ইনসাইড পলিটিক্স

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য হলে দল ছাড়বেন ফখরুল

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে বিরোধ এবং অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী ফ্যাসিস্ট এই অপশক্তির সঙ্গে নতুন করে ঐক্য করার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। শুধু চিন্তাভাবনা নয়, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির একাধিক বৈঠকের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের প্রকাশ্য রূপ আবার দেখা গেছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে। ঐদিন জামায়াত আয়োজিত পার্টিতে বিএনপি দুই ডজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী কমিটির একাধিক শীর্ষ নেতার সহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত সম্পর্ককে যেন নতুন করে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আর এই ঘটনাটি বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। 

আন্তর্জাতিক মহল থেকেও প্রশ্ন উঠেছে যে, জামায়াতের সঙ্গে যদি বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসাবে কতটুকু স্বীকৃত হবে? এই ধরনের ঐক্য বিএনপির প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ? সেই বিষয়টি নিয়েও কথা উঠেছে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বিএনপিকে সবসময় জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং সংগ্রাম না করার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছিল। সেই পরামর্শের কারণেই ২০১৪ সালের পর থেকে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি একটি দূরত্ব তৈরি করে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ দল বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

জামায়াতের পক্ষ থেকেও বলা হয় যে, ২০ দলীয় জোটের অস্তিত্ব এখন আর নেই। কিন্তু এরকম ঘটনার পর আবার নতুন করে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক লক্ষ করা যাচ্ছে। বিএনপিতে কয়েকজন ভারত বিরোধিতার জিগির তুলেছে এবং ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়ে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছে। 

ধারণা করা যাচ্ছে যে, এই ধরনের উদ্যোগের পেছনে জামায়াতের হাত রয়েছে। বিএনপি যখন তীব্র ভারত বিরোধিতা শুরু করেছে তখনই জামায়াত বিএনপির কাছে এসেছে। এর দু রকম ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে। একটি ব্যাখ্যা হল যে, জামায়াতের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে বিএনপি এখন ভারত বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। আবার অন্য রকম ব্যাখ্যা হল যে, বিএনপির এই ভারত বিরোধী অবস্থানে জামায়াত খুশি হয়ে তারা আবার কাছে এসেছে। 

যে কারণেই হোক না কেন, সাম্প্রতিক সময় জামায়াত এবং বিএনপির ঘনিষ্ঠতার তিনটি প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটি হল বিভিন্ন উপজেলায় জামায়াত বিএনপির প্রার্থীদেরকে সমর্থন দিচ্ছে এবং যেখানে যেখানে তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে সেখানে জামায়াত নির্বাচন করছে, বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকছে না। অর্থাৎ সেই পুরনো নির্বাচনী সমঝোতার মডেলে ফিরে গেছে জামায়াত এবং বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে। 

দ্বিতীয়ত যে বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সেটি হলো ইফতার পার্টিতে এখন জামায়াতের নেতাদের পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়াচ্ছেন বিএনপির নেতারা। আর এর ফলে তাদের পুরনো ঐক্য আবার নতুন করে চাঙ্গা হয়েছে। আর তৃতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির ব্যাপারে জামায়াত সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে যায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের এই সম্পর্কটা নতুন রুপ নিয়েছে। কিন্তু এই নতুন রূপ নেওয়াটা বিএনপির সব নেতারা পছন্দ করে। বিশেষ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র জামায়াত বিরোধী হিসেবে পরিচিত। অনেকে মনে করেন জামায়াতের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টির পিছনে বা সম্পর্কের অবনতির পিছনে মির্জা ফখরুল ইসলামের হাত রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই প্রথম ব্যক্তি যিনি জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্যে ঐক্যের বিরোধীতা করেছিলেন। আর এই বিরোধীতা করার কারণে তিনি ২০ দলকে অকার্যকর করেছিলেন। এখন যখন জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি নতুন করে ঐক্য করছে তখন মির্জা ফখরুল তীব্র বিরোধীতা করছেন। গতকাল তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে যদি বিএনপি আবার ঐক্য করে তাহরে তিনি বিএনপি করবেন না। উল্লেখ্য যে, জামায়াত আয়োজিত ইফতার পার্টিতে মির্জা ফখরুল উপস্থিত ছিলেন না। এখন দেখা যাক জামায়াত না ফখরুল কাকে গ্রহণ করে বিএনপি।


জামায়াত   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর   বিএনপি   ইফতার পার্টি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ফের মুখোমুখি আওয়ামী লীগ-বিএনপি: ২৬ এপ্রিল ঘিরে নানা শঙ্কা

প্রকাশ: ১০:৫২ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

২৬ এপ্রিল নয়াপল্টনের সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি ও দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং সাজার প্রতিবাদে এ সমাবেশ করবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৬ এপ্রিল (শুক্রবার) ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ (গুলিস্তান) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করেছিল আওয়ামী লীগ-বিএনপি। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও এবং সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। ফলে সঙ্গত কারণে ২৮ অক্টোবরের মত ২৬ এপ্রিল ঘিরে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে রাজধানীবাসীর মধ্যে।

আওয়ামী লীগ-বিএনপি   ২৬ এপ্রিল   ২৮ অক্টোবর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে হতাশ কূটনীতিকপাড়া

প্রকাশ: ১১:০০ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করেছে। দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তাদের বিরুদ্ধে চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজীবনের জন্য তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে বলেও দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছেন যে, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির এই বর্জনের সিদ্ধান্ত কূটনীতিকপাড়ায় এক ধরনের হতাশা তৈরি করেছে। কূটনীতিক পাড়ার কেউ কেউ এই বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো চায় বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক এবং সেই নির্বাচনে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত করে, কারচুপি করে বা অবৈধ হস্তক্ষেপ করে তখন তারা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবে এবং যারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্থ করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা। 

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক ডেকে নিয়েছিলেন বিএনপির তিন শীর্ষ নেতাকে। সেখানে তিনি জানতে চেয়েছিলেন কেন বিএনপি উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করছে? এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব এবং অন্য দুই নেতা কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু সেই ব্যাখ্যাটি ব্রিটিশ দূতাবাসের কাছে তেমন গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানতে চেয়েছে যে, বিএনপি কেন উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জবাবেও বিএনপি একই ধরনের কথা বলছে। 

বিএনপি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের কারণ হিসেবে বলছে যে, প্রথমত, এই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয় এবং তারা অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম নয় বলে বিএনপির দাবি। সে কারণে তারা নির্বাচন বর্জন করছে। দ্বিতীয়ত, বিএনপির নীতিগত অবস্থান হল যে, তারা বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন করবে না। সেই অবস্থানের কারণেই তারা উপজেলা নির্বাচনও বর্জন করছে। তৃতীয়ত, তারা মনে করছে যে, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন আসলে সঠিক হয়নি এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারও বৈধ নয়। এ কারণে তাদের ভাষায় অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়াটাকে সঠিক মনে করছে না। 

কিন্তু পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা বিএনপির এই তিনটি যুক্তির একটিকেও আমলে নিতে রাজি নন। তারা মনে করছেন, যে ভাবেই হোক বাংলাদেশে সাংবিধানিক ধারায় একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত তাহলে বোঝা যেত ৭ জানুয়ারি নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু এবং অবাধ হয়েছে। তাছাড়া পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা মনে করেন, উপজেলা নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ নিজেও দলীয় ভাবে নির্বাচন করছে না। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য এই নির্বাচনে জন অংশগ্রহণ এবং যোগ্য প্রার্থীদেরকে দাঁড় করানোটা অত্যন্ত জরুরী বলেও তারা মনে করছেন। তাদের মতে, যদি একাধিক প্রার্থী থাকে তাহলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় এবং এর ফলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সহজ হয়। বিএনপি কেন এই নির্বাচন করছে না তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো হতাশ এবং বিএনপির ওপর এক ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন বলেও জানা গেছে।

বিএনপি   উপজেলা নির্বাচন   পশ্চিমা বিশ্ব   ব্রিটিশ দূতাবাস   সারা কুক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির ‍দুই নেতাকে বহিষ্কার

প্রকাশ: ১০:০৩ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় উপজেলা পর্যায়ের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। রোববার (২১ এপ্রিল) দলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির রহমান এবং কক্সবাজারের ঈদগাহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর তাজ জনিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় নির্বাচনও বর্জনের ডাক দিয়েছে বিএনপি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নিতে তৃণমূলের নেতাদের প্রতি বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন সংগ্রহকারীদের সরে দাঁড়াতে বললেও অনেকে নির্বাচনের মাঠ না ছাড়ায় বহিষ্কার শুরু করেছে বিএনপি।

বিএনপি   বহিষ্কার   উপজেলা নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দলের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে তিন দফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক৷ হচ্ছে যে, উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো মন্ত্রী, এমপি বা নেতার স্বজনদেরকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। আগামীকাল প্রথম দফায় ১৫০ টি উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ইতোমধ্যে একজন মাত্র মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি হলেন নাটোরের এমপি এবং তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক। তিনি আজ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কিন্তু এছাড়া এখন পর্যন্ত অন্য যারা স্বজন নির্বাচন করছেন তারা কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। 

যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি, তাদের কী হবে? এ ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে। ওবায়দুল কাদের জানান যে, যারা দলের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে স্বজনদেরকে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী করবে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই ৩০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। এই বৈঠকে দলের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে দলের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, যারা দলের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিদ্ধান্ত যে শুধুমাত্র স্বজনদেরকে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করা এমনটি নয়, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন যে, তিনটি বিষয়ে আওয়ামী লীগ নির্দেশনা দিয়েছে। প্রথমত, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে কোথাও মন্ত্রী এমপিরা হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। তারা নির্বাচনী প্রচারণাতেও অংশগ্রহণ করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগে থেকে যারা উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করবে তাদের সমর্থনে কোনো মন্ত্রী, এমপি বা নেতা প্রার্থিতা ঘোষণা করতে পারবে না বা তাদেরকে একক প্রার্থী হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারবে না। তৃতীয়ত, কোন মন্ত্রীর আত্মীয়স্বজন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এই তিনটির একটিও যদি লঙ্ঘিত হয় তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, কোথাও কোথাও আত্মীয়স্বজনদেরকে প্রার্থী করা হয়নি। বরং তাদের নিজস্ব অনুগত মাইম্যানদেরকে প্রার্থী করা হয়েছে এবং এমপিরা ঘোষণা দিয়ে বলেছেন যে, এই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং তাকে ভোটে জয়ী করা হোক। এ জন্য তারা বিভিন্ন ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনাও করছেন। এটি আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বিরোধী বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, সারাদেশে আত্মীয়স্বজন এবং মাইম্যান কারা কারা প্রার্থী হয়েছে তাদের তালিকা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক চূড়ান্ত করছেন। এই তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই তাদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে। তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ   ওবায়দুল কাদের   উপজেলা নির্বাচন   কেন্দ্রীয় কমিটি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

প্রার্থীদের চাপে শেষ পর্যন্ত নমনীয় অবস্থানে বিএনপি?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

উপজেলা নির্বাচনে কেউ স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কোন প্রার্থী যদি স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারাদেশ আরোপ করা হবে—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। কিন্তু এ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথম দফায় ৮ মে যে ১৫০ টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে বিএনপির ৭৭ জন নেতাকর্মী চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। 

বিএনপির অনেক নেতা বলছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের আগেই তারা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিল। যেহেতু স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সেকারণেই তারা প্রার্থীতা জমা দিয়েছে। তবে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে যে, যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা ইতোমধ্যেই বিএনপির হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং তাদেরকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দল যদি তাদেরকে বহিষ্কারও করে কোন সমস্যা নেই, তারা প্রার্থী থাকবেন। এবং যদি নির্বাচন না করেন তাহলে তারা অস্তিত্বের সংকটে পড়বেন। এ রকম হুমকির মুখে বিএনপি এখন অনেকটাই নমনীয় হয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

আগামীকাল প্রথম দফায় যে উপজেলাগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। আর এই মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগে আজ রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা। কেউ কেউ বলছেন যে, বিএনপি এখন একটা নমনীয় অবস্থানে যেতে পারে। যারা শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে থাকবে তাদেরকে সতর্ক করা বা বিষয়টিকে উপেক্ষা করার নীতি গ্রহণ করা হতে পারে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীরা তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের অবস্থানে অটুট থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। 

নাসির নগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ওমরাহ খান বলেছেন যে, তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকবেন। একইভাবে ময়মনসিংহের দোবাউরা উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি শামছুর রশিদ, ফুলপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন, হালুয়া ঘাটে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হামিদ প্রার্থী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থীতায় থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এনিয়ে তারা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। 

উল্লেখ্য যে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির চার জন নেতা প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সোহেল আহমেদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোউস খান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সেবুল মিয়া এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা শফিক আহমেদ। তাদের মধ্যে দুই জন সরে গেলেও বাকি দুই জন থাকবেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া তারেক জিয়ার কাছে চিঠি লিখে তিনি জানিয়েছেন কেন তিনি শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে থাকতে চান। 

দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সরওয়ার হোসেন এবং সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক মাসুদুল আলম চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তারা দু’জনেই এনিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ ফইজুল করিম তালুকদার। তিনি শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফরিদপুর সদর উপজেলায় বিএনপির দুই নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তারা হলেন সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রউফ-উর-নবী এবং যুবদলের সাবেক নেতা নাজমুল ইসলাম। রউফ-উর-নবী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন এবং প্রত্যাহারের কোন প্রশ্নই আসে না বলে তার অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বিএনপি সভাপতি নগেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস নির্বাচন করার ব্যাপারে অটল থেকেছেন। দল যদি তাকে বহিষ্কার করে তাহলে তার কিছু যায় আসে না। 

বিএনপি হিসাব করে দেখেছে যে, যদি এরকম বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয় তাহলে অনেকগুলো উপজেলাতে বিএনপির সংগঠন বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর একারণেই শেষ পর্যন্ত বিএনপি তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যারা উপজেলায় নির্বাচন করবে তারা তাদের ব্যাপারে কি ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় তা আজ বিএনপি চূড়ান্ত করবে বলেও জানা গেছে। 
 

বিএনপি   উপজেলা নির্বাচন   স্থায়ী কমিটি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন