ইনসাইড পলিটিক্স

জাহাঙ্গীর কি আবার ফিরবেন আওয়ামী লীগে?

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৩


Thumbnail

জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। তার মা জায়েদা খাতুন গতকাল মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন, তৈরী করেছেন ইতিহাস। জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আগে আজীবন বহিষ্কার করেছে। কিন্তু এই নির্বাচনের পর নানা হিসেব-নিকাশ চলছে। গাজীপুরে এখন জাহাঙ্গীর একটি বড় ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছেন। এটা তিনি প্রমাণ করেছেন। তাই আওয়ামী লীগের মধ্য থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, জাহাঙ্গীর কি আবার ফিরবেন আওয়ামী লীগে?

জাহাঙ্গীরকে ফিরিয়ে আনার জন্য আওয়ামী লীগের একটি মহল সক্রিয়। নির্বাচনকালীন সময়ে তারা গোপনে জাহাঙ্গীরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। জাহাঙ্গীরের অনুগত আওয়ামী লীগের একটি বিশাল কর্মীবাহিনী যারা এই নির্বাচনে গোপনে জাহাঙ্গীরকে সমর্থন দিয়েছে। কাজেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বাইরে জাহাঙ্গীরকে রাখা কতটুকু লাভজনক হবে সেই হিসেব-নিকেশ এখন কষতে বসেছে আওয়ামী লীগ। 

জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ছাত্রলীগের মাধ্যমে। কিন্তু জুট ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিত্তবান হয়ে উঠেন এবং তারপরেই রাজনীতিতে তার নাটকীয় উত্থান ঘটে। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আস্তে আস্তে গাজীপুর আওয়ামী লীগের মূল নেতায় পরিণত হন। তার নিজস্ব একটি কর্মীবাহিনী তৈরি করেন। প্রত্যেকটি এলাকায় আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে তিনি জাহাঙ্গীর লীগ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে একারণেই দলের ত্যাগি ও পরিক্ষীত নেতা আজমত উল্লার বদলে জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। জাহাঙ্গীর আলম সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। কিন্তু কর্তৃত্বপরায়ণনীতি, দূর্নীতি, অনিয়ম এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নানা কটুক্তির বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার আপত্তিকর কিছু মন্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ আসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে। এবং এরপর জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগ দল থেকে বহিষ্কার করে। 

শুধু আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েই জাহাঙ্গীরের শাস্তি শেষ হয়নি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জাহাঙ্গীরকে তার সিটি করপোরেশন মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করে। এরপর শুরু হয় জাহাঙ্গীরের এক সঙ্কটকাল। কিন্তু এই সঙ্কটকালেও জাহাঙ্গীর ধীর-স্থির ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখেছে। কর্মীদের সঙ্গেও সম্পর্কে ছেদ ঘটতে দেয়নি জাহাঙ্গীর আলম। এবছর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই সাধারণ ক্ষমার আওতায় আসেন জাহাঙ্গীর। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় অন্যান্য বহিষ্কৃতদের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরকেও ক্ষমা করা হয়। আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন এবং মনোনয়ন বোর্ডের কাছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র পদের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন না দিয়ে আজমত উল্লাকে মনোনয়ন দেয়। এই নির্বাচিনে বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেনি তাই আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকের কাছে সহজ হিসেব ছিলো যে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হউক না কেনো তিনি বিজয়ী হবেন। কারণ গাজীপুরে আওয়ামী লীগের একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে।  

কিন্তু আওয়ামী লীগের এই সহজ-সরল হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নিজে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাড়ান এবং তার মাকেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাড় করিয়ে দেন। জাহাঙ্গীর আলম জানতেন যে শেষ পর্যন্ত তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা সম্ভব নাও হতে পারে। একারণেই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মা কে প্রার্থী করেছিলেন। এখানে জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক বিচক্ষণতার প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ তার মা কে যদি প্রার্থী না করতেন তবে এই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দীতাহীন হতো। শেষ পর্যন্ত তার মা বিজয়ী হলেন। এই নির্বাচনের পর গাজীপুরে এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে একটি বিষয় আলোচনা হচ্ছে তা হচ্ছে গাজীপুরে জাহাঙ্গীর এখন একটি ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছে। তার নিজস্ব একটি কর্মিবাহিনী রয়েছে, জনগণের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে যেভাবে ভোটযুদ্ধে জাহাঙ্গীর বিজয়ী হয়েছে সেটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় বিস্ময়। আর একারণেই আওয়ামী লীগ নতুন করে ভাবছে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে আবার আওয়ামী লীগে নিয়ে আসার। কারণ আগামী নির্বাচন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ এবং এই নির্বাচনে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। এমন বাস্তবতায় জাহাঙ্গীরকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ গাজীপুরে কতটুকু দাড়াতে পারবে সেই হিসেব-নিকেশ করা হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা বলছেন আদর্শটাই বড়, জয়-পরাজয় বড় না। জাহাঙ্গীর যে কাজটি করেছে তা অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এক ধরনের স্পর্ধা। এই ধরণের ঘটনাকে প্রশ্রয় দেয়া হলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের চেইন অব কমান্ড রক্ষা করা কঠিন হবে। 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উপজেলা নিয়ে কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

অবশেষে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে যারা উপজেলা নির্বাচনে বিতর্ক সৃষ্টি করবে, নিজেদের পছন্দের প্রার্থী দেবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন দুই দফায় উপজেলা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৭ মে। এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা ঈদের পরপরই শুরু হতে যাচ্ছে। 

উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এই সিদ্ধান্তগুলো যেন মাঠ পর্যায়ে কঠোর ভাবে মানা হয় সে ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে যে পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে;

১. দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে না: আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে না। দল থেকে কাউকে মনোনয়নও দেওয়া হবে না। কাজেই কেউ যেন দলীয় পরিচয় ব্যবহার না করে নির্বাচন করে- এ ব্যাপারে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নির্বাচন করবে, দলের পদ পদবী ব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

২. কোনো মন্ত্রী, এমপি কারও পক্ষে বিপক্ষে প্রচারণা করতে পারবে না: উপজেলা নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় চরিত্রে। আওয়ামী লীগের যার ইচ্ছা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, তবে মন্ত্রী, এমপিরা তাদের মাইম্যান বা পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য প্ররোচিত করতে পারবেন না। কেউ যদি এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বা কোন পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন তাহলে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

৩. দলের ভিতরের কোন্দল হানাহানি করা যাবে না: উপজেলা নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় ভিত্তিতে। ফলে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে কোন্দল সৃষ্টি করা যাবে না। দলের ভিতর বিভক্তি, অনৈক্য এবং সহিংসতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের সহিংসতা যেন না হয় সে ব্যাপারটি কঠোর ভাবে দেখতে হবে বলে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জানিয়ে দিয়েছে। 

৪. প্রার্থীদের মধ্যে অঘোষিত ঐক্য: আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে যেন একটি অঘোষিত ঐক্য হয় সে ব্যাপারেও মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে বিএনপি এবং জামায়াত বা অন্যান্য রাজনৈতিক দল শক্তিশালী সেখানে যেন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী না দেয় সে ব্যাপারেও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে কোথাও কোথাও চারজন, কোথাও কোথাও পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছেন। এই প্রার্থিতা যেন কমানো হয় এবং অপেক্ষাকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উপজেলাগুলোতে যেন একক প্রার্থী দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে।

৫. কোন কারচুপি বা ভোটে অনিয়ম করা যাবে না: আওয়ামী লীগ নীতিগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, উপজেলা নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। নির্বাচনে কোন ধরনের কারচুপিকে বরদাস্ত করা হবে না। আর এ কারণেই উপজেলা নির্বাচনে যদি কেউ কারচুপি করার চেষ্টা করে বা প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করে তাহলে দল থেকেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচন চায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে যেখানে নির্বাচনে যারাই জিতুক না কেন সকলে এক বাক্যে বলবে যে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেকের সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত বেগম জিয়ার বৈঠক

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

ঈদের দিন রাতে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন যে, বৈঠকে কোন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। সিনিয়র নেতাদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, তাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেছেন। এছাড়া বেগম জিয়া বিভিন্ন নেতার পারিবারিক খোঁজখবরও নিয়েছেন। 

এই বৈঠকে রাজনৈতিক আলোচনা না হওয়ার কারণ কী—এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মতামত পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম জিয়া তার পুত্রের কারণেই ওই ঈদ পুনর্মিলনীতে কোন রাজনৈতিক আলোচনা করেনি। কারণ পুরো বাসাতে তারেক জিয়ার নিয়ন্ত্রিত সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া কী করেন না করেন, কী কথাবার্তা বলেন না বলেন ইত্যাদি সবই লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেখেন। 

বিএনপির মধ্যে গত কিছুদিন ধরেই বিশেষ করে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকেই তারেক জিয়াকে নিয়ে একটা নেতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়েছে। এই নেতিবাচক অবস্থানের কারণেই এখন বেগম জিয়া রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো কথা বার্তা বলতে পারছেন না। বিএনপিতে এক ধরনের অভ্যুত্থান হয়েছে এবং এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়া সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিয়েছেন। যদিও বিএনপির রাজনীতি এখন টালমাটাল অবস্থা। তারেক জিয়ার একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপিতে এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু তারপরও তিনি (খালেদা জিয়া) এখন পর্যন্ত নিজেকে রাজনীতিতে জড়াতে পারছেন না তারেক জিয়ার বাধার কারণে।

বেগম জিয়ার সঙ্গে গতকাল যারা সাক্ষাৎ করেছেন তারা সবাই তার ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ দুই নৌকায় পা দেওয়ার মত অবস্থায় রয়েছেন। একদিকে তারা যেমন বেগম জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে রাখছেন, অন্যদিকে তারা তারেক জিয়ার আনুকূল্য লাভেরও চেষ্টা করছেন। বেগম জিয়া বিভিন্ন ইস্যুতে তারেক জিয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। তবে তার ভিন্ন মত তিনি প্রকাশ করতেও পারছেন না। নানা কারণে বেগম জিয়া তারেকের কাছে দায়বদ্ধ বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর এ কারণেই বেগম জিয়া এমন কিছু বলতে চান না যাতে বিএনপির মধ্যে অসন্তোষ এবং বিভেদ আরও বেড়ে যায়। 

উল্লেখ্য যে, তারেক জিয়ার অপছন্দের একাধিক নেতাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে বেগম জিয়ার সুসম্পর্ক রয়েছে। আবার বেগম জিয়ার সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠ, তাদের অনেকেই তারেক জিয়া কোণঠাসা করে রেখেছেন। সবকিছু মিলিয়ে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আর এই কারণেই বেগম জিয়া রাজনৈতিক প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেছেন।

বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে যে, বেগম জিয়ার সঙ্গে সরকারের একটি গোপন যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। বেগম জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন এবং সে কারণেই তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বা রাজনীতির বিষয়ে আগ্রহী নন। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে যে, তারেক জিয়াই আসলে সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছেন এবং সেই আঁতাতের কারণেই তিনি ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে এরকম একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কার কি দোষ সেটি বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হল তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছেন। এটি বিএনপির জন্য একটি বড় সমস্যার বিষয়। বেগম জিয়া এই সমস্যাকে সামনে আনতেন চাননি জন্যই রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ঈদের দিন কোন আলোচনাই করেননি বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তারেক জিয়া   বিএনপি   খালেদা জিয়া   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদা জিয়ার ১৫ ঈদ কাটলো গৃহবন্দি অবস্থায়

প্রকাশ: ১০:০৬ এএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা ফিরোজায় ঈদ উদযাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকালে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারসহ কয়েকজন কাছের আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে ঈদের সময় কাটান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, সকাল থেকেই ম্যাডামের আত্মীয়-স্বজনরা দেখা-সাক্ষাৎ করতে আসেন। বিকেলে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান ভার্চ্যুয়ালি তার সঙ্গে কথা বলেন। রাতে দলের সিনিয়র নেতারা ঈদের সালাম জানাতে আসেন।

বিগত কয়েক বছর তিনি ঈদে বাসার বাইরে বের হতে পারছেন না। এমনকি পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ঈদ উদযাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন না। বন্দি থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এবারসহ ১৫টি ঈদ কেটেছে জেলে ও গৃহবন্দী অবস্থায় তার।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার পর থেকে ৭৯ বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী  খালেদা জিয়ার চারটি ঈদ কারাগারে, ১টি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে, এভারকেয়ারে ১টি ঈদ এবং বাসায় গৃহবন্দি অবস্থায় ৬টি ঈদ কেটেছে। ২০১৭ সালের ২৬ জুন  চীন মৈত্রী হলে সর্বশেষ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এই নেত্রী। এর আগে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়ে দুইটি ঈদ চার দেয়ালের মধ্যেই কাটাতে হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তখন তিনি ছিলেন সংসদ ভবন এলাকার একটি ভবন যেটাকে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও দুইটি ঈদ কাটাতে হয়েছে বন্দী অবস্থায়।

দলটির নেতাকর্মী বলছেন, দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময়  পূর্ন স্বাধীন অবস্থায় ঈদ উদযাপনের বাইরে রয়েছেন তিনি। গৃহকর্মী ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যদেরকে নিয়ে ঈদের দিন কাটে খালেদা জিয়ার।

খালেদা জিয়ার এবারের ঈদও কাটলো গুলশানের বাসায়। যদিও রাতে দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং বেগম সেলিমা রহমান খালেদা জিয়ার গুলশানস্থ ফিরোজা বাসভবনে প্রবেশ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


খালেদা জিয়া   ১৫ ঈদ   গৃহবন্দি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যা বললেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ১০:২৫ পিএম, ১১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ শীর্ষ নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাতে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা ফিরোজায় তার সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা। পরে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল জানান চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিক কোনো আলোচনা হয়নি।

অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসা ব্যবস্থা জোর দাবি করছি।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সেই সঙ্গে তিনি দোয়াও চেয়েছেন। খালেদা জিয়া বলেছেন, জনগণের কল্যাণের জন্যই তিনি রাজনীতি করেছেন, করছেন। 

এর আগে এদিন রাত ৮টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় প্রবেশ করেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এ সময় সেখানে ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

এছাড়াও এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম খালেদা জিয়াকে ঈদ  শুভেচ্ছা জানাতে গুলশানের বাসা ফিরোজায় যান।

খালেদা জিয়া   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

খালেদা জিয়ার বাসভবনে বিএনপির শীর্ষ নেতারা

প্রকাশ: ০৯:১৮ পিএম, ১১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

পবিত্র ঈদুল ফিতরে শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে গেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার সময় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং বেগম সেলিমা রহমান গুলশানে খালেদা জিয়ার ফিরোজা বাসভবনে প্রবেশ করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া আজ রাতে এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা খালেদা জিয়ার বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

খালেদা জিয়া   বিএনপি   ঈদুল ফিতর  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন