ইনসাইড পলিটিক্স

গাজীপুর নির্বাচন: কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-নেতারা

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৬ মে, ২০২৩


Thumbnail গাজীপুর নির্বাচন: কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-নেতারা।

গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসন। পাঁচটি আসনই আওয়ামী লীগের দখলে। গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগের দুজন মন্ত্রী রয়েছেন। ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের একজন জনপ্রিয় নেতা। একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর নির্বাচনের ব্যাপারে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। এমনকি একজন প্রেসিডিয়ামের সদস্য গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সার্বিক তদারকির সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এই নেতারা এখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের ভূমিকা এবং কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পোস্টমর্টেম রিপোর্টে এই সমস্ত নেতাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। 

গাজীপুর নির্বাচন সম্পর্কে তাদের উদাসীনতা ভুল তথ্য প্রদান এবং ভুল কৌশল আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করেছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারাই। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর এই সমস্ত হিসেব-নিকেশগুলো সামনে এসেছে। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের দুইজন মন্ত্রী রয়েছেন। মন্ত্রীসভায় প্রধানমন্ত্রীর পর জেষ্ঠ্য মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গাজীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত। গাজীপুরে তিনি প্রভাবশালী নেতা।এই নির্বাচনে তার ভূমিকা কি ছিল? তিনি দলকে সংগঠিত করতে বা প্রার্থীকে জেতানোর জন্য কি করেছেন?- এই প্রশ্নটিই গাজীপুরে ওঠেছে। 

আওয়ামী লীগের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেলও গাজীপুরের। তিনি এলাকায় জনপ্রিয় এবং তার এলাকায় একটি প্রভাব রয়েছে। এই নির্বাচনে তার ভূমিকা কি ছিল?- তা নিয়েও কথাবার্তা হচ্ছে। কারণ গাজীপুরে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধ পক্ষের অন্যতম নেতা হিসেবে মনে করা হতো জাহিদ হাসান রাসেলকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য তিনি কি করলেন? এছাড়াও গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়েও এখন কথা হচ্ছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়াকে। কিন্তু মায়ায় ভূমিকা ছিল শুরু থেকেই নিরব নিস্তরঙ্গ। তিনি আসলে আজমত উল্লাকে জেতানোর জন্য কতটুকু ভূমিকা পালন করেছেন?- এই প্রশ্ন অনেকের মধ্যে ওঠেছে। 

গাজীপুরসহ ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে পালন করেছেন মির্জা আজম। একজন জনপ্রিয় নেতা, ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা।  কিন্তু গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বাড়তি মনোযোগও দিয়েছিলেন। কিন্তু তার রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ ভুল ছিল বলে অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান এবং জাহাঙ্গীরকে প্রতিরোধ করার ঘোষণা- এগুলো আওয়ামী লীগের জন্য বুমেরাং হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই মনে করেন, গাজীপুর নির্বাচনের আগে জাহাঙ্গীর আলমকে দুর্নীতি দমন কমিশনে ডেকে নিয়ে যাওয়া। তার দুর্নীতির কথা বলে, তাকে পর্যুদস্ত করার চেষ্টা করা- ইত্যাদি সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। 

তাছাড়া নির্বাচনের আগে জাহাঙ্গীর আলমকে তড়িঘড়ি করে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তটি কতটুকু সঠিক ছিল- সেই প্রশ্ন এখন আওয়ামী লীগের মধ্যে নানাভাবে আলোচনা হচ্ছে। মির্জা আজম নির্বাচনের ব্যাপারে শুধুমাত্র দল নির্ভর থেকেছেন। অনেকে প্রশ্ন করেছেন, যিনি সাতবারের নির্বাচিত এমপি, তিনি নির্বাচনে কোন কৌশলে শুধুমাত্র দলকে অন্তর্ভুক্ত রাখেন কিভাবে? তবে অনেকে মনে করেন, শেষ পর্যন্ত গাজীপুরে যে আজমত উল্লা এতগুলো ভোট পেয়েছেন- তার একটি বড় কারণ হল মির্জা আজমদের ভূমিকা। 

এস এম কামাল আরেকজন সাংগঠনিক সম্পাদক। যিনি এই নির্বাচন উপলক্ষে গাজীপুরে সার্বক্ষণিকভাবে ছিলেন। তিনিও এই নির্বাচনে দলের কর্মী নির্ভর ছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে, জনগণকে নিয়ে যাওয়া বা সাধারণ ভোটারদেরকে মন জয় করার চেয়ে কর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার বিষয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। অনেকেই মনে করেন, এই সমস্ত কেন্দ্রীয় নেতারা ভুল কৌশল গ্রহণ করেছিল গাজীপুরে। বিশেষ করে বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তাদেরকে হয়রানি করানো- ইত্যাদি নেতিবাচকভাবে কাজ করেছে। ৬০ জন বিদায়ী ওয়ার্ড কমিশনারই ছিলেন জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে এবং তারা সার্বক্ষণিকভাবে জাহাঙ্গীরের মায়ের পক্ষে কাজ করেছেন- যার ফলাফল দেখা গেছে ভোটে।

আর এই সমস্ত ভুলের কারণে গাজীপুরে বিপর্যস্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। এখন প্রশ্ন হলো, যে সমস্ত নেতারা গাজীপুরের দায়িত্ব ছিলেন- তারা কি তাদের ভুলগুলো নিজেরা বিশ্লেষণ করবেন? আত্মশুদ্ধি করবেন? নাকি তারা সবকিছু এড়িয়ে দায় চাপিয়ে দিবেন প্রার্থীর উপর?


গাজীপুর   নির্বাচন   আওয়ামী লীগ   মন্ত্রী   নেতা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে বিএনপি নেতা ফালু

প্রকাশ: ০৫:৫০ পিএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব মোসাদ্দেক আলী ফালু গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো।

বর্তমানে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। গত ৯ জুন তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। 

মোসাদ্দেক আলী ফালুর বড় ভাই নূরউদ্দিন আহমেদ নূরু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কদিন আগে হঠাৎ করেই ফালু অসুস্থ হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তার মাথা ঘোরায়, বমি হয়। কখনও কখনও অজ্ঞান হয়ে যায়। তবে ফালুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। ফালুর সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন নূরউদ্দিন আহমেদ নূরু।


মোসাদ্দেক আলী ফালু   বিএনপি   খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পদত্যাগ করবেন মির্জা ফখরুল?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করবেন? এই প্রশ্নটি আজ সারাদিন ধরে বিএনপিতে আলোচিত হয়েছে, পল্লবিত হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এর আগেই তিনি মহাসচিবের পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে নতুন মহাসচিব না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখন তিনি অভিমান করেই পদত্যাগ করবেন বলে বিএনপির একাধিক নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি বিলুপ্তি নিয়ে। ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে গত রাতে আকস্মিকভাবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বিলুপ্তির খবর ঘুণাক্ষরেও জানতেন না। তিনি দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি মুখ্য ভুমিকায় অবতীর্ণ আছেন। কিন্তু তাকে অবহিত না করে এভাবে হুট করে কমিটি বিলোপ করা, তাকে অপমানিত করার সামিল বলেই মনে করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর এ কারণেই তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন।

উল্লেখ্য যে, ২৮ অক্টোবরের বিএনপির তাণ্ডবের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। নির্বাচন শেষে আদালতের জামিনে তিনি মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের শারীরিক অসুস্থতা এবং স্ত্রীর অসুস্থতার জন্য দল থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এই অনুযায়ী তিনি লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি তার অবস্থার কথা বলেন। কিন্তু বেগম জিয়া তাকে একজন নতুন মহাসচিব খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সে অনুযায়ী মির্জা ফখরুল কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন বটে। তবে দলে তার আগের মতো তৎপরতা ছিল না। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সস্ত্রীক সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে ফিরে আসার পর তিনি ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। সবকিছু মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন আগের অবস্থানে নেই। দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তার মনোযোগ নেই।

এর প্রধান কারণ হল তারেক জিয়া। তারেক জিয়া তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার মতামত গ্রহণ করে না। এমনকি তিনি দলের বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করেন এমন অভিযোগও উঠেছে।

কিন্তু গত রাতে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বিএনপির মহাসচিব। বিএনপির মহাসচিবের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে যে, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ তুলনামূলকভাবে ভালো কাজ করছিল। বিশেষ করে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল প্রশংসনীয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উত্তর এবং দক্ষিণ মহানগরের প্রতি বিশেষ আস্থা রাখতেন বলেও জানা যায়। আর এ কারণেই ঢাকার দুটি কমিটি বিলুপ্ত হওয়াতে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে।

তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, মহানগর কমিটি বিলুপ্ত হতেই পারে বা অন্য কমিটিও দলের চেয়ারপার্সন বিলোপ করতেই পারেন। কিন্তু সেটি একটি গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন। গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে যেনতেনভাবে কমিটি বাতিল, কোন সভ্য রাজনৈতিক দলের কাজ না বলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন।


তারেক জিয়া   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর   বিএনপি   রাজনীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির টপ টু বটম সবাই দুর্নীতিবাজ: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০৩:৩৯ পিএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখন দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছে। বিএনপির টপ টু বটম সবাই দুর্নীতিবাজ। এই দলের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া টপ টু বটম দুর্নীতির বরপুত্র। শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, অস্ত্র, দুর্নীতির মামলায় তারেকের সাজা হয়েছে। তারেকের আর কত সাজা হবে? তার তো সাজা হয়েছে। শাস্তি হয়ে গেছে, এখন তাকে শাস্তি ভোগ করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাকে ভালো মানুষ সাজানোর চেষ্টা করার কোনো কারণ নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আমলে কত সন্ত্রাসী ছিল? দুর্নীতিবাজ বেনজীরের জায়গায় কোহিনূর, আশফারুল হুদা এইসব লোককে আইজিপি বানানো হয়েছিল। এদের দুর্নীতির গল্প শুনলে শিউরে উঠতে হয়। বিচার কী হয়েছে? বিএনপির নেতারা জনে জনে দুর্নীতি করেছিল, লুটপাট করেছিল। তার বিচার কী হয়েছিল? বিএনপি কী তাদের কোনো নেতার বিচার করার সৎ সাহস দেখাতে পেরেছে, যেটা শেখ হাসিনা করে দেখিয়েছেন।

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততা, এটা কে বের করেছে, পুলিশ? পুলিশ কোন সরকারের। এটা কি বিএনপির আমলের পুলিশ? না শেখ হাসিনার আমলের পুলিশ। ডিবি ব্যাপারটা উদঘাটন করেছে। মামলা হওয়ার আগে এবং মামলার শাস্তি হওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী কাউকে অপরাধী বলা যাবে না। ওই সৎ সাহস আওয়ামী লীগের আছে। জেলার জেনারেল সেক্রেটারি রিমান্ডে, এই রকম উদাহরণ তো বিএনপির আমলে, এরশাদের আমলে নেই। ছিল না।

সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, উপ প্রচার প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ অন্যান্য নেতারা।


বিএনপি   দুর্নীতিবাজ   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিতে মধ্যরাতের ‘ক্যু’, নেপথ্যে তারেকের টাকা

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তার ফোন বেজে উঠল। কয়েকবার ফোন বাজার পর ঘুম থেকে উঠে রীতিমতো বিরক্ত হয়ে তিনি ফোনটি ধরলেন। স্ত্রী অসুস্থ, তার নিজের শারীরিক অবস্থাও ভাল না। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১২টায় কে তাকে ফোন করল!

ফোন ধরতেই অপরপ্রান্ত থেকে বিএনপির একজন নেতা জানালেন যে, ঢাকাসহ ৪ মহানগরের বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষেপে গেলেন। তিনি বললেন, হোয়াট ননসেন্স, কে বলল তোমাকে?

ঐ নেতা জানালেন যে, আপনি টেলিভিশনে দেখেন, টেলিভিশনে স্ক্রল যাচ্ছে। সেই রাতেই বিছানা থেকে উঠে টেলিভিশন অন করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেখলেন টেলিভিশন স্ক্রলে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণসহ ৪টি মহানগরে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে। ঢাকা ছাড়া অন্য যে দুটি মহানগর কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রামের দুটি এবং বরিশাল মহানগর কমিটি। একই সঙ্গে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুব দলের কেন্দ্রীয় কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিলুপ্তি আদেশে স্বাক্ষর দিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই রাতেই রুহুল কবির রিজভীকে ফোন করলেন, জানতে চাইলেন আসল ঘটনা কী? রুহুল কবির রিজভী জানালেন যে, 'ভাইয়া' তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, লন্ডন থেকে তাকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠানো হয়েছে। সেই মেসেজটি তিনি শুধু প্রিন্ট করেছেন মাত্র। এরপর একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বিছানায় চলে গেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল রাতে এভাবে বিএনপিতে, একটি 'ক্যু' সংঘটিত হয়েছে, যে 'ক্যু' এর মাধ্যমে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ মহানগরীর ৫টি কমিটিসহ মোট ছয়টি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। 

বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলছেন যে, দলের স্থায়ী কমিটির কোন সদস্যই এ সম্পর্কে কিছু জানতেন না। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো নেতাদেরকে পুরো অন্ধকারে রেখে তারেক জিয়া মধ্যরাতে এই 'ক্যু'টি করেন। 

কেন হঠাৎ করে কমিটি বাতিল করা হলো? এর জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেছেন যে, এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণেই কমিটিগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। কিন্তু বিএনপিতে এ রকম মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সংখ্যা প্রায় শতাধিক। প্রায় প্রতিটি জেলাতেই কমিটিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। অন্যান্য বিভিন্ন কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। 

তাহলে শুধুমাত্র ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি চট্টগ্রামের উত্তর দক্ষিণ আহবায়ক কমিটি, বরিশাল মহানগর কমিটি কেন বিলুপ্ত করা হল? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য রুহুল কবির রিজভীর জানা নেই। তবে বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করছেন যে, আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণেই এই কমিটিগুলো বাতিল করা হয়েছে। 

তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে যে, টাকার ভাগ বাটোয়ারার জন্যই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মহানগর দুটিতে যখন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল তখন একটু মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের কথা ছিল। উত্তর থেকে পঞ্চাশ কোটি এবং দক্ষিণ থেকে পঞ্চাশ কোটি মোট একশ কোটি টাকার একটি সমঝোতা হয়েছিল তারেক জিয়ার সঙ্গে মহানগরের নেতৃবৃন্দের। সেই সমঝোতা অনুযায়ী কিছু টাকা তারেক জিয়া পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ টাকা দিতে অক্ষম হন এবং নানা কারণে টাকা দিতে সময়ক্ষেপণ করেন। এতে তারেক জিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং এ কারণেই মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

আহ্বায়ক কমিটি যখন তৈরি করা হয়েছিল তখনও এটি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এমন কথা বিএনপির মধ্যেই আলোচনা হয়েছে। বিএনপির নেতারা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। এমন সময় রুহুল কবির রিজভী বলেছিলেন, আমার কিছু করার নেই এটি লন্ডন থেকে এসেছে। আর এখন ওই টাকার ভাগ বাটোয়ারা না পাওয়ার জন্য কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হলো বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। 

ঢাকা মহানগরের উত্তর এবং দক্ষিণে আহ্বায়ক কমিটির নেতারা বলছেন যে, তারেক জিয়াকে টাকা দেয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। কারণ, এই কয়দিন তারা দৌড়ের ওপর ছিলেন। আন্দোলন, সংগ্রাম এবং জেল-জুলুমের কারণে তাদের অবস্থা ছিল শোচনীয়। এ কারণেই টাকা দিতে বিলম্ব হয়েছে। কিন্তু তারেক জিয়া এই বক্তব্য আমলে নেননি। এখন নতুন করে এই কমিটিগুলো নিলামে উঠবে। দেখা যাক কত টাকা দিয়ে কে কোন পদে যায়।

বিএনপি   তারেক জিয়া   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর   রুহুল কবির রিজভী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ঢাকাসহ চার মহানগরে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত

প্রকাশ: ০১:০৮ এএম, ১৪ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ও বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না'র নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। উল্লিখিত বিলুপ্তকৃত কমিটি সমূহের নতুন কমিটি পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। 

এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা মহানগর পূর্ব ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় । শীঘ্রই উক্ত ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

বিএনপি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন