ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ১১ জন ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত

প্রকাশ: ০৯:৪৭ এএম, ২৭ মে, ২০২৩


Thumbnail

দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের ২৯ জন নেতা–কর্মী এবার গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রার্থী হওয়ার পরই তাঁদের সবাইকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। তবে দল পাশে না থাকলেও ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ১১ জন নেতা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন ১০ জন। আর সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর হয়েছেন একজন।

ভোটের এমন ফলাফল নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতিকদের অনেকে মনে করছেন, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও বিএনপির নীরব ভোটারদের সমর্থনের কারণেই ওই ১১ জন জয়ী হয়েছেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সাধারণ ওয়ার্ড ৫৭টি। সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড ১৯টি। 

বিএনপি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তখন সাধারণ ওয়ার্ডে বিএনপি–সমর্থিত কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ৭ জন। আর সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে বিএনপি–সমর্থিত একজন কাউন্সিলর বিজয়ী হয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে ১১টি ওয়ার্ডে (সংরক্ষিত ওয়ার্ডসহ) বিএনপির বহিষ্কৃত নেতারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৮ জন গত মেয়াদেও কাউন্সিলর ছিলেন। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। এমন পরিস্থিতিতে দলের সহায়তা ছাড়াই এবার ১১ জনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়াকে ‘খুবই ভালো’ ফল মনে করছেন দলটির স্থানীয় নেতা–কর্মীরা।

অন্যদিকে কাউন্সিলর পদে এবার ৪৭টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তবে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ৫৭ ওয়ার্ডের মধ্যে ৫০টিতেই কাউন্সিলর পদে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। যদিও এবারও দলগতভাবে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ কাউকে সমর্থন দেয়নি।

গাজীপুরের নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়া জায়েদা খাতুন ও তাঁর ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন গাজীপুর সদর থানা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন। গতকাল শুক্রবার রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দলের বড় কোনো পদে নেই। বহিষ্কার নিয়ে ভাবি না। এলাকার মানুষ ভালোবেসে জিতিয়েছে।’ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি ৩০০ ভোটের বেশি ব্যবধানে হারিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যাওয়া আজমত উল্লা খান সিটির ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জয়লাভ করেছেন গিয়াস উদ্দিন সরকার। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

ভোটে বিএনপি না থাকার পরও কাউন্সিলর পদে গতবারের চেয়ে দলটির নেতাদের (বহিষ্কৃত) ভালো করার বিষয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির সদস্য আবদুল হাদী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে সেভাবে ভাবনা ছিল না। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে যিনি পরাজিত করেছেন, তাঁর সঙ্গে মিলে নির্বাচন করেছেন ওই প্রার্থীরা।’

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েও কাউন্সিলর

গাজীপুর মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) ফয়সাল সরকার এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগেও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। এবার এই ওয়ার্ডে দুজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে তাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ফয়সাল সরকার প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা আছে বুঝতে পেরেই ওই দুজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।

তবে এলাকায় আলোচনা আছে, যে দুজন নির্বাচন থেকে সরে গেছেন, তাঁদের সঙ্গে ফয়সাল সরকারের একধরনের সমঝোতা হয়েছিল। তবে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে গতবারও কাউন্সিলর ছিলেন গাজীপুর সদর থানা বিএনপির সভাপতি হাসান আজমল ভূঁইয়া। এবারও ভোটে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার বিষয়ে হাসান আজমল প্রথম আলোকে বলেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের উসকানি দিয়ে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করিয়েছে। এই বহিষ্কার সাংগঠনিকভাবে হয়নি বলেও মনে করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, আওয়ামী লীগবিরোধী বেশির ভাগ ভোট পেয়েছেন নবনির্বাচিত মেয়র জায়েদা খাতুন। যেসব ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীরা জিতেছেন, সেসব ওয়ার্ডে মেয়র পদে জায়েদা খাতুন বেশি ভোট পেয়েছেন। বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীরা সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে ‘আঁতাত করায়’ ফলাফল এমন হয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে।  

সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হান্নান মিয়া ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। এবারও তিনি জিতেছেন। তাঁর ওয়ার্ডে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লা পেয়েছেন তিন হাজারের কম ভোট। বিপরীতে জায়েদা খাতুন পেয়েছেন সাড়ে সাত হাজারের বেশি ভোট।

এবারও ভোটে জয়ী হওয়ার বিষয়ে হান্নান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের কারণেই এমন জয়।

বিএনপির স্থানীয় একাধিক নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো থাকায় বিএনপি সমর্থকদের অনেকে ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এটি মেয়র নির্বাচনের ফলাফলকেও প্রভাবিত করেছে। বিএনপি সমর্থকদের অনেকে নিজ দলের কাউন্সিলর প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। আর নৌকা প্রতীকের পরাজয় ঘটাতে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনকে ভোট দিয়েছেন।

বিএনপি ভোটে অংশ না নিলেও দলের নেতারা গত সিটি নির্বাচনের চেয়ে এবার কাউন্সিলর পদে ভালো ফল করলেন কীভাবে, এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নানকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই তাদের নির্বাচিত হওয়া বা না হওয়ায় আমাদের কিছু যায় আসে না।’



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আজিজ-আনার-বেনজীর ইস্যুতে বিএনপিতে চাঙ্গাভাব

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বিএনপির মধ্যে হতাশার সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। বিএনপি নেতাকর্মীদের মন ভেঙে গিয়েছিল। ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে নতুন সরকারকে যেভাবে অভিনন্দন জানানো হয়, প্রশংসা করা হয় তাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ভেঙে পড়া মনোভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তারা এতই হতাশ হয়েছিলেন যে, আন্দোলনের কর্মসূচি দিতেও তাদের অনীহা দেখা দিয়েছিল। 

শুধুমাত্র তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নন, শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই হতাশা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেই বিএনপিতে আবার নতুন করে চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

গত কিছুদিন ধরে বিএনপির নেতাদের মধ্যে একটি উল্লাস উল্লাস ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব নেতাকর্মীরাই এখন মনে করছেন সরকারকে এখন চাপ দেওয়ার সময় এসে গেছে। বিএনপির এই মানসিকতার পরিবর্তনের প্রধান কারণ হল বাংলাদেশের তিনটি ঘটনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২৮ অক্টোবরের পর থেকেই বিএনপির হতাশার গ্রাফ বাড়তে শুরু করে। পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ব্যাপকভাবে হতাশা গ্রাস করেছিল। এবং এটি চূড়ান্ত আকার ধারণ করে যখন ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফর করেন এবং ফুচকা খেয়ে, ক্রিকেট খেলে যখন তিনি নতুন সরকারের সঙ্গে অতীতের তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন। কিন্তু এর পরপরই আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, বেনজীর আহমেদের সম্পদ জব্দ এবং আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপির মধ্যে একটি চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কদিন আগেও লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন। সিঙ্গাপুর এসে চিকিৎসা নিয়ে এসে ওমরাহ পালন করেছেন এবং পরে সময় কাটাচ্ছিলেন। দলের মহাসচিব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারেও আগ্রহ জানিয়েছিলেন। সেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন সরব হচ্ছেন এই তিন ইস্যুতে। এই তিন ইস্যুতে তিনি ব্যাপক কথা বলছেন। 

বিএনপির নেতারা বলছেন, এই তিনটি ইস্যু জনগণের মধ্যে এক ধরনের কাঁপন ধরিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে সরকারের ভিতর দুর্বৃত্তরা এবং দুর্নীতিবাজরা শক্তপোক্ত জায়গা করে ফেলেছে। এ কারণেই এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন বেগবান করার উপযুক্ত সময়। আর এ কারণেই তারা নতুন করে রাজপথে নামার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। আনারের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে, জাতীয় সংসদে কারা যাচ্ছে। চোরাকারবারি, দুর্নীতিবাজ, দুর্বৃত্ত এবং সন্ত্রাসীরা যে সংসদে যাচ্ছে এটি প্রমাণের চেষ্টা করছে বিএনপি।

বেনজীর আহমেদের ঘটনা দিয়ে তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, সরকারের দুর্নীতি কোন পর্যায়ে চলে গেছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বেসামাল এ রকম দুর্নীতি করতে পারে। অন্যদিকে আজিজ আহমেদের ঘটনা দিয়ে বিএনপির কর্মীরা আশ্বানিত হচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে যে সুসম্পর্ক করেছে বলে প্রচার করা হচ্ছে তা আসলে ঠিক নয়। এই তিন ঘটনাকে নিয়ে বিএনপি এখন কথামালার রাজনীতি শুরু করেছে। তবে রাজপথে যাওয়ার মত এখনও শক্তি বা মনোবল চাঙ্গা করতে পারেনি দলটি। 

আজিজ আহমেদ   আনোয়ারুল আজীম আনার   বেনজীর আহমেদ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দুই ভাইয়ের বিরোধে বিব্রত কাদের

প্রকাশ: ০৫:০১ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিন তিনবার সাধারণ সম্পাদক হয়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। কিন্তু দলে শৃঙ্খলা আনতে পারছেন না, দলের ভেতর এখন চলছে ‘ফ্রি স্টাইল’। যে যার মতো করে বিরোধ করছে, কোন্দল করছে। যেকোন সিনিয়র নেতাকে অপমান অবজ্ঞা করা হচ্ছে। দলে কোন ‘চেইন অব কমান্ড’ নাই। আওয়ামী লীগের নেতারাই স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের ‘চেইন অব কমান্ড’ সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে পড়েছে। আর এই সাংগঠনিক বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। কিন্তু তিনি দেখবেন কি, নিজেই তিনি এখন বিব্রত-প্রশ্নবিদ্ধ। তার দুই ভাইয়ের বিরোধে নোয়াখালীতে সৃষ্টি হয়েছে অশান্ত এক অবস্থা। তিনিও নোয়াখালীতে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে তার বিরোধ এখন প্রকাশ্য।

আজ ছিল নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন। কিন্তু এই নির্বাচনে ওবায়দুল কাদেরের দুই ভাইয়ের বিরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এবং এজেন্টদের মারধরের অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেনসহ আরও দুই জন। তারা পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, সকাল ৯টা থেকে বসুরহাট পৌরসভা মেয়র আব্দুল কাদের মীর্জা সমর্থিত প্রার্থীর সঙ্গে তার সমর্থিত লোকজন বিভিন্ন কেন্দ্রে হামলা চালায়। বোমা ফাটিয়ে তারা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখল করে নেয়। এরপর প্রায় ৪০টি কেন্দ্রে জাল ভোট প্রদান করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, বসুরহাট পৌরসভা মেয়র আব্দুল কাদের মীর্জাও ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। দীর্ঘ দিন ধরেই আব্দুল কাদের মীর্জার সাথে ওবায়দুল কাদেরের খুব একটা সক্ষতা নেই। তাদের মধ্যে নানারকম টানাপোড়েন আছে। বিশেষ বসুরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ওবায়দুল কাদেরের কড়া সমালোচনা করেছিলেন এবং এই সমালোচনার সূত্র ধরেই নোয়াখালীর রাজনীতিতে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন নির্বাচন কেন্দ্রিক বিরোধে ওবায়দুল কাদেরের তিন ভাই ত্রিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

ওবায়দুল কাদের নিজে এই উপজেলা নির্বাচনের আগে এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনরা যাতে নির্বাচন না করে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, আত্মীয়-স্বজনদের মনোনয়ন দেয়া হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু সেই বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত অটল থাকতে পারেননি ওবায়দুল কাদের। তার সিদ্ধান্ত অমান্য করেই বিভিন্ন স্থানে মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়-স্বজনরা প্রার্থী হয়েছেন।

ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাৎ প্রার্থী হয়েছেন ওবায়দুল কাদেরের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে, এমন বক্তব্য নোয়াখালীতে এখন ব্যাপকভাবে চালু আছে। আর তাই কাদের মীর্জা তার বিরোধীতা করেছিল বলেও স্থানীয় এলাকাবাসী মনে করে। শাহাদাৎকে কীভাবে উপজেলা নির্বাচনে কিভাবে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া হলো তা নিয়েও জনগণের মধ্যে নানারকম বক্তব্য আছে।  

অন্যদিকে কাদের মীর্জা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং একরামুল করিমকে প্রতিহত করার জন্যই কোম্পানিগঞ্জে তার নিজের প্রার্থী দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সবকিছু মিলিয়ে নোয়াখালীর রাজনীতিতে একটি হ য ব র ল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক যদি নিজের ভাইদেরকেই সামল দিতে না পারেন, তাহলে তিনি দলের বিরোধ কীভাবে সামলাবেন। আর নোয়াখালীর এই অবস্থা নিয়ে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কোন বক্তব্য দেননি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তার আরেক ভাই এবং অন্যান্য প্রার্থীরা কোম্পানিগঞ্জে তার বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন সমাধানই হয়নি।


ওবায়দুল কাদের   রাজনীতি   সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী   কাদের মির্জা   শাহাদাৎ হোসেন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ষড়যন্ত্রকারীরা দেশকে পাকিস্তানি রাষ্ট্র বানাতে চায় : বাহাউদ্দিন নাছিম

প্রকাশ: ১২:৫৩ পিএম, ২৯ মে, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, দেশি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে পাকিস্তানি জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র বানানোর গভীর ষড়যন্ত্র করছে।

মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চে জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে কীভাবে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের ক্ষতি করা যায়। সবাইকে সজাগ থাকতে থাকতে হবে দেশ স্বাধীনতাবিরোধীরা যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

নড়াইল জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজম্মেল হক, যুব ক্রীড়া সম্পাদক এবং হুইপ মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এমপি, বিএম কবিরুল হক মুক্তি এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুবাস বোস, সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দীন খান নিলু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, যুবলীগ হবে মানবিক যারা মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। মানুষের বিপদে পাশে থাকবে। কোনো সন্ত্রাসী-মাদকসেবী বা টেন্ডারবাজ যুবলীগ করতে পারবে না। বিগত সময়ে এবং আগামীদিনে যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে পারবে তেমন ব্যক্তিকে দিয়েই যুবলীগের কমিটি করা হবে।


বাহাউদ্দিন নাছিম  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

প্রশাসনে আরও কত ‘বেনজীর’ আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে: রব

প্রকাশ: ০৮:২২ পিএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

প্রশাসনের অভ্যন্তরে আরও কত ‘বেনজীর’ আছে তা দ্রুত খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। 

মঙ্গলবার (২৮ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। 

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের যে ফিরিস্তি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, তা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ। স্বাধীন দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্তরে-স্তরে চিহ্নিত দুর্বৃত্তচক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে সরকার অসংখ্য বেনজীর সৃষ্টি করেছে। ফলে রাষ্ট্র দুর্বৃত্তের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়ে পড়েছে।

চাকরিরত অবস্থায় প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীর কয়েক হাজার বিঘা জমির মালিক হওয়া- আওয়ামী  দুঃশাসনের এক ভয়াবহ চিত্র! নির্বাচনবিহীন কর্তৃত্ববাদী সরকারের অপশাসনের ফলশ্রুতিতে আরও অসংখ্য ভয়াবহ চিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হতে থাকবে।  
অবৈধ সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার সহযোগী এমন অসংখ্য বেনজীর প্রশাসনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে আছে। রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এদের দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। নয় তো বা রাষ্ট্র অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়বে, যা হবে মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। 

রাষ্ট্রীয় শত্রু হিসেবে চিহ্নিত অপরাধীদের রেহাই দেওয়ার জন্য সরকার যদি নতুন কোনো কূট-কৌশলের আশ্রয় নেয়, তবে তা হবে রাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী। জনগণ কোনোক্রমেই রাষ্ট্র ধ্বংসের সরকারি পাঁয়তারাকে মেনে নেবে না।

জেএসডি   আ স ম আবদুর রব  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জামায়াতের খালেদা প্রীতি

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৮ মে, ২০২৪


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়া এখন অসুস্থ। তিনি ফিরোজায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারের অনুকম্পায় ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। অথচ এই জামিনের জন্য বিএনপি আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল। আন্দোলন করে কোন লাভ হয়নি। জামিন পাওয়ার জন্য তারা আইনের আশ্রয় নিয়ে মাঝ পথে থেমে গেছে। এখন সরকারই তাকে তার বাসভবনে থেকে চিকিৎসা করার অনুমতি দিয়েছে। রাজনীতিতে তিনি নেই বললেই চলে। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বেগম খালেদা জিয়ার একধরনের অনাগ্রহ তৈরী হয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, এখন বিএনপির পুরো কর্তৃত্ব তারেক জিয়ার হাতে। তারেক জিয়া যা বলছে, সেটি বিএনপির চূড়ান্ত এবং শেষ কথা বলেই বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যেই গতকাল জামায়াতের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আম এবং লিচু পাঠানো হয়েছে। 

জানা গেছে, গতকাল বিকালে জামায়াতের নেতারা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার জন্য আম এবং লিচু পাঠান। রাজশাহী এবং সাতক্ষীরা থেকে কয়েক ঝুড়ি আম এবং বেশ কিছু লিচু বেগম জিয়ার জন্য তার কার্যালয়ে দিয়ে আসা হয়। এই আম এবং লিচু অবশ্য অর্ধেক সেখানে রেখে বাকিটা ফিরোজায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া এখন ডায়বেটিকস্, উচ্চ রক্তচাপ, সহ নানারকম জটিলতায় ভুগছেন। তার কিডনির অবস্থাও ভালো না। আর এ কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এধরনের রসালো ফল খাওয়ার অনুমতি দেন না চিকিৎসকরা। 

চিকিৎসকরা অনুমতি না দিলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে এই উপঢৌকন বেগম জিয়াকে পাঠানো হয়েছে। বেগম জিয়া তা গ্রহণও করেছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রতি জামায়াতের এই প্রেম বা ভালোবাসা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রতি জামায়াতের আলাদা একটি ভালোবাসা এবং মমতা রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত নানা কারণেই বেগম জিয়া এবং বিএনপির কাছে ঋণী। 

স্বাধীনতার পরবর্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল এবং ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল গড়ার কোন সুযোগ ছিল না। এই সাংবিধানিক বিধির কারণে জামায়াতের রাজনীতি আপনা আপনি নিষিদ্ধ হয়ে যায়, কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পুনরায় শুরু করেন চান এবং জামায়াতকে রাজনীতির মাঠে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে আসে। এরপর জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী এবং জামায়াতের ঘৃণিত নেতা, পাকিস্তানের নাগরিক গোলাম আযমকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনেন এবং বাংলাদেশে থাকার অনুমতি দেন। আজকের জামায়াত যে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তার পেছনে জিয়াউর রহমানের অবদান আছে বলেই অনেকে মনে করেন।  

১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। সরকার গঠনের মতো তার অবস্থা ছিল না। সেই সময় জামায়াতই তার পাশে দাঁড়ায় এবং জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বেগম জিয়া সরকার গঠন করেন। ১৯৯৬ সালে পরাজয়ের পর জামায়াত-বিএনপির প্রকাশ্য প্রেম হয়। এবং বেগম খালেদা জিয়াই আগ্রহী হয়ে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করেন। এবং এ সম্পর্কের জেরে চার দলীয় জোট গঠিত হয়। ২০০১ এর নির্বাচনে এ চার দলীয় জোট বিজয়ী হয়। আর চার দলীয় জোটের বিজয়ের পর স্বাধীনতা বিরোধী কুখ্যাত মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মুজাহিদকে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকা তুলে দেন বেগম খালেদা জিয়া। মন্ত্রিত্ব থাকার কারনে তাদের গাড়িতে শোভা পায় শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। আর একারনেই জামায়াতের সাথে বিএনপির সম্পর্কটা অত্যন্ত গভীর। 

গত কিছুদিন ধরে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে একটি দূরত্ব ছিল। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বলা হয়েছিল যাতে জামায়াতের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না করা হয়। আর এ কারণেই জামায়াতকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ২০ দলীয় জোটকেও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আবার জামায়াত বিএনপির প্রকাশ্য প্রেম দেখা যাচ্ছে আর তারই অংশ হিসেবে এই আম উপঢৌকন খালেদা জিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

জামায়াত   খালেদা জিয়া   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন