ইনসাইড পলিটিক্স

উপজেলা নির্বাচন: ব্যয় বাড়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে ছোট দলগুলো

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ০৩ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের টাকা বাড়ায় এবং ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার নিয়মের কারণে ভোটে আগ্রহ কমেছে ছোট দলগুলোর। নিবন্ধিত কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলগুলোর অনেক নেতার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ থাকলেও ব্যয়ের কথা চিন্তা করে তারা পিছু হটছেন। তবে প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এরই মধ্যে এক গুচ্ছ সংশোধনী প্রস্তাব এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রার্থীদের জামানতের ক্ষেত্রে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ১০ হাজার টাকার জায়গায় এক লাখ টাকা করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যানদের জামানত আগে ছিল পাঁচ হাজার, নতুন বিধিতে এটিকে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। জামানত বাড়ানোর পাশাপাশি ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান করা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে ইসিতে নিবন্ধিত দলগুলোর নেতাদের দাবি, জামানতের অর্থ সাধারণ প্রার্থীদের জন্য সহনশীল নয়।

জামানতের অর্থ বাড়ানোর ফলে নির্বাচনে ‘কালো টাকার’ খেলা বৃদ্ধি পাবে। যারা বিত্তশালী প্রার্থী তারাই শুধু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কর্মী সংখ্যা বিবেচনায় অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করবে বলে এই সংশোধনীর নিন্দা জানিয়েছেন অনেকেই।

গত ৩১ মার্চ লাখ টাকা জামানতের বিধির ফের সংশোধন চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট।

দ্বাদশ নির্বাচনে ইসি নিবন্ধিত দলটির ‘ছড়ি’ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন ৬৬ জন প্রার্থী। দলটির সভাপতি লায়েস মুন্না সে চিঠিতে বলেছেন, গেজেটে নির্ধারিত জামানত কোনোভাবেই আমাদের দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার প্রশ্ন, এটা কি দেশকে বিরাজনীতিকরণেরই আরেক কৌশল?

তৃণমূল বিএনপি কয়েক মাস আগে দ্বাদশ নির্বাচনের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায়। সে নির্বাচনে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৩৫ জন প্রার্থী দিয়েছিল দলটি। চরম ভরাডুবির পরও গত ২৭ জানুয়ারি দলীয় সভায় উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

দলের ভাইস চেয়ারপারসন সালাম মাহমুদ জানান, উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এবং দোহারের একাধিক উপজেলা ও ইউনিয়নে এরই মধ্যে দলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, এমন নেতাকর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে দলের সভায়।

জামানতের অর্থ এবং প্রাপ্ত ভোটের হার বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে সালাম মাহমুদ বলেন, ‘সামর্থ্য কম হওয়ায় আমার উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় প্রার্থী হয়তো দিতে পারব না। জামানত এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, আমরা এর বিপক্ষে। এতে অবৈধ অর্থ ও ক্ষমতার অধিকারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে। আবার ১৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে, অনেক পুরনো দলের প্রার্থীই এমন ভোট পান না, আমরা তো নতুন দল।’

জামানতের অর্থ ও জামানত রক্ষায় প্রাপ্ত ভোটে হার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), ইসলামী ফ্রন্টসহ কয়েকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতারা। ইসিতে নিবন্ধিত এই দলগুলো নিয়মিত জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহ করে। এনপিপির চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু কালের কণ্ঠ বলেন, ‘জামানতের অর্থ এভাবে বাড়ানো খুবই অন্যায়। এটা আমাদের মতো ছোট দলগুলোকে নির্বাচনে অনুৎসাহিত করবে।’

এ সংশোধনী স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ ও অসৎ প্রার্থীদের আরো উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন।

তিনি বলেন, ‘আমরা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেব। কিন্তু এক লাখ টাকা জামানত দিয়ে নির্বাচন করতে কোনো সৎ ও দেশপ্রেমিক প্রার্থী আগ্রহী হবেন না।’

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে নিবন্ধনপ্রাপ্ত আরেক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। দলটির চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন আহমেদ মাইজভাণ্ডারী জানিয়েছেন, উপজেলা ভোটে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ঈদের পর দলীয় সভা ডাকা হয়েছে।

উপজেলা ভোটের প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির বিষয় সাধারণ প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করবে বলে মন্তব্য করেন বিএসপির দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম মিয়া।

তিনি বলেন, ‘আগামী সভায় এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব। এরপর চেয়ারম্যান এ বিষয়ে আমাদের দলীয় প্রতিক্রিয়া জানাবেন।’

ঢাকা-১২ আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন নাইম হাসান। তৃণমূল বিএনপির মনোনয়নে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে নির্বাচন করে তিনি ভোট পেয়েছিলে মাত্র ৫৯৯টি। অন্যদিকে গণফন্ট্রের মনোনয়নে গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে ভোটে অংশ নিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী লিমা হাসানও। ‘জনতার কথা বলে’ নামক একটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে এ দম্পতির।

নাইম হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ তার শখ। দ্বাদশ নির্বাচনে তিনি একাধিক সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তার বিশ্বাস, নিয়মিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে শিগগিরই তাঁর দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করবে। তবে উপজেলা নির্বাচনের জামানতের অর্থ বাড়ানোয় তিনি সংশয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন করলাম নিজের টাকা খরচ কইরা। উপজেলায় জামানতের টাকা জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে বেশি কেন নির্ধারণ করল, বুঝতে পারছি না।’

আতাউল্লাহ-রুবিনা দম্পতিও নিয়মিত বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নেন। দ্বাদশ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে রুবিনা আক্তার অংশগ্রহণ করেছিলেন তৃণমূল বিএনপির মনোনয়নে। বিএসপির ‘একতারা’ মার্কার প্রার্থী হয়ে কক্সবাজার-১ আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও ঋণ জটিলতায় মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল আতাউল্লাহ খানের।

উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা থাকলেও খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত এই দম্পতিও।

গণআজাদী লীগের চেয়ারম্যান আতাউল্লাহ খান বলেন, ‘উপজেলা ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কিছু ভাবিনি। জামানতের অর্থ বাড়ানোর বিষয়টি আমাদের মতো ছোট দলগুলোর জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। এটা নিয়ে আমাদের জোটের সঙ্গে আলাপ করব।’


উপজেলা নির্বাচন   নির্বাচন কমিশন   প্রার্থী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

প্রার্থীদের চাপে শেষ পর্যন্ত নমনীয় অবস্থানে বিএনপি?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

উপজেলা নির্বাচনে কেউ স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কোন প্রার্থী যদি স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারাদেশ আরোপ করা হবে—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। কিন্তু এ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথম দফায় ৮ মে যে ১৫০ টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে বিএনপির ৭৭ জন নেতাকর্মী চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। 

বিএনপির অনেক নেতা বলছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের আগেই তারা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিল। যেহেতু স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সেকারণেই তারা প্রার্থীতা জমা দিয়েছে। তবে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে যে, যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা ইতোমধ্যেই বিএনপির হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং তাদেরকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দল যদি তাদেরকে বহিষ্কারও করে কোন সমস্যা নেই, তারা প্রার্থী থাকবেন। এবং যদি নির্বাচন না করেন তাহলে তারা অস্তিত্বের সংকটে পড়বেন। এ রকম হুমকির মুখে বিএনপি এখন অনেকটাই নমনীয় হয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

আগামীকাল প্রথম দফায় যে উপজেলাগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। আর এই মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগে আজ রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা। কেউ কেউ বলছেন যে, বিএনপি এখন একটা নমনীয় অবস্থানে যেতে পারে। যারা শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে থাকবে তাদেরকে সতর্ক করা বা বিষয়টিকে উপেক্ষা করার নীতি গ্রহণ করা হতে পারে বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির প্রার্থীরা তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং তাদের অবস্থানে অটুট থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। 

নাসির নগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ওমরাহ খান বলেছেন যে, তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকবেন। একইভাবে ময়মনসিংহের দোবাউরা উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি শামছুর রশিদ, ফুলপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন, হালুয়া ঘাটে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হামিদ প্রার্থী হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থীতায় থাকবেন বলে জানিয়েছেন। এনিয়ে তারা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। 

উল্লেখ্য যে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির চার জন নেতা প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সোহেল আহমেদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোউস খান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সেবুল মিয়া এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা শফিক আহমেদ। তাদের মধ্যে দুই জন সরে গেলেও বাকি দুই জন থাকবেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া তারেক জিয়ার কাছে চিঠি লিখে তিনি জানিয়েছেন কেন তিনি শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে থাকতে চান। 

দিনাজপুর ঘোড়াঘাট উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সরওয়ার হোসেন এবং সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক মাসুদুল আলম চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তারা দু’জনেই এনিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ ফইজুল করিম তালুকদার। তিনি শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফরিদপুর সদর উপজেলায় বিএনপির দুই নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তারা হলেন সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রউফ-উর-নবী এবং যুবদলের সাবেক নেতা নাজমুল ইসলাম। রউফ-উর-নবী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন এবং প্রত্যাহারের কোন প্রশ্নই আসে না বলে তার অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বিএনপি সভাপতি নগেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস নির্বাচন করার ব্যাপারে অটল থেকেছেন। দল যদি তাকে বহিষ্কার করে তাহলে তার কিছু যায় আসে না। 

বিএনপি হিসাব করে দেখেছে যে, যদি এরকম বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয় তাহলে অনেকগুলো উপজেলাতে বিএনপির সংগঠন বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আর একারণেই শেষ পর্যন্ত বিএনপি তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যারা উপজেলায় নির্বাচন করবে তারা তাদের ব্যাপারে কি ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় তা আজ বিএনপি চূড়ান্ত করবে বলেও জানা গেছে। 
 

বিএনপি   উপজেলা নির্বাচন   স্থায়ী কমিটি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি স্বজনদের বাদ দিতে রাজি নন

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

মন্ত্রী-এমপিরা যেন তাদের স্বজনদেরকে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী না করে সেজন্য আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে সকল মন্ত্রী-এমপিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ দলগতভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বার্তা দলের সাধারণ সম্পাদক তিন দফায় সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন। যারা তাদের ভাই, পুত্র, শ্যালক, মামাদেরকে শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী রাখবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যে সাড়া দিয়ে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন জুনায়েদ আহমেদ পলকের শ্যালক। তিনি নাটোরের একটি উপজেলা হতে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। এবং প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি অন্যান্য প্রার্থীদেরও বসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। অপহরণের ঘটনাও ঘটেছিল সেখানে। তারপর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশে তিনি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করবেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।

আগামীকাল প্রথম দফায় যে ১১২ টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেখানে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এখন দেখার বিষয় যে, কতজন সেখান থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, স্বজনদেরকে নির্বাচন থেকে না সরাতে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিরা নানা রকম অযুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। এ সমস্ত অযুহাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় অযুহাত হচ্ছে যে, আগে থেকেই তারা রাজনীতি করেন। 

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন যে, তার খালাতো ভাই আগে থেকেই রাজনীতি করেন এবং আগেও তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কাজেই তিনি ড. রাজ্জাকের খালাতো ভাই এই পরিচয়ে তিনি নির্বাচন করছেন না। কিন্তু ধনবাড়ি উপজেলার লোকজন বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন যে, ড. রাজ্জাকের উত্থানের পর পরই তার খালাতো ভাইয়ের উত্থান হয়েছে। তিনি এবং তার ভাই মিলে তার নির্বাচনী এলাকায় একটি পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছেন।

অন্যদিকে শাজাহান খানের বক্তব্য হলো, তার ছেলের যদি প্রার্থীতা প্রত্যাহার হয় তাহলে অন্য কোন প্রার্থী থাকবেন না। অন্য কোন প্রার্থী না থাকলে নির্বাচনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন তখন পুনঃতফসিল ঘোষণা করবে এবং নতুন করে নির্বাচনের আয়োজন করবে। এখন পর্যন্ত যারা স্বজনদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেননি বা স্বজনদেরকে নির্বাচনে বহাল রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আছেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করার ব্যাপারেই এখন পর্যন্ত অবস্থানে রয়েছেন। এদের দু’জনের মধ্যে ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং শাজাহান খান অন্যতম। 

নোয়াখালী-২ আসনের এমপি মোরশেদ আলমের ছেলে সাইফুল আলম বিপু প্রার্থী হয়েছেন সেনবাগ উপজেলায়। তিনিও শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে সাবাব চৌধুরী সুবর্ণচর উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন। আগামীকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ধারণা করা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত সাবাব প্রার্থী হিসেবে থাকবেন। এখন দেখার বিষয় হলো এই যে, মন্ত্রী এমপিরা দলের সিদ্ধান্তকে যেইভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে তার পরিণাম কি হয়। এর ফলে কি আওয়ামী লীগ এসমস্ত মন্ত্রী এমপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন নাকি তাদের বিষয়কে উপেক্ষা করবেন। 

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, যদি এ বিষয়টি উপেক্ষা করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে যদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় সেক্ষেত্রে এটি একটি খারাপ উদহারণ হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং দলের হাই কমান্ডের নির্দেশ না মানার যে সংস্কৃতি সেটি দলকে সংকটের মধ্যে ফেলবে। 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘ম্যাচিউর ছেলে ভোটের সিদ্ধান্ত নিলে কী করার আছে’

প্রকাশ: ০৯:৪৩ এএম, ২১ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী বলেছেন, ‘আমার ছেলেকে ভোট না দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে না’ এই শব্দটা কোন লিঙ্কের মধ্যে এসেছে, কোন কথার মধ্যে এসেছে আমি জানি না। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের চাপে আমি আমার ছেলেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলি। আমার ছেলে জিতবে কি জিতবে না সেটা বড় কথা নয়। আমি যেহেতু এই এলাকার নির্বাচিত এমপি আমি প্রতিটি জায়গায় উন্নয়ন করে যাব। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে আমার নির্বাচনি এলাকায় যে উন্নয়ন করেছি তুলনামূলক অন্য আসনগুলোতে কমই হয়েছে। কাজেই আগামী পাঁচ বছরও আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদ নিয়ে উন্নয়ন করে যাব’।

তিনি বলেন, ম্যাচিউর ছেলে ভোটের সিদ্ধান্ত নিলে আমার তাকে সমর্থন দিয়ে বক্তব্য দেওয়া ছাড়া আর কী করার আছে? গতকাল শনিবার (২০ এপ্রিল) বেসরকারী এক সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী

একরাম চৌধুরী নিজের কাছেই প্রশ্ন রেখে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছে, এমপি-মন্ত্রীর পুত্ররা ভোট করতে পারবে না। এখানে আমার একটা প্রশ্ন আছে। এ প্রশ্ন অন্য কারও কাছে নয়, আমার নিজের কাছে। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার সন্তান যদি রাজনীতি না করে তাহলে ভবিষ্যতে রাজনীতি করবে কারা? রাজাকারের সন্তানরাই কি আওয়ামী লীগকে গ্রাস করে তারাই নেতৃত্ব দেবে আগামী প্রজন্মের? আমার আরেকটি প্রশ্ন। এই আজকে নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সভাপতি আরাফাতের বাবা হলেন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। আর তার মা হলো জামায়াতের রোকন। যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সে যে বাড়িতে থাকে সম্পূর্ণ বাড়ি বিএনপির ঘাঁটি। তার আপন আত্মীয়স্বজন, চাচাতো ভাইয়েরা সবাই ছাত্রদল, বিএনপি, যুবদলের সঙ্গে জড়িত। এরাই কি আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে? এরাই কি শেখ হাসিনার পথ? নতুন প্রজন্মের ধারা হবে? এই আমরা যারা আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী তাদের ছেলে-সন্তানরা কি রাজনীতি করতে পারবে না? তারা কি সংবিধানের বাইরে? তারা কি সংবিধানের আওতায় থাকবে না? তাহলে বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে? আমার প্রশ্ন এখানে।

আগামীকাল (২২ এপ্রিল) পর্যন্ত আমি আমার বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে বলেছি, আমি খায়রুল আলম সেলিম ভাইয়ের বিচার চেয়েছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেলিম ভাই নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করেছেন। উনি ৩৫ বছর একটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তখন ওখানকার হিন্দুদের এবং হিন্দু পরিবারের নারীঘটিত ব্যাপারগুলোতে উনি যেভাবে ওখানে শোষণ করেছেন এলাকায় যদি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে রিপোর্ট নেওয়া হয় সবকিছুই জানতে পারবে। নেত্রীর নির্দেশের পরও ২০০০ একরের ওপরে সরকারি জমি এখনো ওনার আয়ত্তে আছে। যা নেত্রীর নির্দেশকে উপেক্ষা করে। আমার মনে হয় ওনাকে একবার ভোট করা উচিত। এই ভোটে আমার ছেলেও প্রার্থী। সেলিমও প্রার্থী। ভোটে যদি আমার ছেলে জিতে এরপর নেত্রী যদি পদত্যাগ করতে বলেন, তাহলে পদত্যাগ করবে। কিন্তু ভোটের রেজাল্ট কী হয় এটা সারা বাংলাদেশ নয়, নেত্রীরও জানা উচিত, আমার নেতা ওবায়দুল কাদের ভাইয়েরও জানা উচিত।

এক প্রশ্নের জবাবে একরাম চৌধুরী বলেন, আসলে রাজনীতি করব এমন কোনো চিন্তাভাবনা আমার ছিল না। আমার বাবা রাজনীতিবিদ ছিলেন। আমি ছিলাম ক্রীড়াঙ্গনের লোক। ক্রীড়াঙ্গনে থাকাকালীন পায়ের হাঁটুতে ব্যথা পাওয়ায় থমকে যায় খেলাধুলার পথচলা। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী জগতে ফিরে যাই। আমার বাবার সঙ্গে একসময় আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের সাহেবের ভুল বোঝাবুঝি হয়। এর সূত্র ধরেই আমার রাজনীতিতে প্রবেশ কিংবা পথচলা। আমি সে সময় রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপি নেতা মওদুদ সাহেবের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটে অংশগ্রহণ করি। ফলাফল আমার খুবই ভালো ছিল। কিন্তু সেবার ভাগ্য সহায় হয়নি। জয়ী প্রার্থী হতে পারিনি। সে নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। সারা দেশে ক্লিন হার্ট অপারেশনের নামে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা-নির্যাতন, বিএনপি-জামায়াতের নেতারা সংখ্যালঘুদের নির্যাতন শুরু করে। সে সময় আমার নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাকে ডেকে নেন। আওয়ামী লীগের পতাকাতলে স্থান দেন।

বেশ কয়েকদিন পর নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর আমি অনুধাবন করি- নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের অবস্থা খুবই করুণ। আওয়ামী লীগের অবস্থা এতটা নিম্ন পর্যায়ে ছিল যে, বড়রা তো সমর্থন করতই; এমনকি ছোট শিশুটির মুখেও ছিল বিএনপির নাম। আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন আমি ১০ জন লোককেও পাশে পেতাম না। মিছিল-মিটিংয়ে সমর্থক খুঁজে পেতাম না। ভীষণ কষ্টের ছিল রাজনীতি জীবনের সূচনা। পুলিশের মার খেয়েছি, কিন্তু পিছপা হইনি। আন্তরিকতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রচারণা চালিয়ে গেছি। ধীরে ধীরে সংগঠনকে সাজিয়েছি। গুছিয়ে নিয়েছি নোয়াখালী আওয়ামী লীগকে। এক পর্যায়ে নোয়াখালী জেলার ১০৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০২টি ইউনিয়ন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে (প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন) উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এরপর নোয়াখালীর ৯টি উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সক্ষম হয়েছি। অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল সে সময়। নোয়াখালী জেলার মেয়রের আসনে আমি আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। সেটাও আমি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে উপহার দিয়েছি। ২০০৮ সালে আমার নির্বাচনি এলাকা ছিল ওবায়দুল কাদের সাহেবের এলাকা। তবুও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা এবং আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে আমাকে নোয়াখালী-৪ আসনে (সদর সুবর্ণচর) নির্বাচনি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগ প্রধানের নির্দেশ মোতাবেক আমি সেখান থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। ভোটে অংশ নিয়ে আমি বিজয়ী হই। আপনার গড়ে তোলা নোয়াখালীর সেই সংগঠন থেকে আপনি এখন সাধারণ সম্পাদক নন কেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল হক চৌধুরী বলেন, পরপর তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৮ সালে আমাদের নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সম্মেলন হয়। সেখানে আমি আবার পুনর্নির্বাচিত হই। আমাদের বর্তমান সভাপতি, ওনাকে আমি নিজ চেষ্টায় সভাপতি করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার গ্রিন সিগন্যালের মাধ্যমে আমরা দুজন প্রার্থী হয়েছিলাম। দুঃখের বিষয় হলো- কমিটি দেওয়ার আগে আমাদের মির্জা কাদের, আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরের ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার করেন। আমাকে নানাভাবে কটূক্তি করেন। বিভিন্ন ইঙ্গিত-ইশারায় উনি আমাকে নিম্ন পর্যায়ের কথাবার্তা বলেন। এসব ঘটনার পর নেত্রী আবার সম্মেলন ডাকেন। সেই সম্মেলনে আমি আর উপস্থিত ছিলাম না। সম্মেলনে আমি যোগ দিইনি। কারণ, আমার মনে ক্ষোভ ছিল, দুঃখ ছিল। এরপর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত নতুন কমিটির কোনো কার্যক্রম আমার চোখে পড়েনি। এ কমিটি এখনো পাস হয়নি। তারপর গত নির্বাচনে আমি জানতে পেরেছি আমাকে আমার আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে নমিনেশন দেওয়া হবে না। সবাই মিলে সেই প্রচেষ্টাটিই করেছেন।

তবে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালী জেলায় আমাকে যোগ্য মনে করেছেন, আমার অভাবটা বুঝতে পেরেছেন, আমাকে আবার নমিনেশন দিয়েছেন। আমি প্রায় ৮৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটে বিজয়ী হই। তখনকার ভোটের কার্যক্রম আমাদের নোয়াখালীর নেতৃবৃন্দ এবং আমাদের নোয়াখালী আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সরাসরি নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করেছিলেন। ভোটের মাঠে আমাকে হারানোর চেষ্টা করেন। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের ভালোবাসায় আমি জয়ী হই। এখন উপজেলা ভোট এসেছে। এ ভোটকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ভোটে আমাদের কোনো মার্কা থাকবে না। এখানে যে কেউ ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সে অনুযায়ী আমি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের চাপে আমার ছেলেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলি। দুই মাস আগে থেকে সেই প্রস্তুতি নিতে নিতে আজ এমন এক পর্যায়ে এসেছে যে, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আওয়ামী লীগের প্রবীণ- নবীন সবাই সাবাব চৌধুরীর প্রাণের স্পন্দন হয়ে গেছেন।


নোয়াখালী-৪   সংসদ সদস্য   একরামুল করিম চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

এবার কর্ণেল অলিকে বিশ্বাসঘাতক মনে করছে বিএনপি

প্রকাশ: ১১:০০ পিএম, ২০ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

বিএনপির মধ্যে নানারকম অবিশ্বাস এবং সন্দেহ প্রবল আকার ধারণ করেছে। বিএনপি নেতারা এখন নিজেদের সংগঠনের অন্য নেতাকেই বিশ্বাস করছেন না। এক নেতা আরেক নেতাকে অবিশ্বাস করছেন। বিএনপির বিভিন্ন নেতারা মনে করছেন, বিভিন্ন সময় বিএনপির জন্য বন্ধু হিসেবে এসে অনেকে বিএনপিকে ধোঁকা দিয়েছে এবং এই ধোঁকার তালিকা অনেক দীর্ঘ। বিএনপির মধ্যে থেকে অনেকে বিএনপির বন্ধু সেজেছেন, শুভাকাঙ্ক্ষী হয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তারা সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে এমন অভিযোগও বিএনপি নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে হরহামেশাই করা হয়।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, যেমন ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ছিল একটি ধোঁকা। সে সময় ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এসে বিএনপিকে ধোঁকা দিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন যে, তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীও ছিলেন সরকারের এজেন্ট এবং বিএনপিকে বিভক্ত করার মিশন নিয়ে তিনি এসেছিলেন।

এখনও বিএনপি যাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলন করছে সেই সমস্ত দলের অনেক নেতাকেই বিএনপি নেতারা সন্দেহ করে অবিশ্বাস করে। তবে এই অবিশ্বাসের তালিকায় এখন সবচেয়ে বড় বিস্ময় হিসেবে যে নামটি সামনে এসেছে সেটি হল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদ। কর্ণেল অলি আহমেদ এক সময় বিএনপির ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শুধু বেগম খালেদা জিয়া নয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের তিনি বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। জিয়াউর রহমানের ডাকেই তিনি বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

কিন্তু সেই কর্ণেল অলি আহমেদের এখনকার ভূমিকা নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঘোরতর সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে। বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করছেন যে, বিএনপি ভাঙার জন্য নতুন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সরকার মাঠে নামিয়েছে কর্নেল অলি আহমেদকে।

এই ধরনের ভাবনার সূত্রপাত হয়েছে আজ একটি বক্তব্য থেকে। কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেই অনুষ্ঠানে কর্নেল অলি আহমেদ বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিস্মিত। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, এক সময় প্রয়াত ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যেভাবে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপিকে বিতর্কিত করছিলেন এখন কর্নেল অলি আহমেদ সেই কাজ শুরু করেছেন।

কর্ণেল অলি আহমেদ ওই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং তার যে অসুস্থতা তার জন্য তাকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আর এজন্য যদি সরকার কোন আলাপ-আলোচনা করতে চায় সেই আলাপ-আলোচনায় যেতে প্রস্তুত বলে দাবি করেন সাবেক এই বিএনপি নেতা। এই বক্তব্যটি বিএনপির মধ্যে বিস্ফোরণ সৃষ্টি করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, কর্ণেল অলি আহমেদ বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের সঙ্গে দর কষাকষি বা আলোচনায় যাবার কে? তিনি তো বিএনপির কোনো নেতা নন।

বিভিন্ন বিএনপি নেতা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপির মধ্যে একটি স্পর্শকাতর অনুভূতি রয়েছে এবং সেই অনুভূতিকে ব্যবহার করে দলের নেতা কর্মীদের বিভ্রান্ত করা এবং দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যেই কর্নেল অলি আহমেদ এই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। কারণ বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির একটি বিষয় সংলাপ দরকার।

বিএনপির অনেক নেতাই বিশ্বাস করেন যে, ২০১৮ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে সংলাপে যাওয়া হয়েছিল, সেই সংলাপে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। এমনকি এবারের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা করা যেত বলেও বিএনপির অনেকেই মনে করেন।

কিন্তু লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া সম্পূর্ণ এই মতের বিরুদ্ধে। তিনি বেগম জিয়ার বিষয়ে কোন রকম সংলাপ বা আলোচনার পক্ষপাত নন। শুধু তাই নয়, তার মামা শামীম ইস্কান্দার যে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এটিও তারেক জিয়ার পছন্দের বিষয় নয় বলেই জানা গেছে। আর এ কারণে মামা ভাগ্নের মধ্যে এখন কথোপকথনও বন্ধ।

এরকম বাস্তবতায় কর্ণেল অলি আহমেদ যখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সংলাপের কথা বলেছেন, তা বিএনপির অবস্থানের মৌলিক বিরোধী। এখন বিএনপি কর্ণেল অলি আহমেদকে এড়িয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলেই বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।


কর্ণেল অলি   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা

প্রকাশ: ১০:৪৬ পিএম, ২০ এপ্রিল, ২০২৪


Thumbnail

রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশিদের সুপারিশে পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত এবং গঠনতন্ত্রের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আংশিক নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আংশিক নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কমিটির বাকি সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। 

প্রেসিডিয়াম সদস্য

রফিকুল হক হাফিজ (সাবেক উপ-মন্ত্রী), অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন (সাবেক সংসদ সদস্য), ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর (সাবেক সংসদ সদস্য), জাফর ইকবাল সিদ্দিকী (সাবেক সংসদ সদস্য), কারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, ডা. কে আর ইসলাম, নিগার সুলতানা রাণী, আবুল কাশেম সরকার (সাবেক সংসদ সদস্য), ইয়াহিয়া চৌধুরী (সাবেক সংসদ সদস্য), শফিকুল ইসলাম শফিক (নরসিংদী), শংকর পাল (হবিগঞ্জ), আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, হাজী মো. ফারুক (ঢাকা), আব্দুল গাফ্ফার বিশ্বাস (খুলনা), নুরুল ইসলাম নুরু (টাঙ্গাইল), তুহিনুর রহমান (নুরু হাজী) ঢাকা।

উপদেষ্টা

এম. এ. গোফরান (লক্ষ্মীপুর), এম. এ. কুদ্দুস খান (ঝালকাঠী), ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ আলমগীর হোসেন (গোপালঞ্জ), মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক (ঢাকা), ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ (জামালপুর) সাবেক সংসদ সদস্য, মো. মোক্তার হোসেন (খুলনা) সাবেক সংসদ সদস্য, হাজী নাসির সরকার (ঢাকা), আব্দুল আজিজ খাঁন (গুলশান), মোল্যা শওকত হোসেন বাবুল (খুলনা), মো. শারফুদ্দিন আহমেদ শিপু (ঢাকা), মিজানুর রহমান দুলাল (পটুয়াখালী), শাহ্ আলম তালুকদার (বরিশাল), এড. মো. আব্দুল কাইয়ুম (ময়মনসিংহ), শাহ্ জামাল রানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।

যুগ্ম-মহাসচিব

ফকরুল আহসান শাহজাদা (বরিশাল), পীরজাদা জুবায়ের আহমেদ (বাহ্মণবাড়িয়া), শেখ মাসুক রহমান (ঢাকা), সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম তরুণ (খুলনা), সুজন দে (চট্টগ্রাম), এস এম হাসেম (ঢাকা)।

সাংগঠনিক সম্পাদক

শাহানাজ পারভীন (ঢাকা), মোশাররফ হোসেন (ময়মনসিংহ), এড. এস. এম. মাসুদুর রহমান (খুলনা), এড. মো. আবু সালেহ চৌধুরী (সিলেট), অধ্যাপিকা বিলকিস সরকার পুতুল (নরসিংদী), ফজলে ইলাহী সোহাগ (নোয়াখালী), জাফর ইকবাল নিরব (পিরোজপুর), শামসুল আলম (কক্সবাজার)।

যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক

কাওসার আহমেদ (ঢাকা), মো. মোসলেম আলী (মেহেরপুর), আবুল বাশার (মানিকগঞ্জ), নাফিজ মাহবুব (ময়মনসিংহ), সিরাজুল আরেফিন মাসুম, এম এম আমিনুল হক সেলিম।

সম্পাদকমণ্ডলী কোষাধ্যক্ষ

ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর (রংপুর), প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক : খোরশেদ আলম খুশু (চাঁদপুর), দপ্তর সম্পাদক : আবুল হাসান আহমেদ জুয়েল, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক : এড. এমদাদ (নড়াইল), সমবায় বিষয়ক সম্পাদক : পারভেজ আলম মীর (বরিশাল), সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক : নাজমুল খাঁন (লালমনিরহাট), তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদ : সাহিন আরা সুলতানা রিমা (চাপাইনবাবগঞ্জ), আইন বিষয়ক সম্পাদক : এড. সাজ্জাদ হোসেন সেনা (কুষ্টিয়া), যুব বিষয়ক সম্পাদক : মো. জহির উদ্দিন (ঢাকা), শিল্প বিষয়ক সম্পাদক : আবুল কালাম আজাদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা : সুলতানা আহমেদ লিপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক : সায়িকা হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক : শরিয়ত আলী তালুকদার (সুনামগঞ্জ), প্রাদেশিক বিষয়ক সম্পাদক : আব্দুস সাত্তার।

যুগ্ম-সম্পাদকমণ্ডলী

যুগ্ম-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আসাদ খান, যুগ্ম-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক : মেহবুব হাসান, যুগ্ম-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক : চিশ্তী খায়রুল আবরার শিশির, যুগ্ম-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মুকুল, যুগ্ম-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক : মো. তৌহিদুর রহমান খান, যুগ্ম-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক : হাজী মাসুম পারভেজ, যুগ্ম-এনজিও বিষয়ক সম্পাদক : এম আবু জাফর কামাল, যুগ্ম-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক : শরীফুল ইসলাম শরীফ, যুগ্ম-সাহিত্য ও কৃষ্ঠি বিষয়ক সম্পাদক : আফতাব গনি, যুগ্ম-প্রাদেশিক সম্পাদক : মনিরুল ইসলাম রবিন।

সদস্যবৃন্দ

রিয়াজ খান, মকবুল হোসেন মুকুল, এস এম মুর্তজ আলম বুলবুল, নাসির নেওয়াজ, আবু নাসের সিদ্দিকী, কাদের মুন্সি, আব্দুল হালিম ও আহমদ আলী (সিলেট)।


রওশন এরশাদ   জাতীয় পার্টি   কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন