ইনসাইড পলিটিক্স

মাদারীপুর-২: শাজাহান খান না নাছিম কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি

প্রকাশ: ১০:৩৭ পিএম, ২১ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

তারকা প্রার্থীর আসন মাদারীপুর-২। এই আসন আওয়ামী লীগ থেকে দীর্ঘ দিন থেকে বিজয়ী হয়ে আসছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান। এবার ওই আসনে প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এ নিয়ে দলে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, গতকাল সোমবার আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান খানসহ জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

এদিকে গতকাল অনুসারীদের নিয়ে মাদারীপুর-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শাজাহান খান।

শাজাহান খান   বাহাউদ্দিন নাছিম   মাদারীপুর-২  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি নেতারা কে কোথায় ঈদ করছেন?

প্রকাশ: ০৫:১২ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

ঈদুল আজহার সময়টিতে দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। দলের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা এবার দেশের বাইরে আছেন, যাদের ঈদও কাটছে বাইরে। যথারীতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশেই ঈদ পালন করছেন।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঈদের দিন রাত সাড়ে ৮টায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে ঈদের নামাজ আদায় করে দলের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদের পর দিন ঢাকায় আসবেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান ঢাকায় ঈদ করছেন। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ, তিনি বাসায় চিকিৎসাধীন। বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঈদের দিন নিজ এলাকায় যাবেন। ড. আব্দুল মঈন খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশের বাইরে, সালাউদ্দিন আহমেদ ভারতে আছেন।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকায় ঈদ করছেন। 

বিএনপি   ঈদ   কোরবানি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

এবারের ঈদে আনন্দ উপভোগের সুযোগ নেই: ফখরুল

প্রকাশ: ০১:২৭ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশে এই ঈদুল আজহা একটি কষ্টকর দিন। কারণ, এবার মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্রয় ক্ষমতার ঊর্ধ্বে কোরবানির পশু কিনতে অনেকেই আর্থিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন।

মির্জা ফখরুল সোমবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের তাতীপাড়াস্থ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন। এর আগে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেন।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। কোরবানির মাংস রান্না করতে যে মসলা উপকরণ প্রয়োজন হয় তাও সংগ্রহ করতে হিমসিম খেতে হয়েছে। তাই এবারের ঈদে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ নেই।

সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে জীবনের অশুভ ইন্দ্রিয়কে বিসর্জন দিয়ে জীবনকে সুন্দর করার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল আরও জানান, সারাদেশে যেভাবে দুর্নীতির আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়েছে ত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অশুভ আকাঙ্খা ত্যাগ করতে হবে।


মির্জা ফখরুল   ঈদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে’

প্রকাশ: ১২:৪৮ পিএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

কুরবানির তাৎপর্য এবং মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি কল্যাণের পথ রচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার (১৭ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেয়া এক শুভেচ্ছা (ভিডিও) বার্তায় আহ্বান জানান তিনি।

শুভেচ্ছা বার্তায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বছর ঘুরে আবার এল ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল। মহান আল্লাহ পাকের প্রতি গভীর আনুগত্য সর্বোচ্চ ত্যাগের নিদর্শনে ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। আমাদেরকে কুরবানির তাৎপর্য এবং মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি কল্যাণের পথ রচনা করতে হবে। আর জন্য সকলকে সংযম ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অর্জনের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভারসাম্যপূর্ণ, শোষণহীন, ন্যায়নিষ্ঠ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন- তা সফল করতে প্রয়োজন নিষ্ঠা, সততা এবং ত্যাগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অকৃত্রিম ভালোবাসা ত্যাগের আদর্শ আমাদের ব্যক্তি সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হলে, প্রতিষ্ঠিত হবে প্রত্যাশিত শান্তি সৌহার্দ্য। আমি দল-মত নির্বিশেষে সকলকে একটি অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কর্ম চিন্তায় ত্যাগ, আনুগত্য এবং সততা চর্চায় নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানাই। আহ্বান জানাই, ঐক্যের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার।

প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পবিত্র ঈদে তিনি দেশবাসী, প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি সকলকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন।


ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের ইতিহাস: বাংলাদেশের ইতিহাস

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৭ জুন, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশের অভ্যুদয়, বাংলাদেশের বিকাশ এবং আজকে বাংলাদেশের অবস্থান সবই হলো আওয়ামী লীগের অবদান। কাজেই আওয়ামী লীগের ইতিহাস আর বাংলাদেশের ইতিহাস শেষ পর্যন্ত এক মোহনায় মিলিত হয়েছে। আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং আগামী ২৩ জুন ‘প্লাটিনাম জয়ন্তী’ পালন করতে যাচ্ছে দেশের প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক এই সংগঠনটি। এই উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক দিন ক্ষণগুলো ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলা ইনসাইডার। আজ তুলে ধরা হলো দশম পর্ব।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ২০০৯-১৩ মেয়াদে অর্থাৎ পাঁচ বছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণে সংশোধিত শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দুই দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। জিডিপিতে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বেড়েছে।

সফলভাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠান। ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্যের সূচনা। পরপর দুই বছরে বাংলাদেশের দুই তরুণের এভারেস্ট জয়।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বের শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

- নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে একাধিক উড়াল সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান।

ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশের অভিযাত্রা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন মোবাইল সিম গ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। ইন্টারনেট গ্রাহক ৫ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজারের বেশি।

- বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূমিকা পালন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার লাভ।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিপুল সাফল্য অর্জিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি। ৪২ বছরের অমীমাংসিত মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে নতুন সমুদ্রসীমা জয় করেছে বাংলাদেশ।

ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়ের ফলে দীর্ঘ ৬৮ বছরের মানবিক লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি পেয়েছে ছিটমহলবাসী।

- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। জাতি কলঙ্কমুক্ত।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু। ইতোমধ্যে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত। বিডিআর বিদ্রোহের শান্তিপূর্ণ সমাধান। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ।

সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক ১৯৭৫ পরবর্তী সামরিক আইন জারি, সামরিক ফরমান বলে সংবিধান সংশোধন ও জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ১৯৭২-এর সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদসহ মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতিমালা পুনর্বহাল। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ সংযোজিত।

২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার লক্ষ্যে বিএনপি-জামাত জোট সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। আন্দোলনের নামে হিংসাশ্রয়ী ঘটনায় বহুপ্রাণহানি ঘটে। বিএনপি-জামাতের প্ররোচনায় হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও সারাদেশে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। আওয়ামী লীগ ও সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।

বিএনপি-জামাত জোট ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন বর্জন এবং নির্বাচন বানচালের জন্য একই কায়দায় চেষ্টা চালায়। অসাংবিধানিক ধারা সৃষ্টির এই চেষ্টা ও ব্যর্থ হয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২ জানুয়ারি তৃতীয় মেয়াদের জন্য শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে এই মন্ত্রিসভার দুই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।

২০১৫ সালে খালেদা জিয়া ৯০ দিনব্যাপী অবরোধ চালিয়ে সরকার পতনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু তার

অবরোধের ডাকে মানুষ সাড়া দেয়নি। আন্দোলন ব্যর্থ হলে খালেদা ঘরে ফিরে যান।


আওয়ামী লীগ   বাংলাদেশ   ইতিহাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বাম দলে নতুন মেরুকরণ

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৬ জুন, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে বাম রাজনৈতিক দলগুলো একটি নতুন ধরনের মেরুকরণ করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তাদের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার জন্য একটি তৃতীয় ধারা সৃষ্টির প্রাথমিক আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের আদর্শিক জোট ১৪ দল থেকে কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং বাম মোর্চা সহ কিছু বাম দল একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস গ্রহণের জন্য প্রাথমিক ভাবে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। 

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের বাম রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছে। তারা প্রায় অস্তিত্ববিহীন। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে যতটা না ধর্মান্ধ মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান ঘটেছে, ততটাই নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে বাম ধারার রাজনৈতিক দলগুলো। 

মোটা দাগে বামধারার রাজনৈতিক দলগুলো তিনটি ভাগে বিভক্ত অবস্থায় আছে। একটি ভাগ স্বতন্ত্র অবস্থায় বাম মোর্চা নিয়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। সিপিবি, বাসদ সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই ঘরনায় আছে। তবে ভিন্ন একটি অবস্থান থেকে এই বাম গণতান্ত্রিক জোট খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। আরেকটি ধারা যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে আছে, এই ধারার মধ্যে আছে ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাসদের ইনু সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এদের অবস্থাও এখন অনেকটা এতিমের মতো। আওয়ামী লীগ এই রাজনৈতিক জোটকে এখন খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে তাদেরকে রীতিমতো গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। মাঝখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে গণভবনে নিমন্ত্রণ করেন বটে, তবে তাতে বাম জোট সক্রিয় হয়েছে বা সজাগ বা আদৌ তাদের মধ্যে হতাশা কেটে গেছে এমন ভাবার কোন কারণ নেই। 

তৃতীয় ধারায় রয়েছে কিছু বাম দল, যারা পরিত্যক্ত বিভ্রান্ত বাম হিসেবে পরিচিত। এই বাম দলগুলো বিএনপির লেজুরবৃত্তি করছে। এদের মধ্যে রয়েছে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, জেএসডি, জোনায়েদ সাকির রাজনৈতিক দল সহ কয়েকটি ছোট ছোট দল। এই দলগুলো অস্তিত্বহীন, তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি নেই। বিএনপির সঙ্গে পরগাছার মতো লতাপাতার মতো আষ্টেপিষ্ঠে জড়িয়ে তারা কোন রকমে টিকে আছে। 

তবে এখন এই তিন ধারার মধ্যে দুটি ধারা নিজেদেরকে একটি পৃথক অবস্থান গ্রহণের জন্য প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টির একাংশ, বাসদ তারা বৃহত্তর পরিষদের বাম গণতান্ত্রিক জোটকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আর এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধা যে বাম দলগুলো আছে, তাদের সঙ্গে মিলিয়ে একটা যৌথ স্বতন্ত্র অবস্থান নেওয়া যায় কি না তা নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে। 

এবার জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনের পর জাসদের ইনু এবং ওয়ার্কার্স পার্টি একটি স্বতন্ত্র অবস্থান নেয়। তারা সরকারের বাজেটের কঠোর সমালোচনা করেছে। জোটসঙ্গীদের মধ্যে এই দুটি দলই প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে এত সাঁড়াশি এবং কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল। এর প্রেক্ষিতে রাজনীতিতে একটি মেরুকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের অবস্থান অনেকটাই বাম মোর্চার অবস্থানের কাছাকাছি। তাহলে কি এই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্য হওয়া সম্ভব?

রাজনৈতিক ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যারা বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা এবং জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দলের মৌলিক চিন্তা ধারা একই। তারা বাংলাদেশে একটি উদার প্রগতিশীল, ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ধারা প্রচলন করতে চায়। এরা প্রত্যেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাস করে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভিত্তি করে একটি প্রগতির বাংলাদেশ বিনির্মাণই তাদের স্বপ্ন। আর এ কারণেই যদি তারা শেষ পর্যন্ত একটি স্বাতন্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

জাসদ   বাম মোর্চা   বিএনপি   সিপিবি   ১৪ দল   হাসানুল হক ইনু  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন