকা ছিল রহস্যময়। কিন্তু তারপরও শেখ হাসিনা তাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। ১৯৯১ নির্বাচনের পর ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে যান। তিনি গণফোরাম নামের একটি রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম দেন। কিন্তু এই গণফোরাম পর্বতের মূষিক প্রসবের মতোই রাজনীতিতে কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে গণফোরাম একটি অস্তিত্বহীন, গুরুত্বহীন রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিগণিত হয়। এখন বয়সের ভারে নুয়ে থাকা ড. কামাল হোসেন নিজেকে রাজনীতিতে থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। রাজনীতিতে প্রবল সম্ভাবনা এবং মেধা থাকা সত্ত্বেও তিনি বিভ্রান্তি এবং ভুল রাজনীতির চোরাগলিতে নিজেকে অস্তিত্বহীন হিসেবে পরিণত করেছেন।

মোস্তফা মোহসীন মন্টু: মোস্তফা মোহসীন মন্টু ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। বিশেষ করে ঢাকায় সংগঠন পুনর্গঠন এবং শক্তিশালী করার পিছনে মন্টুর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশ লঙ্ঘন করে সন্ত্রাসী তৎপরতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে মিলে গণফোরাম গঠন করেছিলেন। গণফোরাম থেকে তিনি কিছুদিন আগে বহিষ্কৃত হয়ে নিজেই। একটি রাজনৈতিক দোকান খোলার চেষ্টা করছেন বটে, তবে সেই চেষ্টা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে। এই চেষ্টা খুব একটা সফল হয়নি। 

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ: অধ্যাপক আবু সাইয়িদ একজন মেধাবী রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা এবং ৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর ইমেজ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট কাজ করেছিলেন। কিন্তু ২০০৭ সালে তিনি সংস্কারপন্থি হয়ে ওঠেন। এর আগেও তার বিভ্রান্তি হয়েছিল। তিনি আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে মিলে বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এক এগারোতে তার বিভ্রান্তির কারণে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন পাবনার আসন থেকে। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের আর থাকেননি। ২০১৮ নির্বাচনে তিনি জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। গত নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র করে পরাজিত হন। রাজনীতিতে তিনি এখন উদ্বাস্তু। 

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ: আওয়ামী লীগের ৭৫ পরবর্তী ছাত্র নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে করা হত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে। তিনি শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি যাদেরকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন তাদের মধ্যে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ছিল অন্যতম। কিন্তু তিনিও এক এগারোর সময় সংস্কারপন্থি হয়েছেন এবং সংস্কারপন্থি হওয়ার কারণেই তিনি পরবর্তীতে রাজনীতির মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। ২০১৮ নির্বাচনে তিনি জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। এবার তিনি আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। রাজনীতিতে তিনি এখন পথভ্রষ্ট এবং অস্তিত্বহীন। 

মাহমুদুর রহমান মান্না: মাহমুদুর রহমান মান্নাও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অতিথি পাখি হিসেবে ছিলেন। একদা বাম রাজনীতি করা মান্নাকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রত্যাশা থেকে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাহমুদুর রহমান মান্নাও এক এগারোর সময় সংস্কারপন্থি হয়ে যান। পরবর্তীতে তিনি নাগরিক ঐক্য নামের একটি মুদির দোকানের মত রাজনৈতিক দল খুলে কোন রকম অস্তিত্ব টিকানোর চেষ্টা করছেন বটে। তবে আদর্শ বিবর্তিত সুবিধা ভোগী এই রাজনৈতিক নেতা এখন মূল্যহীন। 

এভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে যারা ছিটকে পড়েছেন তারা নিজেরাই রাজনীতিতে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছেন।

আওয়ামী লীগ   ড. কামাল হোসেন   সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ   মাহমুদুর রহমান মান্না  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যৌথসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৯:১৬ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদ্বয়ের যৌথসভা ডাকা হয়েছে। 

বুধবার (১৯ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

যৌথসভা   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পরিবর্তন আতঙ্কে বিএনপির আন্দোলন স্থগিত

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাজেট নিয়ে বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। বিএনপি নেতারা বলেছিল যে, ঈদের পর তাদের ভাষায় গণবিরোধী বাজেটের বিরুদ্ধে তারা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। কিন্তু পরিবর্তন আতঙ্কে বিএনপির সব আন্দোলন ভেস্তে গেছে। বিএনপি এখন নিজেদের ঘর সামলাতে ব্যস্ত। দলের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন আতঙ্কে থাকছেন কখন কার পদ যায়, কে টিকে থাকে এ নিয়ে। বিএনপির মধ্যে এই আতঙ্ক এখন দুর্বিষহ অবস্থায় নিয়ে গেছে দলটিকে। দলের নেতাকর্মীদের এখন আন্দোলনের জন্য মাঠে নামানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। 

উল্লেখ, গত ১৩ জুন থেকে বিএনপিতে শুরু হচ্ছে তারেক জিয়ার স্বেচ্ছাচারিতা এবং তছনছ অভিযান। এই তছনছ অভিযানে দলের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুব দলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ৩৯ জনের পদ পরিবর্তন করা হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে একটি টালমাটাল অবস্থা চলছে বিএনপির মধ্যে। আর এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কেউ জানে না। 

লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন সিনিয়র নেতাদেরকে এড়িয়ে চলছেন। তাদের সাথে রুটিন কথাবার্তা বলা ছাড়া তেমন কোনো পরামর্শ গ্রহণ করছেন না। সারাক্ষণই তিনি ব্যস্ত থাকছেন তৃণমূলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ, আলোচনা করতে। আর তৃণমূল এতে কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে বটে, তবে নেতারা নতুন কোন কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে না। 

এর আগে বিএনপি সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি অভিন্ন আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। এই লক্ষ্যে ৫৪ টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা ধারাবাহিক ভাবে আলাপ আলোচনা শুরু করেছিল। সেই আলাপ আলোচনায় সমমনা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে একটি স্টিয়ারিং কমিটি যেন গঠন করা হয়, যারা যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত করবে এবং আন্দোলনকে একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কাজ করবে। কিন্তু সেই যৌথ আন্দোলনের প্রক্রিয়াও থেমে গেছে। 

বিএনপির নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, বাজেটের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তারা জনগণের সামনে তুলে ধরবে। অর্থপাচার, দুর্নীতি নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বিএনপির পক্ষ থেকে। কিন্তু বিএনপির কোন নেতাই এখন আন্দোলনে আগ্রহী নয়। 

বিএনপির দায়িত্বশীল সূচকগুলো বলছে, এখন বিএনপি ঘর গোছাতে ব্যস্ত। দলের ভেতর যারা বিশ্বাসঘাতক, যারা দলীয় কর্মকাণ্ডে অমনোযোগী, যারা দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তাদেরকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেরও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে বিএনপিতে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন হবে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিএনপির এই পরিবর্তন ইতিবাচক না নেতিবাচক সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে এই পরিবর্তনের দমকা হওয়ায় এখন বিএনপির আরও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। 

বিভিন্ন সময়ে যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিল। আন্দোলন সংগ্রামে নিজেদের ঝুঁকি নিয়েছিল তাদেরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বরং যারা চাটুকার, লন্ডনে নিয়মিত যোগাযোগ করেন, দলের কোন কর্মসূচিতে থাকেন না তারাই এখন দলে সবচেয়ে ক্ষমতাবান হয়ে উঠছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যে পদোন্নতিগুলো ঘটেছে সেই পদোন্নতিতে তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যারা চাটুকার এবং সারাক্ষণ তারেক জিয়ার সমীহ করে চলে। দলের ভেতর যারা খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ তাদের আরও কোণঠাসা করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে পরিবর্তনের চাপ বিএনপির এখন চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। এখন থেকে পিষ্ঠ অবস্থায় বিএনপি আন্দোলনে ফিরে আসবে কিভাবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিএনপি   তারেক জিয়া   রাজনীতির খবর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নতুন মহাসচিব নিয়ে তৃণমূলের সাথে তারেকের সংলাপ

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৯ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এই নিয়ে দলের মধ্যে অস্বস্তি এবং সীমাহীন আতঙ্ক। তার মধ্যে তারেক জিয়া তার সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি দলের খোলনলচে পাল্টে ফেলার জন্য পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরকে গত রাতে বলেছেন, যে কোন সময় যে কেউ বাদ পড়তে পারেন। যারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না তাদের দলে থাকার দরকার নেই। 

বিএনপিতে এখন তাই কমিটি এবং পদে থাকা না থাকার এক ধরনের আতঙ্ক চলছে। এই আতঙ্কের মধ্যেই লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া তৃণমূলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন। এবার তিনি বৈঠক করছেন দলের সম্ভাব্য মহাসচিব কাকে করা যায় তা নিয়ে। 


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মহাসচিব থাকতে চান না। এটা তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। আর বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া তাকে পরবর্তী মহাসচিব চূড়ান্ত না করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যেতে বলেছেন। এরকম অবস্থায় তারেক জিয়া এখন নতুন মহাসচিব নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। কিন্তু নতুন মহাসচিব কে হবে—এই নিয়ে তারেক জিয়া তৃণমূলের মতামত গ্রহণ করছেন। তৃণমূল কাকে পছন্দ করে সেই বিষয়টিকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে সবার আগে। 

বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলছেন যে, বিএনপিতে এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পাল্টে গেছে। আগে স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত এবং সেই সিদ্ধান্ত তৃণমূলকে জানিয়ে দেওয়া হতো। এখন তৃণমূলের মতামতের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে মতামত দেওয়া হয় সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর করার চেষ্টা করা। তবে একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, এগুলো স্রেফ আইওয়াশ। তৃণমূলের কাছ থেকে শুধুমাত্র মতামত নেওয়া হয়। এটি এক ধরনের পলিটিক্যাল স্ট্যান্ডবাজি বলেও মনে করছেন বিএনপির কোনো কোনো নেতা। তবে সেটি যাই হোক না কেন, নতুন মহাসচিব হিসেবে বেশ কিছু নাম সামনে এসেছে এবং আগামী কিছু দিনের মধ্যেই নতুন মহাসচিব হিসেবে কাউকে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 


বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, এখন জাতীয় নির্বাহী কমিটি পরিবর্তন সম্পন্ন হচ্ছে। সামনে স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠন হবে। এরপর মহাসচিব পরিবর্তন হবে। বিএনপিতে আপাতত কাউন্সিল করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। কারণ বিএনপি যদি কাউন্সিল করে তাহলে অনেকগুলো প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে অনেক সিনিয়র এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। আর এই কারণেই কাউন্সিল এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তবে বিএনপির নেতারা অবশ্য বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন যে, এখন কাউন্সিল করার মত রাজনৈতিক পরিবেশ নেই। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী হয় মামলার শিকার হচ্ছেন অথবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ রকম অবস্থায় কাউন্সিল করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আর এ কারণেই কাউন্সিল ছাড়াই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রদবদল করা হচ্ছে। তবে মহাসচিব কে হবে এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে যে আলোচনা গুলো হচ্ছে তাতে নানারকম মতামত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, আসলে মহাসচিব কে হবেন এটি চূড়ান্ত করবেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াই। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেই সিদ্ধান্তই তৃণমূলের সিদ্ধান্ত হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হবে।

বিএনপি   তারেক জিয়া   মহাসচিব   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন